Tag: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

  • ভোট দিয়ে ড. ইউনূসের আবেগী বার্তা: ‘আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’

    ভোট দিয়ে ড. ইউনূসের আবেগী বার্তা: ‘আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজকের দিনটি তার জীবনের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    ভোট শেষে ড. ইউনূস বলেন, এই দিনের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। তার মতে, আজকের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতীতের ব্যর্থতা ও দুঃসময় পেছনে ফেলে সামনে এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সারাদিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, প্রার্থীদের জন্য ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে অংশগ্রহণ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গণভোটের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামো ও পথচলায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    দেশবাসীকে উদ্দেশ করে প্রধান উপদেষ্টা গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান। তার ভাষায়, সম্মিলিত অংশগ্রহণই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দেবে। বক্তব্যের শেষে তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং দিনটিকে আনন্দ ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

  • উৎসবমুখর ভোট নিশ্চিত করাই বড় পরীক্ষা, নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    উৎসবমুখর ভোট নিশ্চিত করাই বড় পরীক্ষা, নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    এবিএনএ: আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, প্রচারণা পর্যায়ে কোথাও কটু বক্তব্য বা অশোভন আচরণ চোখে পড়েনি, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

    শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের তার বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

    ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত সন্তোষজনকভাবে এগিয়েছে। তবে সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াকে শতভাগ নিখুঁত করা। ভোট যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়—এটাই মূল লক্ষ্য।

    তিনি জানান, সামনে আসা সপ্তাহটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার প্রত্যাশা, ভোটের দিনটি হবে উৎসবের মতো। নারী ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, পরিবারসহ মানুষ অংশ নেবে ভোটের আনন্দে। এই নির্বাচন ভবিষ্যতে একটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সারা দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি কয়েকটি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যামেরার কার্যকারিতা যাচাই করেন।

    এছাড়া নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ এখন পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে বলে জানান তিনি। এই অ্যাপের মাধ্যমে কোনো কেন্দ্র বা কেন্দ্রের আশপাশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে সংকেত পৌঁছে যাবে। এর ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

    প্রেস সচিব আরও বলেন, অতীতে দুর্গাপূজার সময় একই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল, যা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার নির্বাচনে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • রাজনীতিতে নতুন বার্তা? প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে তারেক রহমান

    রাজনীতিতে নতুন বার্তা? প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে তারেক রহমান

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে বাসভবন ত্যাগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টা ১১ মিনিটে তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা থেকে বের হন। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে তিনি গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে রওনা হন। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত শেষে তিনি যমুনায় পৌঁছান।

    বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে। বৈঠকে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

    দীর্ঘ এই আলোচনায় কী বিষয় উঠে এসেছে—সে সম্পর্কে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিএনপি কিংবা সরকারের প্রেস উইং থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বিমানবন্দরেই ফোনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার ২১ দিনের মাথায় এবার সরাসরি সাক্ষাৎ করলেন তিনি। এর আগেও ৩১ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়েছিল।

    এছাড়া, গত বছর ১৩ জুন লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

  • নির্বাচন নিয়ে বার্তা: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে পাঁচ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি

    নির্বাচন নিয়ে বার্তা: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে পাঁচ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি

    এবিএনএ: বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা।

    মঙ্গলবার দেওয়া ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, বিল হুইজেঙ্গা ও সিডনি কামলাগার-ডোভ। তাঁদের সঙ্গে চিঠিতে আরও সই করেন কংগ্রেস সদস্য জুলি জনসন ও টম আর সুওজি। চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

    চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে আইনপ্রণেতারা বলেন, জাতীয় সংকটের এই সময়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণে ড. ইউনূসের এগিয়ে আসাকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

    তাঁরা উল্লেখ করেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিফলনের পরিবেশ তৈরি করতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে রাজনৈতিক মতাদর্শের সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকার প্রতি সমর্থন থাকলেও একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া মৌলিক মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    মার্কিন আইনপ্রণেতারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে কাঠামোগত সংস্কারের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখা বা ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় সক্রিয় করলে এসব লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।

  • বিজয়ের ৫৪ বছরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা, নীরবতায় স্মরণ বীর শহীদদের

    বিজয়ের ৫৪ বছরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা, নীরবতায় স্মরণ বীর শহীদদের

    এবিএনএ:  মহান বিজয় দিবসের সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর সম্মান জানান।

    মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধান উপদেষ্টা।

    এই সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। বিউগলের করুণ সুর পরিবেশকে আরও আবেগঘন করে তোলে।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

    মহান বিজয় দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়। ঢাকার পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ছয়টি গান থেকে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদান করা হয়।

    প্রতি বছরের মতো এবারও সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে, যা স্বাধীনতার চেতনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করছে।

  • বিজয় দিবস হোক দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    বিজয় দিবস হোক দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    এবিএনএ: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহান বিজয় দিবসকে দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। ১৬ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি বলেন, এই দিন হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দিন।

    ড. ইউনূস বলেন, “১৯৭১ সালের ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পর অর্জিত স্বাধীনতা এবং লাখো শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা ও স্বাধীন জাতিসত্তা। এ বিজয় আমাদের দায়িত্ব দেয় দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে স্বাধীনতার আলো স্বৈরাচার ও অপশাসনের কারণে ম্লান হলেও, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন করে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন উৎখাত হবে, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

    তিনি বলেন, “চলুন, স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দিই। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই মিলে হাতে হাত রেখে শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপদ বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাই।”

  • সমবায়ের শক্তিতে বদলে যাবে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের আশাবাদ

    সমবায়ের শক্তিতে বদলে যাবে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের আশাবাদ

