Tag: আন্তর্জাতিক কূটনীতি

  • দুই দিনের মধ্যেই ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনা? পাকিস্তানেই বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

    দুই দিনের মধ্যেই ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনা? পাকিস্তানেই বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

    এবিএনএ: আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভাব্য এই বৈঠক পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে অগ্রগতি হতে পারে। তিনি জানান, পাকিস্তানে আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্ভাব্য বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় বা প্রতিনিধি পর্যায় নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

    এর আগে গত শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। তবুও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

    এদিকে একই সময়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, মেলোনির অবস্থান তাকে বিস্মিত করেছে এবং তিনি ধারণা করেছিলেন ইতালির এই নেত্রীর আরও দৃঢ় ভূমিকা থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

    ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রশ্নে মতবিরোধ থেকেই এই সমালোচনা এসেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। মেলোনি শুরু থেকেই সংঘাতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, যা ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    এর আগে ধর্মীয় নেতা পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়েও দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পোপ সম্পর্কে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন মেলোনি। পরে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প পাল্টা বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইতালির অবস্থান যথেষ্ট কঠোর নয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় আগে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনার সম্ভাবনা বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • গাজা পুনর্গঠনে বৈশ্বিক উদ্যোগ—ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক আজ

    গাজা পুনর্গঠনে বৈশ্বিক উদ্যোগ—ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক আজ

    এবিএনএ: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ শুরু হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সভাপতিত্বে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ৪৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই বৈঠকে গাজার ভবিষ্যৎ কাঠামো, মানবিক সহায়তা প্রবাহ, পুনর্গঠন তহবিলের পরিমাণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ—এসব ইস্যু গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে হামাসের অস্ত্রসমর্পণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার প্রশ্নটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।

    সম্প্রতি ওয়াশিংটনে অবস্থিত United States Institute of Peace-এর নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে যুক্ত করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই প্রতিষ্ঠানেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রাথমিক তহবিল গঠনের ঘোষণা আসতে পারে বলে মার্কিন সূত্র জানিয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা Reuters-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবিত তহবিলের মধ্যে উপসাগরীয় আরব মিত্রদের অবদান উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে United Arab EmiratesKuwait প্রত্যেকে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    তবে বোর্ড অব পিসে ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও ফিলিস্তিনি পক্ষের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই নতুন প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, তবে একই সঙ্গে এটি United Nations-এর কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। কয়েকটি দেশ থেকে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়ে শান্তি রক্ষা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, বোর্ড অব পিসের এই প্রথম বৈঠক শুধু গাজার পুনর্গঠন নয়, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • ইরানে হামলার আগে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে ট্রাম্প: কূটনীতি নাকি সামরিক অভিযানে যাবে যুক্তরাষ্ট্র?

    ইরানে হামলার আগে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে ট্রাম্প: কূটনীতি নাকি সামরিক অভিযানে যাবে যুক্তরাষ্ট্র?

    এবিএনএ: ইরানের চলমান বিক্ষোভ ও দমনপীড়নের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারে। তখন পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও বর্তমানে ইরানে সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ নিশ্চিত নন। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপেক্ষা ও অনুমানের মধ্যেই সময় কাটছে।

    রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তিনি একাধিক কঠোর বিকল্প বিবেচনায় রেখেছেন। মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে তাকে বিস্তারিত অবহিত করবেন বলে জানা গেছে। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযানের ‘সাফল্য’ ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তিনি সেই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ইরান প্রশ্নেও সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।

    এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এবার সরাসরি হামলা, লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপ কিংবা সাইবার ও মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী গোপন অভিযানের মতো বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হবে ইরানের শাসন কাঠামোকে বিভ্রান্ত ও দুর্বল করা। তবে ভেনেজুয়েলার মতো দ্রুত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা ইরানের ক্ষেত্রে কম।

    বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরান ভেনেজুয়েলার মতো রাষ্ট্র নয়। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও সংকট সামলানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। একজন নেতাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালালেই পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

    ট্রাম্প সম্প্রতি ১৯৮০ সালে ইরানে ব্যর্থ মার্কিন অভিযানের উদাহরণ টেনে সতর্কতার কথাও বলেছেন। সেই অভিযানের ব্যর্থতা শুধু সামরিক ক্ষতিই নয়, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকেও প্রভাবিত করেছিল। ওই অভিজ্ঞতা এখনো ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ছায়া ফেলছে।

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষক উইল টডম্যানের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের আসল লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি শাসন পরিবর্তনের চেয়ে ইরানের আচরণে প্রভাব ফেলতে চায়। এর মধ্যে পারমাণবিক আলোচনায় ছাড় আদায়, দমনপীড়ন বন্ধ এবং সংস্কারের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথ খোলার চেষ্টা থাকতে পারে।

    ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরে আলোচনায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউস বলছে, প্রকাশ্য বক্তব্য ও গোপন বার্তার মধ্যে ফারাক রয়েছে। এ কারণে কূটনীতি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    তবে বিক্ষোভে রক্তপাত অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক উদ্যোগ দুর্বলতার বার্তা দিতে পারে বলেও মত রয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, সীমিত সামরিক অভিযান বিক্ষোভকারীদের সাহস জোগাতে পারে এবং শাসকদের জন্য কঠোর সতর্কতা হয়ে উঠবে। আবার একই সঙ্গে এটি শাসনব্যবস্থাকে আরও ঐক্যবদ্ধও করতে পারে।

    এই সব ঝুঁকি বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ইসরায়েলের স্বীকৃতিতে পাল্টে গেল সমীকরণ—হঠাৎ বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে কেন সোমালিল্যান্ড?

    ইসরায়েলের স্বীকৃতিতে পাল্টে গেল সমীকরণ—হঠাৎ বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে কেন সোমালিল্যান্ড?

    এবিএনএ: হর্ন অব আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক রাজনীতির একটি উত্তপ্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলের আলোচনায় নতুন করে উঠে এসেছে সোমালিল্যান্ডের নাম। আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং কৌশলগত অবস্থান ও আন্তর্জাতিক স্বার্থের কারণে স্বঘোষিত এই রাষ্ট্র এখন বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

    ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে সোমালিল্যান্ড একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এতদিন জাতিসংঘসহ কোনো দেশ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। দীর্ঘ তিন দশক কার্যত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বাইরে থাকা এই অঞ্চল শুক্রবার ইসরায়েলের স্বীকৃতি ঘোষণার পর হঠাৎ বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

    ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। সৌদি আরব ও মিশর স্পষ্ট করে জানায়, তারা সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার পক্ষে এবং কোনো বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে না। তুরস্ক এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু এখন আর কেবল আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার সংযোগস্থলে নতুন কৌশলগত উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।

    ভৌগোলিকভাবে সোমালিল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরের মুখে অবস্থিত এই অঞ্চল দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়। গাজা যুদ্ধ, ইয়েমেন সংঘাত এবং হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপটে এই নৌপথের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

    এই বাস্তবতায় সোমালিল্যান্ডকে একটি সম্ভাব্য স্থিতিশীল নৌ ও সামরিক ঘাঁটির জন্য উপযোগী এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিজস্ব প্রশাসন, নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে অঞ্চলটি নিজেকে সোমালিয়ার তুলনায় বেশি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক হিসেবে তুলে ধরছে।

    আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এই ইস্যুকে জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের স্বার্থে সোমালিল্যান্ডে আগ্রহ দেখাচ্ছে। অন্যদিকে চীন ঐতিহ্যগতভাবে বিদ্যমান রাষ্ট্রসীমার পক্ষে থাকলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। রাশিয়াও সামরিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার দিক থেকে অঞ্চলটির দিকে নজর রাখছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করলেও অতীতে তিনি বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এদিকে রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক প্রকাশ্যে সোমালিল্যান্ডের স্বীকৃতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য ইসরায়েলের ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, সোমালিল্যান্ড সোমালিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং একতরফা স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

    সবকিছু মিলিয়ে, সোমালিল্যান্ড এখন আর শুধু একটি স্বঘোষিত অঞ্চল নয়; এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পরাশক্তির কৌশলগত প্রতিযোগিতার নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দিনে এই অঞ্চল বিশ্ব রাজনীতির একটি সংবেদনশীল পরীক্ষাক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

  • ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিন–দূত বৈঠকে ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি, বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা

    ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিন–দূত বৈঠকে ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি, বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা

    এবিএনএ: ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নতুন গতি পাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। আলোচনার টেবিলে থাকবে যুদ্ধ থামাতে হোয়াইট হাউস প্রস্তুত করা শান্তি পরিকল্পনা।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে বৈঠকটি স্থানীয় সময় দুপুরের পর অনুষ্ঠিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আলোচনায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারও যোগ দিতে পারেন। ইউক্রেন সংশ্লিষ্ট শান্তি পরিকল্পনার খসড়া তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই দিনের এক সম্মেলনে ইউক্রেন ও মার্কিন কর্মকর্তারা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন পরিকল্পনাটিকে কার্যকর বলে মনে করছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও বলেছেন, “আমরা বেশ আশাবাদী।”

    তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের আস্থা ধরে রাখতে ব্যস্ত। ইউরোপীয় দেশগুলো শঙ্কা প্রকাশ করেছে—মার্কিন খসড়া পরিকল্পনা ইউক্রেন ও ইউরোপের মতামত উপেক্ষা করে হয়ে উঠতে পারে মস্কোর দাবির প্রতিফলন।

    ইউক্রেনের আলোচক রুস্তেম উমেরভ জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার বৈঠকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে, যদিও বেশ কিছু জটিল বিষয় রয়ে গেছে যেগুলোর ওপর আরও কাজ করা প্রয়োজন। ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করছেন, সেখানেই উমেরভের কাছ থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতির ব্রিফিং নেবেন তিনি।

    এদিকে আইএসডব্লিউ-এর সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পর ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর গত মাসেই রুশ বাহিনী ইউক্রেন যুদ্ধে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় বৈঠকটিকে আন্তর্জাতিক মহল অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

  • শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে কিম-পুতিনসহ ২৬ বিশ্বনেতা, অনুপস্থিত পশ্চিমা দেশগুলো

    শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে কিম-পুতিনসহ ২৬ বিশ্বনেতা, অনুপস্থিত পশ্চিমা দেশগুলো

    এবিএনএ: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে আগামী সপ্তাহে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। দীর্ঘ ছয় বছর পর তিনি চীন সফরে যাচ্ছেন এবং এটি হবে ২০১৯ সালের পর তার প্রথম চীন সফর। সফরের অংশ হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মোট ২৬ জন বিদেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের কোনো শীর্ষ নেতা এতে অংশ নিচ্ছেন না।

    কিম জং উন ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটি হবে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তার প্রথম অংশগ্রহণ। যদিও কতদিন তিনি চীনে থাকবেন বা শি জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—তা নিয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

    চীন-জাপান যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এ কুচকাওয়াজে ইরান, সার্বিয়া, বেলারুশ, কিউবা, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার নেতারাও যোগ দেবেন। সেখানে চীনের আধুনিক সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা হবে এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভাষণ দেবেন।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার অবস্থানের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো এ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকছে। তবে উত্তর কোরিয়ার জন্য চীনের সহায়তা এখনো অপরিহার্য, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

    কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, কিমের এ সফরের মাধ্যমে শুধু চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অতীতে কিমের কয়েক দফা বৈঠক হলেও নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে সমঝোতা ব্যর্থ হয়েছিল। এখন নতুন উদ্যোগে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

  • ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: অগ্রগতি হলেও চুক্তিহীন, ইউক্রেনে হামলার সাইরেনে স্পষ্ট বার্তা

    ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: অগ্রগতি হলেও চুক্তিহীন, ইউক্রেনে হামলার সাইরেনে স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ:  আলাস্কার এলমেনডর্ফ বিমানঘাঁটিতে লাল গালিচায় ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানিয়ে শুরু হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত বৈঠক। শুরুতে ইতিবাচক পরিবেশ থাকলেও বৈঠক যত এগোয়, ততই তা অস্পষ্ট হতে থাকে।

    প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর দুই নেতা সংবাদ সম্মেলনে এসে ঘোষণা দেন, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু ঠিক কী বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি কেউই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সমাধান আসেনি।

    ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি, তবে বড় কিছু অর্জন করতে পারিনি। আলোচনা চলবে, চুক্তির সম্ভাবনা এখনো আছে।” এসময় পুতিন হেসে উত্তর দেন, “পরেরবার মস্কোতে।”

    তবে বৈঠকের ঠিক সময়েই ইউক্রেনে হামলার সাইরেন বাজতে থাকে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এটিকে পুতিনের শক্তির প্রদর্শন বলেই মনে করছেন।

    মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, বৈঠকে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কেবলমাত্র তাদের দুজন সহকারী উপস্থিত ছিলেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী একান্ত বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। ফলে টারমাক থেকে বৈঠকের কক্ষে যাওয়ার সময় লিমোজিনে দুই নেতার গোপন আলাপই থেকে গেল রহস্যে ঘেরা।

    যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করার পর থেকেই পুতিনের মুখে ছিল হাসি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে থাকা পুতিন এই বৈঠকের মাধ্যমেই সম্মান পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ট্রাম্প-পুতিনের করমর্দনকে “ঐতিহাসিক” হিসেবে প্রচার করা হয়। বৈঠকে বড় কোনো চুক্তি না হলেও পুতিন যেন কূটনৈতিকভাবে নিজের বিজয়টাই হাসিমুখে ঘোষণা করলেন।

  • ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ক ‘বিপদসীমার নিচে’, সংঘর্ষ কি অবশ্যম্ভাবী?

    ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ক ‘বিপদসীমার নিচে’, সংঘর্ষ কি অবশ্যম্ভাবী?

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন আর আগের মতো উষ্ণ নেই। বরং রাশিয়ার এক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি মন্তব্য করেছে, দুই নেতা যেন মুখোমুখি আসা দুটি ট্রেন—কেউ থামছে না, কেউ পিছিয়ে যাচ্ছে না।

    ‘মস্কোভস্কি কমসোমোলেটস’ তাদের এক বিশ্লেষণে লিখেছে, ট্রাম্প ও পুতিনের কৌশলগত অবস্থান এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংঘর্ষ এড়ানো কঠিন। পুতিন পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছেন ইউক্রেনে তার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এ, অন্যদিকে ট্রাম্প তার নতুন মেয়াদে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং সামরিক চাপ বাড়ানোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

    চুক্তির সূচনা, হতাশার পরিণতি

    ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শুরুতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা ঘনিষ্ঠ হচ্ছিল। জাতিসংঘে ইউক্রেনবিরোধী প্রস্তাবে বিরোধিতা এবং পারস্পরিক সফরের পরিকল্পনাও হচ্ছিল। কিন্তু দ্রুত সেই উষ্ণতা মুছে যেতে থাকে। কারণ, ট্রাম্পের প্রত্যাশিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দেননি পুতিন। বরং রাশিয়া একের পর এক ইউক্রেনীয় শহরে হামলা চালাতে থাকে, যা ট্রাম্পের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    ট্রাম্প পুতিনকে যুদ্ধ থামাতে ৫০ দিনের আল্টিমেটাম দেন, পরে সেটি কমিয়ে ১০ দিনে নিয়ে আসেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত রাশিয়ার অবস্থানে কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং ট্রাম্পের এসব সময়সীমাকে গুরুত্বই দিচ্ছেন না পুতিন—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কি এখনও আছে?

    রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানে এখনও আশাবাদী ট্রাম্প। এজন্য তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আবারও মস্কো সফরে যাচ্ছেন। গত কয়েক মাসে চারবার পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। আলোচনায় এমনকি ট্রাম্পের একটি প্রতিকৃতি উপহার পেয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে।

    তবে ট্রাম্পের প্রত্যাশা শুধু সম্পর্ক উন্নয়ন নয়, বরং যুদ্ধবিরতির জন্য পুতিনের একটি নিঃশর্ত স্বাক্ষরও। বিষয়টি নিয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক কোনো বার্তা না এলেও কিছু বিশ্লেষক বলছেন, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসতে পারে।

    পুতিন কি চাপের মুখে?

    রুশ প্রেসিডেন্টের দিক থেকে আপাতত কোনো নমনীয়তার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের দ্য নিউ স্কুলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক নিনা ক্রুশ্চেভার মতে, “পুতিন হয়ত ভাবছেন তিনি রুশ ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠছেন। তিনি রাশিয়াকে পশ্চিমা আধিপত্য থেকে মুক্ত করতে চাচ্ছেন।”

    চূড়ান্ত বাস্তবতা

    সংঘর্ষ এড়াতে যতটুকু চেষ্টাই করা হোক না কেন, ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতা বলে দেয়, ট্রাম্প একটি শান্তিচুক্তি চাইছেন, কিন্তু পুতিন চাইছেন বিজয়। তাই আপাতত মুখোমুখি সংঘর্ষ অনিবার্য না হলেও তা একেবারে অসম্ভবও নয়। যুদ্ধ থামাতে হলে শুধু কূটনীতি নয়, প্রয়োজন দু’পক্ষের কার্যকর সমঝোতা এবং আন্তরিকতা—যা এখনো দৃশ্যমান নয়।

  • ‘বাবা’র মতো শক্ত কথা বলতেই হয়: ট্রাম্পের গালি নিয়ে যা বললেন ন্যাটো প্রধান

    ‘বাবা’র মতো শক্ত কথা বলতেই হয়: ট্রাম্পের গালি নিয়ে যা বললেন ন্যাটো প্রধান

    এবিএনএ:  ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের নেতারা জড়ো হয়েছেন নেদারল্যান্ডসের হেগে। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। তবে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের কড়া ও বিতর্কিত ভাষা নিয়েই উঠে আসে নতুন বিতর্ক।

    মঙ্গলবার ইরান ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তারা এতদিন ধরে লড়ছে যে নিজেরাই জানে না কী করছে।” এ সময় তিনি একটি অশোভন শব্দ ব্যবহার করে হঠাৎই সামনে হাঁটতে শুরু করেন।

    পরদিন বুধবার ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল ও নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট্টে এ বিষয়ে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “বাবাকে মাঝে মাঝে শক্ত ভাষা ব্যবহার করতেই হয়।” ট্রাম্পও তখন যোগ করে বলেন, “আমাদের মাঝে মাঝে কিছু কঠিন শব্দ ব্যবহার করতেই হয়।”

    ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “এটা অনেকটা দুই শিশুকে এক স্কুল মাঠে রেখে দেওয়া— যারা একে অপরের সঙ্গে নরকের মতো লড়াই করে। কিছু সময় তাদের লড়তে দিতে হয়, তারপর থামানো সহজ হয়।”

    এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এমন ভাষা প্রয়োগ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শালীনতা লঙ্ঘনের শামিল।

    তবে ট্রাম্পের ভাষার পেছনে ‘ব্যক্তিত্বগত কৌশল’ আছে বলেই মনে করেন তার অনেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ন্যাটো সম্মেলনে তার মন্তব্য নতুন করে প্রমাণ করল যে ট্রাম্প এখনও রাজনৈতিক মঞ্চে তার স্বভাবসুলভ কড়া কণ্ঠেই বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য শুধু একটি মন্তব্য নয়— এটি তার ভবিষ্যৎ কৌশল এবং শক্তিশালী নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।

  • যার মাথার দাম ছিল ১ কোটি ডলার, তাকেই করমর্দন করলেন ট্রাম্প!

    যার মাথার দাম ছিল ১ কোটি ডলার, তাকেই করমর্দন করলেন ট্রাম্প!

    এবিএনএ:  যে নেতার মাথার দাম ছয় মাস আগেও ছিল কোটি মার্কিন ডলার, সেই আহমেদ আল-শারার সঙ্গেই হাত মেলালেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে শারা আজ আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    সিরিয়ার সাবেক যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী তকমা পাওয়া নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি এখন পরিচিত আহমেদ আল-শারা নামে। তিনি নেতৃত্ব দেন হায়াত তাহরির আল-শামকে—যা আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট আল-নুসরা ফ্রন্ট থেকে জন্ম নিয়েছিল।

    ডিসেম্বরে হায়াত তাহরির আল-শাম সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সরিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। শারা ক্ষমতায় আসার পরপরই কূটনৈতিকভাবে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে উদ্যোগী হন।

    এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই সিরিয়ার নতুন সরকারকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ এবং ‘অ-যুদ্ধমুখী’ হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা শুরু করেন শারা। এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলস্বরূপ, ডিসেম্বরে দামেস্ক সফরে আসে একটি উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র শারার বিরুদ্ধে জারি করা কোটি ডলারের পুরস্কার বাতিল করে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প শারার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয় সময় সকাল ১০টা মিনিটে, যা শেষ হয় ৩৩ মিনিট পর। এই বৈঠককে ট্রাম্প ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার একটি নতুন সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    আন্তর্জাতিক মহলে এই বৈঠক সিদ্ধান্তকে কেউ দেখছেন নতুন কূটনৈতিক যুগের সূচনা হিসেবে, আবার কেউ একে আখ্যা দিচ্ছেন “অবাক করা কৌশলগত পলিসি শিফট”।

    এক সময় যাকে খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র ১০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, এখন সেই নেতার হাতেই বিশ্বশক্তির নেতারা রাখছেন বিশ্বাসের বার্তা।