Tag: ঢাকা

  • টিকিট ছাড়াই বড়পর্দায় সালমান–শাবনূর! ঢাকায় বিনামূল্যে দেখানো হবে কালজয়ী ‘রঙিন সুজন সখী’

    টিকিট ছাড়াই বড়পর্দায় সালমান–শাবনূর! ঢাকায় বিনামূল্যে দেখানো হবে কালজয়ী ‘রঙিন সুজন সখী’

    এবিএনএ: ঢালিউডের জনপ্রিয় ও সফল জুটির কথা উঠলেই যে নাম দুটি সবার আগে আসে—সালমান শাহ ও শাবনূর। নব্বইয়ের দশকে তাদের অনবদ্য রসায়ন দর্শকদের হৃদয়ে যে জায়গা তৈরি করেছিল, তা আজও অটুট। সেই স্মৃতিকে আবারও জীবন্ত করতে বড়পর্দায় ফিরছে তাদের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘রঙিন সুজন সখী’। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো—এই সিনেমাটি উপভোগ করতে দর্শকদের কোনো টিকিট কাটতে হবে না।

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রজেকশন হলে আগামী ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ এই প্রদর্শনী। ফিল্ম আর্কাইভের নিয়মিত সাপ্তাহিক আয়োজনের অংশ হিসেবেই সিনেমাটি দেখানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন নির্মাতা শাহ আলম কিরণ। মুক্তির সময় ‘রঙিন সুজন সখী’ দর্শকপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সাফল্য—দুটিই অর্জন করেছিল। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে সালমান শাহকে বড়পর্দায় দেখার সুযোগ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    ফিল্ম আর্কাইভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রদর্শনীটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। দর্শকদের কোনো টিকিট সংগ্রহ কিংবা আগাম নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। তবে হলের আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় আগে আসা দর্শকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বসার ব্যবস্থা করা হবে।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, যারা নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় জুটির সিনেমা বড়পর্দায় উপভোগ করতে চান, তাদের নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রিয় তারকাদের কালজয়ী রোমান্টিক গল্প আবারও সিনেমা হলে দেখার এই সুযোগ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

  • হামে মৃত্যুর ছায়া শিশু হাসপাতালে: যমজের একজন নিথর, অন্যজন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    হামে মৃত্যুর ছায়া শিশু হাসপাতালে: যমজের একজন নিথর, অন্যজন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    এবিএনএ: রাজধানীর শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ের মধ্যে ফুটে উঠেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ছয় মাস বয়সী যমজ কন্যা—রিসা ও রুহি। কয়েকদিন আগেও তাদের হাসিতে মুখর ছিল পরিবার। কিন্তু হামে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যায় রিসা। একই রোগে আক্রান্ত তার যমজ বোন রুহি এখন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

    হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা মা কনিকা বেগমের কোলে নিথর এক সন্তান, আর সামনে আইসিইউতে লড়ছে অন্যজন। অসহায় এই মুহূর্তে তিনি বাকরুদ্ধ। স্বজনদের চোখে জল না থাকলেও মুখের অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট শোকের গভীরতা।

    শিশুদের মামা তানভীর হোসেন জানান, জন্মের পর থেকেই দুই বোনই ছিল প্রাণবন্ত। তাদের বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সব চেষ্টা করা হয়েছে। একজনকে হারানোর পর এখন অন্যজনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার গাজীপুর থেকে হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু দুটিকে ঢাকায় আনা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শিশু হাসপাতালে স্থানান্তরের পর অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রিসাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

    চিকিৎসকদের মতে, হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের জটিলতায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। একই উপসর্গ নিয়ে রুহিকেও আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউতে ১৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন, যাদের অধিকাংশের বয়স ১০ মাসের কম। চিকিৎসকদের ভাষায়, তাদের বেশিরভাগই সংকটাপন্ন।

    হাসপাতালের আইসিইউর সামনে উদ্বিগ্ন অপেক্ষায় ছিলেন আরেক শিশুর স্বজন নুরুল হক। তার ১০ মাস বয়সী নাতনি জোবায়দা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। সাত দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। নাতনির অবস্থা জানতে বারবার আইসিইউতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও অনুমতি না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন তিনি।

    অন্যদিকে, মিরপুর-১০ এলাকা থেকে তিন মাস বয়সী শিশু রিফাতকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন মুন্নি বেগম। হাম ও নিউমোনিয়ার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকায় জরুরি আইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু শয্যা খালি না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্য হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন তারা। সন্তানের জীবন বাঁচাতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত ৬১ শিশু বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। গতকাল দুপুরে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে আইসিইউতে। আজ সকাল পর্যন্ত মোট চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই হাসপাতালে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকা বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়ছে। ৫ এপ্রিল যেখানে ৩৯২ শিশুর মধ্যে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছিল, তা পরদিন বেড়ে হয় ৪৭০ জন। সর্বশেষ সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে। একই সময়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ৬০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের।

  • ঢাকায় বসছে পাহাড়ি সংস্কৃতির মিলনমেলা: শুরু হচ্ছে ‘বিঝু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু’ উৎসব

    ঢাকায় বসছে পাহাড়ি সংস্কৃতির মিলনমেলা: শুরু হচ্ছে ‘বিঝু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু’ উৎসব

    এবিএনএ: রাজধানীতে আবারও জমে উঠতে যাচ্ছে পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আমেজ। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘বিঝু, বৈসু, সাংগ্রাই ও বিষু’ উপলক্ষে ঢাকায় তিন দিনব্যাপী একটি বিশেষ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

    আগামী ৯ এপ্রিল থেকে মিরপুরের শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ আয়োজন।

    ঢাকায় বসবাসরত পার্বত্য উদ্যোক্তাদের একটি সমবায় সংগঠনের উদ্যোগে এবং একটি সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    মেলায় অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন পাহাড়ি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। তাদের স্টলগুলোতে পাওয়া যাবে পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পণ্য, পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী। পাশাপাশি কিছু স্টলে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক পণ্যের সংমিশ্রণও দেখা যাবে।

    মেলার প্রধান আকর্ষণ

    এবারের আয়োজনে ৩০টির বেশি স্টলে সাজানো থাকবে পাহাড়ি কৃষিপণ্য, জুম চাষের তাজা সবজি, হাতে তৈরি হস্তশিল্প এবং জনপ্রিয় পাহাড়ি খাবারের সমাহার। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য পরিবেশনা, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

    মেলার শেষ দিনে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ লটারি ড্র, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ করবে।

    স্পেশাল বিজু বাজার

    মেলা শেষ হওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ১২ এপ্রিল, বসবে ‘স্পেশাল বিজু বাজার’। এখানে পাওয়া যাবে উৎসব উপলক্ষে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য, যেমন তাজা সবজি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও শুকনা খাবার।

    আয়োজকদের বক্তব্য

    আয়োজকদের মতে, পাহাড়ি সংস্কৃতি, খাবার ও পোশাকের প্রতি নগরবাসীর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে রাজধানীর মানুষের কাছে পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

    তারা আরও জানান, গত বছরের সফলতার ধারাবাহিকতায় এবার আরও বড় পরিসরে মেলা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিতে পারবেন।

    কিভাবে যাবেন

    মেলার স্থানটি রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অবস্থিত। মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশন থেকে রিকশায় অল্প সময়েই পৌঁছানো যাবে। আশপাশে বেশ কিছু পরিচিত প্রতিষ্ঠান থাকায় স্থানটি খুঁজে পাওয়া সহজ।

  • ঝড়-বৃষ্টিতে অচল কমলাপুর—উপড়ে পড়া গাছে বন্ধ সড়ক, বিদ্যুৎহীন বহু ঘর

    ঝড়-বৃষ্টিতে অচল কমলাপুর—উপড়ে পড়া গাছে বন্ধ সড়ক, বিদ্যুৎহীন বহু ঘর

    এবিএনএ: রাজধানীতে হঠাৎ তীব্র ঝড় ও বৃষ্টির দাপটে কমলাপুর এলাকায় বড় ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বাতাসে একটি বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে যাওয়ায় কমলাপুর থেকে টিটিপাড়া আন্ডারপাসগামী পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

    বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঝড় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গাছটি সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে ভেঙে পড়ে। এতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে বাধ্য হতে হয়।

    ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাত সাড়ে আটটার দিকেও সড়কের পশ্চিম পাশে একটি বিশাল রেন্ট্রি গাছ পড়ে আছে। ফলে ওই পথে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং চালকদের উল্টো দিক দিয়ে ঘুরে চলতে হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি শুরুর পরপরই গাছটি সড়কের মাঝামাঝি ভেঙে পড়ে এবং পাশের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। এতে আশপাশের বেশ কয়েকটি বাসায় সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ।

    এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাতেই সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে গাছ অপসারণের কাজ শুরু করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

  • ঈদের ছুটিতে জ্বালানি সংকট! রাজধানীর পাম্পে ‘অকটেন নেই’—ভোগান্তিতে চালকরা

    ঈদের ছুটিতে জ্বালানি সংকট! রাজধানীর পাম্পে ‘অকটেন নেই’—ভোগান্তিতে চালকরা

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটির কারণে রাজধানীতে জ্বালানির সরবরাহে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক সংকট। ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় অর্থ পরিশোধ জটিলতা তৈরি হওয়ায় বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে অকটেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

    মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা—উত্তরা, মিরপুর, মহাখালী ও গাবতলী ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘অকটেন নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ থাকলেও সেখানে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

    পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে নতুন করে তেল আসার নির্দিষ্ট কোনো সময় তারা জানেন না। ফলে অনেকেই এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না।

    রাইড শেয়ারিং চালক রায়হান কবির জানান, এক পাম্পে তেল না পেয়ে অন্য পাম্পে যেতে গিয়ে গাড়ির অবশিষ্ট জ্বালানিও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে জীবিকা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    অন্যদিকে পাম্প মালিকদের দাবি, হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারা জানান, ঈদের ছুটিতে ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় অর্থ লেনদেনে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও ধীর করে দিয়েছে।

    উত্তরার আজমপুর এলাকার একটি পাম্পের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৮ হাজার লিটার তেল পাওয়ার কথা, সেখানে অনেক সময় মাত্র কয়েক হাজার লিটার সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এই সীমিত তেল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ডিপো থেকে তেল সরবরাহের বার্তার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। বার্তা না আসা পর্যন্ত পাম্প চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানীর জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ চালক থেকে শুরু করে পরিবহন খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

  • ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা: ঢাকাসহ ২০ অঞ্চলের নদীবন্দরে সংকেত জারি

    ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা: ঢাকাসহ ২০ অঞ্চলের নদীবন্দরে সংকেত জারি

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানী ঢাকাসহ অন্তত ২০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

    শনিবার রাত ১টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এই সতর্কতা জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদদের মতে, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা ঝড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাত ও স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টিপাত।

    যেসব অঞ্চল এই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সেগুলো হলো—রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারিপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট।

    এই পরিস্থিতিতে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ঝড়ের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • জাতীয় ঈদগাহে ঐতিহাসিক ঈদের জামাত—রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে লাখো মুসল্লির মিলনমেলা

    জাতীয় ঈদগাহে ঐতিহাসিক ঈদের জামাত—রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে লাখো মুসল্লির মিলনমেলা

    এবিএনএ: রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বসহ হাজারো মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

    ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা জাতীয় ঈদগাহে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে বিশেষ আবেগের সৃষ্টি করে।

    এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সরকারি আমলা এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও এই জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    ঈদের নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয়, যেখানে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্যের জন্য দোয়া করা হয়।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঈদের জামাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়। মুসল্লিদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত অযুখানা, চিকিৎসা সেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

    বিশেষভাবে নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, প্রবেশপথ ও অযুর ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

  • রাজধানীতে কোথায় কখন ঈদের নামাজ? জেনে নিন ঢাকার সব জামাতের সময়সূচি এক নজরে

    রাজধানীতে কোথায় কখন ঈদের নামাজ? জেনে নিন ঢাকার সব জামাতের সময়সূচি এক নজরে

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ এবং ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করবেন। ইতোমধ্যে এসব জামাতকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

    রাজধানীর প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, কোনো কারণে সেখানে জামাত অনুষ্ঠিত না হলে বিকল্প হিসেবে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    জাতীয় ঈদগাহে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। এখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ প্রায় ৩৩০ জন ভিআইপি এবং প্রায় এক লাখ সাধারণ মুসল্লির জন্য নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা পর্দার ব্যবস্থাও থাকবে।

    জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সময়গুলো হলো—সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিট।

    এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সংসদ সদস্য ও সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেবেন। নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত হবে—প্রথমটি সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয়টি সকাল ৯টায়।

    পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যেমন লক্ষ্মীবাজার মিয়া সাহেবের ময়দান, গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠ, দক্ষিণ মুগদা ও অন্যান্য এলাকায় সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    এছাড়া মহাখালী, লালবাগ, মান্ডা, গেন্ডারিয়া, জুরাইনসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাতেও ১৭টি জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় একটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

    ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের দিন নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে সমন্বিত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু থাকবে।

  • ঈদযাত্রায় নতুন দুশ্চিন্তা: জ্বালানি সংকটে বাসের শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

    ঈদযাত্রায় নতুন দুশ্চিন্তা: জ্বালানি সংকটে বাসের শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। এবার ধাপে ধাপে বাড়ি ফেরার কারণে শুরুতে স্বস্তি থাকলেও নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট।

    পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে এখনো স্বাভাবিক হয়নি তেল সরবরাহ। অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে বাসচালক ও মালিকদের। ফলে সময়মতো বাস ছাড়তে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হতে পারে। এর আগে চার দিনের টানা ছুটির কারণে এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোতেও বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি।

    ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পদ্মা ও যমুনা সেতুতেও তেমন চাপ নেই বলে জানা গেছে।

    তবে পরিবহন মালিকরা বলছেন, তেলের অপ্রতুলতা এবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বাস কোম্পানি প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল পাচ্ছে না। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ট্রিপ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।

    বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যাত্রীদের চাপ বাড়লেও তেলের অনিশ্চয়তার কারণে বাসের সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে যাত্রী ভোগান্তি বাড়তে পারে।

    অন্যদিকে, সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণপরিবহনে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, সামনে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতের ছুটি শুরু হলে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে। সেই চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত বাসের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

    সব মিলিয়ে মহাসড়কে যানজট না থাকলেও ‘তেলের টেনশন’ এখন ঈদযাত্রার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান, ৬ জনকে থানায় নেয়া হল

    প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান, ৬ জনকে থানায় নেয়া হল

    এবিএনএ: রাজধানীর গুলশান এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ায় ছয়জনকে থানায় হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা মূলত প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সহায়তা চাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে তাদের গুলশান থানা–এ নিয়ে আসা হয়। পুলিশের বরাতে জানা যায়, দায়িত্বরত নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করলেও তারা সরতে রাজি হননি। এরপর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে।

    ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, “তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চাওয়ার জন্য বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন। পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের সরানোর চেষ্টা করেছেন। পরে এসএসএফ অবহিত করলে আমরা থানায় নিয়ে আসি। থানায় আনার পর তাদের ইফতার করানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। ছয়জনই শান্তিপূর্ণভাবে পরিবারের কাছে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন।