Tag: আন্তর্জাতিক রাজনীতি

  • চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    এবিএনএ: শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রস্তাবটি গ্রহণ করার এটিই তেহরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

    এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তি করতে চান না। তার মতে, নতুন প্রস্তাবটি আগের চুক্তির তুলনায় আরও কঠোর এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর হবে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হুমকি আসে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রণালীতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় ও গুলি চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য রয়েছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়ে নিজেদেরই ক্ষতির মুখে ফেলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পথ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেহরান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে না বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও অনেক দূরে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের সংসদ স্পিকার।

    ট্রাম্প তার বার্তায় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত’ প্রস্তাব দিয়েছে। এটি গ্রহণ না করলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা হতে পারে বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

    উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী রোববারও আংশিকভাবে বন্ধ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

  • হরমুজ খুললেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত: বন্দর অবরোধ তুলে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প

    হরমুজ খুললেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত: বন্দর অবরোধ তুলে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিলেও ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ আপাতত তুলে নেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া পৃথক পোস্টে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, প্রণালিটি এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

    তিনি আরও জানান, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী। চুক্তির বাকি অংশ সম্পন্ন হলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেন, লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।

    লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে। এই যুদ্ধবিরতি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত।

    হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকায় দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি।

  • হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে এবং এতে চীন সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু চীনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই প্রণালি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না।

    চীনের সঙ্গে সমঝোতার দাবি

    পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চীন ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তার ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন সফরে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন এবং দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    তিনি আরও বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার পথই বেশি কার্যকর। তবে প্রয়োজনে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

    ভিন্ন তথ্য নিয়ে বিতর্ক

    ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। আবার অন্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি শনাক্তে চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    চীনের অবস্থান

    তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের দাবি, তারা ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

  • মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: “সাহস আছে ভেবেছিলাম, ভুল প্রমাণিত হলাম”

    মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: “সাহস আছে ভেবেছিলাম, ভুল প্রমাণিত হলাম”

    এবিএনএ: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মেলোনির অবস্থান তাকে হতাশ করেছে এবং তিনি ভেবেছিলেন ইতালির এই নেত্রীর সাহসী অবস্থান থাকবে, কিন্তু বাস্তবে তা দেখেননি।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির একটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মেলোনির কাছ থেকে ভিন্ন ধরনের দৃঢ়তা প্রত্যাশা করেছিলেন, তবে সাম্প্রতিক অবস্থান দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

    ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনার বিষয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। এ অবস্থানকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্প তার সমালোচনা করেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ট্রাম্পের মতে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

    এর আগে ধর্মীয় নেতা পোপ লিওকে নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে পোপের অবস্থান দুর্বল। এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মেলোনি। তিনি বলেন, ক্যাথলিক বিশ্বের শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে এভাবে সমালোচনা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

    মেলোনির প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প পাল্টা মন্তব্য করেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইতালির অবস্থান তাকে হতাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হলেও ইরান প্রশ্নে অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই উত্তেজনাকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

  • মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ কার্যকর করতে আসা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে প্রয়োজনে সমুদ্রের তলদেশে পাঠানো হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলেদ্দিন বুরুজার্দি এ মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া অবরোধ নির্দেশ বাস্তবভিত্তিক নয় এবং এটি প্রচারণামূলক পদক্ষেপ। তার মতে, এমন অবরোধ কার্যকর করার মতো সক্ষমতা ওয়াশিংটনের নেই।

    তিনি আরও দাবি করেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোও এই উদ্যোগে অংশ নেবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এই পদক্ষেপ নিতে চাইছে। ফলে পরিস্থিতি বাস্তবে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে যে কোনো বিদেশি সামরিক তৎপরতা উত্তেজনা বাড়াবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক বলেন, আগ্রাসনের চেষ্টা হলে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু হরমুজ প্রণালী নয়—ওমান সাগর বা অন্য কোনো এলাকায় বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ দেখা গেলে ইরান তা প্রতিহত করবে।

    ইরানের কর্মকর্তারা আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ সফল হবে না। বরং এ ধরনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

  • ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    এবিএনএ: ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি তার ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ থেকে সরে এসে ইরানের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে।

    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবসম্মত অবস্থান নিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রশংসা করেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। দীর্ঘ সময় আলোচনা চললেও উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একমত হতে পারেনি।

    গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের টানাপোড়েন চলছে। এ বিষয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ আলোচনা চলে দুই দেশের মধ্যে। তবে সেই সংলাপও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    পরবর্তী সময়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময় ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক পদক্ষেপ নেয়। এতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়।

    সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়। পাশাপাশি ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুদ্ধ শুরুর ৩৯তম দিনে, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রেক্ষাপটে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনায় বসে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পরও কোনো চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।

    তবুও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে—এমন বার্তা দিয়ে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

  • হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, হরমুজে কোনো জাহাজ প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।

    এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ বন্ধের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি হামলার নির্দেশ নয়। বরং প্রথমে কৌশলগত অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হতে পারে। যদি তেহরান অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরবর্তী ধাপে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, হরমুজ অবরোধে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে। তবে কোন দেশগুলো এতে অংশ নেবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    তিনি আরও বলেন, ইরানে এখনো যেসব লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এ বক্তব্যকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

    ট্রাম্প অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান যে টোল আরোপের কথা বলছে তা চাঁদাবাজির শামিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব জাহাজ ইরানকে অর্থ প্রদান করবে সেগুলোকে আটক করা হতে পারে।

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সেই ব্যর্থ আলোচনার পরপরই হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন ট্রাম্প।

  • ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে গেল: হরমুজ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা

    ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে গেল: হরমুজ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা

    এবিএনএ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান কাছাকাছি না আসায় চুক্তিহীনভাবে বৈঠক শেষ হয়।

    মার্কিন এক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া বৈঠক রাতভর চলার পর রোববার সকাল পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু মূল ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য কাটেনি। ফলে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে যায়।

    যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি তোলে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেয় ওয়াশিংটন। এই দুই বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে ইরানকে জানানো হয়।

    তবে ইরানি প্রতিনিধিরা এসব শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তারা পাল্টা দাবি জানান, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও জোর দেন তারা।

    দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছাড়া তারা এই পদক্ষেপ নেবে না।

    বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা। পারমাণবিক ইস্যু দীর্ঘদিনের হলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক থেকে কোনো সমাধান না আসায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিমা মিত্রদের রাজনৈতিক মেরুকরণ

    ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিমা মিত্রদের রাজনৈতিক মেরুকরণ

    মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
    ইরান যুদ্ধের ধাক্কা শুধুমাত্র তেহরান, তেলআবিব বা ওয়াশিংটনের দেয়ালেই আটকে নেই, এ যুদ্ধ যেমন মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতিতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, একই সাথে এর আঁচ লেগেছে পুরো বিশ্বের রাজনীতিতেও। প্রথাগত পশ্চিমা মিত্রদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্র কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নির্ভর দেশগুলো যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করলে তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে পড়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ। পরিস্থিতির গুরুত্ব এতটাই তীব্র যে বিগত ৩০ মার্চ জি-৭ জরুরি বৈঠকে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে “সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে এখন যুদ্ধ শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববাজারে, জ্বালানি থেকে কৃষি কীটনাশক, কূটনীতি থেকে মিত্র-জোটের রাজনীতি সবদিকে। এরচেয়েও বড় মেরুকরণ এসেছে পশ্চিমা-নির্ভর রাষ্ট্রগুলোর সামরিক সহায়তা, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা, ও পশ্চিমা-জোট সঙ্গী দেশগুলোর রাজনীতি ও পররাষ্ট্র নীতিমালাতে।

    যুদ্ধের ফলে প্রথম মেরুকরণ এসেছে ইউরোপীয় দেশগুলোয়। বিশেষত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নির্ভরশীলতা ও সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত নিরাপত্তার ধারণা অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। অবশ্য ন্যাটোকে এমন ভঙ্গুর ও অবিশ্বস্ত জোট করে তোলার পেছনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই দায়ী। ইরান যুদ্ধের আগে থেকেই ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, “এই (ইউক্রেন) যুদ্ধ আমাদের নয়, এটা বাইডেনের যুদ্ধ।” একইসাথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকিকে ওভাল অফিসে ডেকে নিয়ে লাইভ মিটিংয়ে রীতিমতো অপমান করেছিলেন তিনি। যা আটলান্টিকের জোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য ছিলো সতর্কতা সংকেত ও ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনের শুরু। একই সাথে গ্রীনল্যাণ্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের বিতর্কিত আচরণ ন্যাটোকে ওয়াশিংটন থেকে অনেকাংশেই বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ট্রাম্পের এমন অনির্ভরযোগ্য আচরণের ফলে, ইরান যুদ্ধের শুরুতেই স্পেন প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে মার্চের ৩ তারিখে ঘোষণা দেয় তারা এই যুদ্ধে তারা অংশগ্রহণ করবে না; একই দিন ট্রাম্প স্পেনকে পাল্টা হুমকি দেন, স্পেনের সাথে সকল বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার। কিন্তু, স্পেনের সাথে সুর মিলিয়ে পরদিনই ইতালি ও যুক্তরাজ্যও যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দেয়। ফলে মার্কিন-ইউরোপীয়, বিশেষত ন্যাটোভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সাথে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক দূরত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। যুদ্ধের এক মাস পর, এপ্রিলের এক তারিখ ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ইউরোপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে কোনপ্রকার সামরিক সহায়তা দেবে না, একই সাথে যুদ্ধের প্রয়োজনে কোন আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটিও ব্যবহার করতে দেবে না। একই পথে হাঁটছে জার্মানি ও যুক্তরাজ্যও। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সহায়তা না পেয়ে ট্রাম্প ‘যুক্তরাজ্যের সহায়তার দরকার নেই’ বলে তাচ্ছিল্য করেছেন। আদতে, ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে ইউরোপে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে দ্বিগুণ। আমদানি নির্ভর ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর বেশিরভাগই রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল। তাই ওয়াশিংটনকে যুদ্ধে সহায়তা করার চেয়েও ঘরোয়া-রাজনীতি, অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ সহ নানা ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিত্রতা বজায় রাখার চেয়েও জরুরি হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘসময়ের মিত্রদের এমন সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট বার্তা দেয় ন্যাটো আর কোন নিছক পশ্চিমা মূল্যবোধের জোট নয়, বরং তা ক্রমেই শর্তসাপেক্ষ, লেনদেনমুখী এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমীকরণে ঢুকে পড়ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কানি বলেছেন, ইরানে হামলা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক, যদিও কানাডা ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চায়; তবুও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণ কে কানাডা সমর্থন করে না। এর আগে ট্যারিফ ইস্যুতে তিনি সরাসরি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক উদারবাদ বা ইন্টারন্যাশনাল লিবারেল ওয়ার্ল্ড অর্ডার বলতে আর কিছু নেই। আমরা নতুন একটি বিশ্বব্যবস্থায় প্রবেশ করছি।

    ওয়াশিংটন যখন যুদ্ধে ইউরোপীয় ও প্রতিবেশী মিত্রদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, তখন ট্রাম্প ভেবেছিলেন দীর্ঘদিনের এশীয় মিত্র জাপানের কাছ থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা হয়তো পাবেন। কিন্তু জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ট্রাম্পের বৈঠক সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, একই সাথে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে পার্ল হার্বার আক্রমণকে মনে করিয়ে দিয়ে দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ককে আরো জটিল করে তুলেছেন ট্রাম্প। জাপান, এশীয় বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশ যার ৯০% তেলই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আসে। এক অর্থে, জাপানের সাথে ট্রাম্পের বৈঠক অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের মতো। তিনি ভেবেছিলেন, হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল দেশ হিসেবে জাপান হয়তো সহায়তা করবে। কিন্তু, জাপান এরপর দিনই ২মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ‘চাইনিজ ইউয়ান’ ব্যবহার করে নিজস্ব বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালীন সময়ের সকল কূটনৈতিক বৈঠকের প্যাটার্ন দেখলে একট বিষয় স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি কোয়ার্সিভ বা জবরদস্তিমূলক কূটনীতি পছন্দ করেন। ইরান যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রত্যেকটা মিত্রদেরকে তিনি ভেবেছিলেন জবরদস্তি করে পাশে আনবেন, কিন্তু তার একটি কূটনৈতিক বৈঠকও সফল হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অধ্যয়নের ক্ষেত্রে, জবরদস্তিমূলক কূটনীতিকে কখনই কোন স্বাস্থ্যকর বা ভালো কূটনীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কারণ, এই ধরনের কূটনীতি দূর্বল রাষ্ট্র ও বশ্যতা স্বীকার করবে এমন রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো এতোটাও রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া নয় যে জবরদস্তির মাধ্যমে ট্রাম্পের বশ্যতা স্বীকার করবে, এমনকি জাপানও নয়।

    ট্রাম্পের সর্বশেষ চেষ্টা ছিলো চীনের প্রতি সাহায্য চাওয়া, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৭ মার্চ ট্রাম্প প্রকাশ্যে চীনকে হরমুজ প্রণালী খুলতে সহায়তার আহ্বান জানান। কিন্তু, বেইজিং সরাসরি কোন সামরিক, রাজনৈতিক কিংবা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি না দিলেও, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দেয়নি। বেইজিংয়ের তরফ থেকে ২৬শে মার্চ শান্তি-আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানানো হয়। পরবর্তীতে, চীন-পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগ্যে এপ্রিলের ১ তারিখ যুদ্ধ-বিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া ও শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। যদিও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি আসেনি।

    অন্যদিকে, যুদ্ধের শুরু থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ প্রতিহত করতে যতটা সরব তার ছিটেফোঁটাও আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে দেখায়নি। এমন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুলেমান আল আকিলী। তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মিত্র হয়েও আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সকল চিন্তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে। আরবদের নিয়ে নয়।” শুধু যে আরব রাষ্ট্রগুলোই বিশ্বাসঘাতকতা বা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তাই না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধে মিসাইল ইন্টারসেপ্টর এর পরিমাণ কমে যাওয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তায় দীর্ঘদিন নিয়োজিত থাকা ‘থাড ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম’ কে কোরিয়া থেকে সরিয়ে এনে ইরান যুদ্ধে কাজে লাগিয়েছে। ফলে আরবদের পাশাপাশি, দক্ষিণ কোরিয়া, যে রাষ্ট্র দীর্ঘদিন মার্কিনীদের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল ছিলো তারাও চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।

    আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম বিশ্বব্যাপী এতো ব্যাপক আকারে রাজনৈতিক মেরুকরণ দেখছে বিশ্ব। বিগত পঞ্চাশ বছরেরও অধিক সময় ধরে সারাবিশ্বে মোড়লপনা চালিয়ে আসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ভরসা যোগ্য কোন মিত্র বা বন্ধুরাষ্ট্র নয় তা ইরান যুদ্ধে সকলেই টের পেয়েছে। এ যেন ইরানিয়ান প্রবাদেরই প্রতিফলন, “আমেরিকা যার বন্ধু, তার শত্রুর প্রয়োজন নেই।”

    শিক্ষার্থী
    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

    সিনিয়র ফরেন পলিসি এনালিস্ট
    ইয়ুথ পলিসি ফোরাম।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ ট্রাম্পের, সংবাদমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ ট্রাম্পের, সংবাদমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ

    এবিএনএ: ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ধরন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। তার দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সাফল্য সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে, যেন মার্কিন বাহিনী পিছিয়ে পড়ছে।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম হয় বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বাস্তবতা বিকৃত করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নৌ ও বিমান শক্তির বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালী দ্রুত স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তেলবাহী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে নির্দিষ্ট করে কোনো সংবাদমাধ্যমের নাম উল্লেখ করেননি, যারা ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভুল তথ্য প্রচার করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্যের ভিন্নতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এমন বক্তব্য সামনে আসছে। এতে সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক জনমত আরও বিভক্ত হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।