Tag: চট্টগ্রাম

  • ইনকিলাব মঞ্চের হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

    ইনকিলাব মঞ্চের হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল করেছে একাধিক সংগঠন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘বীর চট্টলার ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে নগরীর দুই নম্বর গেইট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। তারা অবিলম্বে হাদির হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

    মিছিলে এনসিপি, ইনকিলাব মঞ্চ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ছিলেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা ও চট্টগ্রাম নগরের সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয়কে দেখা যায় মিছিলে।

    সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর বিপ্লব উদ্যানে অবস্থান নেয় শতাধিক ছাত্রজনতা। পরে তারা দুই নম্বর গেট মোড়ে গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। সেখানে ১০ মিনিট অবস্থানের পর মিছিল নিয়ে নগরীর জিইসি মোড়ের দিকে যান বিক্ষোভকারীরা।

    রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর দেওয়ানহাট মোড় থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত মিছিল করে ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ শাখা। আর রাত ৯টায় নগরীর চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম নগর উত্তর শাখা।
    এর আগে বিকেলে নগরীর বিপ্লব উদ্যান এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে নগর ছাত্রদল।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু):
    ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দীর মোড় ঘুরে আবার জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ শেষে মাগরিবের নামাজের পর জিরো পয়েন্ট মসজিদে ওসমান হাদির সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল হয়।

    শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।পরে তাকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ রাখার কথা জানান হাসপাতালের পরিচালক। এখন তাকে ঢাকার বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে থমকে গেল বার্ষিক পরীক্ষা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

    চট্টগ্রামে শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে থমকে গেল বার্ষিক পরীক্ষা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম : শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে মাঝপথে থেমে গেছে চট্টগ্রামের সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা। শিক্ষকেরা বিভিন্ন স্কুলে রোববার নোটিস দিয়ে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। বৃহস্পতিবার ও রোববার রাজধানীর আব্দুল গণি রোডের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যালয় ‘শিক্ষা ভবন’ চত্বরে ‘বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি-বাসমাশিসের’ ব্যানারে চার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন রাজু জানান, “কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মবিরতির অংশ হিসেবে আজকে কোনো শিক্ষক কাজে যোগ দেয়নি। যার কারণে কোনো সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে পরীক্ষা হচ্ছে না।” তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের আন্দোলন চলছে; কোনো আশ্বাস না পেলে এ আন্দোলন শুরু করার কথা ছিল। যার কারণে আমরা গতকাল (রোববার) নোটিস দিয়ে পরীক্ষা স্থগিতের কথা বলেছিলাম। এ কারণে কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে আসেনি।”

    শিক্ষকেরা বলেন, “১ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা আগেই দেয়া ছিল। সরকারকে দাবি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছিল কেন্দ্র থেকে। কিন্তু কোন আশ্বাস না পেয়ে এ আন্দোলন শুরু করা হয়।” তিনি বলেন, “স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন। আবার ক্লাস ভিত্তিক গ্রুপগুলোতে রোববার মেসেজ দিয়ে আজকে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল; যার কারণে কোন শিক্ষার্থীকে স্কুলে এসে ফিরে যেতে হয়নি।”

    চট্টগ্রাম মহনগরীতে ৯টি এবং সন্দ্বীপ উপজেলায় দুইটি এবং সীতাকুণ্ড ও পটিয়া উপজেলায় একটি করে মোট ১৩টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল আছে। এসব স্কুলগুলোতে গত ২০ নভেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। তার আগেই শিক্ষকরা হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, দাবি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনায় না বসলে তারা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করবেন।

    সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চারটি দাবি হল-

    ১। সহকারী শিক্ষক পদ নবম গ্রেডে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত ও দ্রুত সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন করে গেজেট প্রকাশ।
    ২। বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্যপদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন।
    ৩। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ তিন কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়া।
    ৪। ২০১৫ সালের পূর্বের মতো সহকারী শিক্ষকদের ২-৩টি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ।

     

  • ৬ লেন দাবিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ব্লকেড, দীর্ঘ যানজট

    ৬ লেন দাবিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ব্লকেড, দীর্ঘ যানজট

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম : দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন করার দাবিতে মহাসড়কে ব্লকেড করে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয়রা। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কেরানিহাট এলাকায় বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়ো হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিলে বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল।

    সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ছয় লেনের দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন অবরোধকারীরা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ এক কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা বলেন, একসময় দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কটি এখন ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।তাদের অভিযোগ, পর্যটন নগরী যাওয়ার একমাত্র সড়কটি প্রশস্তকরণের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

    বিক্ষোভকারী বজ্রকন্ঠে বলেন, সংবাদপত্র খুললেই দেখি দুর্ঘটনার খবর। তারা আরও বলেন, আমরাও ভয়ে থাকি—আজ না হয় কাল আমাদের ওপর এসে পড়ে। এত অনুরোধের পরও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই আজ সড়কে নেমেছি।

    চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলনের সংগঠক তামিম মির্জা বলেন, এর আগে একই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরও সরকারের পক্ষ থেকে দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে।

    শুধু সাতকানিয়ার মানুষের যাতায়াতই নয়, বিশ্বের বৃহত্তর সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন নগরী হলো কক্সবাজার। প্রতিদিন লাখো মানুষ ও পর্যটক এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। অথচ বাস্তবে বহু অংশ এখনো অত্যন্ত সরু, কোথাও কোথাও পাড়ার গলির চেয়েও কম প্রশস্ত। জাঙ্গালিয়ার অংশটি ঢালু ও আঁকাবাঁকা হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ে।তাছাড়াও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও রাতে লবণবাহী ট্রাকসহ—সবকিছুর জন্যই এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, চলাচলের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, এতে দুর্ঘটনা আরও বেড়ে যায়। এরপরও দফায় দফায় আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।এর আগে, গত ৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেন।

    ১১ এপ্রিল সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়রা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

    সকালের অবরোধে মহাসড়কের দুই দিকে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও জোরালো হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরে সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর আশ্বাসে অবরোধকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

  • সাতকানিয়ায় জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ

    সাতকানিয়ায় জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ

    এবিএনএ:  চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ৫নং আমিলাইষ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম আমিলাইষের পশ্চিম পাড়া এলাকায় ইকবাল প্রকাশ-সোহেল, মো. মুছা ও সাইফুল্লাহ প্রকাশ- হিরুদের বিরুদ্ধে জমিজমা, চাঁদাবাজি ও ঘরবাড়ি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে।

    জানা যায়, উপজেলার ৫নং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা আবদুল গণীর পুত্র- মোহাম্মদ ইউছুফের খতিয়ানভুক্ত, মৌরশী, পৈত্রিক আমিলাইষ মৌজার ১৬৫ ও ৩৪৭ খতিয়ানের মালিক দখলদার হওয়ার পরও জবর দখলে লিপ্ত আছে প্রতিপক্ষরা। গত ৪ নভেম্বর সকাল ৯ ঘটিকার সময় উক্ত জমি জোর-পূর্বক দখলের জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উক্ত জমি দখল নিতে ট্রেক্টার দিয়ে চাষ শুরু করলে সাতকানিয়া থানায় অভিযোগে থানা পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তদের চাষ করতে নিষেধ করেন। অতপর ২দিন পর অভিযুক্তরা গত ৮ নভেম্বর পুনরায় চাষ শুরু করলে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইউছুফ ৯৯৯ নম্বরে ফোনে সাহায্য চাইলে সাতকানিয়া থানা পুলিশ গিয়ে পুনরায় চাষ করতে নিষেধ করে। এরপরও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে উক্ত অভিযুক্তরাসহ পাশ্ববর্তী চরতী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মোজাহেরুল হক কাদেরীর ছেলে-জাহিদ,পশ্চিম আমিলাইষ ১নং ওয়ার্ডের কালুর ছেলে নুর মোহাম্মদসহ ৩/৪ জন লোকজন নিয়ে জমি জবর দখল করে নেয়।

    ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইউছুফ মতে, তার পিতা মৌং আবদুল গণীর আমিলাইষ, কাঞ্চনা ও ডলু মৌজায় ৪.৪০২৫ একর জমি আছে। তার পিতা আবদুল গণী মৃত্যু বরণের পর অভিযোগকারী মোহাম্মদ ইউছুফকে পৈতৃক জমি ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেই চলেছে প্রতিপক্ষ “এম.ইকবাল প্রকাশ-সোহেল ও মো. মুছা গং” য়েরা। প্রতিনিয়ত অভিযুক্তরা মামলা হামলা নির্যাতন করেই চলেছে। তার মতে অভিযুক্তরা পৈতৃক ৪.৪০২৫ একর জমির বেশীর ভাগ জমি জবরদখল করে নিলেও তিনি (মো. ইউছুফ) আমিলাইষ মৌজার ১৬৫ ও ৩৪৭ খতিয়ানের এক কোড়া বা এক খন্ড জমি আগে থেকে ভোগ করেছিলেন। সে মতে এখনো আছেন। ঘাতক অভিযুক্তরা পেশী শক্তি ব্যবহার করে তাও জবর দখলে লিপ্ত আছে। তিনি আরো জানান, অভিযুক্তরা পৈতৃক সম্পত্তি ভাই বোনদের ভাগ না দিয়ে তাও জবর দখল করে রাখছে। এবং তার উপার্জিত টাকা দিয়ে নির্মিত ৪ কামড়া বিশিষ্ট পাকা বাড়ি ও দখল কে নিয়েছে।

    তথ্য মতে আরো জানা যায়, শুধু মো. ইউছুফের জমি নয় এলাকার হাফেজ ইদ্রিসের ছেলে শাহ রিয়াজ ও মো. ইলিয়াস গং দের জমিও ” ইকবাল, মুছা” গং য়েরা জবর দখল করে রেখেছে। শাহ রিয়াজ ও মো. ইলিয়াস তাদের ১৬৭৭নং খতিয়াভুক্ত জমি দখল নিতে চাইলে উক্ত ইকবাল, মুছা গং য়েরা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এর ধারাবাহিকতায় গত ৫ নভেম্বর ইকবাল প্রকাশ সোহেল দিনদুপুরে শাহ রিয়াজের ভাই মো. শাহজাহানের বসতবাড়ির আঙ্গিনায় ৫/৬ সন্ত্রাসী নিয়ে ঢুকে তার স্ত্রী রোজিনা বেগমকে মারধর করে ও পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি করে, তার গলায় থাকা ১ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ১লাখ নব্বই হাজার টাকা) নিয়ে যায়। শাহজাহানের ছেলেরা মা কে রক্ষা করতে আসলে তাদেরকে ও ছোট ভাই মো. ইলিয়াছকে লোহার রড, গাছের লাঠি দিয়ে জোরে আঘাত করে হাত ও পিট থেতলিয়ে দেয়। সন্ত্রাসী ইকবাল গংয়েরা শাহজাহানের ভাই- মো. ইলিয়াসের কাঁধে থাকা বিকাশ ব্যবসার ৫০ হাজার টাকার ব্যাগটিও নিয়ে যায়। পর এলাকাবাসীরা দৌঁড়ে বাঁচাতে আসলে সন্ত্রাসী এম. ইকবাল ও অন্যরা দ্রুত পালাইয়া যায়।

    অত:পর স্থানীয়রা আহতদের চিকিৎসার জন্য সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। বিষয়টি স্থানীয়রা মিমাংসা করাবে বললেও তিনি তা মেনে নেয়, পর কোন শালিস না হওয়ায় অসহায় শাহজাহানের স্ত্রী রোজিনা বেগম নিরুপায় হয়ে পরে সাতকানিয়া থানায় গিয়ে (মামলা নং ১১, তাং ১২/১১/২৫) মামলা দায়ের করেন। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো, সাতকানিয়া থানা পুলিশ এখনো এজাহারভুক্ত আসামী আনোয়ারা বেগমের পুত্র- এম.ইকবাল ও সন্দেহ ভাজনদের ধরতে পারেনি।  বরং পুনরায় সাতকানিয়া থানায় মিথ্যা মামলা (যার নং – ৯) দায়ের করেছে। সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনা তদন্ত না করে উক্ত ইকবালের মামলা নেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয়দের মতে আবদুল গণীর ছেলে মোহাম্মদ মুছা, ইকবাল প্রকাশ-সোহেল ও আনোয়ার মজিদ মো. সাইফুল্লাহ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানবতা বিরোধী অপরাধে লিপ্ত আছে।

    তথ্য মতে আরও জানা যায়, “ইকবাল গং” য়েরা ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইউছুফ ও শাহ রিয়াজদের বিরুদ্ধে আগেও “ডিজিটাল নিরাপত্তা” আইনে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় মামলা নং ০৫(০৯)২০২২ দায়ের করে । কিন্তু উক্ত মামলাটি সাইবার ট্রাইবুনাল চট্টগ্রাম যার নং- ১৪৫/২০২৩ এ রুপান্তরিত হয়ে বিগত ২৬/২/২০২৫ ইং তারিখের আদেশে মিথ্যা, হয়রানিমুলক হওয়ায় এম. ইকবাল প্রকাশ সোহেল গংয়েরা হেরে যাওয়ায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করেই চলেছে।

    প্রশ্ন রয়ে যায় ‘২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে দেশ আদৌ কি ২য় স্বাধীন? দেশের আইন এখনো বন্দী নয়কি? একজন নারীর শ্লীলতাহানি ও একজন মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে যাচাই না করে সাতকানিয়া থানা কিভাবে মামলা নিল?

    ভোক্তভূগী উক্ত মোহাম্মদ ইউছুফ একজন বয়োবৃদ্ধ মানবাধিকার কর্মী, অসুস্থ, তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে PLID ( Prolapsed Lumbar Intervertebral Disc), হরমোনসহ নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশ ও বিদেশে চিকিৎসাধীন আছেন। তার স্ত্রী একজন MPO ভুক্ত স্কুলের সহ: শিক্ষিকা হন, ২ সন্তানের মধ্যে বড় মেয়েটি সরকারী মেডিকেল কলেজে MBBS এ অধ্যয়নরত ও অন্যটি ছেলে, সরকারী কলেজে অধ্যয়নরত আছেন।

    দেশের জনস্বার্থে এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি দিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীসহ সকলের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

     

  • সিইপিজেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: চার ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে নয়, তিন বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে

    সিইপিজেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: চার ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে নয়, তিন বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শুরু হওয়া আগুন চার ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

    দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেড এলাকার অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানির গুদামে আগুন লাগে। অ্যাডামস কারখানায় তোয়ালে ও ক্যাপ উৎপাদন হয়, আর জিহং মেডিকেল কোম্পানিতে তৈরি হয় সার্জিক্যাল গাউন। সাততলা ভবনের উপরের তলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

    আগুন লাগার পর মুহূর্তেই আগুন ভবনের অন্যান্য তলায় ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, “কারখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাছে যেতেও বেগ পেতে হচ্ছে।”

    তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৫ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

    চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রায় ৮০০ শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কারখানায় কাজ করতেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে সবাই বেরিয়ে আসায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

    ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই সিইপিজেড, বন্দর, আগ্রাবাদ ও কেইপিজেড ফায়ার স্টেশন থেকে ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরও ৯টি ইউনিট যুক্ত হয়, মোট ১৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

    আগুন নেভাতে শুরু থেকেই সিইপিজেডে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর টিম কাজ করছে। বিকেলে নৌবাহিনীর ৫টি ইউনিট এবং বিমানবাহিনীর একটি ইউনিটও অভিযান যোগ দেয়। সন্ধ্যা নাগাদও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তবে আগুন যাতে পাশের ভবনে না ছড়িয়ে পড়ে সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ, আহত যুবক হাসপাতালে

    চট্টগ্রামে কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ, আহত যুবক হাসপাতালে

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে একটি কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান দেওয়া কেন্দ্র করে তীব্র সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. শরীফ (২৩) নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় কনভেনশন সেন্টারের মূল ফটকে ভাঙচুরের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    জানা গেছে, মোটরসাইকেল উৎপাদক একটি প্রতিষ্ঠান ওই কনসার্টের আয়োজন করেছিল, যেখানে জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্টসেল পরিবেশনা করছিল। কনসার্টটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। শুরুতেই একদল দর্শক ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিলে অন্য পক্ষ আপত্তি জানায়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে কনসার্ট বন্ধ হয়ে যায় এবং ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী মো. নাঈম জানান, ছাত্রলীগের কিছু কর্মী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে ছাত্রদলের সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গুলি ছোড়ে, এতে কয়েকজন আহত হন।

    চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনীহা দেখাচ্ছেন, ফলে প্রকৃত কারণ জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম অভিযোগ করে বলেন, কনসার্টে আওয়ামী লীগের স্লোগান দেওয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং তাঁদের কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    খুলশী থানার ওসি শাহীনুর জামান জানান, প্রতিষ্ঠানটির মোটরসাইকেল প্রদর্শনীর অনুমতি থাকলেও কনসার্ট আয়োজনের অনুমতি ছিল না। স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে আটক করে। কনসার্ট আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ প্রাণহানি, একদিনে নতুন ভর্তি ৬৮৫ রোগী

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ প্রাণহানি, একদিনে নতুন ভর্তি ৬৮৫ রোগী

    এবিএনএ:  দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫০ জনে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত একদিনে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬৮৫ জনকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে শুধু ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪৪ জন। এছাড়া ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এলাকায় ১২২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৯ জন, খুলনায় ৩৫ জন, রাজশাহীতে ৩৯ জন, বরিশালে ১২৫ জন, ময়মনসিংহে ২১ জন, রংপুরে ছয়জন এবং সিলেটে চারজন ভর্তি হয়েছেন।

    চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৮৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

  • ডাকসু নির্বাচনে আঁতাতের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ-শিবিরকে দায় দিলেন মির্জা আব্বাস

    ডাকসু নির্বাচনে আঁতাতের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ-শিবিরকে দায় দিলেন মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় জামায়াত শিবির বিজয়ী হয়েছে। তার দাবি, ছাত্রলীগের ভোট জামায়াতকে দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হয়েছে।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় প্রয়াত বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ তোলেন তিনি।

    মির্জা আব্বাস বলেন, “ডাকসুর নির্বাচনে বিএনপি হেরেছে বলা যেতে পারে। কিন্তু আমি বলতে চাই, এত ভোট জামায়াত কোথা থেকে পেল? আসলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমেই ছাত্রলীগের ভোট তারা নিয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ডাকসুর নির্বাচন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। ২০০৮ সালের মতো আবারও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। তখন যেমন হয়েছিল, এবারও তাই ঘটেছে। জামায়াত একটি ‘মোনাফেকের দল’, অথচ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের আঁতাত থেকেই এসব সম্ভব হয়েছে।”

    নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “যেভাবেই হোক তারা জয়ী হয়েছে। আমি এই কমিটিকে স্বাগত জানাই। আশা করি তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।”

    আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তারা সবসময় প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে চায়। আজও সেই ষড়যন্ত্র চলছে। জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মিলে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। অথচ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ আছে শুধু বিএনপির হাতেই।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।

  • সারাদেশে আবারও বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি ৩৪৩ জন

    সারাদেশে আবারও বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি ৩৪৩ জন

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আবারও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী। তবে এ সময়ের মধ্যে মৃত্যুর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    রোববার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন বিভাগে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা নিচের মতো:

    • বরিশাল বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ১১১ জন

    • চট্টগ্রাম বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ৫১ জন

    • ঢাকা বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ৫৪ জন

    • ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: ৬৪ জন

    • ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ৫৯ জন

    • ময়মনসিংহ বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ৩ জন

    এছাড়া একই সময়ে ৩৩৭ জন রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ২৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৬৭০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮.৮% পুরুষ এবং ৪১.২% নারী

    ডেঙ্গুতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৪ জনের। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালে মোট আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৭৫ জন। আর ২০২৩ সালে ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র—তখন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।

  • একদিনে ডেঙ্গু কেড়ে নিল ২ প্রাণ, করোনায় আরও এক মৃত্যু, সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের

    একদিনে ডেঙ্গু কেড়ে নিল ২ প্রাণ, করোনায় আরও এক মৃত্যু, সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের

    এবিএনএ: ডেঙ্গু ও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে ঢাকায় এক তরুণী এবং চট্টগ্রামে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি মারা যান। পাশাপাশি চট্টগ্রামেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।

    ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ বছর বয়সী তরুণী মারা যান, তিনি রাজধানীর কালশীর বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা নুরুল আলম (৬৫) শুক্রবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন এবং শনিবার রাতে মারা যান।

    করোনায় মৃত্যু হওয়া ব্যক্তি চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ওই দিন ২১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও নতুন করে করোনা আক্রান্তের কোনো তথ্য মেলেনি।

    চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪ জন, যা বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড় করিয়েছে ৫৬-তে।

    রবিবার একদিনেই সারা দেশে ৪২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৮০ জনে। জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৫৮৪ জন।

    বিভাগভিত্তিক মৃত্যু

    ঢাকা বিভাগে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি, ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর বরিশালে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। বাকি বিভাগগুলোতে মোট মৃত্যু ১২ জন।

    ডেঙ্গু নিয়ে সতর্কবার্তা

    রোগতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, জুলাইয়ের শেষভাগ থেকে আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই এখন থেকেই সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছি এবং আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করছি।”

    করোনা: শনাক্ত নেই, মৃত্যু আছে

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশে মোট ২০ লাখ ৫২ হাজার ২২০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৯ হাজার ৫২৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জন আক্রান্ত ও ২৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

    দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হয় এবং ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু হয়।