Category: রাজনীতি

  • নিপুণ রায়ের ঘরে ৬০০ ভরি স্বর্ণ, শিক্ষায়-সম্পদে এগিয়ে বিএনপি প্রার্থীরা

    নিপুণ রায়ের ঘরে ৬০০ ভরি স্বর্ণ, শিক্ষায়-সম্পদে এগিয়ে বিএনপি প্রার্থীরা

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় উঠে এসেছে সম্পদ, আয় ও পেশাগত অবস্থানের ভিন্নধর্মী চিত্র। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্পদ ও আয়—দুই ক্ষেত্রেই বিএনপি জোটের প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন।

    সবচেয়ে আলোচনায় এসেছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী নিপুণ রায় চৌধুরী। তার হলফনামা অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে রয়েছে ৫০২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান ধাতুর গহনা। এছাড়া তার স্বামী অমিতাভ রায়ের নামে রয়েছে আরও ১০০ ভরি সোনা। ফলে এই দম্পতির মোট স্বর্ণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০২ ভরি। এগুলো উপহার হিসেবে প্রাপ্ত বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    ৩৯ বছর বয়সী নিপুণ রায়ের বার্ষিক আয় পেশাগত কাজ ও বিনিয়োগ মিলিয়ে প্রায় ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার নামে ব্যাংকে স্থায়ী আমানত রয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। পাশাপাশি দুই কোটি টাকার বেশি মূল্যের দুটি গাড়িও রয়েছে। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর তার বিরুদ্ধে থাকা ২৩টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন বলেও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের বার্ষিক আয় ৩৬ লাখ টাকার বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩৭ টাকা। গত বছর নির্বাহী আদেশে তার বিরুদ্ধে থাকা আটটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়।

    দলের আরেক প্রার্থী রেহেনা আক্তার রানু প্রায় তিন কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। সানজিদা ইসলাম তুলি বার্ষিক ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আয় এবং প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। শামীম আরা বেগম স্বপ্না জমি বিক্রিসহ মোট প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন।

    অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলক কম দেখা গেছে। নূরুন্নিসা সিদ্দীকার বার্ষিক আয় ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদ প্রায় ৩০ লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মাহমুদা আলম মিতুর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তবে তার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩১ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। পেশায় চিকিৎসক এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় প্রায় ৩ লাখ টাকা।

    স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী সুলতানা জেসমিনের বার্ষিক আয় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে থাকা পাঁচটি মামলা গত বছর প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া এখনও চলমান। নির্বাচন কমিশন ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে। একজনের মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের সুযোগ রয়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হলে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা হতে পারেন।

  • সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী বৈধ, ভোট ১২ মে

    সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী বৈধ, ভোট ১২ মে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির জমা দেওয়া ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ঘোষণা দেন।

    যাচাই শেষে বিএনপির দাখিল করা সব প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। এর ফলে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে দলটির পূর্ণ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছে।

    বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

    নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। এসব আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।

    এছাড়া প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

    এই ঘোষণার মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে গেল দলটি।

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়নে মাঠে ১১ দলীয় জোট, ঢাকা থেকে জেলা পর্যন্ত টানা কর্মসূচি ঘোষণা

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে মাঠে ১১ দলীয় জোট, ঢাকা থেকে জেলা পর্যন্ত টানা কর্মসূচি ঘোষণা

    এবিএনএ: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জোটের নেতারা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এই সময়ের মধ্যে গণমিছিল ও সেমিনারের মাধ্যমে দাবিগুলো তুলে ধরা হবে।

    ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৫ এপ্রিল দেশের সব বিভাগীয় শহরে একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে। সর্বশেষ ২ মে প্রতিটি জেলা শহরে গণমিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পুরো সময়জুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেমিনার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে প্রত্যাশা করেছিল, তা পূরণ হয়নি। সরকারের বিরুদ্ধে গণরায় উপেক্ষার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, জনগণের দাবিকে অবজ্ঞা করে সরকার উল্টো দমননীতির পথে হাঁটছে।

    তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দমনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। একই সঙ্গে প্রশাসনে দলীয়করণ, জ্বালানি সংকট এবং স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন তিনি।

    জোট নেতারা জানান, ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জোরালো করা হবে এবং দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হলো মির্জা আব্বাসকে, শারীরিক অবস্থার উন্নতি

    সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হলো মির্জা আব্বাসকে, শারীরিক অবস্থার উন্নতি

    এবিএনএ: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চিকিৎসার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে মির্জা আব্বাসকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

    অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি

    গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় পানি পান করতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে দ্রুত রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

    এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া

    পরবর্তীতে ১৫ মার্চ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি দেখা যায়। এরপর চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস। অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুদিন ধরে সক্রিয় রাজনৈতিক কার্যক্রমের বাইরে ছিলেন।

    দলীয় নেতাকর্মীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানানো হয়েছে।

  • ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে ইতোমধ্যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এবং এই আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ আন্দোলন গড়ে উঠছে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এই সেমিনারের আয়োজন করে।

    সরকারের নীতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, কখনো গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য বলা হয়, আবার কখনো আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়—এই দ্বৈত অবস্থান জনগণ মেনে নেবে না। তিনি দাবি করেন, সংসদে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছে, তবে বিরোধীদল হিসেবে তারা জনগণের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রেখেছেন।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে যাওয়ার আগে থেকেই তাদের অবস্থান ছিল—কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে উপস্থিত থাকা। বাধ্যতামূলক কিছু সুবিধা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকও যুক্ত ছিলেন, যারা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নেন। এই আন্দোলনকে তিনি বৃহত্তর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।

    তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা’ উল্লেখ করে বলেন, সেই আন্দোলনের চেতনার বিপক্ষে কোনো অবস্থান টিকবে না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিফলন নিশ্চিত করার জন্য। তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

    সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি চলতে পারে না। সংসদে জনগণের স্বার্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও সমাধানের দাবি জানান তিনি।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এতে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা।

  • মব কালচার’ বন্ধের ঘোষণা, কিন্তু সহিংসতা থামছে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    মব কালচার’ বন্ধের ঘোষণা, কিন্তু সহিংসতা থামছে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    এবিএনএ: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বা ‘মব কালচার’ বন্ধে সরকারের ঘোষণার পরও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং এক পীরকে হত্যার ঘটনায় সরকারকে দায়ী করে তীব্র সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    শনিবার রাতে দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মাজারে হামলা চালিয়ে প্রধান পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে হত্যা করেছে। দলটির মতে, এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ এবং আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

    আদালতের বদলে ‘মব বিচার’ নিয়ে উদ্বেগ

    এনসিপি বলেছে, ধর্ম অবমাননা বা সংবেদনশীল যেকোনো অভিযোগের তদন্ত ও বিচার আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত। কিন্তু এ ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী শক্তির সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের হামলা সম্ভব নয়। অতীতেও রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়ানোর পর হামলা

    দলটির দাবি, নিহত পীরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর দুপুরের দিকে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগাম ব্যবস্থা নিতে পারেনি—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি।

    সরকারের দ্বৈত অবস্থানের অভিযোগ

    এনসিপি অভিযোগ করেছে, একদিকে সরকার ‘মব কালচার’ বন্ধের কথা বলছে, অন্যদিকে সরকার-সমর্থিত পক্ষের কর্মকাণ্ডে কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ‘মব’ চাপের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করার উদাহরণও তুলে ধরা হয়।

    দলটির মতে, ‘মব কালচার’ শব্দটি এখন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

    বিবৃতির শেষে এনসিপি বলেছে, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছে না এবং দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন বিক্রি শুরু শুক্রবার, ১২ মে ভোট

    সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন বিক্রি শুরু শুক্রবার, ১২ মে ভোট

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হবে শুক্রবার থেকে।

    দলীয় সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ১০ এপ্রিল সকাল ১১টা থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে ওই দিন থেকেই ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া চলবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত।

    বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আগ্রহী প্রার্থীদের ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে। ১২ এপ্রিলই মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা দেওয়ার শেষ দিন।

    এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, আপিল দাখিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

    সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি ও তাদের জোটের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬টি আসন। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট পাবে ১৩টি আসন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে একটি আসন। সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মোট সংখ্যা ৫০টি।

  • স্বাস্থ্যখাতে গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, হাম মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ চাইলেন রিজভী  Sub-Title:

    স্বাস্থ্যখাতে গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, হাম মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ চাইলেন রিজভী Sub-Title:

    এবিএনএ: স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে দেশে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যান্য খাতে কিছু অগ্রগতি থাকলেও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত এক র‍্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভীর মতে, যেকোনো মহামারি বা সংক্রামক রোগ দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।

    তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, করোনাকালে অক্সিজেন সংকট ও অনিয়মের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারকে স্বাস্থ্যখাতে আরও সতর্ক ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    রিজভী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দ্রুত কাজ শুরু করেছে, তবে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি আরও অগ্রাধিকার পাওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার ফলে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর খবর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিনেও হাম পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ার পেছনে কুসংস্কার, টিকা নিয়ে অপপ্রচার এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা ভূমিকা রেখেছে। এসব মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।

    গবেষণা খাতের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, চিকিৎসা গবেষণায় উৎসাহ বাড়াতে রাষ্ট্রকে বড় পরিসরে সহায়তা দিতে হবে। গবেষণার জন্য তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকার বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

    র‍্যালিতে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, নেতা মীর শরাফত আলী শফুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সংবিধান সংস্কারে পথে নামছে বিরোধী দল—‘জনগণকে নিয়েই হবে আন্দোলন’

    সংবিধান সংস্কারে পথে নামছে বিরোধী দল—‘জনগণকে নিয়েই হবে আন্দোলন’

    এবিএনএ: সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এবার সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা Shafiqur Rahman জানিয়েছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    বুধবার সন্ধ্যায় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। ১১ দল একসঙ্গে বসে শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এর আগে, সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে তারা ‘সংস্কার’ চেয়েছিলেন, যা গণভোটে জনগণের রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশ।

    তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলেও সেটি ছিল সংবিধান সংশোধনকেন্দ্রিক। বিরোধী দল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের দাবি হলো সংবিধানের মৌলিক সংস্কার।

    শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো কমিটি গঠন গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের সমান প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাবও তারা দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।

    এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ‘সংস্কার’-এর কথা বলেছিলেন, ‘সংশোধন’-এর নয়।

    স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। পরে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন, তবে স্পিকার জানান—প্রস্তাবটি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, গৃহীত হয়নি।

    এ ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তারা সংকটের সমাধান চেয়েছিলেন, কিন্তু জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে। তার মতে, এটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনগণের মতামতকে আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে আগের গণভোটগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সবসময় জনগণের রায়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।

    শফিকুর রহমান জানান, সংসদে সমাধান না হওয়ায় এখন তারা জনগণের কাছেই ফিরে যাবেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দেশজুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, তারা সংসদ ত্যাগ করেননি, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রয়েছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আন্দোলনই তাদের একমাত্র পথ বলে মনে করছেন তিনি।

  • সংসদে আবেগঘন বক্তব্য: ‘আমিও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’—জামায়াত আমির

    সংসদে আবেগঘন বক্তব্য: ‘আমিও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’—জামায়াত আমির

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও দেশের মানুষের প্রত্যাশা এখনো পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং নিজের পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের সঙ্গে তার পরিবারও রক্ত দিয়ে অংশীদার হয়েছে। বাংলাদেশ সবার—এই বার্তা তুলে ধরে তিনি জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

    গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদল জনগণের ভোটের মাধ্যমে হওয়াই স্বাভাবিক। তবে বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে সেই ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একসময় দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

    সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার বক্তব্যে উঠে আসে নির্যাতন, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

    জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন পরবর্তীতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি বড় রূপ নেয়। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যুক্ত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে।