Tag: ড্রোন হামলা

  • রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, নিহত পাইলটের বীরত্বে বাঁচল বহু প্রাণ

    রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, নিহত পাইলটের বীরত্বে বাঁচল বহু প্রাণ

    এবিএনএ:  ইউক্রেনের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানের পাইলট নিহত হয়েছেন বলে রোববার নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

    হামলাটি ছিল রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বিমান আক্রমণ, যেখানে ৪৭৭টি ড্রোন ও ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এর মধ্যে ২১১টি ড্রোন ও ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে, আর ২২৫টি ড্রোন ইলেকট্রনিক যুদ্ধের কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে বা ভুয়া লক্ষ্যে গেছে।

    ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিহত পাইলট তার এফ-১৬ দিয়ে সাতটি রুশ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেন। শেষ লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করার সময় বিমানে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তা দ্রুত নিচে পড়তে শুরু করে। পাইলট জনবসতি থেকে বিমানের পথ ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও নিরাপদে অবতরণ করতে পারেননি।

    এই এফ-১৬ বিমানটি ছিল ইউক্রেনের তৃতীয় যুদ্ধবিমান, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ পাওয়ার পর হারাল দেশটি। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে কিয়েভসহ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লেভিভে সাইরেন বেজে ওঠে এবং মানুষ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেয়। লেভিভের গভর্নর জানিয়েছেন, হামলার লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

    প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “রাশিয়ার হাতে যতক্ষণ আক্রমণের সক্ষমতা থাকবে, ততক্ষণ তারা থামবে না।” তিনি আরও জানান, গত এক সপ্তাহেই রাশিয়া ১১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র, ১,২৭০টি ড্রোন ও ১,১০০টি গ্লাইড বোমা ইউক্রেনে নিক্ষেপ করেছে।

    একই সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নোভোসতির বরাতে জানা যায়, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন।

    এই সর্বশেষ ঘটনাগুলো ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের জন্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছে নতুন করে আহ্বান জানানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    এবিএনএ:

    ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—এমনটাই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, পুতিনের সঙ্গে একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টেলিফোনে কথা বলেন এবং সেই আলোচনায় পুতিন জানান, রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ইউক্রেন যে আক্রমণ চালিয়েছে, তার জবাব রাশিয়াকে দিতেই হবে।

    বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবে মস্কো আগে থেকেই বলেছিল—যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামরিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রয়েছে।

    ট্রাম্প বলেন, “এই আলোচনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কোনো শান্তি আসছে না, বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।”

    এদিকে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, ফোনালাপে পুতিন ইউক্রেনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনে’ পরিণত হওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, কিয়েভের সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। পুতিন ও ট্রাম্প উভয়েই রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ‘সম্ভাবনাময়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করছে।

  • গাজায় ত্রাণের ট্রাক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা, প্রাণ গেল পাঁচজনের

    গাজায় ত্রাণের ট্রাক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা, প্রাণ গেল পাঁচজনের

    এবিএনএ: 

    দক্ষিণ গাজার আল মাওয়াসি এলাকায় ত্রাণ নিতে আসা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর শনিবার ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

    আলজাজিরা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী যদিও গাজার কিছু এলাকায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, তবে উত্তর গাজায় এখনও একরকম অবরুদ্ধ অবস্থাই বজায় আছে। সেখানে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। গাজার বাসিন্দা আহমেদ আল নাজ্জার বলেন, “দক্ষিণে কিছু ট্রাক ঢুকেছে, তবে আমাদের বহু পরিবার এখনও একটি বিস্কুট পর্যন্ত পায়নি।”

    শনিবার পর্যন্ত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে মৃতের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৯০০ ছাড়িয়েছে, আর আহতের সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৫০০-এর বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ হতাহতই নারী ও শিশু।

    ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, গত দুই দিনে তারা গাজায় ১০০-র বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৭০ জন ফিলিস্তিনি। গাজা সিটির তুফা এলাকায় ভোররাতে বোমা বর্ষণে প্রাণ যায় চারজনের। এর পাশাপাশি, মধ্য গাজার দায়ের আল বালাহ অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনারা স্থল অভিযান শুরু করেছে।

    ৯২টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও উত্তর গাজা রয়ে গেছে বঞ্চিত

    গাজার চিকিৎসা বিভাগের প্রধান জানান, গত তিন দিনে মোট ৯২টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করলেও, সেগুলো শুধুমাত্র দক্ষিণ অংশেই গেছে। উত্তর গাজায় এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আংশিক ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা গাজার সার্বিক সংকটকে খুব একটা লাঘব করছে না।

    ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবঢাল ব্যবহার করার অভিযোগ

    ফিলিস্তিনের এক বাসিন্দা মাসুদ আবু সাইদ জানান, তাকে খান ইউনিস এলাকায় জোর করে দুই সপ্তাহ ধরে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। “আমাকে জোর করে হামাসের টানেল খুঁজে বের করতে বাধ্য করা হয়েছিল,” বলেন মাসুদ। তিনি বলেন, “আমার শিশু সন্তানের কাছে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি।”

    জাতিসংঘের আহ্বান: ত্রাণ আরও বাড়াতে হবে

    গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। জাতিসংঘ বলছে, গাজায় প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় ত্রাণের পরিমাণ অনেক কম। তারা দ্রুত ও ব্যাপক হারে ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

    এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় ইসরায়েলের এই আচরণকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এখন বড় প্রশ্ন: এই সংঘাত কতদিন চলবে এবং কত প্রাণ আরও ঝরবে?

  • জম্মুতে রাতভর বিস্ফোরণ ও ব্ল্যাকআউট: পাকিস্তানের প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় তোলপাড় ভারত

    জম্মুতে রাতভর বিস্ফোরণ ও ব্ল্যাকআউট: পাকিস্তানের প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় তোলপাড় ভারত

    এবিএনএ:  ভারতের নিয়ন্ত্রিত জম্মু অঞ্চলে পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতভর সাইরেন বাজানো মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় একপ্রকার ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, পাকিস্তান হামলার পেছনে থাকতে পারে।

    এনডিটিভি সহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তান এবার সরাসরি জম্মুতে ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। হামলার সময় শহরের আকাশজুড়ে আলোর ঝলকানি দেখা গেছে, যা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা নির্দেশ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওতে বিস্ফোরণের সেই দৃশ্য তুলে ধরেছেন।

    একইসঙ্গে ভারতের কুপওয়ারা, পাঠানকোট পাঞ্জাব সীমান্তবর্তী গুরুদাসপুর শহরেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা যায়।

    আখনুর সাম্বা অঞ্চলেও রকেট হামলার আশঙ্কায় সাইরেন বাজানো হচ্ছে। ভারতীয় বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি প্রস্তুতি।

    এদিকে, ওপার বাংলার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান হয়তো প্রত্যাঘাত শুরু করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারিভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার করেনি।

    এই হামলার পেছনে প্রকৃত দায়ী কে, তা নিয়ে এখনো দ্বিধা থাকলেও সীমান্ত জুড়ে বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা সামরিক প্রস্তুতি।