Tag: কুমির

  • বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুরের মৃত্যু: তদন্তের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস

    বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুরের মৃত্যু: তদন্তের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস

    এবিএনএ: বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণ করলেও প্রাণীটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে না আসায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ঘটনাটি নজরে আসার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

    মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনাটি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবেও মর্মাহত। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তদন্ত কমিটি গঠন

    প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    কমিটিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. শরীফ খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার দাস এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদ-উল-হাসান সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

    পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বাগেরহাটে চাঞ্চল্য: খান জাহান আলীর দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে কুকুর নিহত, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

    বাগেরহাটে চাঞ্চল্য: খান জাহান আলীর দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে কুকুর নিহত, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে এক কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরটি দিঘির প্রধান ঘাট এলাকা থেকে কুকুরটিকে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। এই ঘটনার একটি ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

    অনলাইনে অনেকেই দাবি করেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে ফেলা হয়েছে। আবার কেউ অভিযোগ তোলেন, কুমিরকে নিয়মিতভাবে প্রাণী খাওয়ানো হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ভিডিও পর্যবেক্ষণে এসব দাবির সত্যতা মেলেনি।

    জানা গেছে, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং ঘটনার আগে কয়েকজন মানুষকে কামড় দেয়। পরে নিজেই ঘাটের দিকে গিয়ে পানিতে নামে। এ সময় কুমিরটি সুযোগ বুঝে আক্রমণ চালায়।

    ঘটনার সময় সেখানে অনেক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার জানান, কুকুরটি প্রথমে তাকে কামড় দেয় এবং পরে আশপাশে থাকা লোকজনের দিকে তেড়ে যায়। পরে পানিতে নামার পর কুমিরটি তাকে ধরে ফেলে। কিছু সময় পর দিঘির অন্য পাশে কুকুরটির মরদেহ ভেসে ওঠে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী বিনা আক্তার বলেন, কুকুরটি তার দোকানের সামনে কয়েকজনকে আক্রমণ করে এবং একটি শিশুকেও কামড় দেয়। এছাড়া তার কয়েকটি মুরগিও মেরে ফেলে।

    স্থানীয়দের মতে, কুমিরটি সম্প্রতি ডিম পাড়ায় আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। ফলে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।

    মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কুকুরটিকে কেউ বেঁধে পানিতে ফেলেছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

    এদিকে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, কুমিরকে কখনোই কুকুর খাওয়ানো হয় না এবং কুসংস্কার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • অবিশ্বাস্য! ভয়ঙ্কর কুমিরে ঘেরা জলাভূমিতে ৩৬ ঘণ্টা টিকে রইলেন পাঁচজন

    অবিশ্বাস্য! ভয়ঙ্কর কুমিরে ঘেরা জলাভূমিতে ৩৬ ঘণ্টা টিকে রইলেন পাঁচজন

    এবিএনএ:   বলিভিয়ার আমাজন অঞ্চলের গভীর অরণ্যে ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন পাঁচজন যাত্রী। একটি ছোট বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎ করে কুমিরে পূর্ণ এক জলাভূমিতে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। সেই মুহূর্ত থেকে শুরু হয় তাদের ৩৬ ঘণ্টার মৃত্যু-পিছনে-পালানো লড়াই।

    গত বৃহস্পতিবার, ১ মে, বিমানটি রাডারের সিগন্যাল হারায়। এরপর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বিমানের খোঁজ মেলে ইটানোমাস নদীর পাশের এক জলাভূমিতে, স্থানীয় কিছু জেলের সহযোগিতায়। উদ্ধারকৃত যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন তিনজন নারী, একজন শিশু এবং মাত্র ২৯ বছর বয়সী পাইলট আন্দ্রেস ভেলার্দে।

    ভেলার্দে জানান, বিমানটি বাউরেস থেকে ত্রিনিদাদ শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মাঝ আকাশে হঠাৎ করে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিলে তাকে বাধ্য হয়ে কুমিরে ঘেরা এক জলাভূমিতে অবতরণ করতে হয়।

    “বিমানটি দ্রুত নিচে নামছিল, আমি শেষ মুহূর্তে একটি জলাভূমি লক্ষ্য করি এবং সেখানেই নামাই। চারপাশে কুমিরে ভর্তি, কেউ কেউ ছিল মাত্র তিন মিটার দূরে,” বলেন ভেলার্দে।

    এমনকি তারা বিশাল আকারের একটি অ্যানাকোন্ডা সাপও দেখেছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তোলে।

    এই কঠিন সময়ে যাত্রীদের কাছে থাকা সামান্য কাসাভা ময়দা খেয়ে দিন কাটান তারা। তবে সবচেয়ে বড় সংকট ছিল নিরাপদ পানির। “চারদিকে কুমির, কোথাও যেতে পারছিলাম না, পানি ছিল না,” জানান পাইলট।

    ভেলার্দের মতে, বিমানের ট্যাংক থেকে নির্গত পেট্রোলের গন্ধই সম্ভবত কুমিরদের কিছুটা দূরে রাখতে সাহায্য করেছিল।

    উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বেনি বিভাগের জরুরি অপারেশন প্রধান উইলসন অ্যাভিলা জানান, “উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”

    ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হলেও বেনি স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক রুবেন তোরেস বলেন, “বিভিন্ন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করায় দ্রুত উদ্ধার সম্ভব হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”