Tag: নির্বাচন ২০২৫

  • জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হলো এনসিপি ও এলডিপি

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হলো এনসিপি ও এলডিপি

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট দলীয় রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি দল। নতুনভাবে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দুই দলের নাম ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে এ সময় এনসিপির কোনো শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

    ডা. শফিকুর রহমান জানান, সংবাদ সম্মেলনের আগেই এনসিপির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে তারা জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এনসিপি নিজস্ব উদ্যোগে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বলেও জানান তিনি।

    জোটের আসন বণ্টন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ৩০০ আসন নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া দল দুটি শেষ সময়ে যোগ দেওয়ায় কিছু বিষয় চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে, তবে মনোনয়নপত্র জমার পর আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে জোট কঠোর অবস্থান নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগোতে চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

    এর আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোটে ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

  • ভুয়া খবর ছড়ালে এবার জেল ও জরিমানা: নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে সরকার

    ভুয়া খবর ছড়ালে এবার জেল ও জরিমানা: নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে সরকার

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি জারি করা ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ এ বিষয়ে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের অপরাধের জন্য জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    নতুন সংযোজিত ৭৩(ক) ধারায় বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র ঘোষণার পর থেকে ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের আগ পর্যন্ত কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রার্থী, রাজনৈতিক দল বা নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে কিংবা নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ব্যাহত করতে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও বা অন্য কোনো কনটেন্ট প্রচার করে—তবে তা ‘দুর্নীতিপূর্ণ আচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

    এই অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    সংশোধিত আরপিও-তে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), স্বয়ংক্রিয় বট, ভুয়া সামাজিক অ্যাকাউন্ট বা সিনথেটিক মিডিয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরিও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি এই ধরনের ভুয়া তথ্য বা মিডিয়া কনটেন্ট শুধুমাত্র কোনো প্রার্থীকে নয়, বরং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বা জনমতকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়, তাহলেও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংশোধনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি আইন সংস্কারের ধারাবাহিকতা সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন বিধান অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধি প্রকাশ করবে ইসি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ নির্বাচনে তথ্যভিত্তিক সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

  • নির্বাচনের আগে ইসলামকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা বিপজ্জনক: সালাহউদ্দিন আহমদ

    নির্বাচনের আগে ইসলামকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা বিপজ্জনক: সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের সময় ইসলামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায়, যা দেশের জন্য অকল্যাণকর। তিনি বলেন, ইসলাম একটি পবিত্র ধর্ম, একে ক্ষমতা লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত।

    শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ইসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে কাসেমী পরিষদের আয়োজনে ‘আজমাতে সাহাবা’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা মদিনার ইসলামের অনুসারী, মওদুদীর নয়। যারা বিভেদ সৃষ্টি করে সমাজে ফেতনা ছড়ায়, তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। ইসলামকে রাজনীতির অস্ত্র বানানো যাবে না।”

    তিনি আরও বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, যার পরিণতিতে তাদের পতন ঘটেছে। তাই আমাদের উচিত নৈতিক ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতি গড়ে তোলা, যাতে অপরাজনীতি চিরতরে বিলুপ্ত হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে ওলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি মাওলানা মনির কাশেমী। এসময় হেফাজতে ইসলামের খলিল আহমাদ কুরাইশী, জমিয়তে ওলামা ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব নাসিরউদ্দিন মনিরসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি

    জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি

    এবিএনএ:  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বিদেশ সফরে যেতে পারবেন না।

    পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও অর্থ বিভাগ থেকে বিদেশ ভ্রমণ সীমিতকরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক কর্মকর্তা সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হলো, যাতে নির্বাচনকালীন সময় বিদেশ ভ্রমণ সর্বোচ্চ সীমায় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

    দপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব এবং একাধিক কর্মকর্তা একই সময়ে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন, যা সরকারের পূর্বনির্ধারিত নীতির পরিপন্থী। এ কারণে এবার বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যেন অতি প্রয়োজন ছাড়া কোনো বিদেশ সফরের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো না হয়।

    নতুন পরিপত্রের অনুলিপি সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং উপদেষ্টাদের একান্ত সচিবদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ সফর নিয়ন্ত্রণে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছিল। এসব নির্দেশনায় বলা হয়, কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না, সচিবের অনুমতি ছাড়া আমন্ত্রণ গ্রহণ করা যাবে না এবং বিদেশ সফরের আগে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই অবহিত করতে হবে।

    সরকারি সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনে পূর্ণ মনোযোগ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • জুলাই সনদে অচলাবস্থা: জাতীয় নির্বাচনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক উত্তাপ

    জুলাই সনদে অচলাবস্থা: জাতীয় নির্বাচনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক উত্তাপ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়ে উঠছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও গণভোটের সময় নির্ধারণে এক বছরের আলোচনার পরও রাজনৈতিক দলগুলো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকও শেষ হয়েছে সমাধান ছাড়াই।

    বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দীর্ঘ আট ঘণ্টার বৈঠকে দলগুলো মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়। বিএনপি, কিছু নিবন্ধিত দল ও নতুন নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকলেও, জামায়াতে ইসলামী ও কয়েকটি ছোট দল নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি জানায়। তবে প্রশ্নের ভাষা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়েও মতবিরোধ থেকেই গেছে।

    কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব ও বিশেষজ্ঞদের মতামত মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারে পাঠানো হবে। ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এদিকে, নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হওয়া এখন বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক অচলাবস্থা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সচিব শূন্য, মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলাজনিত সংকট এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনআস্থার ঘাটতি—সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কর্মকর্তাও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চিত বলে জানা গেছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের বক্তব্যও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তারা বলেছে, “অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।” রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনকে ঘিরে রহস্যময় ভূমিকা নিচ্ছে। তারা বারবার নিজেদের অবস্থান বদল করছে। প্রথমে তারা জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটে রাজি থাকলেও, সর্বশেষ বৈঠকে তারা নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি জানিয়েছে। দলের প্রতীক ‘শাপলা’ নিয়েও জটিলতা সমাধান হয়নি।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, নারী নির্যাতন ও রাজনৈতিক সংঘর্ষ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। এ অবস্থায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “বাংলাদেশের গণতন্ত্র একাধিকবার সঙ্কটে পড়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণ পথ খুঁজে নিয়েছে। এবারও তা সম্ভব, যদি দলগুলো সংলাপের টেবিলে ফিরে আসে।” তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু অনিশ্চিতই নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি বয়ে আনতে পারে।

  • দেশে ফিরেই প্রার্থী ঘোষণা করবেন তারেক রহমান, বিএনপির মনোনয়ন তালিকা প্রায় চূড়ান্ত!

    দেশে ফিরেই প্রার্থী ঘোষণা করবেন তারেক রহমান, বিএনপির মনোনয়ন তালিকা প্রায় চূড়ান্ত!

    এবিএনএ:  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখন প্রার্থী বাছাইয়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ভোটের প্রস্তুতি জোরদার করেছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, ৩০০ আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত হয়েছে, আর এখন চলছে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া।

    জানা গেছে, বিএনপি এবার শরিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে শরিক দলগুলোর কাছ থেকে আসনবণ্টনের তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি দল তাদের প্রার্থী তালিকাও বিএনপির হাইকমান্ডের হাতে তুলে দিয়েছে। সব তালিকা যাচাইয়ের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরেই আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন। তবে তার আগেই যোগ্য প্রার্থীদের অনানুষ্ঠানিকভাবে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান মনোনয়ন বাছাইয়ের জন্য পাঁচটি মূল মাপকাঠি নির্ধারণ করেছেন—

    1. এলাকায় ক্লিন ইমেজ: যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়ম, দখল বা দুর্নীতির অভিযোগ নেই, তারা অগ্রাধিকার পাবেন।

    2. জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা: সারা দেশে চালানো জরিপে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হবে।

    3. দল ও দেশের জন্য ত্যাগ: যারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, কারাবরণ করেছেন বা পরিবার থেকে কেউ নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

    4. সংগঠনে অবদান: দীর্ঘ সময় ধরে দলের সঙ্গে থেকে যারা সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন, তারা অগ্রাধিকার পাবেন।

    5. কোন্দলমুক্ত নেতৃত্ব: যেসব প্রার্থী এলাকায় গ্রুপিং বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে দূরে ছিলেন, তারাও গুরুত্ব পাবেন।

    এই পাঁচটি মানদণ্ডে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানায় বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল। তবে যেখানে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন, সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান নিজেই।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনের মানদণ্ডই নির্ধারণ করবে বিএনপির মাঠপর্যায়ের শক্তি ও ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ।

  • বাগেরহাটে আসন সংকোচন ঘিরে টানা হরতাল, রাস্তায় আগুন-বাঁশ, থমকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন

    বাগেরহাটে আসন সংকোচন ঘিরে টানা হরতাল, রাস্তায় আগুন-বাঁশ, থমকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন

    এবিএনএ,বাগেরহাট: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি আসন বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো জেলাব্যাপী হরতাল পালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা সকাল থেকেই শহর ও গ্রামীণ সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে, বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন। কিছু এলাকায় বেঞ্চ পেতে বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় দূরপাল্লার সব বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

    জেলা সর্বদলীয় ঐক্য কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্তত ১৩০টির বেশি স্থানে স্থানীয় জনগণ ও নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বাগেরহাট কার্যত সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আন্তঃজেলা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এক প্রকার অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

    পণ্য পরিবহনেও ধস:
    বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, ধরাটা না সেতু, ফতেপুর বাজার ও সিএনবি মোড়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে। চালকরা রাস্তার পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। পচনশীল পণ্যের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ বিলম্বে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    দোকানপাটও বন্ধ:
    হরতালের প্রতি সংহতি জানিয়ে অধিকাংশ দোকান মালিক তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। এতে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।

    রাতেও অবরোধ:
    বুধবার শুরু হওয়া হরতাল রাতেও অব্যাহত ছিল। বিক্ষোভকারীরা রাতেও বিভিন্ন এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। ফলে রাতভর কোনো যানবাহন চলেনি। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন, রাতের সড়ক অবরোধ দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    আন্দোলনের পেছনের কারণ:
    ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন ঘোষিত খসড়া অনুযায়ী, বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের একটি বাদ দিয়ে তিনটি রাখার পরিকল্পনা করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাগেরহাটবাসী তীব্র প্রতিবাদ জানায়। যদিও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেট ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় এবং তাতে তিনটি আসনই বহাল রাখা হয়।

    বর্তমান আসন বিন্যাস (২০২৫):

    • বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট

    • বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    পূর্ববর্তী বিন্যাস ছিল:

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট

    • বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    সর্বদলীয় কমিটির নেতারা বলছেন, এই আসন সংকোচনের সিদ্ধান্ত জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে নেওয়া হয়েছে। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

  • নির্বাচনে বাধা আসবেই, সতর্ক থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

    নির্বাচনে বাধা আসবেই, সতর্ক থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে নানা ধরনের বাধা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনকে ব্যাহত করতে চায়, তারা বিভিন্ন কৌশলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে। ইতোমধ্যেই কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং সামনে আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এ কারণে সবারই সতর্ক থাকা জরুরি।

    মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাতটি রাজনৈতিক দল ও একটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো বাধা সত্ত্বেও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নাগরিকদের জন্য এটি হবে একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা। অতীতে যারা ভোটের সময় নানা তিক্ততার মুখোমুখি হয়েছেন, তাদেরও এবার নিরাশ হতে দেওয়া হবে না।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।”

    নির্বাচন আয়োজনকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন কেবল অন্তর্বর্তী সরকারের নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের। তিনি এটিকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তোলার নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন।

    এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রতি পদে পদে বাধা আসবে, বিভ্রান্তি তৈরি হবে। তবে সবাইকে স্থির থাকতে হবে এবং একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা হবে, তবে উৎসবমুখর পরিবেশেই এবারও দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে।

    বৈঠকে এবি পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় গণফ্রন্ট এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে ফল মেলেনি, সাত দল নিয়ে নতুন কৌশলে জামায়াত

    বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে ফল মেলেনি, সাত দল নিয়ে নতুন কৌশলে জামায়াত

    এবিএনএ:  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দলের অবস্থান ভিন্ন থাকায় আলোচনায় কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি।

    গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপাড়ায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। অপরদিকে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএনপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি ও নির্বাচনের আগে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তারা ছাড় দিতে রাজি নয়।

    এর আগে জামায়াত ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও খেলাফত মজলিসসহ সাত দলের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব দল ঘোষণা দিয়েছে—জুলাই সনদের অধীনে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথাও বলা হয়।

    রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে, বিএনপি-জামায়াত বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় জামায়াত এখন সাত দল নিয়ে সমন্বিতভাবে এগোচ্ছে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ কার্যকর করতে হলে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হবে এবং পিআর পদ্ধতিতে সংসদ গঠন করতে হবে।

    এদিকে বিএনপি বলছে, সংবিধানের ঊর্ধ্বে কোনো দলিল হতে পারে না। আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ বন্ধ হলে তা নাগরিক অধিকারের জন্য ক্ষতিকর হবে। দলটি জানায়, যেসব সংস্কার কার্যকরে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন, তা নতুন সংসদেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

    অন্যদিকে জামায়াতের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের দাবি, নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংস্কার করে সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ উভয় জায়গাতেই পিআর পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবি জানায়।

    সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বরফ না গলাতে জামায়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের চেষ্টা করছে। এর আগে লন্ডনে তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছিলেন। এবারও তারা মনে করছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধান খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপি-জামায়াত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে বিরোধী রাজনীতির মধ্যে নতুন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের চিত্রকে আরও জটিল করে তুলবে।

  • ২৮ আসনের ৩০৯ আবেদনের শুনানি শেষ: সীমানা পুনর্নির্ধারণে ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে

    ২৮ আসনের ৩০৯ আবেদনের শুনানি শেষ: সীমানা পুনর্নির্ধারণে ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে

    এবিএনএ:  সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তৃতীয় দিনের শুনানি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ঢাকা অঞ্চলের ২৮টি আসনের মোট ৩০৯টি আবেদন শোনা হয়।

    শুনানি শেষে ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম জানান, এসব আবেদনের মধ্যে ২৫৯টি ছিল ইসির প্রকাশিত খসড়ার বিপক্ষে এবং ৫০টি পক্ষে।

    আগামীকাল বুধবার রংপুরের সাতটি, রাজশাহীর ২৩২টি, ময়মনসিংহের তিনটি, ফরিদপুরের ১৮টি এবং সিলেটের দুটি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সব দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ইসি সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে।

    ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত ৮৩টি আসন নিয়ে মোট ১ হাজার ৭৬০টি দাবি-আপত্তি জমা পড়ে। এগুলোই ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এর আগে ৩০ জুলাই ৩০০ আসনের নতুন খসড়া প্রকাশ করে ইসি। সেখানে ভোটার সংখ্যা ভারসাম্য আনার জন্য গাজীপুরে একটি আসন বাড়িয়ে মোট ছয়টি করা হয়, আর বাগেরহাটে চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    সর্বশেষ খসড়ায় ৩৯টি আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, শরীয়তপুর-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯, গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬, নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫, সিলেট-১ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩, কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১, নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।

    আগে বাগেরহাটে চারটি আসন থাকলেও নতুন খসড়ায় সেটি তিনটিতে সীমিত করা হয়েছে। বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও রামপালকে একত্র করে বাগেরহাট-২, আর মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা নিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন বাগেরহাট-৩ আসন। তবে বাগেরহাট-১ আসনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

    নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “দেশের ৬৪ জেলার গড় ভোটার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০। এই হিসাব মেনে গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানো হয়েছে, আর বাগেরহাটে একটি কমানো হয়েছে। এতে ভোটার সমতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।”