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সমবায়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে আরও শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর করা সম্ভব। কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, সঞ্চয়, ঋণদান ও কুটিরশিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

    ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘সাম্য ও সমতায়, দেশ গড়বে সমবায়’— উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সমবায় খাতের বিকাশ মানেই জনগণের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রত্যেক মানুষ সমান সুযোগ ও মর্যাদায় উন্নতির পথে এগোবে।”

    ড. ইউনূস বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে সমবায় খাতকে আধুনিক ও গতিশীল করার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। সামাজিক সম্পৃক্ততা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে সমবায়ের চেতনাকে শক্তভাবে ধারণ করতে হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “সমবায় কেবল অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সমাজের সমস্যা সমাধান ও ঐক্যের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সমবায়ের বিকল্প নেই।”

    প্রধান উপদেষ্টা সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, সমবায়ের মূল চেতনাকে ধারণ করে আমরা সবাই মিলে ন্যায়ের ভিত্তিতে এক নতুন, আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”

    ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবসের সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, “সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের পথেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।”

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে ব্যাপক সংস্কার: শক্তিশালী ক্ষমতা ও বাধ্যতামূলক আদেশের বিধান

    নতুন মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে ব্যাপক সংস্কার: শক্তিশালী ক্ষমতা ও বাধ্যতামূলক আদেশের বিধান

    এবিএনএ:  জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও ক্ষমতাসম্পন্ন করতে নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অধ্যাদেশটি অনুমোদন হয়।

    বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

    আইন উপদেষ্টা জানান, পুরোনো মানবাধিকার কমিশন কার্যত দন্তহীন ছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, এখতিয়ারে ঘাটতি এবং নেতৃত্বের দুর্বলতা প্রতিষ্ঠানটিকে অকার্যকর করে তুলেছিল। নতুন অধ্যাদেশে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে কমিশনকে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতাসম্পন্ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়েছে।

    কমিশনের গঠন ও নিয়োগে স্বচ্ছতা

    নতুন আইনে কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন আহ্বান এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হবে।

    ড. আসিফ নজরুল বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় যোগ্য, অভিজ্ঞ ও মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ব্যক্তিরাই কমিশনে অন্তর্ভুক্ত হবেন।”

    বর্ধিত এখতিয়ার ও দায়িত্ব

    নতুন অধ্যাদেশে কমিশনের এখতিয়ার বহুলাংশে বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে শৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারি সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও তদন্তের আওতায় আসবে।

    আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, “আগের কমিশনের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল প্রশাসন বা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা। এবার সেই সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে।”

    গুম প্রতিরোধ ও বাধ্যতামূলক আদেশ

    অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুম প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং মানবাধিকার সংরক্ষণমূলক আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বও কমিশনের ওপর অর্পিত হয়েছে। ফলে আলাদা করে কোনো ‘গুম কমিশন’ গঠনের প্রয়োজন পড়বে না।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কমিশনের আদেশ এখন থেকে বাধ্যতামূলক হবে। অর্থাৎ, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করলে তা আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

    আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নতুন পদক্ষেপ

    নতুন কমিশনের এখতিয়ারে কেবল সংবিধানের মৌলিক অধিকার নয়, বরং বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে কমিশন এখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ করতে পারবে, যা দেশের মানবাধিকার অঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

  • বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের অভিযোগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

    বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের অভিযোগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

    এবিএনএ: বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধিত ধারা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলেছে, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগপন্থী রাজনীতিক ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করছে।

    বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের উচিত এ বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ করা।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। পরে দায়িত্ব গ্রহণ করে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যারা চলতি বছরের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়।

    এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যেন অতীতের মতো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফাঁদে না পড়ে। শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমন গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।”

    তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার বন্ধে দ্রুত ভূমিকা নিতে হবে।

    সংস্থাটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অস্বচ্ছ অভিযোগ আনা হয়েছে। কিছু আটক ব্যক্তিরা পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন, যা অতীত সরকারের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বলে মনে করা হচ্ছে।

    উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ঘটে গত ২৮ আগস্ট ঢাকায়, যখন ‘মঞ্চ ৭১’ সংগঠন স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে এক সভা আয়োজন করে। সেখানে হামলার পর পুলিশের বদলে সভায় অংশ নেওয়া ১৬ জনকেই আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান এবং সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

    পরে তাঁদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আলোচনাকেই ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত এই আইন এখন শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ এডিটরস কাউন্সিলও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, আইনটির সংশোধন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে। যদিও ড. ইউনূস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    অন্যদিকে দেশের আইন সহায়তা সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জনতার হাতে অন্তত ১৫২ জন নিহত হয়েছেন, যা সামাজিক অস্থিরতা ও বিচারহীনতার ইঙ্গিত বহন করছে।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তিন বছরের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য মানবাধিকার রক্ষা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের উচিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার বন্ধ করে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।”

  • রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপের আহ্বান ড. ইউনূসের

    রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপের আহ্বান ড. ইউনূসের

    এবিএনএ:  রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর টেকসই সমাধানও হতে হবে মিয়ানমারের ভেতরেই। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মিকে বাধ্য করা, যাতে তারা অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে এবং রাখাইনে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা (স্থানীয় সময় সকাল ১০টা) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের হলরুমে এ সম্মেলন শুরু হয়।

    ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, “এখনই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এটি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এ সংকটের স্থায়ী সমাধান একমাত্র মিয়ানমারেই সম্ভব। তাই আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া মিয়ানমারকে প্রত্যাবাসনে বাধ্য করা যাবে না।