Tag: জাতীয় পার্টি

  • আ.লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন বৈধ নয়: কাকরাইল সভায় জি এম কাদেরের স্পষ্ট বার্তা

    আ.লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন বৈধ নয়: কাকরাইল সভায় জি এম কাদেরের স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে ঢাকা জেলা জাপার মতবিনিময় সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন।

    জি এম কাদের বলেন, “যখন আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করেছিল, আমি তার প্রতিবাদ করেছিলাম। একইভাবে বলছি, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে সেটিও গ্রহণযোগ্য হবে না।”

    তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় অংশ নিয়ে জাপা ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে সমালোচিত হয়েছে। এবারও চাপের মুখে দলকে কঠিন অবস্থান নিতে হচ্ছে। জুলাই মাসে আদালত তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বললেও সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় তিনি পুনরায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ফিরেছেন।

    সভায় জাপা চেয়ারম্যান দাবি করেন, তিনিই জুলাইয়ের আন্দোলনকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন।

    সম্প্রতি ৯ আগস্ট, দল থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আলাদা কাউন্সিল ডেকে নতুন কমিটি ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের কাছে লাঙ্গল প্রতীকের জন্য আবেদন করেছেন।

    এ প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, “সরকারের দমন-পীড়নে থেমে যাব না। লাঙ্গল প্রতীক অন্য কাউকে দিলে রাজপথে আন্দোলন করব। জনগণের স্বার্থে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব।”

    সভায় জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

  • জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার: আনিসুল, হাওলাদার ও চুন্নুর বিরুদ্ধে কড়া সিদ্ধান্ত

    জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার: আনিসুল, হাওলাদার ও চুন্নুর বিরুদ্ধে কড়া সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: জাতীয় রাজনীতিতে বড় রদবদল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় পার্টির শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা—সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ জুন অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় জেলা ও মহানগরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়করা এই তিন নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনেন। তারা এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এরপর ২৮ জুন দলের প্রেসিডিয়াম সভায় তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত সিদ্ধান্তে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন।

    দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের নিজ ক্ষমতাবলে ওই তিন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বলে জানান হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

    এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

    জাতীয় পার্টির ভেতরে চলমান দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের প্রশ্নে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, এই তিন নেতাই দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।


    জাতীয় পার্টির এই সিদ্ধান্ত শুধু দলের অভ্যন্তরেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • রংপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, থমথমে পরিস্থিতি

    রংপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, থমথমে পরিস্থিতি

    এবিএনএ, রংপুর :

    রংপুর নগরীর কেন্দ্রস্থলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য জি এম কাদেরের ব্যক্তিগত বাসভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার কিছু পর গ্রান্ড হোটেল মোড় সংলগ্ন ওই এলাকায় হঠাৎ করেই এই সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করে একদল মুখোশধারী ব্যক্তি জি এম কাদেরের বাড়ির সামনে এসে হামলা চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    হামলার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বাড়িটির আশপাশ ঘিরে ফেলে। এ সময় র‍্যাব ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।

    ঘটনার কারণ ও কারা এর পেছনে জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করতে আমরা কাজ করছি।”

    ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ হয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষ ঘরে ফিরে গেছে।

    এদিকে জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন একটি ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে যখন নির্বাচন সামনে।

    জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুরো এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।