Tag: ছাত্র আন্দোলন

  • পলাতক থাকার অবসান: অবশেষে ট্রাইব্যুনালে হাজির রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ

    পলাতক থাকার অবসান: অবশেষে ট্রাইব্যুনালে হাজির রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ

    এবিএনএ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় তাকে আদালতে তোলা হয়।

    রোববার (১৭ মে) দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে ট্রাইব্যুনালে তাকে হাজির করা হয়। এর আগে শনিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

    জানা গেছে, স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রথমে তাকে শনাক্ত করে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়।

    আজ তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করার কথা রয়েছে।

    এর আগে গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল। সেই মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলাটি দেশের রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ট্রাইব্যুনালের এই বিচারপ্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

  • আধিপত্যবাদবিরোধী স্লোগানে মুখর রাজধানী

    আধিপত্যবাদবিরোধী স্লোগানে মুখর রাজধানী

    এবিএনএ: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ব্যাপক বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও আধিপত্যবাদবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে শুক্রবার পুরো শাহবাগ এলাকা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা শাহবাগে জড়ো হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম বাড়তে থাকায় শাহবাগ কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

    সমাবেশস্থলে ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’, ‘হাদি ভাই কবরে—খুনি কেন বাইরে’, ‘আজাদী না রাজপথ—রাজপথ, রাজপথ’সহ নানা স্লোগানে প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।

    সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটলেও তাদের সহযোগীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। তিনি হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধান বলেন, ওসমান হাদির মৃত্যু একটি আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মাটিতে কোনো বিদেশি প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি ঘোষণা দেন।

    সমাবেশে অংশ নেওয়া রায়েরবাগ থেকে আসা বাবলা ও সজীব বলেন, একজন সাহসী কণ্ঠস্বরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাই খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতেই তারা রাজপথে নেমেছেন।

    কাঁঠালবাগান থেকে আগত মৌসুম সিদ্দিক বলেন, গণআন্দোলনের পরও এমন হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা। তিনি অবিলম্বে দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

    সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়াও জুলাই ঐক্য, এবি পার্টি, ডাকসু, জাগপাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল শাহবাগ, ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে ছাত্র-জনতা

    হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল শাহবাগ, ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে ছাত্র-জনতা

    এবিএনএ: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র-জনতা দলে দলে শাহবাগে এসে জড়ো হতে থাকেন।

    সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কেউ মিছিল নিয়ে, আবার কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখানে পৌঁছান। হাতে জাতীয় ও প্রতিবাদী পতাকা, মুখে উচ্চারিত হচ্ছে স্লোগান—হাদির হত্যার বিচার চাই, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান।

    শনির আখড়া এলাকা থেকে আসা মাদ্রাসাছাত্র আশফাকুর রহমান বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও সাহসী কণ্ঠস্বর। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। প্রতিবাদ জানাতে আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি।

    রামপুরা থেকে আসা ইমরুল কায়েস জানান, হাদির মৃত্যুর খবর গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ শুরু হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মাত্রা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

  • বিক্ষোভ-অগ্নিসংযোগে থমথমে ধানমন্ডি ৩২ এলাকা

    বিক্ষোভ-অগ্নিসংযোগে থমথমে ধানমন্ডি ৩২ এলাকা

    এবিএনএ:  ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকাতেও বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্দোলনকারীরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ওই এলাকার একটি ভবনের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

    বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ওই এলাকায় সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয়। এতে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু বিক্ষোভকারী ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে অগ্নিসংযোগ করে এবং বাইরে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এদিকে হাদির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও মিছিল ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

    সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় আন্দোলনকারীদের অবস্থান অব্যাহত ছিল।

  • বাকৃবি শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধে বন্ধ ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন চলাচল

    বাকৃবি শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধে বন্ধ ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন চলাচল

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে তারা ময়মনসিংহের আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় অবস্থান নিয়ে রেলপথ অবরোধ করেন। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রেললাইনে বসে ছয় দফা দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

    এর আগে সকাল ৯টার দিকে কে. আর মার্কেট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন।

    শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমাদের ছয় দফা দাবি পূরণ না হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

    এদিকে রেলপথ অবরোধের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে আটকা পড়েছে একাধিক ট্রেন।

  • জনগণই বিএনপির ক্ষমতার প্রকৃত উৎস—ছাত্রদলকে তারেক রহমানের দৃঢ় বার্তা

    জনগণই বিএনপির ক্ষমতার প্রকৃত উৎস—ছাত্রদলকে তারেক রহমানের দৃঢ় বার্তা

    এবিএনএ:  জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজিত এক স্মরণ সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশের জনগণই বিএনপির, তথা জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।”

    রোববার রাজধানীর শাহবাগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ শহীদদের স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

    ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আগামী দিনগুলোতে যদি তোমরা সাহস ও সততার সঙ্গে এগিয়ে যাও, তাহলে গণতন্ত্রকামী জনতা সবসময় তোমাদের পাশে থাকবে—ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে।”

    তারেক রহমান বলেন, “তোমরাই আগামী বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। লাখো সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীর মুখ আজ আমার সামনে—এই শক্তির মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।”

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত দেড় দশকে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মামলা, হামলা, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই আন্দোলনের সময়েই গ্রেফতার হন দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মী এবং শহীদ হন চট্টগ্রামের নেতা ওয়াসিমসহ অনেকেই।

    তারেক রহমান দাবি করেন, “স্বৈরাচারী শাসন বারবার দমন-পীড়ন চালালেও ছাত্রদলের অগ্রযাত্রা কখনো থামিয়ে রাখতে পারেনি। আজকের এই বিশাল জনসমাবেশ সেই সাহসিকতার প্রমাণ।”

    তিনি আবারও আহ্বান জানান, “সত্য ও সাহসকে ধারণ করো। কারণ গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা অতীতে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”

    এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্য দেন।

  • গুলশানে সাবেক এমপির কাছ থেকে চাঁদা তুলতে গিয়ে ধরা খেল ছাত্রনেতা, গ্রেফতার ৫

    গুলশানে সাবেক এমপির কাছ থেকে চাঁদা তুলতে গিয়ে ধরা খেল ছাত্রনেতা, গ্রেফতার ৫

    এবিএনএ:  রাজধানীর গুলশানে সাবেক এক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন পাঁচজন। এদের মধ্যে একজন হলেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ।

    শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশান ৮৩ নম্বর রোডে ১০ লাখ টাকা নিতে গেলে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদ আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত পাঁচজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রিয়াদ গুলশান এলাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনি ও তার সহযোগীরা সাবেক ওই এমপির কাছে নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন।

    ওসি জানান, ওই সাবেক এমপি বিষয়টি গুলশান থানায় জানানোর পর পুলিশ আগে থেকেই নজর রাখছিল। টাকা লেনদেনের সময় অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরা হয়।

    ঘটনার পর গোটা গুলশান এলাকায় ছাত্র রাজনীতির একটি নতুন চেহারা উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ছাত্রনেতা পরিচয়ে কেউ যদি অপরাধে জড়ায়, তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

  • আওয়ামী লীগের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন রূপ, উঠল ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ ব্যানার

    আওয়ামী লীগের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন রূপ, উঠল ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ ব্যানার

    এবিএনএ: রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত আওয়ামী লীগের পূর্বতন কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর এখন নতুন ব্যানার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ফিরছে আলোচনায়। প্রায় এক বছর ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা ১০ তলা ভবনটির দেয়ালে এবার স্থান পেয়েছে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামের ব্যানার।

    গত বুধবার থেকে ভবনটি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ভবনটিতে অন্তত ১০-১২ জন শ্রমিককে বিভিন্ন তলায় পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। তাদের ভাষ্য, পুরো ভবন পরিষ্কার করে হস্তান্তর করা হবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের হাতে।

    ভবনের সামনে বেশ কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখা যায় এবং আগ্রহী পথচারীরা ভবনটির ছবি তুলছেন। তৃতীয় তলায় জমে থাকা ইটের খোয়া, দোতলার আবর্জনা ও অন্যান্য ময়লা পরিষ্কার করা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে।

    পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত কয়েকজন জানান, ভবনটি গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া আহত ও শহীদ পরিবারের দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হবে। তবে ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ বিষয়ে তারা কিছু জানাতে রাজি হননি, বলেন— কীভাবে ভবনটি ব্যবহার হবে, তা ছাত্র-জনতা ঠিক করবেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গুলিস্তানে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। এরপর থেকে ভবনটি কার্যত বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। ভাসমান মানুষ ও রিকশাচালকদের শৌচাগার ও আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছিল জায়গাটি।

    এরই মাঝে কিছু মাস আগে ‘জুলাই যোদ্ধাদের প্রধান কার্যালয়’ ব্যানার টাঙানো হলেও কার্যত কোনো পরিবর্তন আসেনি। এবার নতুন ব্যানার ও পরিচ্ছন্নতা শুরু হওয়ায় ভবনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

    জানা যায়, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক কার্যালয়টি ২০১৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভবনটিতে ছিল সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

    পরিত্যক্ত ভবনের পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন কৌতূহলী, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও এটি নতুন আলোচনা তৈরি করেছে— ভবিষ্যতে এই কার্যালয়ের ভূমিকা কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে বের হলেন দুই উপদেষ্টা, উত্তপ্ত ছিল মাইলস্টোন ক্যাম্পাস

    ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে বের হলেন দুই উপদেষ্টা, উত্তপ্ত ছিল মাইলস্টোন ক্যাম্পাস

    এবিএনএ: উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার স্থান পরিদর্শনে গিয়ে প্রায় ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব শফিকুল আলম। অবশেষে বিকেল ৭টা ৩৫ মিনিটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

    সোমবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে তাঁরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে তারা ক্যাম্পাসেই আটকা পড়ে যান। বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও দিয়াবাড়ি গোলচত্বরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে ফের ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

    এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন এবং সড়ক অবরোধ করে রাখেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা একাধিকবার ধাওয়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের সরানোর চেষ্টা করেন, তবে পরিস্থিতি উত্তপ্তই রয়ে যায়। আন্দোলনে মাইলস্টোন ছাড়াও রাজউক উত্তরা মডেল কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন।

    বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “তোমাদের দাবি একদম যৌক্তিক। আমি সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিচ্ছি, প্রতিটি দাবি পূরণ করা হবে।” যদিও এই আশ্বাসেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যান।

    পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পেছনের গেট দিয়ে উপদেষ্টাদের গাড়ি বের করে দেওয়া হয়।

  • সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    এবিএনএ:  ঢাকার সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বিকেল ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় সচিবালয়ের সামনে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।

    ছাত্ররা পরে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের পদত্যাগ।

    বিক্ষোভে অংশ নেয় রাজধানীর ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা সাইন্সল্যাব থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সচিবালয়ের সামনে পুলিশের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে ২০ মিনিট সময় চাওয়া হয়, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আসেনি। এরপর শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ এবং ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’ স্লোগানে আন্দোলন চালিয়ে যান। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে।