Tag: এফডিসি

  • এফডিসির পাশ দিয়ে গেলেই মনটা ভারী হয়ে আসে: ববিতা

    এফডিসির পাশ দিয়ে গেলেই মনটা ভারী হয়ে আসে: ববিতা

    এবিএনএ: বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ের কথা উঠলেই যে নামটি আলাদা করে উচ্চারিত হয়, তিনি ববিতা। কৈশোরেই এফডিসির আঙিনায় পা রাখা এই কিংবদন্তির কাছে এক সময়ের প্রাণচঞ্চল প্রাঙ্গণ এখন কেবলই বিষণ্ন স্মৃতির নাম। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ঢাকাই চলচ্চিত্রের বর্তমান বাস্তবতা ও এফডিসির পরিবর্তন নিয়ে নিজের গভীর হতাশার কথা খুলে বলেছেন তিনি।

    ববিতা জানান, এফডিসির পাশ দিয়ে যাওয়া মানেই হৃদয়ে চাপা কষ্ট। গাড়ি চলতে চলতে এক নজর তাকালেও আর আগের মতো ভালো লাগে না। শৈশবে যেখানে খেলার ছলে যাতায়াত শুরু, সেখানেই পরবর্তীতে প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে টানা কাজ—সকাল, বিকাল, রাত মিলিয়ে কখনো কখনো তিন শিফটেও শুটিং করেছেন তিনি। অথচ এখন সেই পরিচিত ফ্লোরগুলো আর আগের মতো নেই; কিছু জায়গা ভেঙে ফেলা হয়েছে, পরিবেশটাও বদলে গেছে।

    বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, আগে যেখানে সিনেমার শুটিংয়ে মুখর থাকত এফডিসি, এখন সেখানে নাকি ফাঁকাই বেশি। চলচ্চিত্র নির্মাণের চেয়ে বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য কাজের চাপ বেড়েছে, ফলে প্রাঙ্গণের প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে যাচ্ছে।

    গুণী নির্মাতাদের অভাবের কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। এক সময়ের জহির রায়হান, খান আতা, আমজাদ হোসেন, সুভাষ দত্ত কিংবা নারায়ণ ঘোষ মিতার মতো নির্মাতাদের সান্নিধ্যে কাজ করার সৌভাগ্যকে নিজের জীবনের বড় অর্জন হিসেবে দেখেন তিনি। আজকের দিনে সেই মানের দিকনির্দেশক খুঁজে পাওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন ববিতা।

    এফডিসির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে অভিজ্ঞ ও কিংবদন্তিদের মতামত নেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে তার উত্তর ছিল সোজাসাপ্টা। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় চলচ্চিত্র বিষয়ে গভীর বোঝাপড়া না থাকলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।

  • গুরুতর অসুস্থ ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্য দোয়া চাইলেন সহশিল্পীরা, আবেগঘন বার্তা মিশার

    গুরুতর অসুস্থ ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্য দোয়া চাইলেন সহশিল্পীরা, আবেগঘন বার্তা মিশার

    এবিএনএ: বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক ও সামাজিক কর্মী ইলিয়াস কাঞ্চন গুরুতর অসুস্থ। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত এই অভিনেতা গত ছয় মাস ধরে লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সহশিল্পীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    রোববার বিকেলে রাজধানীর এফডিসিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির উদ্যোগে এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিশা সওদাগর, রোজিনা, আলীরাজ, নানা শাহ, জ্যাকি আলমগীর, জয় চৌধুরী, ডি এ তায়েবসহ অসংখ্য শিল্পী।

    দোয়া মাহফিল শেষে মিশা সওদাগর বলেন,

    “ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু আমাদের সিনেমার উজ্জ্বল নক্ষত্র নন, তিনি একজন সমাজসচেতন মানুষ ও আমাদের অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর অসুস্থতার খবর শুনে আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি। আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন, সবাই দোয়া করবেন।”

    মিশা জানান, প্রায় ১০ দিন আগে অভিনেত্রী রোজিনার মাধ্যমে প্রথম ইলিয়াস কাঞ্চনের অসুস্থতার খবর পান তিনি। পরিবারের অনুরোধে তখন বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। পরে পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে খবর জানালে সমিতির পক্ষ থেকে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইলিয়াস কাঞ্চন লন্ডনের হার্লি স্ট্রিট ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। গত আগস্টে উইলিংটন হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়, যেখানে টিউমারের একটি অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়। সম্পূর্ণ টিউমার অপসারণ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে তিনি রেডিয়েশন ও টার্গেট থেরাপি নিচ্ছেন, যা সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ছয় সপ্তাহ চলবে। চিকিৎসা শেষে আরও চার সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে তাঁকে।

    ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে ও নিসচা’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন দেশবাসীর কাছে তার বাবার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

    চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই জানিয়েছেন, ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতা মানে শুধু এক শিল্পীর বেঁচে থাকা নয়—বরং এক প্রজন্মের আশা ও প্রেরণার পুনর্জাগরণ।

  • দেশে থাকলে হাত পাততে হতো: খোলামেলা স্বীকারোক্তি প্রবীণ অভিনেতা আহমেদ শরীফের

    দেশে থাকলে হাত পাততে হতো: খোলামেলা স্বীকারোক্তি প্রবীণ অভিনেতা আহমেদ শরীফের

    এবিএনএ: বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা আহমেদ শরীফ। অর্ধশতকেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৮০০-র বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দেশের বাস্তবতা নিয়ে আক্ষেপ করে বললেন—বাংলাদেশে থাকলে তাকে ভিক্ষা করে বাঁচতে হতো।

    সম্প্রতি প্রয়াত চলচ্চিত্র শিল্পীদের স্মরণে রাজধানীর এফডিসিতে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে যোগ দেন তিনি। সেখানেই শিল্পীদের অনিশ্চিত জীবনযাপন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    আহমেদ শরীফ বলেন, “একজন মানুষের ন্যূনতম বাসস্থান, খাদ্য ও চলাফেরার নিশ্চয়তা থাকা দরকার। কিন্তু দেশে কতজন বলতে পারে, তার আগামী মাসের খাওয়ার নিশ্চয়তা আছে? খুব কম। শিল্পীরাও এ অনিশ্চয়তার বাইরে নয়। বিনোদনের এই অঙ্গনে নিরাপত্তা নেই। আমি যদি বাংলাদেশে থেকে যেতাম, তাহলে নিশ্চিতভাবে আমাকে হাত পেতে খেতে হতো।”

    তিনি শিল্পীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দাবি জানিয়ে বলেন, “শিল্পীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্থায়ী ব্যবস্থা থাকা দরকার। যেন তাদের বেঁচে থাকার চিন্তা না করতে হয়। আমরা চাই শিল্পীরা কাজের জন্য বিদেশে না গিয়ে এখানেই সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন।”

    প্রবীণ এই অভিনেতা বলেন, “আমার চোখের সামনে অনেক বড় ঘটনা ঘটেছে—সালমান শাহ’র মৃত্যু, শাবানার বিদেশে চলে যাওয়া, মান্নার অকাল প্রয়াণ। আমি সেসবের সাক্ষী। এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দর্শক আমাকে ভালোবেসেছেন। খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে গালমন্দও শুনেছি, তবে সেটাই আমার সাফল্য।”

    বাংলা চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের অবদান রেখেও প্রবীণ শিল্পীরা অবহেলিত—এমন বাস্তবতা আবারও উঠে এলো আহমেদ শরীফের কণ্ঠে।

  • নারী ভক্তকে কেন্দ্র করে মামলা, ডিপজলের জবাব—সবকিছুর বিচার আল্লাহ করবেন

    নারী ভক্তকে কেন্দ্র করে মামলা, ডিপজলের জবাব—সবকিছুর বিচার আল্লাহ করবেন

    এবিএনএ: ঢাকার একটি আদালতে অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও তার একজন সহযোগীর বিরুদ্ধে মারধর ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন ডিপজল। তিনি দাবি করেছেন, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি অপচেষ্টা।

    ডিপজল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে লেখেন, “একজন মানসিকভাবে অসুস্থ ভক্তকে সামনে রেখে যেসব লোক নিজের স্বার্থে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ করছে, তারা সত্যিই নিন্দনীয়। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ এই অপচেষ্টাকারীদের বিচার করবেন।”

    তিনি জানান, সেই নারী কয়েকবার এফডিসিতে এসে কান্নাকাটি করে টাকা নিয়েছে। একবার ৫০ হাজার টাকা, পরে আরও কয়েক দফায় ১০–২০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। বিষয়টির ভিডিও প্রমাণও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    ২০২৫ সালের ২ জুন তাকে গরুর হাটে দেখা গেছে বলে যেটি অভিযোগে বলা হয়েছে, সেটিকেও ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন ডিপজল। তিনি বলেন, “আমরা ১৫ এপ্রিলেই হাটটি ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এরপর সেখানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। অথচ ওই নারী দাবি করেছে, ২ জুন আমাকে সেখানে পেয়েছে!”

    ডিপজল আরও জানান, হাটের সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও প্রমাণ তার কাছে রয়েছে, যা এই অভিযোগের ভিত্তিহীনতা প্রমাণ করতে সক্ষম।

    তিনি সঠিক বিচার দাবি করে বলেন, “আমি মহামান্য আদালতের কাছে আবেদন করছি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরুন। যারা এই নারীকে ব্যবহার করে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাইছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনুন।”

    অন্যদিকে, মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই নারী ২ জুন কোরবানির গরুর হাটে ডিপজলের সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন ডিপজলের পিএস তাকে বের করে দিতে বলেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এমনকি তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে দেওয়ার সময় এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার গলায় এক ধরনের তরল পদার্থ ছুড়ে দেওয়া হয়, যা অ্যাসিড বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

    তিনি পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন এবং সেখানেই চিকিৎসা নেন। ১২ জুন মামলা করতে গেলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ রয়েছে এজাহারে।

    শেষমেশ ডিপজল এই মামলা ও ঘটনাকে “চক্রান্ত” আখ্যা দিয়ে বলেন, “মিথ্যার পেছনে লুকানো সত্য বেরিয়ে আসবে। আমি নির্দোষ, আল্লাহ সব জানেন।”