Tag: ড্রোন হামলা

  • মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা: সৌদি, ওমান ও সাইপ্রাস থেকে দূতাবাস কর্মী সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ

    মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা: সৌদি, ওমান ও সাইপ্রাস থেকে দূতাবাস কর্মী সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে তিন দেশ থেকে দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সৌদি আরব, ওমান ও সাইপ্রাসে কর্মরত মার্কিন দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মীদের দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে পাঠানো নোটিশে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

    রিয়াদে হামলার পর সতর্কবার্তা

    রিয়াদ-এ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আক্রমণ ঘটতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থানরত দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ওমান ও সাইপ্রাসেও নিরাপত্তা উদ্বেগ

    ওমানসাইপ্রাস-এ পাঠানো বার্তায় সংক্ষেপে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মীদের দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।

    সোমবার সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। একই দিনে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুকম বন্দরেও একাধিক ড্রোন আক্রমণের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও পড়ছে। পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে ওয়াশিংটন।

  • বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংস কমান্ড সেন্টার

    বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংস কমান্ড সেন্টার

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ল। ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর বরাতে দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। সেখানে ঘাঁটির ভেতরে একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

    বাহরাইনের শেখ ইসা অঞ্চলে অবস্থিত এই মার্কিন বিমানঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১ মার্চ থেকে ঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানানো হয়েছে। এতে কমান্ড সেন্টার ও প্রশাসনিক ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ইরানি সূত্রের দাবি।

    তবে হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা পাল্টা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট নয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • ড্রোন হামলায় আবুধাবির নৌঘাঁটিতে আগুন: উত্তপ্ত উপসাগরীয় অঞ্চল, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

    ড্রোন হামলায় আবুধাবির নৌঘাঁটিতে আগুন: উত্তপ্ত উপসাগরীয় অঞ্চল, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও চড়ল। ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন আঘাতে আবুধাবির একটি নৌঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

    সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, আবুধাবির **আল সালাম নৌঘাঁটি**র একটি গুদামে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। আঘাতের পর সেখানে সংরক্ষিত সাধারণ মালামাল বহনকারী দুটি কন্টেইনারে আগুন ধরে যায়। দ্রুত উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, শনিবারের ঘটনার পর রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো আবুধাবিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী নৌঘাঁটির আশপাশে সতর্কতা জোরদার করেছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন হামলা বাণিজ্যিক ও সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠছে।

  • কৃষ্ণ সাগরে আগুনের লেলিহান শিখা: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তামান বন্দর কার্যত অচল

    কৃষ্ণ সাগরে আগুনের লেলিহান শিখা: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তামান বন্দর কার্যত অচল

    এবিএনএ: ইউক্রেনীয় ড্রোন অভিযানে কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর তামান বন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বন্দর দিয়ে তেল ও তেলজাত পণ্য, শস্য, কয়লাসহ নানা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হয়। হামলার পর বন্দর এলাকায় আগুন ধরে যায় এবং একাধিক স্থাপনা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

    রাশিয়ার ক্রাসনোদার প্রদেশ–এর গভর্নরের বরাতে জানা গেছে, ড্রোন আঘাতে তেলের স্টোরেজ ইউনিট, গুদামঘর ও টার্মিনাল ভবনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ঘটনায় অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বন্দর এলাকার বিভিন্ন অংশে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

    একই রাতে কৃষ্ণ সাগর উপকূলের পর্যটন শহর সোচি এবং কাছের শহর আনাপা–সংলগ্ন একটি গ্রামেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও নিশ্চিত হয়নি।

    এদিকে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী তামান বন্দরে হামলার কথা স্বীকার করেছে। দেশটির সামরিক দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়, সামনের দিনগুলোতে রাশিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

  • সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত: প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে গভীর শোক জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব

    সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত: প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে গভীর শোক জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব

    এবিএনএ: সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ উপলক্ষে তিনি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনূসকে ফোন করেন।

    রোববার সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত ফোনালাপে গুতেরেস বলেন, এই দুঃখজনক ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। হামলার ভয়াবহতায় তিনি গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিহত শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানান, যেন নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারগুলোর কাছে তার গভীর সমবেদনা পৌঁছে দেওয়া হয়।

    ফোনালাপে ড. মুহম্মদ ইউনূস নিহত শান্তিরক্ষীদের প্রাণহানিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আহত সেনাদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য আধুনিক ও উচ্চমানের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং শহীদদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করেন।

    গুতেরেস জানান, আহত শান্তিরক্ষীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সুদানের একটি স্থানীয় হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তৎপরতা দেখানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

    এ সময় দুই নেতা গুতেরেসের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    উল্লেখ্য, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে সুদানের আবেই অঞ্চলের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি স্থাপনায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং আরও আটজন আহত হন।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) নিহত ও আহত শান্তিরক্ষীদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

  • সুদানে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর, পরিচয় ও সর্বশেষ অবস্থা জানাল আইএসপিআর

    সুদানে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর, পরিচয় ও সর্বশেষ অবস্থা জানাল আইএসপিআর

    এবিএনএ: সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় পরিচালিত কাদুগলি লজিস্টিক বেসে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রোববার শহীদ ও আহতদের পরিচয়সহ সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতি জানিয়েছে।

    আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী এ হামলা চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    শহীদ শান্তিরক্ষীরা হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা (নাটোর), সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শামীম রেজা (রাজবাড়ী), সৈনিক শান্ত মন্ডল (কুড়িগ্রাম), মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন— লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান (কুষ্টিয়া), সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন (দিনাজপুর), কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি (ঢাকা), ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম (বরগুনা), সৈনিক মো. মেজবাউল কবির (কুড়িগ্রাম), সৈনিক উম্মে হানি আক্তার (রংপুর), সৈনিক চুমকি আক্তার (মানিকগঞ্জ) ও সৈনিক মো. মানাজির আহসান (নোয়াখালী)।

    আইএসপিআর জানায়, আহত আটজনের মধ্যে সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অন্য সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা শঙ্কামুক্ত।

    এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলেছে, শহীদ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকারের গৌরবোজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। শহীদদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

  • গাজায় রক্তপাত থামছে না: ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা পেরিয়েছে ৭০ হাজারের সীমা

    গাজায় রক্তপাত থামছে না: ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা পেরিয়েছে ৭০ হাজারের সীমা

    এবিএনএ:  যুদ্ধবিরতির মধ্যেও থামছে না গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা। ফিলিস্তিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা পেরিয়েছে ৭০ হাজারের বেশি। শনিবার (২৯ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জনের বেশি। নিহতদের বড় অংশই শিশু, নারী এবং নিরীহ বেসামরিক মানুষ।

    দক্ষিণ গাজার নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, খান ইউনিসের বেনি সুহাইলা এলাকায় একটি ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বয়স মাত্র ৮ ও ১১ বছর। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    এছাড়াও শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন এলাকায় স্থল, নৌ ও বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় বহু পরিবার ধ্বংস হয়েছে, অনেকে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    অপরদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা সন্দেহভাজন তিন জনকে গুলি করেছে। দক্ষিণ গাজায় আরও একজন নিহত হওয়ার কথাও নিশ্চিত করেছে তারা।

    হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। হামাস মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।

    কূটনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘমেয়াদী এই সংঘাতের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি পরিকল্পনা এখনও আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন, অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    গাজার পাশাপাশি উত্তেজনা বেড়েছে পশ্চিম তীরেও। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সেখানে আত্মসমর্পণের পরও দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সৈন্যরা। আরব টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি হাত তুলে আত্মসমর্পণ করার পরও তাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

    গাজায় সহিংসতার মাত্রা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন

    এবিএনএ: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুরস্ক প্রদেশের একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং উস্ত-লুগার জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্রে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে রোববার জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।

    কুরস্ক প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটির গণমাধ্যম শাখা জানায়, হামলার পরপরই দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নেভানো সম্ভব হলেও কেন্দ্রটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন গতকাল রাশিয়ার ১৩টি প্রদেশ লক্ষ্য করে শতাধিক বিস্ফোরকবাহী কামিকাজি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ৯৫টি ড্রোন রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। কুরস্ক অঞ্চলে ১০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

    গত সাড়ে তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। চলতি আগস্টের শুরুর দিকে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার সরকারি তেল শোধন কোম্পানি সিজরানের একটি কারখানাতেও হামলা চালিয়েছিল।

  • লোহিত সাগরে হুতিদের দাপট: ২০ মাসে ৭০ জাহাজে হামলা, নিহত ও নিখোঁজ বহু

    লোহিত সাগরে হুতিদের দাপট: ২০ মাসে ৭০ জাহাজে হামলা, নিহত ও নিখোঁজ বহু

    এবিএনএ: গত ২০ মাস ধরে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। সর্বশেষ হামলায় তারা দুটি জাহাজ ডুবিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজন নাবিক নিহত ও নিখোঁজ হন। নভেম্বর ২০২৩ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তারা অন্তত ৭০টি জাহাজে আক্রমণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক নৌপথে বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে।

    জানা গেছে, হুতিরা প্রকাশ্যে বলছে—তারা কেবল ইসরায়েল-সংযুক্ত জাহাজ লক্ষ্য করেই আঘাত হানছে। তবে বাস্তবে তাদের হামলার শিকার অনেক জাহাজের সঙ্গেই ইসরায়েলের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

    সর্বশেষ ৭ জুলাই হুতিরা ‘ম্যাজিক সি’ ও ‘ইটার্নিটি সি’ নামে দুটি জাহাজে হামলা চালায়। ম্যাজিক সি-র ২২ জন ক্রু কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও, ইটার্নিটি সি-তে ২৫ জন আরোহীর মধ্যে অনেকে নিহত হন ও বেশ কয়েকজনকে হুতিরা অপহরণ করে নিয়ে যায়।

    এই আক্রমণ দু’টি ঘটেছিল ইয়েমেন উপকূল থেকে প্রায় ৫১ নটিক্যাল মাইল দূরে, লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায়। হুতিরা ছোট জাহাজে চড়ে এবং কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অপারেশনের মাধ্যমে হামলা চালায়। পুরো মিশনটি ছিল পরিকল্পিত ও সুসমন্বিত, যা সংঘটিত করতে দুই দিন সময় নেয় তারা।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ওই আক্রমণের সময় কোনো সহযোগী জাহাজ বা সামরিক বাহিনী এগিয়ে আসেনি। অথচ এই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চীনের নৌবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি থাকার কথা। ২০২৩ সালে এই হুমকি মোকাবেলায় ‘প্রোসপারিটি গার্ডিয়ান’ নামে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হলেও কার্যকর প্রতিক্রিয়া প্রায় অনুপস্থিত।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিদের এই আগ্রাসী কৌশল শুধু নৌপথ নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকেই অস্থির করে তুলছে। প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় আকারে আক্রমণের পরও কেন বিশ্বশক্তিগুলো প্রতিক্রিয়া জানাতে ব্যর্থ হচ্ছে?

    বর্তমানে হুতিদের হামলার ধরন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তারা শুধু দূর থেকে ড্রোন হামলা নয়, বরং নৌযান চড়ে সরাসরি হামলার কৌশলও গ্রহণ করছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ সংকেত।

  • ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই মৃত্যুদণ্ড! ইরানের সংসদে পাস হলো চাঞ্চল্যকর আইন

    ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই মৃত্যুদণ্ড! ইরানের সংসদে পাস হলো চাঞ্চল্যকর আইন

    এবিএনএ:  ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ এখন থেকে ইরানে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে, যেখানে দখলদার ইসরায়েল ও তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বা সহযোগিতাকে ‘পৃথিবীতে দুর্নীতির’ শামিল বলা হয়েছে।

    আইনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি, প্রযুক্তিগত সহায়তা কিংবা যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। বিশেষভাবে বলা হয়েছে, যারা ইসরায়েলকে সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে, তাদের ‘কঠিনতম শাস্তি’ পেতে হবে।

    শুধু তাই নয়, স্টারলিংকসহ অনুমোদনবিহীন ইন্টারনেট সরঞ্জাম যেমন— রাউটার, রিসিভার ইত্যাদি বিক্রি, ব্যবহার বা মালিকানাকেও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং দশটির বেশি সরঞ্জাম আমদানি বা তৈরি করলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের অবসানকে স্বাগত জানিয়ে পারমাণবিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

    ইরান জানায়, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তবে ইসরায়েল এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা সন্দেহ পোষণ করছে যে, তেহরান পরোক্ষভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে।

    এদিকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান থেকে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। ইরানের ডিফেন্স নিউজ পোর্টাল ডেফা প্রেস জানিয়েছে, এতে ইসরায়েলের অন্তত ৩১ হাজার ভবন ও ৪ হাজার যানবাহন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

    তাদের ভাষ্য, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, ইরানি হামলা ইসরায়েলের উপর “ব্যাপক ও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি” ডেকে এনেছে।