Tag: ডেঙ্গু

  • ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে: একদিনে প্রাণ হারালেন ৩ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৪৯২

    ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে: একদিনে প্রাণ হারালেন ৩ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৪৯২

    এবিএনএ: সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৪৯২ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    সোমবার (৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের (সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—১৫৪ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১ জন, ঢাকা বিভাগে ৬৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৬ জন, দক্ষিণ সিটিতে ৫৩ জন, খুলনা বিভাগে ৫৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে ৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।

    এ সময়ের মধ্যে ৪১১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৪০৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৭৬৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। এই মুহূর্তে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • ডেঙ্গুর দাপটে হাসপাতাল ভরছে, জুলাইয়ের প্রথম তিন দিনে ভর্তি ১১৬০ জন

    ডেঙ্গুর দাপটে হাসপাতাল ভরছে, জুলাইয়ের প্রথম তিন দিনে ভর্তি ১১৬০ জন

    এবিএনএ: সারা দেশে ফের বাড়তে শুরু করেছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত তিন দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। শুধু আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার একদিনেই ভর্তি হয়েছিলেন ৪১৬ জন, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ একদিনে ভর্তি। ফলে জুলাই মাসের প্রথম তিন দিনেই রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৬০ জনে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৪৫৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের।

    সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে বরিশাল বিভাগে—১৫০ জন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি ৭৮ জন এবং অন্যান্য বিভাগে যথাক্রমে ঢাকা বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রামে ৩২ জন, রাজশাহীতে ২৯ জন, খুলনায় ১৪ জন, ময়মনসিংহে ৫ জন এবং সিলেটে ২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩২৯ জন।

    চীন দিল ১৯ হাজার ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট

    ডেঙ্গু শনাক্তকরণে সহায়তার অংশ হিসেবে চীন সরকার বাংলাদেশকে ১৯ হাজার ‘কম্বো কিট’ দিয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে একসঙ্গে এনএস-১, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষা করা যাবে। বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাখালী কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এসব কিট হস্তান্তর করা হয়।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। তিনি জানান, ডেঙ্গুর হটস্পট এলাকায় দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল, অ্যাম্বুলেন্স ও ডায়াগনস্টিক কিট পাঠানো হবে।

    তার দাবি, “পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে অনেকে জটিলতায় পড়ছেন।”

    তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা সহ চারটি ভাইরাস সক্রিয়। সাধারণ জ্বর ভেবে রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে আসছেন, যা চিকিৎসা জটিল করছে।

    অতীত রেকর্ড ভেঙে নতুন আশঙ্কা?

    ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১১ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ৫৭৫ জন। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০২৩ সাল, যেখানে আক্রান্ত হয়েছিল ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি এবং মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের। ২০২২ সালেও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজারের বেশি।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে এ বছরও ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই জনসাধারণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এ বছর ‘ভেক্টর কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’ আরও জোরদার করা হবে এবং স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২১২ জন, বরিশালেই অধিকাংশ ভর্তি

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২১২ জন, বরিশালেই অধিকাংশ ভর্তি

    এবিএনএ:  দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ১১০ জনই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই সময়ের মধ্যে কোনো মৃত্যুর খবর না থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশালের বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ১৬ জন, ঢাকার বাইরের এলাকায় ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া খুলনায় ১২ জন এবং ময়মনসিংহে ১ জন নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

    চলতি জুন মাসের প্রথম ১৮ দিনে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। আর সারা বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬ হাজার ৬৭৮ জন রোগী।

    তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮৯ জন রোগী। মোট ছাড়পত্রপ্রাপ্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৮৭ জনে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। জনগণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন দিগন্ত: ঢাকায় সফল ‘ভালো মশা’ প্রযুক্তি

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন দিগন্ত: ঢাকায় সফল ‘ভালো মশা’ প্রযুক্তি

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল উলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত এডিস ইজিপ্টি মশা তৈরি করে ঢাকার পরিবেশে সফলভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। এই মশাগুলোকে ‘ভালো মশা’ বলা হচ্ছে, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের বিস্তার রোধে কার্যকর।

    এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কিউআইএমআর বার্গহোফার মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিডিডিআর,বি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির বিজ্ঞানীরা। গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি ‘নেচার’ জার্নালের সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত হয়েছে।BSS+1Prothomalo+1

    উলবাকিয়া একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া, যা এডিস মশায় সংক্রমিত হলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করে। মানুষ বা পরিবেশের জন্য এটি ক্ষতিকর নয়। এই মশাগুলো দুটি কৌশলে ব্যবহৃত হয়:Prothomalo+2সময় নিউজ | সময়ের প্রয়োজনে সময়+2Bangla Tribune+2

    1. দমন কৌশল: শুধু পুরুষ উলবাকিয়া মশা ছাড়া হয়, যা স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়ে ডিম নিষ্ক্রিয় করে, ফলে মশার সংখ্যা কমে যায়।

    2. প্রতিস্থাপন কৌশল: পুরুষ স্ত্রী উভয় মশা ছাড়া হয়, এবং উলবাকিয়া আক্রান্ত স্ত্রী মশা প্রজন্মের পর প্রজন্মে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয়, যা বন্য মশাদের প্রতিস্থাপন করে।Prothomalo

    গবেষণায় দেখা গেছে, উলবাকিয়া-আক্রান্ত মশাগুলো ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষমতা ৯২.৭% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম। এছাড়া, এদের প্রজননক্ষমতা টিকে থাকার ক্ষমতা স্থানীয় মশার সমান, যা পরিবেশে ছাড়ার জন্য উপযুক্ত করে তোলে।

    আইসিডিডিআর,বি’র বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “উলবাকিয়া মশা জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত নয়, এটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া বহন করে। গবেষণায় এটি ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। এটি ডেঙ্গু অনুরূপ ভাইরাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জন্য নতুন প্রতিরক্ষার পথ খুলে দিতে পারে।”

    এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর যুক্তরাষ্ট্রে সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলাদেশেও এই পদ্ধতি ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।