Tag: নিরাপত্তা

  • রিয়াদে জরুরি বৈঠক: ইরান ইস্যুতে আরব বিশ্বের কঠোর বার্তা—কি সিদ্ধান্ত নিল ১২ দেশ?

    রিয়াদে জরুরি বৈঠক: ইরান ইস্যুতে আরব বিশ্বের কঠোর বার্তা—কি সিদ্ধান্ত নিল ১২ দেশ?

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা চতুর্থ সপ্তাহে গড়াতেই মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদ-এ জরুরি বৈঠকে বসেন আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

    ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    বৈঠকের আগে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।

    এই প্রেক্ষাপটে রিয়াদের বৈঠকে কাতার, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মোট ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা, তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, পানি শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করছে।

    বৈঠক থেকে ইরানের প্রতি চারটি প্রধান আহ্বান জানানো হয়—
    প্রথমত, সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে।
    দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
    তৃতীয়ত, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।
    চতুর্থত, হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়।

    এছাড়া বৈঠকে লেবাননে ইসরাইলি হামলারও সমালোচনা করা হয়েছে এবং তা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

  • মিরসরাইয়ে মৎস্য ঘেরে হামলা-লুটের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলনে বিচার ও নিরাপত্তার দাবি

    মিরসরাইয়ে মৎস্য ঘেরে হামলা-লুটের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলনে বিচার ও নিরাপত্তার দাবি

    এবিএনএ,মিরসরাই (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মৎসঘের কেটে মাছ লুট করার প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী রবি করিম। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বারইয়ারহাটস্থ একটি হোটেলে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে লিখিত বক্তব্যে রবি করিম বলেন, তার ভগ্নিপতির জমিতে তিনি মৎসঘের করেছেন। গতকাল রাতে পাশবর্তি জমির মালিক খানের কর্মচারীরা তাদের পুকুরে গভীর গর্তকরে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটে। এসম আমার ঘেরের সীমানা প্রাচীরের কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়। সেখান দিয়ে আমার ঘেরের সমস্ত মাছ ও পানি তাদের পুকুরে চলে যায়।

    এসময় স্থানীয়রা আমার ঘেরে থাকা মাছগুলো ধরে নিয়ে যায়। এতে আনার প্রায় ২০-২২ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। পরে তারা আমাকে সামান্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলে। আমি তাতে রাজি হইনি।

    এছাড়া মৎস ঘেরের জমিটাও তারা কেনার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছে। তবে উপযুক্ত মূল্য না নলায় আমরা জমিটা বিক্রি করিনি। আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    এবিষয়ে সিআইপি খানের ব্যবস্থাপক দীন মোহাম্মদ জানান, আমরা কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতার কারণে তার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আমরা তাকে মাছের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছি। কিন্তু নির্দিষ্ট টাকার কারণে সমঝোতা হয়নি।

  • বাগেরহাটে ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন অভিযান: দেশীয় অস্ত্রসহ যুবক আটক, ফার্নিচারের দোকান থেকে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

    বাগেরহাটে ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন অভিযান: দেশীয় অস্ত্রসহ যুবক আটক, ফার্নিচারের দোকান থেকে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সময় নাশকতার আশঙ্কায় পৃথক অভিযানে যৌথ বাহিনী দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। একই সময়ে ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি দেশীয় অস্ত্রসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার হাড়িখালী কাঠের পোল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আব্দুর রউফ (এন), বিএন অধিনায়ক, রিভারাইন বর্ডার গার্ড কোম্পানি, নীলডুমুর এবং মেজর আশরাদ, ২৩ আরই ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রতন (৫০) নামে এক ব্যক্তির ফার্নিচারের দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ৬টি হাসুয়া, ৩টি করাত, ৩টি চাকু, ১টি বড় হাতুড়ি ও ৭টি লোহার হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় কাউকে আটক করা যায়নি। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় নাশকতার উদ্দেশ্যে এই অস্ত্রগুলো মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে কচুয়া উপজেলার বিশট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের কাছে নাহিদ নামে এক যুবককে ৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের অপরাধ সহ্য করা হবে না। নাশকতা বা অপরাধের চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে। জেলার বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

  • মার্কিন যুদ্ধের শঙ্কায় ইরানে অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত—৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন খামেনি

    মার্কিন যুদ্ধের শঙ্কায় ইরানে অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত—৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন খামেনি

    এবিএনএ: পারস্য উপসাগরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকায় ইরানে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একটি ঐতিহ্য ভেঙে বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে অংশ নেননি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৮৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই তিনি এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন—মহামারির সময়ও ব্যতিক্রম হয়নি। এবারই প্রথম তাঁর অনুপস্থিতি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    এই অনুষ্ঠানটি প্রতিবছর ৮ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়, যা ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক এক ঘটনার স্মরণে আয়োজিত। সেদিন ইরানি বিমানবাহিনীর একাংশ ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানায়। গত চার দশকে দিনটি রাষ্ট্রীয় ও প্রতীকী গুরুত্ব পেয়েছে। এ বছর খামেনির বদলে বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ কর্মকর্তা আবদোলরহিম মুসাভি।

    খামেনির অনুপস্থিতি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তেহরান-ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন তীব্র আকার নিয়েছে। অঞ্চলে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে, সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার না আসা নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা কিংবা চলমান হুমকির ইঙ্গিত হতে পারে।

    তেহরান আগেই সতর্ক করেছে—ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অতীতের সীমান্তসংঘাত ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার রেশ এখনো কাটেনি। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে কি না—এই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান বিপরীত মেরুতে থাকায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

    এরই মধ্যে আরব সাগর, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও আকাশ নজরদারি জোরদার হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে। সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির এই প্রেক্ষাপটে খামেনির সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • নির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত: বিএনপি ও জামায়াতের ৮ শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ ইসির

    নির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত: বিএনপি ও জামায়াতের ৮ শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ ইসির

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আটজন নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতাদের সুরক্ষা নিশ্চিতের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-০২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

    ইসির এক চিঠিতে জানানো হয়, গাজীপুর-১ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত তার জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    অন্য একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দলের সাতজন শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য প্রার্থীর নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

    নিরাপত্তার আওতায় আসা জামায়াত নেতারা হলেন—
    আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রার্থীদের নিরাপদ প্রচার-প্রচারণা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অন্যতম শর্ত। সে লক্ষ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

  • নির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থানে ইসি: দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর টানা অভিযান শুরু

    নির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থানে ইসি: দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর টানা অভিযান শুরু

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান নির্বাচনকালীন সময়জুড়ে অব্যাহত থাকবে।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এসব তথ্য নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

    এর আগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া এ বৈঠকে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন সচিবও অংশ নেন। এর আগে একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা তফসিল ঘোষণার পর তিন বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে ইসির প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।

  • লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের ছররা গুলি, আহত তিন বাংলাদেশি – আতঙ্কে সীমান্তবাসী

    লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের ছররা গুলি, আহত তিন বাংলাদেশি – আতঙ্কে সীমান্তবাসী

    এবিএনএ: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ছররা গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা বর্তমানে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তের শূন্যরেখায় গরু পারাপারের সময় হঠাৎ বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়। গুলির শব্দে সীমান্তের আশপাশের গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

    বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বিপরীতে ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার পকেটপাড়া গ্রামে বিএসএফের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের রতনপুর ক্যাম্প থেকে এই গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলটি বাংলাদেশের প্রধান পিলার ৮৫৪ নম্বরের উপপিলার ৩–এর কাছাকাছি এলাকায়।

    বিজিবি রংপুর ৬১ (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার কামাল উদ্দিন জানান, “গুলি ছোড়ার খবর পাওয়ার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছি, তবে বিএসএফ এখনো সাড়া দেয়নি।”

    উল্লেখ্য, মাত্র পাঁচ দিন আগে, একই ইউনিয়নের সীমান্তে বিএসএফ তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিল। ধারাবাহিক এ ধরনের ঘটনার ফলে সীমান্ত এলাকায় আবারও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

    এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ফজরের নামাজ শেষে ফিরছিলাম, তখন দেখি কয়েকজন গুলিবিদ্ধ মানুষকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।”

    সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

  • ধানমন্ডিতে ল্যাবএইডের সামনে বাসে হঠাৎ আগুন, আতঙ্কে পথচারীরা

    ধানমন্ডিতে ল্যাবএইডের সামনে বাসে হঠাৎ আগুন, আতঙ্কে পথচারীরা

    এবিএনএ: রাজধানীর ধানমন্ডিতে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় একটি বাসে আকস্মিকভাবে আগুন লাগে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন জানান, মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট পাঠানো হয় এবং তারা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে আগুন লাগার কারণ এবং বাসটি চলমান ছিল নাকি পার্কিং অবস্থায় ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার আগে বাসটির পাশ দিয়ে কয়েকজন তরুণ হেঁটে যাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে থাকা অনেকে এটিকে ‘সন্দেহজনক ঘটনা’ হিসেবে দেখছেন, যদিও এখনও কোনো পক্ষই নাশকতার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

    উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার ভোরেও রাজধানীর মেরুল বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় দুটি বাসে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ধারাবাহিক এসব অগ্নিকাণ্ডে রাজধানীর নাগরিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।

  • দিল্লির লালকেল্লার পাশে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮: আতঙ্কে রাজধানী

    দিল্লির লালকেল্লার পাশে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮: আতঙ্কে রাজধানী

    এবিএনএ:  ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে আজ (রবিবার) সন্ধ্যায় ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জন নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

    চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় চারপাশের মানুষ আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে। বিস্ফোরণের মুহূর্তেই ধীরগতিতে চলা একটি গাড়ি মুহূর্তের মধ্যেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আশেপাশে পার্ক করা ২২টি গাড়িও ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় গাড়িটির ভেতরে যাত্রী ছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে ছিন্নভিন্ন দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এটি ছিল একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণ, যা সিগন্যালের কাছে হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে গেছে।”

    বিস্ফোরণের পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ডেপুটি চিফ ফায়ার অফিসার এ কে মালিক জানান, “আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রাত ৭টা ২৯ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।”

    এ ঘটনায় ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লি পুলিশের কমিশনার ও এনআইএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন এবং পুরো ঘটনার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন।

    বিস্ফোরণের পর দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, জয়পুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। উল্লেখ্য, আজ সকালেই দিল্লির কাছের ফরিদাবাদে প্রায় ২৯শ’ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। আগামীকাল বিহারে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে এই বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে বাড়ছে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ।

    মুঘল সম্রাট শাহজাহান নির্মিত ১৭ শতকের ঐতিহ্যবাহী লালকেল্লা প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের গন্তব্যস্থল। এমন ঐতিহাসিক স্থানের কাছে এই বিস্ফোরণ ভারতের রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

  • কাতারে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

    কাতারে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

    এবিএনএ: কাতারের রাজধানী দোহা-তে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার আগে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমানোর জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এতে সুনির্দিষ্ট অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার এবং অতিরিক্ত গোয়েন্দা তথ্যের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। শিন বেট নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযানে হামাসের ‘উচ্চপদস্থ নেতৃত্বকে’ লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হয়েছে।

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি হামাসের শীর্ষ নেতার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দোহায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য অবস্থানরত শীর্ষ হামাস নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    দোহার শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারা জেলার উপরে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। হামলার ফলে পরিস্থিতি তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।