Tag: জাতীয় নির্বাচন ২০২৫

  • দেশে ভোটার সংখ্যা বেড়ে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ছাড়াল — প্রকাশিত হলো খসড়া তালিকা

    দেশে ভোটার সংখ্যা বেড়ে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ছাড়াল — প্রকাশিত হলো খসড়া তালিকা

    এবিএনএ:  দেশে ভোটার সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জনে। রবিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, সর্বশেষ সম্পূরক ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, দেশে বর্তমানে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন এবং মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ জন। পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।

    তিনি আরও জানান, যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ১৮ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হালনাগাদকৃত এই তালিকাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

  • ধানের শীষের বিপরীতে ‘শাপলা কলি’ নিয়েই মাঠে নামছে এনসিপি

    ধানের শীষের বিপরীতে ‘শাপলা কলি’ নিয়েই মাঠে নামছে এনসিপি

    এবিএনএ:  জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবার নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়েই অংশ নিতে চায়। রবিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তারা ইতোমধ্যে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’, ‘শাপলা কলি’ এবং আরও একটি প্রতীকসহ মোট চারটি প্রতীকের জন্য আবেদন করেছেন।

    তিনি জানান, “যদি নির্বাচন কমিশন আমাদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকটি দেয়, তাহলে এনসিপি সেটিকেই গ্রহণ করবে।” দলীয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও এই প্রতীককে স্বাগত জানাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ এবং ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আমরা আশা করছি। এনসিপি জনগণের সমর্থন নিয়েই নির্বাচনী মাঠে নেমে শক্ত অবস্থান নিতে চায়।

  • জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশে ৪ হাজার এএসআই নিয়োগের ঘোষণা

    জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশে ৪ হাজার এএসআই নিয়োগের ঘোষণা

    এবিএনএ:  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশের কাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার নতুন করে ৪ হাজার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই–নিরস্ত্র) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-৩ শাখার উপসচিব আবু সাঈদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত বিভিন্ন ইউনিটের বিপরীতে ৪ হাজার এএসআই (নিরস্ত্র) গ্রেড–১৪ পদ রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে সৃজনের সরকারি অনুমোদন প্রদান করা হলো।”

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়, অনুমোদিত পদগুলো সাংগঠনিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি পদ সংরক্ষণ ও স্থায়ীকরণ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

    অর্থ বিভাগের জিও (GO) পৃষ্ঠাঙ্কনের তারিখ থেকে এই পদগুলো কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ১৯৪৩ সালের Police Resolution of Bengal অনুযায়ী পদ পূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    প্রজ্ঞাপনে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এ সংক্রান্ত সকল প্রশাসনিক ও আর্থিক আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে এবং জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগের আরোপিত শর্তসমূহ সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে।

  • ঐক্যের সুরে নতুন বাংলাদেশের পথে: নির্বাচনের অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

    ঐক্যের সুরে নতুন বাংলাদেশের পথে: নির্বাচনের অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ:  জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন ঐক্যের নতুন যাত্রায়— এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আজ আমরা ঐক্যের সুরে যাত্রা শুরু করেছি, সেই সুর নিয়েই নির্বাচনে যাব।”

    অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ইউনূস বলেন, “আজ সমস্ত জাতি একত্রিত হয়েছে। এমন ঘটনা অতীতে চিন্তাও করা যায়নি।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় পা রাখলাম। এখন সময় এসেছে এমন একটি সমাজ গড়ার, যাকে পৃথিবী ঈর্ষার চোখে দেখবে। এই ঐক্যই আমাদের ভবিষ্যতের শক্তি।”

    রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে ইউনূস বলেন, “মানুষ যেন মনে রাখে, এই সনদে যারা স্বাক্ষর করেছেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন। নিজেদের নির্বাচন নিজেরাই করবো— বাইরের কাউকে এসে ধাক্কা দিতে হবে না।”

    ঐকমত্য থেকে ঐক্যে: পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়

    প্রধান উপদেষ্টা জানান, ঐকমত্য কমিশন গঠন ছিল এক সময়ের স্বপ্ন, যা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। “যখন আলী রীয়াজকে দায়িত্ব দিলাম, ভেবেছিলাম হয়তো দুই-একটি বিষয়ে একমত হবো। কিন্তু আজ দেখছি, সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে একই লক্ষ্য ঠিক করেছে— এটি এক অনন্য অর্জন।”

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এটি আমাদের সংবিধান, সরকার পরিচালনা ও সমাজ গঠনের ধারায় পরিবর্তন আনবে।”

