Tag: নির্বাচন ২০২৫

  • কর্তৃত্ববাদীদের পতন হলেও কর্তৃত্ববাদী চর্চা বহাল: খুলনায় টিআইবির নির্বাহীর খোলামেলা মন্তব্য

    কর্তৃত্ববাদীদের পতন হলেও কর্তৃত্ববাদী চর্চা বহাল: খুলনায় টিআইবির নির্বাহীর খোলামেলা মন্তব্য

    এবিএনএ:  ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন হলেও দেশে কর্তৃত্ববাদী চর্চা আজও বহাল রয়েছে।”

    শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত **‘ইলেকশন রিপোর্টিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’**য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ভার্চুয়ালি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, “হেফাজতে মৃত্যু, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, ঘুষ, অযাচিত গ্রেপ্তার এবং জামিন বাণিজ্য—সবকিছুই চলছে পুরনো ধারাতেই। এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”

    এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচন কাভার করতে গিয়ে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং নিরপেক্ষ ও পেশাদার দৃষ্টিকোণ থেকে রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে কি না, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কতটা সুষ্ঠু—এসব দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।”

    দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে খুলনার জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ার ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন টিআইবির ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক, সহায়তায় ছিলেন আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি।

    রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন তুলি, টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশনের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এবং ফ্রিল্যান্স ডাটা জার্নালিস্ট মুহাম্মদ ইমরান।

    ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংবাদিকদের দায়িত্ব হবে জনগণের আস্থা অর্জন করা। অতীতের মতো দলীয় প্রভাবিত নির্বাচন বা পর্যবেক্ষক নিয়োগ যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভোটারদের অধিকার রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলার অবস্থা পর্যবেক্ষণ সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব।”

    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আগামী নির্বাচনে পরাজিত শক্তি নিশ্চুপ বসে থাকবে না। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হচ্ছে কি না এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে কি না—এসব দিকেও সাংবাদিকদের নিবিড় নজর রাখা প্রয়োজন।”

  • বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমানের অভিযোগ

    বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমানের অভিযোগ

    এবিএনএ:  বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আইইবি মিলনায়তনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “আজ যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, দেশের জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করবে। কিন্তু এ বাস্তবতা ঠেকাতে নানা রকম অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

    তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। অতীতে স্বৈরাচারী শাসকদের মতো বর্তমানেও বিএনপিকে রুখে দেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট।

    তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যারা বিজয় ঠেকাতে শর্তের বেড়াজাল তৈরি করছেন, তাদের বলবো রাজনীতি দিয়ে রাজনীতি মোকাবিলা করুন।”

    পিআর পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের নির্বাচন পদ্ধতি উপযুক্ত নয়। তবে রাজনৈতিক মতভেদের মধ্যেও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য আছে, যা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

    সতর্ক করে তিনি বলেন, “যারা নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছেন তারা গণতন্ত্রের উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করছেন। গণতান্ত্রিক শক্তির বিরোধ এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না, যাতে সুযোগ নেয় পলাতক স্বৈরাচার।”

  • ‘জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন নয়’—সরকারকে হুঁশিয়ারি চরমোনাই পীরের

    ‘জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন নয়’—সরকারকে হুঁশিয়ারি চরমোনাই পীরের

    এবিএনএ: সংস্কার ও জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, “সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই আগের নিয়মে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।”

    মঙ্গলবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতারা ভোটের অনুপাত (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।

    রেজাউল করীম অভিযোগ করে বলেন, “পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়েছে, সেটিই সর্বনাশের মূল কারণ। কালো টাকা, মাস্তানি ও সন্ত্রাস বন্ধের একমাত্র সমাধান পিআর পদ্ধতি।”

    তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি নির্বাচনের আগেই নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের পর এ ধরনের প্রতিশ্রুতিতে জনগণ আর আস্থা রাখবে না।

    সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমদ বিএনপির উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন—“সনদ আইনি স্বীকৃতি পেলে আপনাদের আপত্তি কোথায়?” আর প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ঘোষণা দেন, “সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না ইসলামী আন্দোলন।”

    এ সময় মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকায় প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “একদিকে বলছেন সংস্কার না হলে দেশ পুরোনো ধারায় ফিরে যাবে, অন্যদিকে সনদের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত না করেই নির্বাচন ঘোষণা দিয়েছেন। জনগণ জানতে চায়, কার চাপে এই সিদ্ধান্ত?”

    সমাবেশে নেতারা আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে ইসলামী আন্দোলন রাজপথে থাকবে এবং সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না।

  • আ.লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন বৈধ নয়: কাকরাইল সভায় জি এম কাদেরের স্পষ্ট বার্তা

    আ.লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন বৈধ নয়: কাকরাইল সভায় জি এম কাদেরের স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে ঢাকা জেলা জাপার মতবিনিময় সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন।

    জি এম কাদের বলেন, “যখন আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করেছিল, আমি তার প্রতিবাদ করেছিলাম। একইভাবে বলছি, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে সেটিও গ্রহণযোগ্য হবে না।”

    তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় অংশ নিয়ে জাপা ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে সমালোচিত হয়েছে। এবারও চাপের মুখে দলকে কঠিন অবস্থান নিতে হচ্ছে। জুলাই মাসে আদালত তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বললেও সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় তিনি পুনরায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ফিরেছেন।

    সভায় জাপা চেয়ারম্যান দাবি করেন, তিনিই জুলাইয়ের আন্দোলনকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন।

    সম্প্রতি ৯ আগস্ট, দল থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আলাদা কাউন্সিল ডেকে নতুন কমিটি ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের কাছে লাঙ্গল প্রতীকের জন্য আবেদন করেছেন।

    এ প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, “সরকারের দমন-পীড়নে থেমে যাব না। লাঙ্গল প্রতীক অন্য কাউকে দিলে রাজপথে আন্দোলন করব। জনগণের স্বার্থে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব।”

    সভায় জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

  • ৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্গঠন: নির্বাচন কমিশনের খসড়া চূড়ান্ত

    ৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্গঠন: নির্বাচন কমিশনের খসড়া চূড়ান্ত

    এবিএনএ:  আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের ৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্গঠন করে খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

    তিনি বলেন, “সার্বিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে ৩৯টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি এখন চূড়ান্ত খসড়া আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা সংস্থা আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত এই খসড়ার বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে পারবেন।”

    সীমানা পরিবর্তন হওয়া সংসদীয় আসনগুলো হলো:

    • উত্তরাঞ্চল: পঞ্চগড়-১, পঞ্চগড়-২, রংপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, সিরাজগঞ্জ-২

    • দক্ষিণ-পশ্চিম: সাতক্ষীরা-৩, সাতক্ষীরা-৪, বাগেরহাট-২, বাগেরহাট-৩

    • মধ্যাঞ্চল: শরীয়তপুর-২, শরীয়তপুর-৩, ঢাকা-২, ঢাকা-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৯

    • উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চল: গাজীপুর-১, গাজীপুর-২, গাজীপুর-৩, গাজীপুর-৫, গাজীপুর-৬, নারায়ণগঞ্জ-৩, নারায়ণগঞ্জ-৪, নারায়ণগঞ্জ-৫

    • সিলেট বিভাগ: সিলেট-১, সিলেট-৩

    • চট্টগ্রাম বিভাগ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, কুমিল্লা-১, কুমিল্লা-২, কুমিল্লা-১০, কুমিল্লা-১১, নোয়াখালী-১, নোয়াখালী-২, নোয়াখালী-৪, নোয়াখালী-৫, চট্টগ্রাম-৭, চট্টগ্রাম-৮

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, খসড়া প্রকাশের পর প্রাপ্ত আপত্তি ও পরামর্শ মূল্যায়ন করে পরবর্তী চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    এই সিদ্ধান্ত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ সীমানা পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আসন কাঠামো ও কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।

  • “নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতা বদল হবে, দেশ চালাবে নির্বাচিত সরকার”— মির্জা ফখরুল

    “নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতা বদল হবে, দেশ চালাবে নির্বাচিত সরকার”— মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকারের পরিবর্তন সম্ভব এবং সেই নির্বাচিত সরকারই দেশের নেতৃত্ব দেবে।” তিনি বলেন, উদার গণতন্ত্রে আস্থাশীল বিএনপি সবসময় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে “জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও শহীদ সাংবাদিক পরিবারকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

    ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন কমিশনকে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছেন—এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

    তিনি বলেন, “দেশের মানুষ ভোটাধিকার রক্ষায় আন্দোলন করেছে, প্রাণ দিয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করে গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা।”

    বিএনপির সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কারের জন্যই সৃষ্টি হয়েছি। কোনো গুজব বা বিভ্রান্তি দিয়ে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী প্রমাণ করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি জানান, তিনদিন আগে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

    সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল। তিনি বলেন, “পুশইন কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। ভারতের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সমাধান দরকার।”

    পানি বণ্টনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এখন জাতীয় স্বার্থের বিষয়।” একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে “জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার” আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।

  • ‘মব কালচার’ বিস্তারে প্রশাসনের স্থবিরতাই দায়ী: রিজভীর অভিযোগে তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন

    ‘মব কালচার’ বিস্তারে প্রশাসনের স্থবিরতাই দায়ী: রিজভীর অভিযোগে তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন

    এবিএনএ:  প্রশাসনের অকার্যকর অবস্থাই দেশে ‘মব কালচার’-এর উত্থানের পেছনে মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করতে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়াতে এখন একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ‘মব কালচার’ ব্যবহার করছে। আর এর পেছনে রয়েছে অবৈধ অর্থ ও গোপন রাজনৈতিক চক্রান্ত।’’

    মঙ্গলবার (৮ জুলাই) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

    রিজভী বলেন, “বর্তমান সরকারের ছত্রছায়ায় একটি শক্তিশালী অপশক্তি সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা সংগঠনের নাম ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা প্রকৃতপক্ষে একটি ষড়যন্ত্র। এর মাধ্যমে নির্বাচন বিলম্বিত করার নেপথ্য চেষ্টা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের তথাকথিত উন্নয়নের গল্পের মতো এখন ‘নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া’র গল্পও জনগণ শুনছে। অথচ যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিএনপির নাম ব্যবহার করে অপকর্মে জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

    বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নষ্ট করতে প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে বর্তমান সরকার নিজ স্বার্থসিদ্ধিতে এগোচ্ছে।

    রিজভী আহ্বান জানান, সরকার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা ফিরিয়ে এনে এই ধরনের নৈরাজ্য বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিক।

  • ডিউটিতে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: আইজিপির নির্দেশনায় পুলিশে কড়া বার্তা

    ডিউটিতে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: আইজিপির নির্দেশনায় পুলিশে কড়া বার্তা

    এবিএনএ: ডিউটির সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, পুলিশের মূল দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর এই দায়িত্ব পালনের সময় মনোযোগে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৮ জুন) ঢাকার রাজারবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মে মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি এসব কথা বলেন।

    তিনি জানান, “ডিউটি পোস্টে মোবাইল ফোন ব্যবহার পুলিশের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং কার্যকর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে। তাই এটি বন্ধ করতে হবে।”

    আইজিপি আরও বলেন, “ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর একটি। জনগণ ডিএমপির কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব আশা করে।” তিনি মোবাইল ডিউটি, গার্ড ডিউটি এবং কূটনৈতিক এলাকার দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় তিনি জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ সময় জনগণকে একটি নিরপেক্ষ ও নিরাপদ ভোটদান পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ডিএমপির প্রতিটি সদস্যকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

    সভায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “অপরাধ ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেফতারে সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। সকল ইউনিটকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে নগরবাসী নিরাপদ বোধ করে।”

    তিনি বলেন, “জাতীয় স্বার্থে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচনকালীন দায়িত্বে কোনো ধরনের পক্ষপাত যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

    সভায় মে মাসে দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার জন্য বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

    এই নির্দেশনার মাধ্যমে নির্বাচনপূর্ব সময়ে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা করছে কর্তৃপক্ষ।

  • নির্বাচনে রেফারির ভূমিকা পালন করবে ইসি, প্রত্যয় জানালেন সিইসি

    নির্বাচনে রেফারির ভূমিকা পালন করবে ইসি, প্রত্যয় জানালেন সিইসি

    এবিএনএ:

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষ রেফারির ভূমিকা পালন করবে বলে জানালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

    রবিবার সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ঈদ পরবর্তী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সিইসি। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া সভায় কমিশনের চার সদস্য, ইসি সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সিইসি বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত অনেক কাজ এগিয়ে নিয়েছি। বাকিগুলো সমন্বিতভাবে শেষ করতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতিকে একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়া।”

    তিনি আরও জানান, “সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বারবার বলে আসছে—আমরা একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। এই ঘোষণার পেছনে আমাদের ওপর আস্থাই বড় প্রমাণ।”

    কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “রমজানেও আপনারা অঙ্গীকার করেছিলেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন। আজ আবার সেই শপথের পুনরাবৃত্তি করুন—কোনো দলের অনুসারী না হয়ে, কেবল আইন মেনে ও ন্যায়ের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করুন।”

    পূর্ববর্তী ইসি কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার কথা স্বীকার করে সিইসি বলেন, “আমরা অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি। এবার নির্বাচন কমিশন আরও সঠিক পথে এগোবে।”

    সবশেষে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, “আমরা একটি রেফারির মতো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করব। রাজনৈতিক দলগুলো যার যার মতো মাঠে খেলবে। আমরা শুধু নিশ্চিত করব, মাঠটা সবার জন্য সমান ও ন্যায্য থাকে। এই লক্ষ্যে আমরা বদ্ধপরিকর।”

  • রোজা, গরম ও ঝড়—এপ্রিল নয়, নির্বাচন হোক ডিসেম্বরেই: মির্জা ফখরুল

    রোজা, গরম ও ঝড়—এপ্রিল নয়, নির্বাচন হোক ডিসেম্বরেই: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:

    ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের পর দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ আরও অনেক নেতা।

    মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, এপ্রিল মাসকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সঠিক সময় হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, “এ সময় প্রচণ্ড গরম, ঝড়-বৃষ্টি এবং রোজার সময়কাল একত্রে হওয়ায় নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল থাকবে না। তাছাড়া ওই সময় পাবলিক পরীক্ষাও চলবে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটের প্রচারণা ও অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া উচিত। এটা শুধু আমাদের দাবি নয়, জনগণেরও প্রত্যাশা ছিল। ডিসেম্বরের আবহাওয়া, সময়সূচি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।”

    মির্জা ফখরুল মনে করেন, নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার আলোকে হওয়া উচিত, আর সেটিই জাতীয় স্বার্থে গ্রহণযোগ্য হবে।