Blog

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি ছাড়াল, আমদানি বেড়ে অর্থনীতিতে চাপ

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি ছাড়াল, আমদানি বেড়ে অর্থনীতিতে চাপ

    এবিএনএ: চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সময় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে। স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বৈদেশিক লেনদেন প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে যায়। ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বেশি আমদানি হওয়ায় মোট আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে প্রত্যাশিত হারে রপ্তানি আয় না বাড়ায় বাণিজ্য ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মোট আমদানি হয়েছে ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ছিল ৪৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

    অন্যদিকে একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান বাড়তেই থাকে এবং বাণিজ্য ঘাটতি আরও গভীর হয়।

    খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও শিল্প কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় আমদানি কমানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে রপ্তানি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

    চলতি হিসাবের ভারসাম্য

    চলতি হিসাবের ভারসাম্যে সামান্য ঘাটতি রয়েছে। ফেব্রুয়ারি শেষে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে সূচকটি।

    সামগ্রিক লেনদেনে ইতিবাচক অবস্থান

    সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের চিত্র তুলনামূলক ভালো রয়েছে। আলোচিত সময়ে ওভারঅল ব্যালান্স দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলারে উদ্বৃত্ত। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচক ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলারে ছিল।

    রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি

    চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল এক হাজার ৮৮৭ কোটি ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ।

    বিদেশি বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজার

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) কিছুটা কমতি দেখা গেছে। আলোচিত সময়ে দেশে এসেছে ৮৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০৬ কোটি ডলার।

    অন্যদিকে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে নিট হিসেবে প্রায় ৮ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ বেরিয়ে গেছে। আগের অর্থবছরেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে বাণিজ্য ঘাটতির চাপ আরও বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ঢাকা লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান, চলতি মাসেই দলবদল—মে’র শুরুতে মাঠে গড়ানোর প্রস্তুতি

    ঢাকা লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান, চলতি মাসেই দলবদল—মে’র শুরুতে মাঠে গড়ানোর প্রস্তুতি

    এবিএনএ: জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসগুলোর একটি হলো ঢাকা লিগ। তবে চলতি মৌসুমে এই জনপ্রিয় ঘরোয়া টুর্নামেন্ট সময়মতো আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। লিগ আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছিল ক্রিকেট অঙ্গনে।

    মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে ঘিরে সাবেক পরিচালনা পর্ষদ এবং ঢাকার ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন আটকে ছিল। এতে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন অনেক ক্রিকেটার, বিশেষ করে যারা জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন এবং এই লিগের ওপর নির্ভরশীল।

    পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর। গত বুধবার ঢাকা লিগ আয়োজন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। তার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয় এবং দ্রুত সমাধানের পথে এগোয় বিষয়টি।

    বৃহস্পতিবার বিসিবি কার্যালয়ে ঢাকার ক্লাবগুলোর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে। এই বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রায় সব ক্লাবই লিগে অংশগ্রহণে সম্মতি জানিয়েছে। বিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় দলবদল ও লিগ শুরুর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সূত্র মতে, চলতি মাসের মধ্যেই ঢাকা লিগের দলবদল সম্পন্ন করা হবে। এরপর আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে মাঠে গড়াবে বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রতিযোগিতা। এতে করে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে ক্রিকেটার ও ক্লাব কর্মকর্তাদের।

    এদিকে বিসিএলের প্রথম দুই রাউন্ড শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ২১ এপ্রিল থেকে। ওই পর্ব শেষ হওয়ার পর ৫ মে থেকে ঢাকা লিগ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিসিবি। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়েই মাঠে গড়াবে দেশের অন্যতম প্রধান ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।

  • সংসদে একদিনেই ১৩ বিল পাস, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন—অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

    সংসদে একদিনেই ১৩ বিল পাস, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন—অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একাধিক অধ্যাদেশের ভিত্তিতে প্রস্তুত ১৩টি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত আইনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতের বিল অনুমোদনের মাধ্যমে আইনগত কাঠামোয় নতুন পরিবর্তনের পথ খুলেছে।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশ কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে আলোচনা শেষে সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

    সকালের অধিবেশনে যেসব বিল পাস হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।

    বিকেলের অধিবেশনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’, ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা রহিতকরণ আইন, ২০২৬’, ‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬’ এবং ‘পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলী) আইন, ২০২৬’।

    একই দিনে দ্বিতীয় দফায় আরও চারটি বিল অনুমোদন পায়। এগুলো হলো ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’ এবং ‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।

    সংসদে একদিনে এতগুলো বিল পাস হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব আইনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো, বিনিয়োগ পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে দেশজুড়ে র‍্যাবের অভিযান, লাখ লিটার মজুত চিহ্নিত—জরিমানা ও জব্দ

    ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে দেশজুড়ে র‍্যাবের অভিযান, লাখ লিটার মজুত চিহ্নিত—জরিমানা ও জব্দ

    এবিএনএ: ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ তেলের অস্বাভাবিক মজুত শনাক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আরোপ এবং অবৈধভাবে মজুত করা তেল জব্দ করা হয়েছে।

    র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা মজুতদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চলছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট ও টঙ্গী কাঁচাবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৪২ লিটার ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত চিহ্নিত করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং ২২ হাজার ৬৪২ লিটার তেল জব্দ করা হয়।

    এর আগে ৭ এপ্রিল পটুয়াখালী সদর এলাকায় র‍্যাব-৮ এর তত্ত্বাবধানে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করার পাশাপাশি ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    একই দিনে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া খোলা তেল বোতলজাত করা, বিভিন্ন কোম্পানির লেবেল ব্যবহার এবং মান নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৪২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়।

    এছাড়া নাসিরাবাদ এলাকায় একটি গোডাউনে ৯ হাজার ৬০০ লিটার এবং কর্ণফুলী কমপ্লেক্স এলাকার আরেকটি গুদামে ১২ হাজার লিটার ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

    র‍্যাব জানিয়েছে, ভোজ্যতেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • যুদ্ধবিরতি ভাঙলে কঠোর শাস্তি, চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়াতে পারে ইরান—বাড়ছে উত্তেজনা

    যুদ্ধবিরতি ভাঙলে কঠোর শাস্তি, চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়াতে পারে ইরান—বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তেহরান বলছে, ইসরায়েল একাধিকবার চুক্তি ভেঙে হামলা চালাচ্ছে—এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

    তেহরানের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বারবার হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের পরিকল্পনা তৈরি করছে ইরান। ওই সূত্রের মতে, উত্তেজনা কমাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে পরিস্থিতি নতুন করে সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

    এদিকে ফার্স প্রদেশে একটি ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।

    আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংঘাত বাড়লে শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ কখনোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।

  • সুন্দরবনে দস্যু দমনে অভিযান: দেড় বছরে আটক ৬১, উদ্ধার ৮১ জন

    সুন্দরবনে দস্যু দমনে অভিযান: দেড় বছরে আটক ৬১, উদ্ধার ৮১ জন

    এবিএনএ,বাগেরহাট:  বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান চললেও বনদস্যুদের তৎপরতা পুরোপুরি দমন করা যাচ্ছে না। বনজীবী, বিশেষ করে জেলে ও মৌয়ালদের এখনও চাঁদাবাজি ও অপহরণের আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে।

    গত দেড় বছরে কোস্টগার্ডের পরিচালিত একাধিক অভিযানে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় সাতটি বনদস্যু চক্রের মোট ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে তাদের কবল থেকে মুক্তিপণের জন্য অপহৃত ৭৮ জন জেলে এবং ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    অভিযানগুলোতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩০৮টি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং প্রায় ১৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি। পাশাপাশি বনদস্যুদের কয়েকটি আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল সুন্দরবনের বাইনতলা খালে পরিচালিত অভিযানে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্য—মো. সোহাগ হাওলাদার ও বাবুল সানাকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক ও ২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    মোংলা কোস্টগার্ডের যুদ্ধজাহাজ ‘বিজিসিএস স্বাধীন বাংলা’র কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সাকিব ইমরান জানান, সুন্দরবনে বর্তমানে করিম-শরিফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, আসাবুর, ছোট জাহাঙ্গীর ও জোনাব বাহিনীসহ বেশ কয়েকটি দস্যু দল সক্রিয় রয়েছে। তারা নিয়মিত বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে।

    এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ড গত দেড় বছর ধরে টানা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নদী-খাল ও দুর্গম বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।

    কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাদের এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপটিতে একাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়। একই দিনে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সেতু, বিমানবন্দর ও শিল্প স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপকে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। ফলে সেখানে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, অভিযানের সময় দ্বীপের উত্তরাংশে বিমান হামলা চালিয়ে সামরিক বাঙ্কার, গুদাম, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়। এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

    ট্রাম্পের ওই বার্তায় তিনি ইঙ্গিত দেন, সময়সীমা অতিক্রম করলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন এবং এটিকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দেন।

    অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, খারগ দ্বীপে হামলা কোনো নতুন কৌশলের অংশ নয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এদিকে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রেল ও সড়ক সেতু, একটি বিমানবন্দর এবং পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা হয়েছে। কাশান এলাকায় একটি রেলসেতুতে হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    ঘটনার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কঠোর প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করলে ইরানের প্রতিক্রিয়া শুধু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার সূচনা তারা করেনি, তবে এমন হামলার জবাব দিতে দেরি করা হবে না।

    ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

  • স্বাস্থ্যখাতে গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, হাম মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ চাইলেন রিজভী  Sub-Title:

    স্বাস্থ্যখাতে গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, হাম মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ চাইলেন রিজভী Sub-Title:

    এবিএনএ: স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে দেশে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যান্য খাতে কিছু অগ্রগতি থাকলেও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত এক র‍্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভীর মতে, যেকোনো মহামারি বা সংক্রামক রোগ দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।

    তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, করোনাকালে অক্সিজেন সংকট ও অনিয়মের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারকে স্বাস্থ্যখাতে আরও সতর্ক ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    রিজভী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দ্রুত কাজ শুরু করেছে, তবে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি আরও অগ্রাধিকার পাওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার ফলে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর খবর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিনেও হাম পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ার পেছনে কুসংস্কার, টিকা নিয়ে অপপ্রচার এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা ভূমিকা রেখেছে। এসব মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।

    গবেষণা খাতের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, চিকিৎসা গবেষণায় উৎসাহ বাড়াতে রাষ্ট্রকে বড় পরিসরে সহায়তা দিতে হবে। গবেষণার জন্য তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকার বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

    র‍্যালিতে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, নেতা মীর শরাফত আলী শফুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির জবাব তেহরানের: ‘ভীত নয় ইরান, প্রতিরোধে প্রস্তুত’

    ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির জবাব তেহরানের: ‘ভীত নয় ইরান, প্রতিরোধে প্রস্তুত’

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি সভ্যতা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার জবাবে দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেছেন, এমন হুমকিতে ইরান ভয় পায় না এবং তাদের অবস্থান অটল থাকবে।

    মঙ্গলবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাসে ইরানি সভ্যতা নানা সংকট ও শত্রুতার মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা টিকে থেকেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের ওপরই আস্থা রাখছে তেহরান।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র জবাব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, একটি সভ্য জাতির সাংস্কৃতিক শক্তি ও ন্যায্য লক্ষ্যের প্রতি বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত বর্বর শক্তির যুক্তিকে পরাজিত করবে। নিজেদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা ব্যবহারের কথাও জানান তিনি।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে না নিয়ে বরং নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য হামলার মুখে এসব স্থাপনায় ‘মানবঢাল’ তৈরির অভিযোগও উঠেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আক্রমণের জবাবে সমপরিমাণ পাল্টা হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

    তেহরান জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো যোগাযোগে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামনে এখন কার্যত দুটি পথ—সমঝোতায় যাওয়া অথবা সংঘাতে জড়ানো। এমন অবস্থায় দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিরোধের অবস্থানেই রয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে ‘সমানুপাতিক জবাব’ দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

  • হামে মৃত্যুর ছায়া শিশু হাসপাতালে: যমজের একজন নিথর, অন্যজন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    হামে মৃত্যুর ছায়া শিশু হাসপাতালে: যমজের একজন নিথর, অন্যজন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    এবিএনএ: রাজধানীর শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ের মধ্যে ফুটে উঠেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ছয় মাস বয়সী যমজ কন্যা—রিসা ও রুহি। কয়েকদিন আগেও তাদের হাসিতে মুখর ছিল পরিবার। কিন্তু হামে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যায় রিসা। একই রোগে আক্রান্ত তার যমজ বোন রুহি এখন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

    হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা মা কনিকা বেগমের কোলে নিথর এক সন্তান, আর সামনে আইসিইউতে লড়ছে অন্যজন। অসহায় এই মুহূর্তে তিনি বাকরুদ্ধ। স্বজনদের চোখে জল না থাকলেও মুখের অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট শোকের গভীরতা।

    শিশুদের মামা তানভীর হোসেন জানান, জন্মের পর থেকেই দুই বোনই ছিল প্রাণবন্ত। তাদের বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সব চেষ্টা করা হয়েছে। একজনকে হারানোর পর এখন অন্যজনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার গাজীপুর থেকে হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু দুটিকে ঢাকায় আনা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শিশু হাসপাতালে স্থানান্তরের পর অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রিসাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

    চিকিৎসকদের মতে, হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের জটিলতায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। একই উপসর্গ নিয়ে রুহিকেও আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউতে ১৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন, যাদের অধিকাংশের বয়স ১০ মাসের কম। চিকিৎসকদের ভাষায়, তাদের বেশিরভাগই সংকটাপন্ন।

    হাসপাতালের আইসিইউর সামনে উদ্বিগ্ন অপেক্ষায় ছিলেন আরেক শিশুর স্বজন নুরুল হক। তার ১০ মাস বয়সী নাতনি জোবায়দা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। সাত দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। নাতনির অবস্থা জানতে বারবার আইসিইউতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও অনুমতি না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন তিনি।

    অন্যদিকে, মিরপুর-১০ এলাকা থেকে তিন মাস বয়সী শিশু রিফাতকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন মুন্নি বেগম। হাম ও নিউমোনিয়ার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকায় জরুরি আইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু শয্যা খালি না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্য হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন তারা। সন্তানের জীবন বাঁচাতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত ৬১ শিশু বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। গতকাল দুপুরে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে আইসিইউতে। আজ সকাল পর্যন্ত মোট চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই হাসপাতালে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকা বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়ছে। ৫ এপ্রিল যেখানে ৩৯২ শিশুর মধ্যে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছিল, তা পরদিন বেড়ে হয় ৪৭০ জন। সর্বশেষ সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে। একই সময়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ৬০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের।