Tag: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • ভোট ও গণভোটকে ঘিরে কড়া নির্দেশনা, নির্বাচনের সময় মিশন ছাড়তে পারবেন না বাংলাদেশের কূটনীতিকরা

    ভোট ও গণভোটকে ঘিরে কড়া নির্দেশনা, নির্বাচনের সময় মিশন ছাড়তে পারবেন না বাংলাদেশের কূটনীতিকরা

    এবিএনএ: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময় এবং এর পরপরই কোনো মিশন প্রধান কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

    সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশনে (অনারারি কনস্যুলেট ব্যতীত) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও স্থায়ী প্রতিনিধিদের নির্ধারিত সময়জুড়ে মিশনে উপস্থিত থাকার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহণ থেকে শুরু করে ব্যালট সুষ্ঠুভাবে দেশে পাঠানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করতেই মিশন প্রধানদের সরাসরি তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। এতে বিদেশের মাটিতে ভোট গ্রহণে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

    ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিলম্ব এড়াতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রবাসী ভোটারদের ভোট নিরাপদে গ্রহণ ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেশে পাঠানোই এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য।

  • ঢাকায় পা রাখলেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, শুরু হচ্ছে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়

    ঢাকায় পা রাখলেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, শুরু হচ্ছে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়

    এবিএনএ: বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সোমবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    কূটনৈতিক সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে তার ঢাকা মিশন শুরু হতে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এসব বৈঠকের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।

    তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র প্রদান করবেন নতুন এই রাষ্ট্রদূত।

    ঢাকায় আসার আগে এক প্রতিক্রিয়ায় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তার ভাষায়, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দক্ষ আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তিনি আগ্রহী।

    তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টায় তিনি প্রতিদিন সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান।

    উল্লেখ্য, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

  • জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করল সরকার

    জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করল সরকার

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কূটনীতিকদের আশ্বাস দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের সর্বশেষ প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

    ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র বাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়।

    এ সময় জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন দেশকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ জন কূটনীতিক অংশ নেন।

  • বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে যে বার্তা দিল ভারত, জানাল উদ্বেগ ও অবস্থান

    বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে যে বার্তা দিল ভারত, জানাল উদ্বেগ ও অবস্থান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে তাকে ডেকে পাঠানো হয়। পরে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভারত জানায়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকের সময় বাংলাদেশে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি হাইকমিশনারকে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে ‘কিছু গোষ্ঠীর’ তৎপরতা নিয়েও তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

    ভারতের দাবি, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছে কয়েকজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। বিষয়টি নিয়ে নয়াদিল্লি যথেষ্ট সতর্ক বলে জানানো হয়।

    এ ছাড়া সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে ঘিরে একটি পক্ষ যে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বয়ান ছড়ানোর চেষ্টা করছে, ভারত তা নাকচ করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার যৌথ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক পরবর্তীতে উন্নয়ন সহযোগিতা ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগের মাধ্যমে আরও দৃঢ় হয়েছে। ভারত বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে এবং অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

    উল্লেখ্য, এর আগে রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশ। সে সময় দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত দেওয়ার দাবিও উত্থাপন করা হয়।

  • তারেক রহমানের ট্রাভেল পাস প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার নতুন ব্যাখ্যা

    তারেক রহমানের ট্রাভেল পাস প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার নতুন ব্যাখ্যা

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার জন্য এখনো ট্রাভেল পাসের আনুষ্ঠানিক আবেদন করেননি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

    লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের ট্রাভেল পাস ইস্যু নিয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, “তিনি চাইলে পাস ইস্যু করা সম্পূর্ণ সম্ভব। তবে আমার জ্ঞান অনুযায়ী, এখনো কোনো আবেদন আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।”

    তারেক রহমানের বর্তমানে বৈধ পাসপোর্ট আছে কি না—এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

    দেশে ফেরা বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।

    এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার সরকারিভাবে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজন হলে সরকারের সে সক্ষমতা রয়েছে বলে জানান তৌহিদ হোসেন।

    এর আগে গত ৩০ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, দেশ ফিরতে চাইলে তারেক রহমানকে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হবে না। পাসপোর্ট না থাকলেও বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে এক দিনের মধ্যেই ওয়ান–টাইম ট্রাভেল পাস ইস্যু করা সম্ভব। তিনি বলেন, “আজ আবেদন করলে কাল পাস পাওয়া যাবে, আর পরশুদিনই উনি বিমানে উঠতে পারবেন—এতে কোনো জটিলতা নেই।”

  • লিবিয়া থেকে আরও ৩১০ বাংলাদেশির দেশে ফেরা: অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন ভাঙল মরুভূমিতে

    লিবিয়া থেকে আরও ৩১০ বাংলাদেশির দেশে ফেরা: অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন ভাঙল মরুভূমিতে

    এবিএনএ: লিবিয়া থেকে আরও ৩১০ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার সকালে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

    মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর যৌথ উদ্যোগে এ বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানো হয়েছে।

    ফিরে আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশই ইউরোপে যাওয়ার আশায় মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই সেখানে অপহরণ, নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের শিকার হন। দীর্ঘ অপেক্ষা ও কষ্টের পর তারা অবশেষে দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন।

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান। প্রত্যাবাসিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পথখরচের টাকা, প্রাথমিক খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশে ফেরার পর এসব প্রবাসীকে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ মানবপাচারকারীদের ফাঁদে না পড়ে।

    বর্তমানে লিবিয়ার বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে থাকা আরও বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে একযোগে কাজ করছে লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।

    অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ কেবল মানবিক সহায়তাই নয়, বরং অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।

  • ট্রাম্পের দাবির জবাবে ভারতের কড়া ব্যাখ্যা: “মোদির সঙ্গে কোনো ফোনালাপই হয়নি”

    ট্রাম্পের দাবির জবাবে ভারতের কড়া ব্যাখ্যা: “মোদির সঙ্গে কোনো ফোনালাপই হয়নি”

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক আলোচনার ঝড়। বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ হয়েছে এবং মোদি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। তবে আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এমন কোনো ফোনালাপই হয়নি।

    সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমার জানা মতে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে কোনো ফোনালাপ হয়নি।”

    ট্রাম্পের দাবি ছিল, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির বিষয়টি শিগগিরই বন্ধ করবে ভারত এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে মোদির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তবে নয়াদিল্লি জানায়, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে জ্বালানি খাত নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু ভারত তার নিজস্ব জ্বালানি স্বার্থ ও ভোক্তা নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন।

    ভারত বর্তমানে রাশিয়ার তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেনে আগ্রাসনের খরচ জোগাচ্ছে। তাই ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ভারত, চীন ও জাপান রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করুক, যাতে রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়।

    তবে দিল্লির বার্তা পরিষ্কার—ভারতের জ্বালানি নীতি ভারতের স্বার্থেই নির্ধারিত হবে, বাইরের চাপ নয়।

  • বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দিলো ভারত: ‘দোষ চাপানো অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যাস’

    বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দিলো ভারত: ‘দোষ চাপানো অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যাস’

    এবিএনএ: খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক সহিংসতা ঘিরে বাংলাদেশ সরকারের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে ‘ভারতের ইন্ধন’ রয়েছে।

    শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অভিযোগকে সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, “অন্যের ওপর দোষ চাপানো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তারা নিজেদের দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।”

    তিনি অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে আরও বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের জন্য ভালো হবে যদি তারা আত্মসমালোচনা করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর স্থানীয় উগ্রবাদীদের হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভূমি দখলের ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত করে।”

    প্রসঙ্গত, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে খাগড়াছড়িতে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে ‘জুম্ম ছাত্র–জনতা’। এসময় গুইমারা উপজেলায় সহিংস সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনজন। ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ ১৩ সেনাসদস্য, তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা আহত হন।

    এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দাবি করেন, খাগড়াছড়িতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর নেপথ্যে ভারতের ভূমিকা রয়েছে। এই বক্তব্যকেই কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করল ভারত।

  • যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও জেনেভা মিশনে দূত রদবদল, কে কোথায় যাচ্ছেন?

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও জেনেভা মিশনে দূত রদবদল, কে কোথায় যাচ্ছেন?

    এবিএনএ: বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে দূত রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানায়, অভিজ্ঞ ও দক্ষ তিন কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, বর্তমানে কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্বে থাকা নাহিদা সোবহানকে পাঠানো হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে। অপরদিকে, জেনেভার বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানিয়েছে, নতুন এই দায়িত্বে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো অ্যাগ্রিমো প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। ফলে চলতি জুলাই মাসেই তাদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    নাহিদা সোবহান পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি এর আগে জর্ডানে রাষ্ট্রদূত ছিলেন এবং বর্তমানে কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে কাজ করছেন। অন্যদিকে, তারেক মো. আরিফুল ইসলাম পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং শ্রীলঙ্কায় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    এছাড়া, সদ্যবিদায়ী পররাষ্ট্র সচিব এম জসীম উদ্দিনকে কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও তার অ্যাগ্রিমো আসেনি, তবে তা খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার।

    এই রদবদলকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার ৩৬ বাংলাদেশির বিষয়ে তদন্তে সহযোগিতায় প্রস্তুত সরকার

    মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার ৩৬ বাংলাদেশির বিষয়ে তদন্তে সহযোগিতায় প্রস্তুত সরকার

    এবিএনএ:  মালয়েশিয়ায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৩৬ জন বাংলাদেশির বিষয়ে তদন্তে মালয়েশিয়া সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। শনিবার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দেশটিতে পরিচালিত অভিযানে ৩৬ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে, যাদের বিরুদ্ধে উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও মামলার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলবে অথবা প্রয়োজনে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

    হাইকমিশন এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে মালয়েশিয়ার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়।

    বাংলাদেশ সরকার আবারও তার দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছে যে, দেশটি সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে। মালয়েশিয়ার তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    মালয়েশিয়ার পুলিশপ্রধান খালিদ ইসমাইল গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি শ্রমিকরা ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে অর্থ লেনদেনের সম্পৃক্ততায় অভিযুক্ত। তাদের বেশিরভাগই নির্মাণ, সেবা ও শিল্প খাতে নিয়োজিত ছিলেন। গত এপ্রিল থেকে ধারাবাহিক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, “যেসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, তাদের বিষয়ে সরকার নিজস্ব তদন্ত করবে। যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সকল নাগরিককে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছে।