Tag: নেতানিয়াহু

  • ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—৯২% প্রতিহত, তবুও বাড়ছে আতঙ্ক

    ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—৯২% প্রতিহত, তবুও বাড়ছে আতঙ্ক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে Iran। দেশটির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত Israel ভূখণ্ডে ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

    রোববার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এসব হামলা চালানো হয়। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, এত বড় আকারের হামলার পরও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    এদিকে শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১৮০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

    অন্যদিকে, চলমান সংঘাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড শুধু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং ইউরোপসহ পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

    দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তার এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় হওয়া জরুরি।

    তিনি আরও জানান, কিছু দেশ ইতোমধ্যে সমর্থন জানাতে শুরু করেছে, তবে এই সংঘাতে কার্যকর ফল পেতে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

  • গাজা দখল পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

    গাজা দখল পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

    এবিএনএ: গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা ঘোষণা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিশ্বনেতারা বলছেন, এই পদক্ষেপ কোনো সমাধান আনবে না, বরং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংস ডেকে আনবে। সম্প্রতি ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে, যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সামরিক অভিযানকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানান। তার মতে, এই আক্রমণ জিম্মিদের মুক্তি বা সংঘাতের সমাধান নয়, বরং রক্তপাত বাড়াবে। একইভাবে চীনও এই পরিকল্পনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে গাজাকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ঘোষণা দিয়েছেন, গাজায় ব্যবহারের জন্য কোনো সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে রপ্তানি করা হবে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের পরিপন্থী এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

    ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে অবৈধ ও অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন। হামাস সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলি বন্দিদের জীবনের ঝুঁকি বাড়াবে। এমনকি ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিডও এই পরিকল্পনার নিন্দা করেছেন, দাবি করেছেন নেতানিয়াহু চরম ডানপন্থীদের চাপে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

    নেতানিয়াহু নিজে বলেছেন, গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামাসকে সরিয়ে দেওয়াই লক্ষ্য। তবে ইসরায়েলের সামরিক প্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ জিম্মিদের বিপদে ফেলবে এবং সেনাবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

    এদিকে মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে যাতে সব জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধ থামানো ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। কিন্তু গাজা শহরে ইসরায়েলের বারবারের বোমাবর্ষণ ও হামলার ফলে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে দখল করার মতো তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই।

    ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গত ২২ মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬১ হাজার ২৫৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৫ জন আহত হয়েছে।

  • ‘বোমা ফেলো না, এখনই পাইলট ফিরিয়ে নাও’: ইসরায়েলকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    ‘বোমা ফেলো না, এখনই পাইলট ফিরিয়ে নাও’: ইসরায়েলকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন— “বোমা ফেলো না, পাইলটদের ফিরিয়ে আনো এখনই”। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঘন্টাখানেক পরই এই বার্তা দেন ট্রাম্প।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, এএফপি ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানেও তিনি একই বার্তা দেন— বোমা হামলা চালানো হবে ‘চুক্তিভঙ্গ’।

    ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বলেন,

    “ইসরায়েল, দয়া করে বোমা ফেলো না। এটা হলে বড় ধরনের চুক্তিভঙ্গ হবে। তোমাদের পাইলটদের এখনই ফিরিয়ে আনো।”

    এই সময় ট্রাম্প জানান, ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ইসরায়েল বলেছে তারা প্রস্তাবে রাজি, এবং ইরান জানিয়েছে, যদি ইসরায়েল হামলা বন্ধ করে, তারাও পাল্টা হামলা চালাবে না।

    কিন্তু, একই সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায় তারা ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। অপরদিকে, তেহরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

    অ্যাক্সিওস বলেছে, ট্রাম্পের অনুরোধ সত্ত্বেও নেতানিয়াহু জানিয়েছেন তিনি হামলা বাতিল করতে পারবেন না। কারণ, ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এই হামলা হবে সীমিত পরিসরে এবং কেবল একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সময়ে ট্রাম্পের এই বার্তা স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবধানতা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত বহন করছে।

  • ইসরায়েলের গোপন বার্তা ইরানে: যুদ্ধ শেষের পথে কি শান্তির সম্ভাবনা?

    ইসরায়েলের গোপন বার্তা ইরানে: যুদ্ধ শেষের পথে কি শান্তির সম্ভাবনা?

    এবিএনএ: ইরানের সঙ্গে চলমান সঙ্ঘাতের অবসান চায় ইসরায়েল। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ইসরায়েল ইতোমধ্যে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে একটি গোপন বার্তা পাঠিয়েছে। সেই বার্তায় জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে ইসরায়েল বর্তমান সামরিক অভিযান থামাতে প্রস্তুত।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালচ্যানেল-১২–এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শিরোনামের সামরিক অভিযানে ইরানকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দমন করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

    যুক্তরাষ্ট্র আরব দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করে, তবে ইসরায়েল হামলা বন্ধে আগ্রহী।

    ইসরায়েলি এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, “এই যুদ্ধ থামানো ইসরায়েলের পক্ষে এখনই সম্ভব। সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের পদক্ষেপের ওপর।” তিনি বলেন, পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি হলে ইসরায়েল এ অভিযান বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।

    প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ইসরায়েলের সামনে দুইটি পথ খোলা—
    ১. একতরফাভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে হামলা থামানো।
    ২. যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো।

    তবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ না করলে, ইসরায়েল আরও বড় পরিসরের জবাবি হামলায় যেতে প্রস্তুত। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা জানায়, ইসরায়েল তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে কড়া বার্তা দিতে চেয়েছে— যদি ইরান থামাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন হামলার মাত্রা আরও বাড়বে।

    নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিই যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ আক্রমণ ইরানকে আবারও আলোচনা টেবিলে ফিরিয়ে আনবে— এই আশাই করছে তেলআবিব।

    তবে ইরান ফের পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করলে, ইসরায়েলও ফেরত যাবে তাদের আগ্রাসী অবস্থানে।

    রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা আমাদের যুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি। আমরা চাই না দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, তবে ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।”

  • ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

    ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

    এবিএনএ: ইসরায়েলের ওপর ইরান ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়েছে—এমনটাই জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। বুধবার ইসরায়েলি দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার থেকে শুরু করে ইরান এখন পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে শত শত ড্রোন, যার অধিকাংশই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

    এই হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৮০০ জনেরও বেশি। এছাড়া প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে অন্তত ৩ হাজার ৮০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে।

    অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। তেহরানের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে ইরানে অন্তত ২২৪ জন নিহত হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘসহ একাধিক বিশ্বসংস্থা দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তাল, এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা যে কোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ইরানে হামলার পেছনে নেতানিয়াহুর তিন লক্ষ্য

    ইরানে হামলার পেছনে নেতানিয়াহুর তিন লক্ষ্য

    এবিএনএ: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তারা ‘মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিচ্ছে’, যা ইরানে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ ঘটাতে পারে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) তিনি বলেন, ইসরায়েল মূলত তিনটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

    ১. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সম্পূর্ণ অবসান,
    ২. ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতার ধ্বংস,
    ৩. ‘সন্ত্রাসের অক্ষ’ নির্মূল করা; এখানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

    নেতানিয়াহু বলেন, “এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে যা কিছু করার প্রয়োজন, আমরা তা করব এবং আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালোভাবে সমন্বয় করছি।” তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। নেতানিয়াহু আরো বলেন, ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মাধ্যমে যে ‘অস্তিত্ববাদী হুমকি’ সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রতিহত করাই উদ্দেশ্য।

    ইরান থেকে ৬ শতাধিক বিদেশি আজারবাইজানে চলে গেছে

    ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর শত শত বিদেশি নাগরিক পাশ্ববর্তী দেশ আজারবাইজানে পাড়ি দিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকে ১৭টি দেশের ৬০০-এর বেশি নাগরিককে ইরান থেকে আজারবাইজান হয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

    ইরান থেকে ছয় শতাধিকা বিদেশি নাগরিক কাস্পিয়ান সাগর উপকূলের আস্তারা সীমান্ত চেকপোস্ট পার হয়ে আজারবাইজানে প্রবেশ করেছে। আলজাজিরা লিখেছে, এই নাগরিকরা কাস্পিয়ান সাগর উপকূলের আস্তারা সীমান্ত চেকপোস্ট পার হয়ে আজারবাইজানে প্রবেশ করেছে। সেখান থেকে তাদের বাকু বিমানবন্দরে পাঠানো হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    এই তৎপরতায় রাশিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, সার্বিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা রয়েছেন।

    ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার নিন্দা কাতারের

    ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দোহায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চলমান ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। তিনি বলেন, “ইসরায়েলের এই হামলা একটি অপরিকল্পিত পদক্ষেপ, যার খুব ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। কাতার এই হামলাকে তীব্রভাবে নিন্দা জানাচ্ছে।”

    আল-আনসারি বলেন, এমন এক সময়ে এই হামলা হয়েছে যখন ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল, যেখানে অনেক আঞ্চলিক দেশও সংশ্লিষ্ট ছিল।

    তিনি আরো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কাতার এবং ‘মনে করে যে, একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আমেরিকার আগ্রহ রয়েছে।”“আমরা ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব,” যোগ করেন তিনি।

    সাইবার হামলায় ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কার্যক্রম ‘বিঘ্নিত’

    ইরানের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সেপাহ ব্যাংক, যেটি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। ফলে ব্যাংকটির অনলাইন সেবায় বিঘ্ন ঘটেছে। পার্স টুডে লিখেছে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

    এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েল-সম্পর্কিত হ্যাকিং গ্রুপ প্রিডেটরি স্পারো। তারা দাবি করেছে, এই হামলার মাধ্যমে তারা ব্যাংকের তথ্য ‌ধ্বংস করে দিয়েছে।  এই হামলাটি এমন সময় করা হলো, যখন ইসরায়েল-ইরান সংঘাত চূড়ান্ত উত্তেজনায় এবং উভয়পক্ষই সামরিক ও ডিজিটাল অঙ্গনে একে অপরকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

    ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘আরো শক্তিশালী’ আক্রমণের ঘোষণা ইরানের

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, সম্প্রতি ইসরায়েলের দিকে ‘আরো শক্তিশালী’ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপরে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

    সেনাবাহিনীর স্থল বাহিনীর কমান্ডার কিওমারস হেইদারি বলেছেন, “নতুন এবং উন্নত অস্ত্রসহ সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর স্থল বাহিনী কর্তৃক ভয়াবহ আক্রমণের একটি নতুন ধারা শুরু করা হয়েছে। যা আগামী কয়েক ঘণ্টায় তীব্রতর হবে।”

    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াই নেট নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলের তেল আবিব, জেরুজালেমসহ অন্তত ৪টি অঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে বেশ কয়েকটি এলাকায় বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    আগুনে ঘি ঢালছে যুক্তরাষ্ট্র: চীন

    ইরান-ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনাকে যুক্তরাষ্ট্র আরো উস্কে দিচ্ছে বলে দাবি করেছে চীন। বেইজিং বলেছে, সংঘাতকে প্রশমিত না করে উল্টো উস্কে দেওয়া মানে ‘আগুনে ঘি ঢালা’র মতো অবস্থা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের অবিলম্বে তেহরান খালি করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর বেইজিং এমন মন্তব্য করলো।

    মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। এ সময় ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আগুনে ঘি ঢালা, হুমকি দেওয়া ও চাপ সৃষ্টি করা পরিস্থিতি শান্ত করতে সাহায্য করবে না, বরং সংঘাতকে আরো তীব্র ও বিস্তৃত করবে।”

    ইরানের ইসফাহানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকালে ইসফাহানের মধ্য প্রদেশের কাশান শহরের একটি চেকপয়েন্টে ইসরায়েলি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। এতে কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং আরো চারজন আহত হয়েছেন।

    সংবদ সংস্থাটি ইসফাহানের গভর্নরের ডেপুটি সিকিউরিটি অফিসার আকবর সালেহির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার। ইরানের তাসনিমসহ অন্যান্য সংবাদ সংস্থাগুলোও হতাহতের এই খবর জানিয়েছে, তবে আরো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

    এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মঙ্গল সকালে তেহরানে হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর প্রধান আলী শাদমানিকে হত্যার দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    শাদমানিকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল মাত্র কয়েকদিন আগেই। এর আগে গত শুক্রবার ইসরায়েল একই ইউনিটের সাবেক প্রধান গোলাম আলি রাশিদকে হত্যার দাবি করেছিল। গত শুক্রবার ভোর থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় অনেক উচ্চপদস্থ ইরানি সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং শিশু ও নারীসহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    তাসনিম নিউজ বলছে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর শহীদদের মধ্যে রয়েছেন- সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি, আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ হোসেইন সালামি, আইআরজিসির মহাকাশ বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ, আইআরজিসির সিনিয়র কমান্ডার জেনারেল গোলাম আলী রশিদ এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কাজেমি।

    ইরানের আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

    আজ মঙ্গলবার তেহরানে হামলা চালিয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর প্রধান আলী শাদমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আলী শাদমানিকে ইরানের ‘সবচেয়ে শীর্ষ সামরিক কমান্ডার’ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইসরায়েল। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    শাদমানিকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল মাত্র কয়েকদিন আগেই। এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল একই ইউনিটের সাবেক প্রধান গোলাম আলি রাশিদকে হত্যার দাবি করেছিল।

    ইসরায়েলে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান, তেল আবিব-জেরুজালেমে বিস্ফোরণ

    ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কিছুক্ষণ আগে আবারো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়াই নেট নিউজ জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মধ্য ইসরায়েলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তেল আবিবের উত্তরে উপকূলীয় শহর হার্জলিয়াতে একটি আট তলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, জেরুজালেম এলাকায় একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, দেশজুড়ে সাইরেন বাজানো হচ্ছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের ৩০টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এই খবর এলো। এর আগে রাতভরও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান। আলজাজিরা জানিয়েছে, সোমবার রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে ইসরায়েলিরা প্রায় সারা রাত আশ্রয়কেন্দ্রে ঢুকে ছিল। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    যুদ্ধবিরতির জন্য ফিরিনি, বড় কিছুর জন্য অপেক্ষায় থাকুন: ট্রাম্প

    ইসরায়েল-ইরানের সংঘাত থামাতে আগেভাগেই জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফেরেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানান, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “ফ্রান্সের ‘প্রচারপ্রিয়’ প্রেসিডেন্ট ভুলভাবে বলেছেন, আমি কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন ছেড়ে ওয়াশিংটনে ফিরে যাচ্ছি ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ‘যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে কাজ করার জন্য। এটা ভুল!” ফিরে আসার কারণ “তার চেয়ে অনেক বড় কিছু” এবং বলেন, “অপেক্ষায় থাকুন!”

    এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে কানাডায় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন থেকে একদিন আগেই ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবিলম্বে তেহরান খালি করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর আরো বড় কিছুর জন্য অপেক্ষার কথা জানালেন তিনি।

    ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ

    জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস আজও বন্ধ থাকবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাসের সব কর্মী ও তাদের পরিবারকে তাদের বাসস্থানের ভেতরে বা কাছাকাছি স্থানে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। খবর আল জাজিরার। ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন মিশন জানিয়েছে, জেরুজালেমের পাশাপাশি তেল আবিবে অবস্থিত তাদের শাখাও বন্ধ থাকবে।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “মার্কিন দূতাবাস এই মুহূর্তে আমেরিকানদের সরিয়ে নেওয়ার বা সরাসরি ইসরায়েল ত্যাগে সহায়তা করার অবস্থানে নেই।” এর আগে গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানিয়েছিলেন, তেল আবিবে মার্কিন দূতাবাস ভবনের কাছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, মার্কিন কর্মীদের কোনো আঘাত লাগেনি এবং জেরুজালেম ও তেল আবিবে দেশটির দূতাবাস ও কনস্যুলেট এদিন বন্ধ থাকবে।

    ইরান গত শুক্রবার থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ সোমবার রাতভর জেরুজালেম, তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে তেহরান। ইরানের সর্বশেষ হামলায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

    ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না: যৌথ বিবৃতিতে জি৭

    কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত অর্থনৈতিক জোট জি৭ একটি যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতে ‘উত্তেজনা কমানোর’ আহ্বান জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

    কানাডায় ৫১তম শীর্ষ সম্মেলনের জন্য বৈঠকে থাকা জি-৭ দেশগুলো তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলের ‘আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। আরো বলা হয়েছে, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না’। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা নিশ্চিত করছি, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে স্পষ্ট করে বলেছি, ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।”

    “আমরা জোর দিয়ে বলছি যে, ইরানি সংকটের সমাধানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে শত্রুতা হ্রাস পাবে, যার মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতিও অন্তর্ভুক্ত।” মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে কানাডায় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন থেকে একদিন আগেই ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবিলম্বে তেহরান খালি করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

    ট্রাম্প তার মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে বলেছেন, “ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা উচিত ছিল। আমি তাদের চুক্তি স্বাক্ষর করতে বলেছিলাম। এটা লজ্জার, আর মানব জীবনের ক্ষতি। সাধারণভাবে বলছি: ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। আমি এটি বারবার বলেছি। সবাই জরুরিভিত্তিতে তেহরান খালি করে দিন।”

    ইসরায়েল-ইরান সংঘাত থামানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প: মাখোঁ

    ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাব দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। মঙ্গলবার (১৭ জুন) সিএনএন’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে মাখোঁ সাংবাদিকদের জানান, “এই প্রস্তাবটি আলোচনা শুরু করার জন্য।”

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফরাসি ভাষায় বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত থামাতে সক্ষম হয়, তা খুবই ভালো বিষয় এবং ফ্রান্স তা সমর্থন করবে এবং আমরা এ জন্য শুভকামনা জানাই।” তিনি আরো বলেন, “উভয় পক্ষেরই হামলা বন্ধ করা উচিত, বিশেষ করে নিরীহ জনসংখ্যার ওপর সমস্ত হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া জরুরি।” এ ধরনের কোনো হামলা কখনোই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে কানাডায় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন থেকে একদিন আগেই ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবিলম্বে তেহরান খালি করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান আমার প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নিলে আজকের প্রাণহানি এড়ানো যেত। এটা দুঃখজনক ও অনর্থক প্রাণহানি। পরিষ্কার করে বলছি—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র গ্রহণ করতে পারে না। আমি বারবার এটা বলেছি!”

    তেহরান খালি করার ট্রাম্পের আহ্বান ‘ভয়ঙ্কর ও উদ্বেগজনক’

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘তেহরান খালি করার’ আহ্বানকে “ভয়াবহ ও চরমভাবে উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্ক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’-এর নির্বাহী সহসভাপতি ম্যাথিউ ডাস।

    তিনি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এটা আসলে ভয়াবহ। তেহরান একটি মহানগরী যেখানে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ বাস করে। এই বিশাল জনসংখ্যাকে হঠাৎ করে সরিয়ে নেওয়া এক কথায় অসম্ভব। তেলের সংকটের মধ্যে মানুষকে পায়ে হেঁটে পালাতে হবে- এটা এক ভয়ঙ্কর কল্পনা।”

    দুর্ভাগ্যবশত, ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বলছেন তা কতটা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত তা জানা কঠিন… তবুও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাষ্ট্রপতির এই ধরণের ভাষা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমাদের সকলের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত,” তিনি বলেন।

    ডাস আরো বলেন, “ট্রাম্প যা বলেন, তার কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া উচিত সেটা বোঝা কঠিন হলেও, এমন ভাষা একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে শোনা গভীর উদ্বেগের বিষয়। আমাদের সবার সতর্ক হওয়া উচিত।” এর আগে ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে বলেন, “সবাই এখনই তেহরান ছেড়ে চলে যাও!”

    ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে ট্রাম্প কেন এমন বিবৃতি দিলেন সেটি স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য হলো ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যেকোনো চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা, তার মনে যে চুক্তিই থাকুক না কেন।

    ‘ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র পাশে আছে’

    ইরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনা ‘ফোরদো’-তে হামলা চালানোর ক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইকেল হেরজোগ। তার এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।

    এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে হেরজোগ বলেন, “ফোরদো একটি গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই কেবল এমন বোমা আছে যা সেখানে আঘাত হানতে পারে।”  তিনি আরো বলেন, “ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রতিরোধে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।” ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাটি ইরানের একটি পাহাড়ি অঞ্চলে গভীরভাবে ভূগর্ভে অবস্থিত।  বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্তব্য ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে।

    এদিকে, ইরান এখনো বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

  • গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দক্ষিণে ‘অ্যাপোক্যালিপস’-সদৃশ হামলা!

    গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দক্ষিণে ‘অ্যাপোক্যালিপস’-সদৃশ হামলা!

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি গাজার পুরো ভূখণ্ডের উপর ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এরই সঙ্গে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে ‘অভূতপূর্ব’ হামলার পূর্ব-বার্তা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যেতে বলা হয়। এএফপি-খবরে উঠে এসেছে এই তথ্য।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেয়েসুস একই সময় সতর্ক করেন, গাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখন অনাহারের মুখে। তাঁর ভাষায়, “টনকে টন খাদ্যসামগ্রী সীমান্তে আটকে আছে, অথচ তা গন্তব্য থেকে মাত্র মিনিটখানেক দূরে।”

    ইসরায়েল সম্প্রতি সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিলেও জাতিসংঘ অন্যান্য সংস্থাগুলো একে মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় একেবারেই ‘অপর্যাপ্ত’ বলেই চিহ্নিত করেছে।

    নেতানিয়াহু বলেন, “লড়াই এখন আরও তীব্র হচ্ছে। আমরা একের পর এক সাফল্য অর্জন করছি এবং গাজার প্রতিটি ইঞ্চি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্যই এগোচ্ছি। পিছু হটার প্রশ্নই ওঠে না।”

    মে মাসের শুরুতেই ইসরায়েল একটি সামরিক পরিকল্পনা অনুমোদন করে যার মূল লক্ষ্য গাজার পূর্ণ দখল এবং জনগণকে স্থানচ্যুত করা।

    ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

    তবে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাদের জিম্মিদের যদি কোনো মানবিক সহায়তা না মেলে, তাহলে শত্রুপক্ষও কোনো সহায়তা পাবে না।” অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ কিছু সীমিত সহায়তাকে সমর্থন করে বলেন, “এই সহায়তা শুধুই বেসামরিক মানুষের জন্য এবং এটি আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সমর্থন ধরে রাখার কৌশল।”

    খান ইউনিসে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবন

    সোমবার দিনভর ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অন্তত ১৬০টি স্থানে হামলা চালায়। শুধু খান ইউনিসেই প্রাণ হারান ১১ জন, অন্যত্র আরও ১১ জন নিহত হন।

    খান ইউনিস থেকে এএফপি জানায়, আহতদের বহন করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিশুরা কেউ ট্র্যাকস্যুটে, কেউ রক্তাক্ত শরীরে নগ্ন পায়ে মেঝেতে বসে। চারপাশে শুধু কান্না, আতঙ্ক আর ধ্বংস।

    গাজার বাসিন্দা মোহাম্মদ সারহান বলেন, “প্রতিটি দিক থেকে গুলি, আগুন, হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান—যেন এক ভয়াবহ বিভীষিকা।”

    উত্তর গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে ভাই হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আয়মান বাদওয়ান। “আমরা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত। দেহে শক্তি নেই, মনের মধ্যে ভর করে আছে আতঙ্ক। এখনই আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

    প্রাণহানির পরিসংখ্যান

    ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হন ১,২১৮ জন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক। মোট ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, যাদের মধ্যে এখনও ৫৭ জন গাজায় অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ৩৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

    ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সর্বশেষ আক্রমণে গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩,১৯৩ জন। মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৩,৩৩৯-এ, যা গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী প্রকাশিত।

  • নতুন শর্তে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইচ্ছুক নেতানিয়াহু, হামাসের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত

    নতুন শর্তে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইচ্ছুক নেতানিয়াহু, হামাসের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ:  ইসরায়েল হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি গাজা যুদ্ধ বন্ধে সম্মত আছেন—তবে কয়েকটি কড়া শর্তের ভিত্তিতে।

    নেতানিয়াহু বলেছেন, যদি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস গাজা থেকে সম্পূর্ণরূপে সরে যায় এবং উপত্যকাটি নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়, তাহলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে তিনি রাজি হবেন।

    তিনি আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজায় ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি থাকবে, যেখানে হামাস ১০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং ইসরায়েলও কিছু নির্দিষ্ট বন্দিকে ছেড়ে দেবে।

    এই সময়ের মধ্যেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা চলবে। হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে সকল জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেও, ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে—গাজা থেকে হামাসকে বিদায় নিতে হবে এবং অঞ্চলটিকে অস্ত্রমুক্ত করতে হবে।

    রবিবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর দফতর জানিয়েছে, দোহায় ইসরায়েলি আলোচনাকারী দল সম্ভাব্য সব শান্তি চুক্তির দিক বিবেচনা করছে—চাই তা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হোক বা স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ।

    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, অতীতে নেতানিয়াহু এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও এবার তার অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    তবে হামাস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সংগঠনটি আগে বলেছিল—ইসরায়েলের দখলদারিত্ব যতদিন থাকবে, ততদিন তাদের প্রতিরোধ চলবে এবং অস্ত্র ছাড়ার কোনো প্রশ্নই নেই।

    এখন দেখার বিষয়, এই কঠিন শর্তের মুখে হামাস তাদের অবস্থান কতটা বদলায়। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসবে, নাকি সংঘাত আরও জটিল মোড় নেবে—তা নির্ভর করছে আগামী দিনের সিদ্ধান্তের ওপর।