Category: জাতীয়

  • এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের বিল পাস

    এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের বিল পাস

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্যদের জন্য চালু থাকা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে একটি বিল পাস হয়েছে। আইনমন্ত্রী সংশোধনী বিল উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।

    সরকারের মতে, জনপ্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ এই সুবিধা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করছিল। রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিল কার্যকর হলে সংসদ সদস্যদের এখন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি আমদানিতে অন্যদের মতোই শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

    দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা

    সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, যমুনা নদীর ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সেতুতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য তিনটি রুট নিয়ে সমীক্ষা চলছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল ও রাজধানীর যোগাযোগ সহজ করতে বিভিন্ন করিডোর বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের যাতায়াতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ২০৪০ সালের মধ্যে মহাসড়ক সম্প্রসারণ

    দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক আধুনিক করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে সংসদে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়ক ৬ লেনে এবং শতাধিক কিলোমিটার সড়ক ৮ লেনে উন্নীত করা হবে। ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রশস্ত সড়ক তৈরি হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি বাড়বে এবং পণ্য পরিবহন সহজ হবে।

    রেল খাতে আধুনিকায়নের উদ্যোগ

    সংসদে রেল খাতেও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে নতুন কোচ যুক্ত করা হচ্ছে এবং পুরোনো রেললাইন সংস্কারের কাজ চলছে। বিভিন্ন জেলায় রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, নতুন ব্রডগেজ কোচ আমদানি, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে রেল ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।

    অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার ওপর জোর

    সংসদে বড় প্রকল্পগুলোর ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। সরকার জানিয়েছে, এসব প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা, শিক্ষা ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায়ও সংসদে আলোচনা হয়েছে। সরকারের দাবি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন ও ব্যয়সংকোচন—এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।

  • রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৩

    রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৩

    এবিএনএ: রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযানে এক রাতে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহে তেজগাঁও বিভাগের অধীন কয়েকটি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    শনিবার রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অপরাধ দমনে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় ৮ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় ৬ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ১৫ জন, আদাবর থানায় ১৪ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ১৪ জন এবং হাতিরঝিল থানায় ৬ জন রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    ডিএমপি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার আশঙ্কা: দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

    গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার আশঙ্কা: দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

    এবিএনএ: নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ের সব ইউনিটকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে পাঠানো এক নির্দেশনায় নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক তৎপরতার ওপর কড়া নজর রাখার কথা বলা হয়েছে।

    গোয়েন্দা তথ্যে নাশকতার ইঙ্গিত

    সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক উগ্রবাদী সদস্যের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সাবেক সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই চক্রটি সমন্বিতভাবে নাশকতার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম এলাকা বিবেচনায় রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর ওপরও বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।

    অস্ত্রাগারেও হামলার শঙ্কা

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারেও হামলার চেষ্টা হতে পারে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে এসব স্থাপনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনরা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশনা

    এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো, প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

  • শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

    শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

    এবিএনএ: রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শাহবাগ থানার ভেতরে আশ্রয় নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় ডাকসুর আরেক নেতা এ বি জুবায়েরও থানার ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসে কথিত গুপ্ত রাজনীতি এবং জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে সন্ধ্যার দিকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।

    একপর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা শাহবাগ থানার ভেতরে আশ্রয় নেন।

    অভিযোগ রয়েছে, এ সময় থানার ভেতরে ঢুকে মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং মাস্টারদা সূর্যসেন হলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান আলভিও অবস্থান করছিলেন।

    ঘটনার পর থানার বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • সৌদিতে আটকে থাকা ৩৩ উমরাহ যাত্রী ফিরলেন, শেষ অনিশ্চয়তা

    সৌদিতে আটকে থাকা ৩৩ উমরাহ যাত্রী ফিরলেন, শেষ অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ: সৌদি আরবে আটকে পড়া ৩৩ জন বাংলাদেশি উমরাহ যাত্রী অবশেষে দেশে ফিরেছেন। ধর্মমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপে তাদের ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। তারা একটি বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মার্চের ২৪ তারিখে ওই যাত্রীরা উমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। সংশ্লিষ্ট এজেন্সি তাদের ৫ এপ্রিল দেশে ফেরানোর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন টিকিট দেয়নি। এতে তাদের দেশে ফেরার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

    পরবর্তীতে ১৮ এপ্রিল তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে যাত্রীরা আরও বিপাকে পড়েন। এ অবস্থায় জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিসের কাউন্সিলর বিষয়টি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

    বিষয়টি জানার পর ধর্মমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে নির্দেশ দেন। কনসাল জেনারেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আটকে পড়া যাত্রীদের হোটেলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে।

    এই প্রতিনিধি দলে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর, হজ অফিসের কর্মকর্তাসহ কনস্যুলার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় যাতে যাত্রীরা কোনো জটিলতায় না পড়েন, সে বিষয়ে সৌদি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়।

    শেষ পর্যন্ত ২৩ এপ্রিল আটকে পড়া উমরাহ যাত্রীদের সর্বশেষ দলটি দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    উল্লেখ্য, গত মাসেও একই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া কিছু উমরাহ যাত্রী একই ধরনের সমস্যায় পড়েছিলেন। তখনও সরকারি হস্তক্ষেপে তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

  • ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু, সেচে বিদ্যুৎ দিতে সরবরাহ কমবে কত?

    ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু, সেচে বিদ্যুৎ দিতে সরবরাহ কমবে কত?

    এবিএনএ: কৃষি মৌসুমে সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে এবং শহর-গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, কৃষকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষি সেচে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে রাজধানীতে সীমিত আকারে লোডশেডিং চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান সংকট দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল। কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকলেও বাস্তবে তার পুরোটা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

    তিনি জানান, গতকাল দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয়, যা মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঢাকায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।

    তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব ফেলছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থ বরাদ্দ থাকলেও পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে এবং দ্রুত অগ্রগতি দেখা যাবে।

    তিনি আরও জানান, একটি আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় সরবরাহে চাপ বেড়েছে। এগুলো চালু হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির চেষ্টা চলছে।

  • নদ-নদী দখলে ২১,৯৮২ জন, উচ্ছেদে নতুন পরিকল্পনা

    নদ-নদী দখলে ২১,৯৮২ জন, উচ্ছেদে নতুন পরিকল্পনা

    এবিএনএ: দেশজুড়ে নদ-নদীর তীর ও প্লাবনভূমি দখল করে রাখা ব্যক্তিদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ২১ হাজার ৯৮২ জন অবৈধ দখলদার চিহ্নিত হয়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মন্ত্রী জানান, দখলদারদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদ-নদীর দখল উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা পাঠাতে সব জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের পরিকল্পনা হাতে পেলেই ধাপে ধাপে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

    সংসদে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর বক্তব্য

    কুমিল্লা-৪ আসনের এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, নদী দখল রোধ এবং দূষণ প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। পরে আদালতের রায়ে দেশের সব নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং কমিশনকে নদীগুলোর আইনগত অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও নতুন করে তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। এতে সারাদেশে ২১ হাজার ৯৮২ জন দখলদার শনাক্ত হয়েছে।

    উচ্ছেদে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ

    সরকার জানিয়েছে, নদী দখল উচ্ছেদে বেশ কয়েকটি বাধা রয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সরাসরি উচ্ছেদ পরিচালনার ক্ষমতা না থাকায় অভিযান পরিচালনা জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া পুরোনো রেকর্ড অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে সেখানে স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

    এছাড়া বিভিন্ন দখল সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত থাকে। লোকবল ও বাজেট সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে বলে সংসদে জানানো হয়।

    কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি

    এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিষয় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক নদী আদালত গঠন, তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এছাড়া উচ্ছেদ হওয়া জায়গা পুনর্দখল ঠেকাতে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ এবং সীমানা পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে বলেও সংসদে উল্লেখ করা হয়।

  • এলপি গ্যাসের দাম ৩৪% বৃদ্ধি, ১২ কেজি সিলিন্ডার প্রায় ২ হাজার টাকা

    এলপি গ্যাসের দাম ৩৪% বৃদ্ধি, ১২ কেজি সিলিন্ডার প্রায় ২ হাজার টাকা

    এবিএনএ: দেশের বাজারে গত এক বছরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বা এলপি গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব দেখিয়ে কয়েক দফায় মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে সরাসরি চাপ পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে।

    বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৪৫০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর আর কখনো হাজার টাকার নিচে নামেনি এই জ্বালানির দাম।

    চার মাসেই বেড়েছে ৬৩৪ টাকা

    চলতি বছরের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে এলপিজির মূল্য। জানুয়ারিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। এপ্রিলের শুরুতে বড় ধরনের লাফ দিয়ে দাম হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। পরে আবার বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে বছরের প্রথম চার মাসেই দাম বেড়েছে ৬৩৪ টাকা।

    ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতিফলন

    এলপিজি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, আমদানি ব্যয়, জাহাজ ভাড়া ও প্রিমিয়াম খরচ সঠিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছিল না। সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণে এসব বিষয় সমন্বয় করায় ব্যবসায়ীদের দাবি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    এলপিজি অপারেটরদের মতে, স্পট মার্কেটে আমদানির প্রিমিয়াম ও জাহাজ বিমার খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সরকারি দামের চেয়ে বেশি বাজারমূল্য

    সরকারি মূল্য নির্ধারণ থাকলেও খুচরা বাজারে সাধারণত তার চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। অনেক এলাকায় ১২ কেজি সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সরকারি মূল্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা হলেও পরিবহন ও সরবরাহ সংকট দেখিয়ে বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।

    বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু ব্র্যান্ডের দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    বাড়তি চাপে জনজীবন

    জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ার ধারাবাহিকতায় এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম বেড়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্যাসের দাম বাড়ায় গৃহস্থালির খরচ বেড়েছে আরও বেশি।

    ভোক্তারা বলছেন, পাইপলাইনের গ্যাস না থাকলেও বিল দিতে হচ্ছে, আবার এলপিজিও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। এতে মাসিক খরচ বেড়ে কয়েক হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।

    যা বলছে বিইআরসি

    বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এলপিজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ববাজারে দাম ওঠানামা করলে দেশীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

  • সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি—নোয়াবের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা

    সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি—নোয়াবের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয় এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান সুস্পষ্ট—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংবাদপত্র শিল্পের নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং সংবাদপত্র যেন নির্ভয়ে কাজ করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। তিনি জানান, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ জানান, বৈঠকে নোয়াব সদস্যরা সংবাদপত্র শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার আশ্বাস দেন।

    তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশনের খবর দেখেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বিষয়ে তিনি খোঁজ নেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

    গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এটি ছিল তার প্রথম বৈঠক। এতে নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাজ্জেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর উপস্থিত ছিলেন।

  • পুলিশের ৯৯% সদস্য সৎ—কিছু অনিয়মে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না: আইজিপি

    পুলিশের ৯৯% সদস্য সৎ—কিছু অনিয়মে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না: আইজিপি

    এবিএনএ:পুলিশ বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য সৎ ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, সামান্য কিছু অনিয়মের কারণে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। এজন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, তদারকি ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬ সময়ের দুই দিনব্যাপী ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইজিপি বলেন, দায়িত্বশীলতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে সম্মিলিত উদ্যোগে তা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সফলভাবে একটি জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করায় পুলিশ সদস্যদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং জনগণের আস্থাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, অপরাধ তদন্তে সিআইডি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। সিআইডির সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, আইনি ক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে। তাই তদন্ত কার্যক্রমের গতি বাড়ানো, মান উন্নয়ন এবং সময়মতো নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

    আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রত্যেক কর্মকর্তা ও সদস্যকে নিজের দায়িত্বকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত পদ্ধতির ওপর জোর দেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, অপরাধের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা এবং মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন আইজিপি।

    পুলিশ বাহিনীর নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনে পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, দুই দিনের সম্মেলনে জেলা ইউনিট, বিশেষায়িত ইউনিট ও সদর দপ্তরের কার্যক্রম, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। আলোচনা থেকে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী তিন মাসের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, একজন সদস্যের ভুলে পুরো পুলিশ বাহিনীর সুনাম নষ্ট হতে পারে—এ বিষয়টি মাথায় রেখে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পুলিশ বাহিনী সফলভাবে এগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    অনুষ্ঠান শেষে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের সাহসী ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হয়। সভায় সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং জেলা ইউনিটগুলোর কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অংশ নেন।