Tag: উপদেষ্টা পরিষদ

  • নির্বাচন পিছিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার ছক? তিন উপদেষ্টার গোপন কৌশল নিয়ে ফাঁস হওয়া নানা তথ্য

    নির্বাচন পিছিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার ছক? তিন উপদেষ্টার গোপন কৌশল নিয়ে ফাঁস হওয়া নানা তথ্য

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে অন্তত তিনজন উপদেষ্টা নির্বাচন পেছানোর নানা কৌশলে সক্রিয় ছিলেন—এমন অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আরেকজন উপদেষ্টার ভূমিকা ছিল পরিস্থিতিনির্ভর; তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা রেখে সময় পার করেছেন বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, এই গোষ্ঠীর কৌশলের অংশ হিসেবে মব সন্ত্রাসকে উসকে দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে চাপ তৈরির চেষ্টা চলেছিল।

    শুরুর দিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। পরে সংস্কারের বিস্তৃত প্রস্তাব সামনে এলে দ্রুত ভোটের পথ থেকে তিনি সরে আসেন। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে—এই সংস্কার-আলোচনার আড়ালে ক্ষমতার সময় বাড়ানোর হিসাব-নিকাশ ছিল, যেখানে তিন উপদেষ্টার চাপ বড় ভূমিকা রাখে।

    উপদেষ্টাদের যুক্তি ছিল, দ্রুত ভোট হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে এবং অপ্রত্যাশিত শক্তি সুবিধা নিতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই যুক্তির পেছনে ছিল নিজেদের প্রভাব দীর্ঘায়িত করা এবং নির্দিষ্ট শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কৌশল। জনচাপ ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা ধাক্কা খায়। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর দ্রুত নির্বাচন চাওয়ার চাপও সিদ্ধান্ত বদলে প্রভাব ফেলে।

    পর্দার আড়ালে নিয়মিত বৈঠক, প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং বিদেশি কূটনৈতিক মহলে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে উপদেষ্টাদের প্রভাব একসময় এতটাই বেড়ে যায় যে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকেন। লন্ডনে হওয়া বৈঠককে কেন্দ্র করে নির্বাচনমুখী হওয়ার প্রক্রিয়া এগোলেও তা ভেস্তে দিতে নানা মহলের তৎপরতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে।

    দেশের ভেতর থেকেও নির্বাচন ছাড়া বিকল্প নেই—এমন চাপ আসতে থাকে। তবু নির্বাচনবিরোধী তৎপরতা থামে না। প্রশাসনিক শৈথিল্য ও সহিংসতার ঘটনায় সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ কয়েকটি ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেরিতে পৌঁছানো নিয়ে রহস্যের কথাও উঠে আসে।

    রাজনৈতিক মহলের দাবি, প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো শুরু থেকেই নির্বাচনমুখী অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। সেনাবাহিনী সতর্ক ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায়ও নানা আলামত দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে—উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বিদেশ সফরে গিয়ে কূটকৌশলে যুক্ত ছিলেন, জনমত জরিপ প্রভাবিত করার চেষ্টাও হয়েছে।

    নির্বাচনের দিনেও নির্দিষ্ট আসনের দিকে নজর ছিল একটি গোষ্ঠীর। তবে ফলাফল আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝে বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে তারা। এসব ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে—নির্বাচন বিলম্বের পেছনে কেবল প্রশাসনিক অজুহাত নয়, ছিল ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ ও পর্দার আড়ালের রাজনীতি।

  • ৫ বছরেও ফিরে না এলে ‘গুম’ ঘোষণা করবে ট্রাইব্যুনাল—নতুন অধ্যাদেশে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

    ৫ বছরেও ফিরে না এলে ‘গুম’ ঘোষণা করবে ট্রাইব্যুনাল—নতুন অধ্যাদেশে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

    এবিএনএ: গুম হওয়া কোনো ব্যক্তি টানা পাঁচ বছর জীবিত ফিরে না এলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডিসাপিয়ার্ড’ বা ‘গুম’ ঘোষণা করার ক্ষমতা পাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ–২০২৫-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

    বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনালের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী চাইলে নিজ উদ্যোগে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পাবেন। গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়াই ওই ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন।

    একই বৈঠকে ‘বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ–২০২৫’-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে। সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা, নিষিদ্ধ কার্যক্রম নির্ধারণ এবং অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে সুইজারল্যান্ডের গুরুত্ব বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সীমিত জনবল নিয়ে দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হবে।

    বৈঠকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার বিষয়েও আলোচনা হয়। তার চিকিৎসা তদারকিতে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছর বিজয় দিবস সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানানো হয়।

  • রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্তে এগোচ্ছে দেশ: পুলিশের স্বাধীন তদন্ত সার্ভিস গঠনের সিদ্ধান্ত

    রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্তে এগোচ্ছে দেশ: পুলিশের স্বাধীন তদন্ত সার্ভিস গঠনের সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে পুলিশের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পুলিশের জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত সার্ভিস গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “পুলিশের তদন্তে যেন কোনো রাজনৈতিক বা বহিরাগত প্রভাব না পড়ে, সে জন্য স্বাধীন তদন্ত সার্ভিস গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

    এছাড়া পুলিশের ভেতরে যেসব অভ্যন্তরীণ অভিযোগ আসে, তা যাচাই করার জন্য একটি কমিশন গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করবে। এ কাজে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ চৌধুরী সম্পৃক্ত থাকবেন।

    সভায় স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন যাতে নিজস্ব তহবিল গড়ে স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হতে পারে, সে বিষয়ে জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা।

    স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। কিছু মেডিকেল কলেজে যোগ্য শিক্ষকের সংকট পূরণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

    প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “আজকের বৈঠকে নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।”

    ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও উপস্থিত ছিলেন।

  • উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালার খসড়া অনুমোদন

    উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালার খসড়া অনুমোদন

    এবিএনএ: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪১তম সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের ‘বেসরকারি অংশগ্রহণে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা, ২০২৫’, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা, ২০২৫’ এবং আইন ও বিচার বিভাগের ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (তৃতীয় সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এগুলো লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিংয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে সভায় জানানো হয়।

    সরকারি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে, টেলিযোগাযোগ খাত আরও আধুনিক হবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

  • এনবিআর বিলুপ্ত, দুটি নতুন বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদন

    এনবিআর বিলুপ্ত, দুটি নতুন বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদন

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের রাজস্ব কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এ জন্য আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৩৯তম বৈঠকে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এ পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী হবে বলে আশা করছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে নতুন অধ্যাদেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    একই বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করা হয়। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    এছাড়া, বৈঠকে সংস্কার কমিশনের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কেও উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করা হয়।

    সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, এনবিআর বিলুপ্তির পর দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের ফলে রাজস্ব আদায়, নীতি প্রণয়ন এবং ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় আরও জোরদার হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে।

  • ডিসেম্বরে নির্বাচনের রোডম্যাপ ও উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন চায় বিএনপি

    ডিসেম্বরে নির্বাচনের রোডম্যাপ ও উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন চায় বিএনপি

    এবিএনএ: 

    ডিসেম্বরে মধ্যে একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য পরিষ্কার রোডম্যাপ চেয়ে এবং বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনায় এই দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে দলটি।

    বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে এসেছিলাম। আলোচনার জন্য পূর্বে কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা জানানো হয়নি, তবে আমরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে একটি লিখিত প্রস্তাবনা নিয়ে এসেছি।”

    তিনি আরও জানান, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি শুরু থেকেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রূপরেখা দাবি করে আসছে। এ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দেওয়া জরুরি।”

    বিএনপি মনে করে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলটির নেতাকর্মীরা বহুমাত্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ড. মোশাররফ বলেন, “বিচারের প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকলে আগামীতে বিএনপি সরকারে গেলে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিচার করা হবে।”

    বিএনপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে।

    স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি, এখন উনারা প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে আশা করছি।”

    অন্যদিকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আলোচনার মূল বিষয় ছিল সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। তিনি বলেন, “সব পক্ষ সংস্কার নিয়ে একমত হয়েছে, এটি দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব।”

    ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন – এই তিনটি বিষয় আলাদা। একটির সঙ্গেও অন্যটির সরাসরি সম্পর্ক নেই।”

    এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির চার সদস্যের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

  • সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিষিদ্ধে আসছে নতুন অধ্যাদেশ

    সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিষিদ্ধে আসছে নতুন অধ্যাদেশ

    এবিএনএ:   সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এবার সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া নীতিগত চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

    রবিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই খসড়াটি অনুমোদিত হয়।

    বৈঠকের সারসংক্ষেপে বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছিল সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধ শাস্তি নিশ্চিত করতে। তবে বর্তমান আইনে কেবল ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও কোনো সত্তা বা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সুস্পষ্ট ধারা ছিল না।

    নতুন সংশোধনীতে এই ফাঁক পূরণ করা হয়েছে। এখন থেকে যুক্তিসংগত প্রমাণের ভিত্তিতে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সত্তাকে সন্ত্রাসে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে।

    এছাড়াও, সংশোধিত অধ্যাদেশে অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর প্রচারণা বন্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনীটি অধ্যাদেশ আকারে আগামীকাল জারি হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

    এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী আধুনিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।