Category: খেলাধুলা

  • ২৫৬ রানের পাহাড় গড়ে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিল ভারত, সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে রইল স্বপ্ন

    ২৫৬ রানের পাহাড় গড়ে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিল ভারত, সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে রইল স্বপ্ন

    এবিএনএ: সুপার এইটের সমীকরণে নেট রান রেটের জটিলতা এড়িয়ে বাঁচতে ভারতের সামনে ছিল একটাই পথ—জয়। সেই চ্যালেঞ্জে দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল। এর আগে গ্রুপের আরেক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল জয় পাওয়ায় ভারতের সামনে হিসাবটা সহজ হয়ে যায়—এখন লড়াই কেবল পয়েন্টের।

    গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্ত প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চমক দেখালেও সুপার এইটে এসে আর ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর ভারতের বিপক্ষেও বড় ব্যবধানে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় তাদের। অন্যদিকে দুই ম্যাচ শেষে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট সমান থাকায় শেষ ম্যাচটাই হয়ে উঠেছে কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালের মতো—জিতলেই সেমিফাইনাল।

    চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তারা তোলে ২৫৬ রান—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ওপেনিংয়ে ঝড় তোলেন অভিষেক শর্মা, দ্রুত হাফসেঞ্চুরি হাঁকান হার্দিক পান্ডিয়া। তিলক বার্মা শেষ দিকে রানের গতি আরও বাড়ান। মিডল অর্ডারে সূর্যকুমার যাদব, ইশান কিশান ও সাঞ্জু স্যামসনের ক্যামিওতে স্কোরবোর্ডে জমে ওঠে বড় পুঁজি।

    বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রয়োজনীয় রানের তুলনায় রানরেট পিছিয়ে থাকায় ম্যাচটা ধীরে ধীরে একপেশে হয়ে ওঠে। তবু দলের হয়ে ওপেনার ব্রায়ান বেনেট খেলেন চোখধাঁধানো ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। ৫৯ বলে ৮ চার ও ৬ ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসই ছিল জিম্বাবুয়ের বড় প্রাপ্তি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থামতে হয় তাকে।

    ভারতের বোলিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন আর্শদীপ সিং—২৪ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। তাকে সহায়তা করেন বরুণ চক্রবর্তী, অক্ষর প্যাটেল ও শিবাম দুবে। নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের রান থামে ১৮৪-এ।

    এই জয়ে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী হয়ে নামবে ভারত। সমীকরণ পরিষ্কার—ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেই নিশ্চিত হবে শেষ চারের টিকিট। বড় সংগ্রহ গড়া ব্যাটিং আর শৃঙ্খল বোলিং—দুটোর মেলবন্ধনেই সেমিফাইনালের স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রাখলো রোহিতদের দল।

  • বিশ্বকাপের আগে বড় ধাক্কা ব্রাজিল ভক্তদের: এখনই জাতীয় দলে ফিরছেন না নেইমার

    বিশ্বকাপের আগে বড় ধাক্কা ব্রাজিল ভক্তদের: এখনই জাতীয় দলে ফিরছেন না নেইমার

    এবিএনএ: চোট–ফিটনেসের লড়াই পেরিয়ে ক্লাব ফুটবলে ফিরলেও আসন্ন বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলে দেখা যাবে না নেইমারকে। সম্প্রতি তিনি সান্তোস এফসি–র জার্সিতে মাঠে নেমে ম্যাচের ছন্দ ধরার চেষ্টা করছেন। তবে ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের প্রত্যাশা সত্ত্বেও জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তন আপাতত থমকে আছে।

    মার্চে ব্রাজিল ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে বোস্টন ও অরল্যান্ডোতে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে। প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ফ্রান্স ফুটবল দলক্রোয়েশিয়া ফুটবল দল। কোচ কার্লো আনচেলত্তি এই সিরিজকে বিশ্বকাপের আগে বড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন।

    আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএন জানিয়েছে, এই উইন্ডোতে নেইমারকে স্কোয়াডে রাখার কোনো পরিকল্পনাই নেই আনচেলত্তির। কোচিং স্টাফের মূল্যায়ন—দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে ফেরায় এখনো পূর্ণ ফিটনেসে ফেরেননি তিনি। আগে ক্লাব পর্যায়ে নিয়মিত খেলে শারীরিক ও টেকনিক্যাল প্রস্তুতি প্রমাণ করতে হবে।

    কোচের অবস্থান পরিষ্কার—মে মাসে চূড়ান্ত মূল্যায়নে ফিটনেস ও পারফরম্যান্স মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলে তবেই ফেরার দরজা খুলবে। নইলে চতুর্থবার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এই তারকার।

    এদিকে ব্রাজিলের স্কোয়াড গঠনে রক্ষণভাগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ফুল-ব্যাক পজিশনে অনিশ্চয়তা রয়েছে, সেন্টার-ব্যাকে মার্কুইনোস ও গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েসের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। মিডফিল্ডে ব্রুনো গুইমারেসের ব্যাকআপ নিয়েও ভাবনা চলছে, আর আক্রমণভাগের চূড়ান্ত ছক এখনও নির্ধারিত হয়নি।

    আনচেলত্তির বক্তব্য, নেইমারের জাতীয় দলে ফেরার পথ বন্ধ নয়—তবে কোনো তাড়াহুড়া নেই। মাঠের পারফরম্যান্স আর শারীরিক প্রস্তুতিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাপকাঠি হবে।

  • মাদকাসক্তির ছায়ায় ম্যারাডোনা:বোকার সাবেক সভাপতির বিস্ফোরক স্মৃতিচারণায় নড়েচড়ে বসেছে ফুটবল মহল

    মাদকাসক্তির ছায়ায় ম্যারাডোনা:বোকার সাবেক সভাপতির বিস্ফোরক স্মৃতিচারণায় নড়েচড়ে বসেছে ফুটবল মহল

    এবিএনএ: আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা-র ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনে বড় ভূমিকা রেখেছিল শৈশবের ক্লাব বোকা জুনিয়র্স। দুই দফায় প্রায় সাত বছর ক্লাবটিতে কাটালেও দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর সময়টা ছিল বিতর্ক আর ব্যক্তিগত সংগ্রামে ঘেরা। সম্প্রতি এক পডকাস্টে ক্লাবটির সাবেক সভাপতি মাউরিসিও ম্যাক্রি ম্যারাডোনাকে নিয়ে এমন কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা ফুটবল মহলে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।

    ম্যাক্রির ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় বোকায় ফেরার পর ম্যারাডোনার ফিটনেস ও মনোসংযোগে বড় ধস নেমেছিল। এক মৌসুমে টানা একাধিক পেনাল্টি মিস করার ঘটনাকে তিনি সেই সময়কার মানসিক ও শারীরিক টানাপোড়েনের প্রতিফলন হিসেবে দেখেছেন। তাঁর দাবি, আসক্তির সমস্যার কারণে নিয়মিত অনুশীলন ও ম্যাচের প্রস্তুতিতে ধারাবাহিকতা ছিল না।

    ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ম্যাক্রি তাতে সায় দেননি। তাঁর যুক্তি ছিল, নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে দল পরিচালনার মতো স্থিতিশীলতা তখন ম্যারাডোনার মধ্যে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ক্লাব পরিচালনায় ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়—এই নীতিতে অনড় থাকতেই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল।

    পরে কোচ কার্লোস বিয়াঞ্চি দায়িত্ব নেওয়ার পর বোকা জুনিয়র্স সাফল্যের ধারায় ফেরে—লিগ শিরোপা ও আন্তর্জাতিক ট্রফিতে ক্লাবের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। ম্যাক্রির মতে, সাফল্যের পেছনে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনাই ছিল মূল চাবিকাঠি।

    দলের সাবেক অধিনায়ক হুয়ান রোমান রিকেলমে প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফুটবলে একা কেউ জেতে না—দল, কোচিং স্টাফ ও ব্যবস্থাপনার সমন্বয়েই সাফল্য আসে। শেষ পর্যন্ত ম্যাক্রির সতর্কবার্তা ছিল স্পষ্ট—যে নিজেকে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করে, সেখান থেকেই পতনের বীজ রোপণ হয়।

  • ক্যাচ মিসের মূল্য চুকাল জিম্বাবুয়ে: ৩৪ বলে ৮৫ করে উইন্ডিজকে রেকর্ড গড়ালেন হেটমায়ার

    ক্যাচ মিসের মূল্য চুকাল জিম্বাবুয়ে: ৩৪ বলে ৮৫ করে উইন্ডিজকে রেকর্ড গড়ালেন হেটমায়ার

    এবিএনএ: ইনিংসের শুরুতেই জীবন পেয়ে যান শিমরন হেটমায়ারব্লেসিং মুজারাবানির করা চতুর্থ ওভারে ক্যাচ উঠলেও তা হাতছাড়া করেন ফিল্ডার। সেই ভুলের পুরো মূল্যই চুকাতে হয় জিম্বাবুয়েকে। এরপর থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল–এর হয়ে তাণ্ডব চালান হেটমায়ার।

    ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম–এ মাত্র ৩৪ বলে ৮৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৪ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

    এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্যারিবিয়ানদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে। চলতি আসরের মধ্যেও এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান। পাশাপাশি, বিশ্বকাপ ইতিহাসে দলীয় সর্বোচ্চ রানের তালিকায় এই সংগ্রহ জায়গা করে নিয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল–এর কেনিয়ার বিপক্ষে করা ২৬০ রান।

    এর আগে টস জিতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠান। শুরুটা সুবিধার হলেও একটি ক্যাচ মিসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

  • সাকিব ফিরলে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বড় ভরসা পাবে বাংলাদেশ:আশরাফুলের জোরালো বার্তা

    সাকিব ফিরলে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বড় ভরসা পাবে বাংলাদেশ:আশরাফুলের জোরালো বার্তা

    এবিএনএ: দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে সাকিব আল হাসান–এর সম্ভাব্য ফেরা নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামার পর আর লাল-সবুজ জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। দেশে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েও শেষ পর্যন্ত মাঠে ফেরা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনা জোরালো।

    এ বিষয়ে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, বয়সের দিক থেকে এখনো সাকিবের দেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে। এক ফরম্যাটে মনোযোগ দিলে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশকে কার্যকর সার্ভিস দিতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার থাকলে ব্যাটিং-বোলিং—দুই দিকেই দল উপকৃত হবে বলেও মন্তব্য করেন আশরাফুল।

    দলের বর্তমান ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টেস্ট দলে সেটআপ বেশ ভালো এবং টি-টোয়েন্টি দলও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিচ্ছে। তবে ওয়ানডেতে দীর্ঘদিন নিয়মিত খেলা না হওয়ায় সেখানে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) খেলোয়াড়রা ধারাবাহিকভাবে ভালো করলে এই জায়গাগুলো পূরণ করা সম্ভব, তবে ম্যাচ জেতানোর মতো পারফরম্যান্স জরুরি।

    ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার লক্ষ্য নিয়ে আশরাফুল জানান, তিন ফরম্যাটের মধ্যে ওয়ানডেতেই বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে, যদিও একসময় এটাই ছিল দলের সবচেয়ে শক্তিশালী ফরম্যাট। মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভূমিকা কমে যাওয়ার পর যারা খেলছেন, তারা চেষ্টা করছেন—তবে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।

    তিনি আরও বলেন, ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য র‌্যাঙ্কিংয়ের টপ এইটে থাকতে হবে। তাই সামনে প্রতিটি সিরিজ ও প্রতিটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দল এখন থেকেই পরিকল্পনা করছে কীভাবে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করা যায়।

  • আইপিএল-সংযুক্ত দলগুলোর ‘না’—দ্য হান্ড্রেডে কি বন্ধ হচ্ছে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের পথ?

    আইপিএল-সংযুক্ত দলগুলোর ‘না’—দ্য হান্ড্রেডে কি বন্ধ হচ্ছে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের পথ?

    এবিএনএ: ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট The Hundred-কে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন নিলাম সামনে রেখে অভিযোগ উঠেছে—আইপিএল মালিকানাধীন দলগুলো পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের তালিকায় রাখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

    ইংলিশ সংবাদমাধ্যম BBC-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টের আট দলের মধ্যে চারটি দল সরাসরি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় পরিচালিত। এগুলো হলো Manchester Super Giants, MI London, Southern Brave এবং Sunrisers Leeds। এসব দলের মালিকানায় রয়েছে Mumbai Indians, Lucknow Super Giants, Sunrisers HyderabadDelhi Capitals

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, England and Wales Cricket Board (ইসিবি)-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এজেন্টদের কাছে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আইপিএল-সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের নিতে আগ্রহী নয়। বিষয়টিকে অনেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এক ধরনের ‘অঘোষিত নীতি’ হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএস টি-২০ বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি লিগেও ভারতীয় মালিকানাধীন দলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দেখা যায় না।

    তবে ইসিবির পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী Richard Gould আগেই জানিয়েছিলেন, সব দেশের ক্রিকেটারদের জন্যই দ্য হান্ড্রেড উন্মুক্ত থাকবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। বোর্ডের এক মুখপাত্রও বলেন, এবার প্রায় ১৮টি দেশ থেকে এক হাজারের বেশি ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ৫০ জন পাকিস্তানের।

    গত মৌসুমে Imad WasimMohammad Amir এই টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও এবার তাদের দল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অতীতে Shaheen AfridiHaris Rauf-এর মতো তারকারাও খেলেছেন এই লিগে।

    সব মিলিয়ে নিলামকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—ক্রিকেট কি কেবল মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজনীতিও প্রভাব ফেলবে খেলোয়াড় নির্বাচনে? এখন দেখার বিষয়, বিতর্কের মাঝেও পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা দ্য হান্ড্রেডে জায়গা পান কি না।

  • পাকিস্তানের জয়ে পূর্ণ হলো সুপার এইট—জেনে নিন কারা খেলছে ও কোন দিনে কোন ম্যাচ

    পাকিস্তানের জয়ে পূর্ণ হলো সুপার এইট—জেনে নিন কারা খেলছে ও কোন দিনে কোন ম্যাচ

    এবিএনএ: চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-এর সুপার এইট পর্বে শেষ দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান। কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নামিবিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠে তারা। এর ফলে সুপার এইটে অংশ নেওয়া আট দলের তালিকা সম্পূর্ণ হলো।

    ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে নামিবিয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় এবং নির্ধারিত ওভারের আগেই অলআউট হয়ে যায়। এই জয়ের ফলে পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে টিকিট পেলেও সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামতে হবে তাদের।

    টুর্নামেন্টের ফরম্যাট অনুযায়ী আগে থেকেই আট দলের প্রি-সিডিং নির্ধারিত ছিল। প্রত্যাশিত একটি দল সুপার এইটে উঠতে না পারায় তাদের জায়গা দখল করেছে জিম্বাবুয়ে। ফলে গ্রুপ বিন্যাসেও পরিবর্তন এসেছে।

    সুপার এইটের গ্রুপ বিন্যাস

    • গ্রুপ ‘এ’: ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    • গ্রুপ ‘বি’: শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান

    সূচি ও নকআউট পর্ব
    ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত হবে সুপার এইটের ১২টি ম্যাচ। এরপর ৪ ও ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে দুই সেমিফাইনাল। ৮ মার্চ ফাইনালে মুখোমুখি হবে সেমিফাইনালজয়ী দুই দল।

    সুপার এইটের পূর্ণাঙ্গ সূচি (বাংলাদেশ সময়)

    • ২১ ফেব্রুয়ারি: সন্ধ্যা ৭:৩০ – নিউজিল্যান্ড বনাম পাকিস্তান

    • ২২ ফেব্রুয়ারি: বিকেল ৩:৩০ – শ্রীলঙ্কা বনাম ইংল্যান্ড | সন্ধ্যা ৭:৩০ – ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা

    • ২৩ ফেব্রুয়ারি: সন্ধ্যা ৭:৩০ – জিম্বাবুয়ে বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    • ২৪ ফেব্রুয়ারি: সন্ধ্যা ৭:৩০ – ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান

    • ২৫ ফেব্রুয়ারি: সন্ধ্যা ৭:৩০ – শ্রীলঙ্কা বনাম নিউজিল্যান্ড

    • ২৬ ফেব্রুয়ারি: বিকেল ৩:৩০ – ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা | সন্ধ্যা ৭:৩০ – ভারত বনাম জিম্বাবুয়ে

    • ২৭ ফেব্রুয়ারি: সন্ধ্যা ৭:৩০ – ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড

    • ২৮ ফেব্রুয়ারি: সন্ধ্যা ৭:৩০ – শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান

    • ১ মার্চ: বিকেল ৩:৩০ – জিম্বাবুয়ে বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা | সন্ধ্যা ৭:৩০ – ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    সুপার এইট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই সেমিফাইনালের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাই সামনে দারুণ কিছু হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের অপেক্ষায়।

  • মন্থর পিচেও পাকিস্তানকে কাবু: জয়ের নায়ক কী বললেন ম্যাচ শেষে?

    মন্থর পিচেও পাকিস্তানকে কাবু: জয়ের নায়ক কী বললেন ম্যাচ শেষে?

    এবিএনএ: কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়াম–এ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ব্যাট করা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। মন্থর পিচে পাকিস্তানের বোলাররা শুরুতে চাপে রাখলেও পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের রং বদলে দেন ঈশান কিশান। ওপেনার ব্যর্থ হলেও দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে ৪০ বলে ৭৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার এবং ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন।

    ম্যাচ শেষে ঈশান বলেন, উইকেটের গতি কম থাকায় শুরুতে মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে। তবে নিজের সামর্থ্যের ওপর ভরসা রেখেই খেলেছেন তিনি। অফ-সাইডে শট খেলার অনুশীলনের সুফল ম্যাচে কাজে লেগেছে বলে জানান এই বাঁহাতি ব্যাটার।

    বড় মাঠে ফিল্ডিংয়ের ফাঁক গলে রান নেওয়াই ছিল ভারতের কৌশল। চার-ছক্কার পাশাপাশি এক-দুই রানকে বড় রানে রূপ দেওয়ার দিকেও নজর ছিল দলের। ঈশানের ভাষ্য, লক্ষ্য ছিল এমন পিচে ১৬০–১৭০ রান তোলা—যা প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জিং স্কোর।

    ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের চাপ নিয়েও কথা বলেন তিনি। ঈশানের মতে, পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণ ছিল শক্তিশালী, তবু এই জয় দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। পরের ম্যাচগুলোতে এই আত্মবিশ্বাসই ভারতের বড় শক্তি হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন ম্যাচের নায়ক।

  • একই বিশ্বকাপে দুই ভাই, দুই দেশের জার্সি—টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

    একই বিশ্বকাপে দুই ভাই, দুই দেশের জার্সি—টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

    এবিএনএ: ক্রিকেটে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রতিনিধিত্ব নতুন কিছু নয়। তবে বৈশ্বিক মঞ্চে একই বিশ্বকাপে দুই ভাই দুই দেশের জার্সিতে মাঠে নামা—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম। এই বিরল কীর্তির নায়ক কারান ভাইদ্বয়।

    চলতি আসরে ইংল্যান্ডের হয়ে নিয়মিত খেলছেন স্যাম কারান। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। অন্যদিকে তার ছোট ভাই বেন কারান এই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পেলেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেও বিশ্বকাপ দলে শুরুতে ছিলেন না তিনি। দলে জায়গা পান ইনজুরির কারণে একটি পরিবর্তনের পর।

    শুক্রবার বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় জিম্বাবুয়ে। ম্যাচের আগে দলের এক অভিজ্ঞ ব্যাটার হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় স্কোয়াডে পরিবর্তন আনা হয়। সেই সুযোগেই টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে বেন কারান দলে ঢোকেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওমানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস পায় জিম্বাবুয়ে, এরপর শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকেও হারিয়ে চমক দেখায় তারা।

    বিশ্বকাপে না হলেও ভিন্ন দেশের হয়ে খেলেছেন যেসব ভাই

    বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন নজির নতুন হলেও ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদা দেশের হয়ে দুই ভাইয়ের খেলার উদাহরণ রয়েছে—

    • এড জয়সডম জয়স: ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় এড জয়সের; সেই ম্যাচেই প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড দলে ছিলেন তার ভাই ডম।

    • ঋষি ধাওয়ানরাঘব ধাওয়ান: ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত ঋষির ভাই রাঘব ২০২৪ সালে উগান্ডার হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক করেন।

    • ফ্র্যাঙ্ক হিয়ার্নজন হিয়ার্ন: উনিশ শতকে ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার বিরল নজির গড়েছিল হিয়ার্ন পরিবার।

    • জেমস প্যাটিনসনড্যারেন প্যাটিনসন: একজন অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত মুখ, অন্যজন ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলেছেন।

    • অ্যালবার্ট ট্রটহ্যারি ট্রট: দুই ভাই দুই দেশের হয়ে খেলেছেন ক্রিকেটের শুরুর যুগে।

    কারান ভাইদের হাত ধরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়—একই টুর্নামেন্টে দুই ভাই, দুই দেশের হয়ে মাঠে নামার বিরল মুহূর্ত।

  • শেষ মুহূর্তের নাটকে সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল ইংল্যান্ড

    শেষ মুহূর্তের নাটকে সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল ইংল্যান্ড

    এবিএনএ: মিডল অর্ডারের দৃঢ়তায় বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখেছিল স্কটল্যান্ড। শেষ দিকে রান তুলতে না পারায় নির্ধারিত ২০ ওভারের আগেই তাদের ইনিংস থামে। তবু অল্প পুঁজি নিয়েও বোলাররা লড়াই জমিয়ে তোলে। শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে ১০ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল

    কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনস-এ টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে স্কটল্যান্ড ১৯ ওভার ৪ বলে সব উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান তোলে। মিডল অর্ডারের কয়েকটি কার্যকর জুটিতে ইনিংস দাঁড়ালেও শেষ দিকে ছন্দপতন ঘটে।

    লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে স্বচ্ছন্দ দেখালেও মাঝপথে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। তবে শেষ দিকে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৮ ওভার ২ বলেই ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা।