Tag: ছাত্র আন্দোলন

  • রাজপথে লড়াই চলবে, তবে ব্লকেড তুলে নিতে আহ্বান নাহিদের

    রাজপথে লড়াই চলবে, তবে ব্লকেড তুলে নিতে আহ্বান নাহিদের

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে ঘিরে সহিংসতার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এই কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে নাহিদ বলেন, “ব্লকেড সরিয়ে নিন। রাজপথের একপাশে অবস্থান করুন। লড়াই চলবে।”

    এই আহ্বান জানানোর পর পোস্টটি নিজের ওয়ালে শেয়ার করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যা দলীয় কর্মীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    এদিকে, গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ শেষে গাড়িবহরে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার জেরে স্থানীয় প্রশাসন গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে।

    এনসিপি দাবি করছে, সমাবেশে ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা।

    নাহিদ ইসলামের এই বিবৃতিতে একদিকে যেমন রাজপথে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ঘোষণা এসেছে, তেমনি জনদুর্ভোগ এড়াতে ব্লকেড কর্মসূচি থেকে সরে আসারও ইঙ্গিত মিলেছে।

    এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে কৌশলগত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের নজর এখন গোপালগঞ্জের পাশাপাশি রাজধানীতেও।

  • আওয়ামী দোসরদের ষড়যন্ত্রে দেশে নৈরাজ্য ছড়াচ্ছে: ফখরুলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

    আওয়ামী দোসরদের ষড়যন্ত্রে দেশে নৈরাজ্য ছড়াচ্ছে: ফখরুলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে সহিংস হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী দোসররা এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে এক বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, দেশের ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতার পরিবেশকে অশান্ত করতে কিছু দুষ্কৃতিকারী নাশকতার পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, “এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গাড়িতে আগুন, ইউএনও’র গাড়িতে হামলা—সবই একটি সুপরিকল্পিত অরাজকতার অংশ।”

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্যমতে, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে সেই অপশক্তি, যারা অতীতে স্বৈরশাসন চালিয়েছে এবং এখন আবারও ফায়দা লুটতে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে আওয়ামী দোসররা অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলতে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা করছে।”

    তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে এখনই দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তা না হলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।”

    মির্জা ফখরুল দাবি জানান, গোপালগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে তিনি আহত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এই ধরনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।

  • জুলাই বিপ্লব এখন কাদের দখলে? হতাশ সর্বস্তরের মানুষ

    জুলাই বিপ্লব এখন কাদের দখলে? হতাশ সর্বস্তরের মানুষ

    এবিএনএ:

    এক সময়ের অগ্নিগর্ভ আন্দোলন “জুলাই বিপ্লব” আজ যেন সীমিত হয়ে এসেছে গুটি কয়েক মুখের কৃতিত্বে। যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের মাধ্যমে, তা দ্রুত রূপ নেয় এক সর্বাত্মক স্বৈরাচারবিরোধী জনজাগরণে। এই আন্দোলনে ছাত্র, শিক্ষক, নারী, আইনজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, সুশীল সমাজ—সকল স্তরের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

    তবে আজ, ১০ মাস পর দেখা যাচ্ছে, সেই বিপ্লবের সকল অংশীদার ক্রমেই উপেক্ষিত হয়ে পড়ছেন। আন্দোলনের মুখ্য কৃতিত্ব কিছু ছাত্রনেতা ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। এমনকি আন্দোলনে আঘাতপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আজ মূল্যহীন।

    বঞ্চনার চোরাবালিতে বিপ্লবের নায়করা

    সরকারের ছায়ায় গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন নিজেকে পুরো বিপ্লবের স্থপতি হিসেবে তুলে ধরছে। অথচ সত্য হলো—মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে ক্ষমতা বদল হয়নি; বরং তা এসেছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষার ফলস্বরূপ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষপাতমূলক আচরণ প্রমাণ করছে—এটি সর্বজনীন নয়, বরং কেবল ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করছে।

    প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য, “ছাত্ররাই আমার নিয়োগকর্তা”—সরকারের কাজেও তার প্রতিফলন ঘটছে। এতে জনগণের মধ্যে আস্থা কমে গেছে। অনেকেই মনে করছেন, বিপ্লব আজ নিজের লক্ষ্যচ্যুত।

    নারী, সংস্কৃতি কর্মী ও আইনজীবীদের হতাশা

    এই বিপ্লবের এক বড় চালিকাশক্তি ছিলেন নারীসমাজ। ঘরোয়া নারীরা পর্যন্ত রাজপথে এসে প্রতিবাদে অংশ নেন। কিন্তু এখন তারাই সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার। নারী নির্যাতন, হয়রানি, ধর্ষণ—সবই বেড়েছে।

    সংস্কৃতি কর্মীরাও হতাশ। আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, আজাদ আবুল কালাম, ইরেশ যাকেরসহ অনেকেই জুলাই আন্দোলনের সময় সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু এখন তাঁদের অনেকেই হয় মিথ্যা মামলার শিকার, নয়তো অপমানের মুখোমুখি। অনুষ্ঠান বাতিল, সামাজিক হামলা, এমনকি গ্রেপ্তারও ঘটেছে। তাঁদের কণ্ঠ যেন রুদ্ধ।

    আইনজীবীরাও বঞ্চিত। ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, জেড আই খান পান্নার মতো মানুষেরা মুখ খুলেছেন, যাঁরা কখনও আদালতের মাধ্যমে ছাত্রদের মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলেন। তাঁদের কারো কারো বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও দায়ের হয়েছে!

    শিক্ষক ও সুশীল সমাজও উপেক্ষিত

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যে সাহস দেখিয়েছিলেন, তা ভুলে যাওয়া হয়েছে। ড. আনু মুহাম্মদ থেকে শুরু করে শিক্ষক নেটওয়ার্ক এখন খোলাখুলি বলছেন—বাংলাদেশ আবারও এক নতুন স্বৈরতন্ত্রের দিকে হাঁটছে।

    একজন শিক্ষককে উপাচার্য বানানো হলেও পরে তাঁকে সরানো হয়েছে। অন্যদিকে, এক বৃদ্ধা শিক্ষিকাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    সুশীল সমাজের মানুষ, যেমন ড. শাহদীন মালিক, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, নূরুল কবীর সবাই স্পষ্টত হতাশা প্রকাশ করছেন। তাঁরা বলছেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি গোষ্ঠীই এখন বিপ্লবের একচেটিয়া সুবিধাভোগী।

    জুলাই বিপ্লব আজ কার কাছে বন্দি?

    যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন—তাঁরা আজ নির্বাক। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। সমাজজুড়ে চলছে আতঙ্ক ও হতাশা। আন্দোলনে যাঁরা মূল চালিকাশক্তি ছিলেন, তাঁরা এখন বলছেন, “জুলাই বিপ্লব এখন মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর হাতে বন্দি।”

    যেখানে স্বপ্ন ছিল বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার, সেখানেই আজ দুর্বল গণতন্ত্র, বিভাজন ও স্বৈরতন্ত্রের ছায়া। জুলাই বিপ্লব কি সত্যিই সফল? নাকি, এটি একটি ব্যবহৃত ও বিস্মৃত অধ্যায় মাত্র?

  • গণতন্ত্রের সংকটে আনু মুহাম্মদের সতর্কবার্তা: নতুন ফ্যাসিবাদের উত্থান!

    গণতন্ত্রের সংকটে আনু মুহাম্মদের সতর্কবার্তা: নতুন ফ্যাসিবাদের উত্থান!

    এবিএনএ

    গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটছে। সমাজে একটি নতুন ফ্যাসিবাদী শক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।”

    শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনুষ্ঠিত ‘নাগরিক সংহতি সমাবেশে’ আনু মুহাম্মদ এসব মন্তব্য করেন। সমাবেশের আয়োজন করা হয় যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারুল ইসলামকে দায়মুক্তি এবং রাজশাহী ও চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মিছিলে জামায়াত-শিবিরের হামলার প্রতিবাদে।

    আনু মুহাম্মদ বলেন, “গণ–অভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেখানে জনগণ একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সরকারের ভূমিকা নির্লিপ্ত, কোথাও তাদের অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয় না। বরং হামলা-নির্যাতনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি বাহিনীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে এবং এর প্রতিবাদ জানালে কিছু ছাত্র সংগঠন গণতন্ত্রকামী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। নারীদের টার্গেট করে তারা হামলা করছে। যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা হয় সেটাকে ইসলামবিরোধী বলে অপপ্রচার চালায়। ধর্মকে ব্যবহার করে তারা রাজনীতিতে ফায়দা নিতে চায়।”

    সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যুদ্ধাপরাধী আজহারের খালাসের প্রতিবাদে মশাল মিছিলে ছাত্র শিবির দুই দফা হামলা চালায়। ১৯৯৩ সালে শহীদ রিমুর হত্যার মতোই আজ আবার শিবির সন্ত্রাস শুরু করেছে। রাবিতে সন্ত্রাসের এই নবতর ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক কাঠামো বিপন্ন হতে বাধ্য।”

    সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদ, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মানজুর আল মতিনসহ অন্যান্যরা। তারা সকলেই বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

    আনু মুহাম্মদের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

  • শাহবাগে ছাত্র-জনতার উত্তাল বিক্ষোভ

    শাহবাগে ছাত্র-জনতার উত্তাল বিক্ষোভ

    এবিএনএ:  ঢাকার শাহবাগ মোড় পরিণত হয়েছে উত্তাল আন্দোলনের কেন্দ্রে। আওয়ামী লীগকে একটি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে গতকাল বিকেল থেকে শুরু হয়েছে টানা অবরোধ। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা জায়গা থেকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা যোগ দিয়েছে এই কর্মসূচিতে।

    বৃহস্পতিবার রাত থেকে শাহবাগে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। গতকাল সন্ধ্যায় এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ শাহবাগে সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেন, প্রজ্ঞাপন ছাড়া তারা অবস্থান ছাড়বেন না। ফেসবুক লাইভে আন্দোলনের সময়সূচি পরবর্তী পদক্ষেপ জানিয়ে দিয়েছেন এনসিপি এবং ইসলামপন্থি দলগুলোর নেতারা।

    শাহবাগ ছাড়িয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে পল্টন, উত্তরা, খুলনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন শহরে। ঢাকার উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলে। চট্টগ্রামের গুলজার মোড়ে, জাবির ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে, খুলনার শিববাড়ি মোড়, লক্ষ্মীপুর নোয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলছে অবরোধ।

    সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ গণহত্যা, নিপীড়ন দুর্নীতির জন্য দায়ী এবং এটি রাজনৈতিক দল নয় বরং ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী। এনসিপির নেতা সারজিস আলম বলেন, “শাহবাগেই আওয়ামী লীগের কবর রচনা হবে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র এখন সময়ের দাবি।”

    জমায়েতে অংশ নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবির, খেলাফত ছাত্র মজলিসসহ বহু রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা। স্লোগানে তারা আওয়াজ তুলেছে, “আওয়ামী লীগ ব্যান করো”, “গণহত্যাকারী দলের বিচার চাই”, “এই বাংলায় খুনি লীগের ঠাঁই নেই।”

    শাহবাগ থেকে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা শাহবাগে থাকব যতক্ষণ না সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।” তিনি আরও বলেন, “এই আন্দোলন শুধু ঢাকায় নয়, সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়বে।”

    অন্যদিকে লন্ডন থেকে জনতা পার্টি বাংলাদেশের সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন এক ভিডিও বার্তায় এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দেশে ফিরে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেবেন।

    এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন, “যদি দ্রুত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা না হয়, তবে আবারও ঢাকা মার্চ হবে।” তিনি দাবি করেন, দলমত নির্বিশেষে সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে এই আন্দোলনে শরিক হতে হবে।

    বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলনের বিভিন্ন ভিডিও বার্তা। আন্দোলনকারীরা ‘আজাদি’ ও ‘জনতার শক্তি’ স্লোগানে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরকে প্রকম্পিত করছে।

    এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছিল, তখনও শাহবাগে অবস্থান করে ছাত্র জনতা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।