    বঙ্গোপসাগর ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা

    অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তৃতায় দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের সম্পদ। আমরা যদি সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে কক্সবাজার, মাতারবাড়ি ও মহেশখালী একত্রে নতুন সিঙ্গাপুরে পরিণত হতে পারে।”

    তিনি আরও বলেন, “গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি হলে বিশ্বের বহু জাহাজ আমাদের বন্দরে নোঙর ফেলবে। নেপাল, ভূটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত আমাদের অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরি হবে।”

    আন্দোলনের স্মৃতিচারণা ও তরুণদের ভূমিকা

    জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা জীবন দিয়েছেন, তারাই আজকের পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছেন। জাতি তাদের কাছে চিরঋণী।”

    তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “এই দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে। তারা যদি একসঙ্গে এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশকে কেউ থামাতে পারবে না।”

    আলী রীয়াজের বক্তব্যে গণতান্ত্রিক স্বপ্নের কথা

    অনুষ্ঠানে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের অনেক স্রোত আছে, কিন্তু মোহনা একটি— গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া। জুলাই সনদ সেই স্বপ্নের প্রথম পদক্ষেপ।”

    তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, “মত ও পথের পার্থক্য থাকলেও ঐক্যের যাত্রা যেন থেমে না যায়।”


    জুলাই জাতীয় সনদ শুধু একটি কাগজ নয়— এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের রূপরেখা। ঐক্যের সুরে নির্বাচন ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এখন নতুন বাংলাদেশের পথচলার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

  • নৌকা প্রতীক স্থগিত, নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করলো নতুন ১১৫ প্রতীকের তালিকা

    নৌকা প্রতীক স্থগিত, নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করলো নতুন ১১৫ প্রতীকের তালিকা

    এবিএনএ: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) নৌকা প্রতীক স্থগিত রেখে নতুন করে ১১৫টি প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করেছে। বুধবার কমিশনের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে আলোচিত শাপলা প্রতীক এবার তালিকায় রাখা হয়নি।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (প্রেসিডেন্স অর্ডার নং ১৫৫ অব ১৯৭২) এর আর্টিকেল ৯৪ অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এ সংশোধনী এনে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নৌকা প্রতীক স্থগিত রেখে পুরনো দাঁড়িপাল্লা প্রতীক আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রকাশিত প্রতীকের তালিকায় রয়েছে—আপেল, আনারস, কোদাল, টেবিল ঘড়ি, ফ্রিজ, মোড়া, খাট, ট্রাক, মোরগ, আম, খেজুর গাছ, টেলিফোন, বাঘ, আলমিরা, রকেট, গরুর গাড়ি, টেলিভিশন, বই, ঈগল, রিকশা, গাভী, ডাব, বটগাছ, লাউ, উটপাখি, গামছা, ঢেঁকি, বাঁশি, লিচু, উদীয়মান সূর্য, গোলাপ ফুল, তবলা, বেঞ্চ, লাঙ্গল, একতারা, ঘণ্টা, তরমুজ, বেগুন, শঙ্খ, কাঁচি, ঘুড়ি, তারা, বাইসাইকেল, সোনালী আঁশ, কবুতর, ঘোড়া, থালা, বালতি ও সেলাই মেশিন।

    এছাড়া রয়েছে—কলম, চাকা, দাঁড়িপাল্লা, বেলুন, সোফা, কলস, চার্জার লাইট, দালান, বৈদ্যুতিক পাখা, সিংহ, কলার ছড়ি, চাবি, দেওয়াল ঘড়ি, স্যুটকেস, কাঁঠাল, চিংড়ি, দোয়াত-কলম, মগ, হরিণ, কাপ-পিরিচ, চেয়ার, দোলনা, মাইক, পাঞ্জা (হাত), কাস্তে, কেটলি, চশমা, ধানের শীষ, মোটরগাড়ি, হাতঘড়ি, ছড়ি, নোঙ্গর, মশাল, হাতপাখা, কুমির, ছাতা, ময়ূর, হাঁস, কম্পিউটার, জগ, প্রজাপতি, মাছ, হাতি, কলা, জাহাজ, ফুটবল, মাথাল, হাতুড়ি, কুড়াল, টিউবওয়েল, ফুলকপি, মিনার, হারিকেন, কুলা, কুঁড়েঘর, টিফিন ক্যারিয়ার, ফুলের টব, মোমবাতি, হুঁকা, টেবিল, ফুলের মালা, মোবাইল ফোন এবং হেলিকপ্টার।

    এবারের প্রতীক তালিকায় শাপলা প্রতীক বাদ পড়লেও অন্যান্য জনপ্রিয় প্রতীক যুক্ত থাকায় আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রার্থীদের জন্য বিকল্প অনেক প্রতীক উন্মুক্ত থাকছে।

  • “নির্বাচনের বিকল্প চিন্তা জাতির জন্য হুমকি” : সতর্ক করলেন প্রধান উপদেষ্টা

    “নির্বাচনের বিকল্প চিন্তা জাতির জন্য হুমকি” : সতর্ক করলেন প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সতর্ক করে দেন, কেউ যদি অন্য কোনো বিকল্প চিন্তা করে তবে সেটি হবে জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    রবিবার (৩১ আগস্ট) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    প্রেস সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন—আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে যে সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।”

    এসময় বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ জুলাই সনদের অগ্রগতির বিষয়ে নেতাদের অবহিত করেন।

    দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে যেন কেউ কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি না করে সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    জাতীয় পার্টি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে প্রেস সচিব জানান, এই ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপে হতাশা: ইসির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জামায়াতের

    নির্বাচনী রোডম্যাপে হতাশা: ইসির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জামায়াতের

    এবিএনএ:  নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপকে বিভ্রান্তিকর ও অপরিপক্ব বলে আখ্যা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জাতি আশা করেছিল আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু এখনো নির্বাচনের ধরন ও পদ্ধতি স্পষ্ট নয়।”

    বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া ও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করেই রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ঘোষিত পরিকল্পনায় জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হতো। এরপর সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত ছিল।”

    জামায়াতের মতে, এভাবে অসম্পূর্ণ ও দ্ব্যর্থক পরিকল্পনা জনগণকে বিভ্রান্ত করবে এবং নির্বাচনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করবে।

  • রুমিন ফারহানার গ্রেপ্তার দাবি করল এনসিপি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের হুমকি

    রুমিন ফারহানার গ্রেপ্তার দাবি করল এনসিপি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের হুমকি

    এবিএনএ: বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির অভিযোগ, আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে রুমিন ফারহানার নেতৃত্বেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা এ দাবি জানান। এ সময় দলটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ বলেন, “রুমিন ফারহানার নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে আমরা সিইসি ও কমিশনারদের পদত্যাগ দাবি করব।”

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ রুমিন ফারহানাকে কড়া সমালোচনা করে বলেন, “তিনি আওয়ামী লীগের মতো সুবিধা ভোগ করেছেন, অথচ এখন গণতন্ত্রের কথা বলেন। আমরা বলছি, সন্ত্রাসী রাজনীতি করলে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও ভারতে পাঠানো হবে, রুমিন ফারহানারও একই পরিণতি হবে।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, “নির্বাচন কমিশন কিছু দলের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের প্রবেশে পুলিশ বাধা দিলেও বিএনপিকে মুক্তভাবে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”

    এনসিপি স্পষ্ট করে জানায়, তারা কোনো দলমুখী কমিশন নয়, বরং “বাংলাদেশপন্থি নির্বাচন কমিশন” চায়। তাই এই কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে বলে দাবি জানায় দলটি।

  • তারেক রহমানের কৌশলী বৈঠক: ৪২ দলের ঐক্যের অঙ্গীকার, নির্বাচনী মাঠেও একসাথে থাকার প্রস্তুতি

    তারেক রহমানের কৌশলী বৈঠক: ৪২ দলের ঐক্যের অঙ্গীকার, নির্বাচনী মাঠেও একসাথে থাকার প্রস্তুতি

    এবিএনএ:   আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছে। দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার নির্বাচনী মাঠেও এই ঐক্য বজায় রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    গত শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৪২টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তারেক রহমান নির্বাচনী প্রস্তুতি, রোডম্যাপ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচারণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমাদের এখন লক্ষ্য গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠন। এর জন্য সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, মিত্রদের মতামত শোনার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে তাদের সম্পৃক্ত রাখার পরিকল্পনা করছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বিগত আন্দোলনে অবদান রাখা প্রতিটি দলকে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

    সূত্র জানায়, বিএনপি মোট ৬৮টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ৬৪টি দল পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নির্বাচন বর্জন করেছিল। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এনসিপি-সহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে।

    বৈঠকে উপস্থিত নেতারা নির্বাচনী সহযোগিতা, প্রার্থী বাছাই ও প্রচারণা কৌশল নিয়ে প্রস্তাব দেন। মিত্রদলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু আন্দোলনে নয়, নির্বাচনের ময়দানেও বিএনপির সঙ্গে থেকে তারা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যেতে চান।

    ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, ন্যাপ ভাসানীসহ বৈঠকে উপস্থিত নেতারা ঐক্য ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন। বিএনপির নেতৃত্বে এই যৌথ প্রচেষ্টা যে নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জোর আলোচনা চলছে।