শিক্ষা

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষায় কঠোরতার ঝড়: নকল-প্রশ্ন ফাঁসে ‘জিরো টলারেন্স’, সিসিটিভি ও বিশেষ অভিযান

ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল, লাইভ মনিটরিং ও হেলিকপ্টার তদারকি—এবারের পাবলিক পরীক্ষায় নজিরবিহীন কঠোরতা

এবিএনএ: দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলো—বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি—এবার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কঠোরভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। নকল ও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে এবং এর বাস্তবায়নে নেওয়া হচ্ছে একাধিক নতুন পদক্ষেপ।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে শুরুতেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরীক্ষাকেন্দ্রকে এই নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে লাইভ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রয়োজনে আগের মতো ‘হেলিকপ্টার তদারকি’ও চালু থাকবে। যেকোনো সময় হঠাৎ করে পরিদর্শন টিম দেশের যে কোনো কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে পারে, যাতে অনিয়মের সুযোগ না থাকে।

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এবার বড় পরিবর্তন হিসেবে অধিকাংশ ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। শুধুমাত্র মূল কেন্দ্রগুলোতেই পরীক্ষা নেওয়া হবে, যাতে তদারকি সহজ হয় এবং অনিয়ম কমে।

শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, এবার পরীক্ষায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। অযোগ্য শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনায় নিয়োজিত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপরও থাকছে কঠোর নজরদারি। কোনো কেন্দ্রে নকল বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফয়েল প্যাক ও বিশেষ সিকিউরিটি খামে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা একবার খোলার পর পুনরায় বন্ধ করা সম্ভব নয়। নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই প্রশ্নপত্র খোলার সুযোগ থাকবে না।

বিশেষ করে দুর্গম এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চল ও পাহাড়ি অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকবে। মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নকল প্রতিরোধে আলাদা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে নকলের প্রবণতা বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে শতাধিক ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে নকলমুক্ত রাখা যায়।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হচ্ছে, যেখান থেকে সারাদেশের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়াবে, যাতে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে প্রতারণা করা চক্রগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কঠোর পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে পরীক্ষার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে এবং প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button