Tag: ওয়ানডে ক্রিকেট

  • মিরপুরে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি, থমকে বাংলাদেশ–পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডে; শুরুতেই চাপে টাইগাররা

    মিরপুরে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি, থমকে বাংলাদেশ–পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডে; শুরুতেই চাপে টাইগাররা

    এবিএনএ: মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দিনের শুরু থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল, শেষ পর্যন্ত বজ্রসহ বৃষ্টি নামায় ম্যাচ থামাতে বাধ্য হন আম্পায়াররা।

    ম্যাচ বন্ধ হওয়ার আগে বাংলাদেশের ইনিংসে মাত্র ৬.৩ ওভার খেলা সম্ভব হয়। এই সময়ের মধ্যেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।

    বৃষ্টির কারণে স্টেডিয়ামের পিচ দ্রুত কভার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। বজ্রপাতের আশঙ্কায় বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই আম্পায়াররা খেলা বন্ধের ঘোষণা দেন।

    ইনিংসের শুরুতে শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম ওভারে তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসানের উদ্বোধনী জুটি মাত্র ১ রান তুলতে পারে। দ্বিতীয় ওভারে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে আসে ৭ রান। তবে তৃতীয় ওভারের শেষ বলে শাহিনের বাউন্সারে তানজিদ তামিম ক্যাচ দিয়ে আউট হন।

    আগের ম্যাচে ৪২ বলে ৬৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা তানজিদ আজ মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপরের ওভারের প্রথম বলেই আউট হন সাইফ হাসান। ১২ বলে তিনি করেন ১২ রান।

    এরপর ক্রিজে এসে কোনো রান না করেই ফিরে যান নাজমুল হোসেন শান্ত, যা ক্রিকেটের ভাষায় ‘সিলভার ডাক’। তখন দলের সংগ্রহ ছিল ১৫ রান।

    পরে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তাদের ব্যাটে আরও ১২ রান যোগ হওয়ার পরই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ২৪৮ রান।

    এর আগে পাকিস্তানকে ২৭৪ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে শেষ সাত উইকেট মাত্র ৪৩ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা।

    বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন। মিরাজ ৩৪ রানে ২টি উইকেট নেন এবং রিশাদ ৫৬ রানে শিকার করেন ৩টি উইকেট।

    পাকিস্তানের হয়ে মাজ সাদাকাত ও সালমান আলী আগা অর্ধশতক করেন।

    উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করে ৮ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচে জিততে পারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করতে পারবে মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল।

  • সাকিব ফিরলে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বড় ভরসা পাবে বাংলাদেশ:আশরাফুলের জোরালো বার্তা

    সাকিব ফিরলে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বড় ভরসা পাবে বাংলাদেশ:আশরাফুলের জোরালো বার্তা

    এবিএনএ: দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে সাকিব আল হাসান–এর সম্ভাব্য ফেরা নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামার পর আর লাল-সবুজ জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। দেশে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েও শেষ পর্যন্ত মাঠে ফেরা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনা জোরালো।

    এ বিষয়ে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, বয়সের দিক থেকে এখনো সাকিবের দেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে। এক ফরম্যাটে মনোযোগ দিলে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশকে কার্যকর সার্ভিস দিতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার থাকলে ব্যাটিং-বোলিং—দুই দিকেই দল উপকৃত হবে বলেও মন্তব্য করেন আশরাফুল।

    দলের বর্তমান ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টেস্ট দলে সেটআপ বেশ ভালো এবং টি-টোয়েন্টি দলও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিচ্ছে। তবে ওয়ানডেতে দীর্ঘদিন নিয়মিত খেলা না হওয়ায় সেখানে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) খেলোয়াড়রা ধারাবাহিকভাবে ভালো করলে এই জায়গাগুলো পূরণ করা সম্ভব, তবে ম্যাচ জেতানোর মতো পারফরম্যান্স জরুরি।

    ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার লক্ষ্য নিয়ে আশরাফুল জানান, তিন ফরম্যাটের মধ্যে ওয়ানডেতেই বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে, যদিও একসময় এটাই ছিল দলের সবচেয়ে শক্তিশালী ফরম্যাট। মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভূমিকা কমে যাওয়ার পর যারা খেলছেন, তারা চেষ্টা করছেন—তবে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।

    তিনি আরও বলেন, ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য র‌্যাঙ্কিংয়ের টপ এইটে থাকতে হবে। তাই সামনে প্রতিটি সিরিজ ও প্রতিটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দল এখন থেকেই পরিকল্পনা করছে কীভাবে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করা যায়।

  • মাশরাফি-তামিমের ফোনে অনুপ্রাণিত মিরাজ, সিরিজ জয়ে নেতৃত্বের দৃঢ়তা

    মাশরাফি-তামিমের ফোনে অনুপ্রাণিত মিরাজ, সিরিজ জয়ে নেতৃত্বের দৃঢ়তা

    এবিএনএ: ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজের সময়টা শুরুতে খুব একটা সুখকর ছিল না। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা সিরিজ হেরে চাপে পড়েছিলেন তরুণ এই অধিনায়ক। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজই যেন বদলে দিয়েছে তার ভাগ্যরেখা। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ১৭৯ রানের বিশাল জয় এনে দিয়ে বাংলাদেশকে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের স্বাদ দিয়েছেন মিরাজ।

    ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ জানান, কঠিন সময়টা পার করতে তাকে পাশে পেয়েছেন বাংলাদেশের দুই সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তামিম ইকবালকে। তারা ফোন করে দিয়েছেন নানা দিকনির্দেশনা ও মানসিক সাহস। মিরাজ বলেন, “বাংলাদেশের সফল অধিনায়কদের মধ্যে মাশরাফি ভাই ও তামিম ভাই দু’জনই আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছেন। তামিম ভাই ফোনে বলেছিলেন, কীভাবে খেললে ভালো হবে। এমন সহায়তা আমার কাছে দারুণ লেগেছে।”

    মিরাজ আরও বলেন, “আমি সবসময় ইতিবাচকভাবে খেলতে চাই। ঘরের মাঠে সব দলের বিপক্ষে ভালো করার সুযোগ থাকে। আমরা জানতাম মিরপুরের উইকেট কেমন আচরণ করবে, কারণ এখানে আমরা বহু বছর ধরে খেলছি।”

    মিরপুরের পিচ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি যোগ করেন, “আগে এখানে কিছুটা ঘাস থাকত, এখন নেই। তাই বল কিছুটা ধীরে আসে। তবে এটি আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়।”

    নিজের নেতৃত্বে সিরিজ জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী মিরাজ জানান, ভবিষ্যতে দলের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করতে চান তিনি।

  • মহারাজের ঘূর্ণি জাদুতে অস্ট্রেলিয়ার লজ্জাজনক হার

    মহারাজের ঘূর্ণি জাদুতে অস্ট্রেলিয়ার লজ্জাজনক হার

    এবিএনএ: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে দাঁড়াতেই পারল না স্বাগতিকরা। কেশব মহারাজের ঘূর্ণি জাদুতে অজিরা গুঁড়িয়ে গেল ১৯৮ রানে। ফলে প্রোটিয়ারা ম্যাচ জিতল বিশাল ৯৮ রানের ব্যবধানে।

    টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। উদ্বোধনী জুটিতে তোলে ৯২ রান। রায়ান রিকেলটন ৩৩ রানে ফিরলেও অন্য ওপেনার এইডেন মার্করাম খেলেন ঝলমলে ইনিংস, মাত্র ৮১ বলে করেন ৮২ রান। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ৭৪ বলে ৬৫ এবং ব্রিটজ ৫৭ রান যোগ করেন দারুণভাবে। ওয়ান মুলদার অপরাজিত থাকেন ২৬ বলে ৩১ রান করে। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯৬/৮।

    জবাবে অজিদের শুরুটা ছিল উজ্জ্বল। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬০ রান। কিন্তু এর পরেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজ। মাত্র ৩৩ রান খরচায় তিনি একে একে ফিরিয়ে দেন মার্নাস লাবুশানে (১), ক্যামেরুন গ্রিন (৩), জস ইংলিশ (৫), অ্যালেক্স কেরি (০) ও অ্যারন হার্ডিকে (৪)।

    অধিনায়ক মিচেল মার্শ একাই লড়াই করেন। ৯৬ বলে তার ৮৮ রানের ইনিংস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু তিনিও ফেরার পর ভেঙে পড়ে অজিদের ব্যাটিং লাইনআপ। বেন ডারসুইস করেন ৩৩ রান। ৪০.৫ ওভারে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

    মহারাজ নেন ৫ উইকেট মাত্র ৩৩ রান খরচায়। এছাড়া পেসার নান্দ্রি বার্গার ও লুঙ্গি এনগিডি নেন দুটি করে উইকেট। এই জয়ে সিরিজে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল দক্ষিণ আফ্রিকা।