বন্দিরা ফোনে কথা বলার সুযোগ পেলেন

এবিএনএ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কারাগারকে শুধু সাজা কার্যকরের স্থান হিসেবে নয়, সংশোধনাগারে পরিণত করতে আরেক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তর। বন্দিদের পরিবারের আরও কাছাকাছি থাকতে চালু করা হলো মোবাইল ফোন সেবা। ফলে এখন থেকে কারাগার থাকা ব্যক্তিরা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল কারাগার প্রাঙ্গণে জেলা কারাগারের বন্দিদের আত্মীয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য ‘স্বজন’ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘এটুআই’ কর্মসূচির আওতায় এই কার্যক্রম সফল হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কারাগারে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তিনি বলেন, শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তার জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা অন্য দিন কর্মসূচি পালন করার জন্য বলা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার সবারই রয়েছে। সবাই যদি শান্তিপূর্ণ অবস্থায় তাদের গণতান্ত্রিক চর্চা করে, তাহলে বলার কিছুই নেই।
এ সময় কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, কারাগারের অভ্যন্তরে যারা বাস করেন, তারা অসহায়। অনেকে আছেন, যাদের পরিবারও জানে না যে তিনি কারাগারে আছেন। অনেকে আছেন,  যাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দেখা করতে আসার আর্থিক সামর্থ নেই। তাই বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই উদ্যোগ।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন প্রমুখ। এ সময় জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী কারাগারে বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার বুথ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী দিনে কারাগারের চারজন বন্দি তাদের স্বজনদের সঙ্গে  ফোনে কথা বলার সুযোগ পান।
জেলা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানা যায়, সাধারণ বন্দিরা এই সুবিধার আওতায় থাকলেও জঙ্গি আর শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ফোনে কথা বলার সুযোগ পাবে না। কারা মহাপরিদর্শক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজ দুপুরে উদ্বোধনের পর এই সেবা চালু হয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *