Day: May 9, 2022

  • ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে এডিবির সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে এডিবির সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    এবিএনএ: ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (অপারেশনস-১) শিঝিন চেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ অনুরোধ জানান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও জ্বালানির ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য এডিবির সহায়তা কামনা করেন। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং এডিবি বাংলাদেশের পাশে থাকবে। এ দেশের গ্রামীণ ও নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’

    এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন।’ তিনি আরও বলেন, এডিবি আশা করছে বাংলাদেশ জিডিপিতে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে।

    বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রশংসা করে শিঝিন চেন বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে (উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে) যা সাধারণত একটু জটিল। কিন্তু বাংলাদেশ ভালো করছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দেশবাসী দুই বছর পর এবার অবাধে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী মহামারির সময়ে এডিবির সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উন্নীত হওয়ার কারণে ক্রান্তিকাল সম্পর্কে তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার এখন দেশের গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষকে উন্নত ও সুন্দর জীবন দেওয়ার লক্ষ্যে জমিসহ বাড়ি দিচ্ছে।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব খাদ্য ঘাটতির সম্মুখীন হতে পারে বলে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের অনুমানের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার আরও বেশি খাদ্য উৎপাদনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের আইসিটি খাতের উন্নয়ন হচ্ছে।

    আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দরজা খুলে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর যেসব রুট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেগুলো আবার চালু করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য এডিবির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনে বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রত্যাশা করেন। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ অন্যতম সেরা উদাহরণ স্থাপন করেছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষি খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।

    শিঝিন চেন আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে যেসব বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হচ্ছে, তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণ করবে। তিনি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে এডিবির আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাম্পাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন।

    এছাড়া এডিবি ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (সাউথ এশিয়ান ডিপার্টমেন্ট) মনমোহন পরকাশ এবং বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং উপস্থিত ছিলেন।

  • ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট করার সক্ষমতা নেই: ইসি আলমগীর

    ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট করার সক্ষমতা নেই: ইসি আলমগীর

    এবিএনএ: নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জন করতে পারলে ১০০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা সম্ভব। তবে, ৩০০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করার সক্ষমতা ইসির নেই।

    সোমবার (৯ মে) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। কমিশনার বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের এখন যে ইভিএম আছে তাতে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৩০ আসনে ভালোভাবে ভোট করতে পারবো। এর চেয়ে বেশি আসনে ইভিএমে ভোট করা সম্ভব না।’

    তিনি বলেন, ‘সংলাপে ইভিএমের পক্ষে-বিপক্ষে অনেকেই মতামত দিয়েছেন। আমরা এগুলো পর্যালোচনা করছি। পাশের দেশ ভারতে সম্পূর্ণ নির্বাচন ইভিএমে হয়। তারা কীভাবে সফল হলো? তারা নিশ্চয়ই একটা সিস্টেমের মাধ্যমে সফল হয়েছে। ওগুলোই আমরা স্টাডি করছি। তারা যেগুলো করেছে, আমরা সেগুলো এখানে করতে পারি কিনা সেটা দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনানুযায়ীও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ভারত যেমন অবিশ্বাসের জায়গা থেকে বিশ্বাসের জায়গায় এসেছে আমরাও সেভাবে চেষ্টা করবো। তাহলে সবার কাছে ইভিএম গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।’

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের দলীয় সভায় ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইভিএম নিয়ে তারা কমিশনের কাছে প্রস্তাব দেবে। তবে এখনো আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো ফরমাল বা ইনফরমাল প্রস্তাব আসেনি। তারা প্রস্তাব দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশন দেবে। তবে বলে রাখা ভালো সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব আসার কোনো সুযোগ নেই। সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

  • বিমানবন্দরে যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে: সালমান এফ রহমান

    বিমানবন্দরে যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে: সালমান এফ রহমান

    এবিএনএ: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে।’ সোমবার (৯ মে) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে যাত্রী হয়নারি বিষয়টি তুলে ধরেন।

    সালমান এফ রহমান বলেন, ‘শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এই বিমানবন্দর পরিদর্শনে পাঠিয়েছেন। আমরা যেটা দেখেছি, দুই- তিনটা জায়গায় হয়রানি হয়।’

    যাত্রী হয়রানীর বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি ওভারঅল স্যাটিসফায়েড নই। আমি যা দেখেছি, এখানে পরিস্থিতি উন্নত করার অনেক সুযোগ রযেছে। সেসব সুযোগের কথা আমি সংশ্লিষ্টদের বলে দিয়েছি। মাঠ পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের মন-মানসিকতা বদলাতে হবে।’

    যাত্রীদের নানান অভিযোগের বিষয় সামনে এনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, অনেক অভিযোগ আসছে। অপ্রয়োজনীয় হয়রানির ঘটনা ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী এসবের সমাধান ও সমন্বয়ের কথা বলেছেন। আজকের পরিদর্শনের পর যদি দেখি অভিযোগের হার কমছে না, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    কাস্টমসে যাত্রীদের হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যাত্রীরা নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণ আনছে দেশে। তবে শুল্কযোগ্য পণ্যের টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংকের অবস্থান কাস্টমস থেকে একটু দূরে হওয়ায় যাত্রীদের অসুবিধা হয়। এ জন্য কাস্টমস জোনে ব্যাংকের বুথ বসাতে বলেছি।’

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আরেকটা অভিযোগ শুনেছিলাম ইমিগ্রেশনে হয়রানি হয়। অনেকে বলেছেন, ইমিগ্রেশন পার হতে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা হয়। এসব হয়রানির অভিযোগ জানাতে যাত্রীদের জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করছে পুলিশ। সরকার খুব সিরিয়াসলি এ বিষয়টি নিয়েছে। প্রক্রিয়াটা আমরা আজকে শুরু করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিমানবন্দরে দেশের ইমেজটা ফুটে ওঠে। বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা যদি খারাপ থাকে, তাহলে শুরুতেই দেশ সম্পর্কে একটা খারাপ অভিজ্ঞতা হয়। এটা যেন না হয়। বিষয়টা নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর সাদিকুর রহমান চৌধুরী, সদস্য (নিরাপত্তা) গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মাহমুদ মান্নাফী, শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম, পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) মো. মনিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন

  • পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী

    পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী

    এবিএনএ: দেশজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কট ও বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। সোমবার (৯ মে) বিকেলে তিনি প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন দ্বীপ দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক চান্না জয়সুমানাও। শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম একথা জানিয়েছে।

    শ্রীলঙ্কার পত্রিকা ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৬ মে) মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে মাহিন্দা রাজাপাকসেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট। সেই অনুরোধে সারা দিয়েই সোমবার পদত্যাগ করলেন তিনি।

    এক টুইট বার্তায় রাজাপাকসে বলেছেন, ‌‘আমি প্রতিটি নাগরিককে বিক্ষোভ বাদ দিয়ে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি। কারণ সহিংসতা শুধুমাত্র সহিংসতার জন্ম দেয়। আমরা যে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আছি, তার একটি সমাধান দরকার। এই প্রশাসন সমস্যা সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করায় ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া এখন পার্লামেন্টে থাকা প্রতিটি দলকে ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন। এদিকে, গোটাবায়ার জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে অস্বীকার করেছেন সামাগি জনা বালাভেগায়া দলের প্রধান ও বিরোধী দলের নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা। এর আগে, সোমবার সকালে মাহিন্দা রাজাপাকসের সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রিসের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় তারা মাহিন্দা রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ না করার আহ্বান জানান।

    করোনা মহামারি, ক্রমবর্ধমান তেলের দাম এবং প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে সরকারের ট্যাক্স কমানোর কারণে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কবলে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। আমদানিকৃত খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের ঘাটতির কারণে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষিপ্তভাবে সহিংস সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক রিজার্ভ এখন মাত্র পাঁচ কোটি ডলার।

  • ইউক্রেন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন

    ইউক্রেন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন

    এবিএনএ: ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথমবার আকস্মিক সফরে দেশটিতে গিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন। বিবিসি জানায়, গতকাল রবিবার আকস্মিক সফরে ইউক্রেন যান জিল বাইডেন। ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী শহর উঝহোরোদের একটি স্কুলে দেশটির ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনস্কার সঙ্গে দেখা করেন জিল বাইডেন। ওই স্কুলটি বর্তমানে বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এক প্রতিক্রিয়ায় জিল বাইডেন বলেন, ‘আমি মা দিবসে আসতে চেয়েছিলাম। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জনগণের পাশে আছে।’

    ইউক্রেনে চলমান রুশ হামলাকে নৃশংস উল্লেখ করে তা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জেলেনস্কা বলেন, ‘আমরাও (ইউক্রেনের জনগণ) তা অনুভব করতে পারছি।’ এরপর ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি জেলেনস্কা বলেন, যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেন সফর একটি ‘সাহসী পদক্ষেপ’। তিনি মনে করেন, মা দিবসে ইউক্রেন সফর করাটা খুব প্রতীকী।

    জিল বাইডেনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে আমরা আপনার ভালোবাসা ও সমর্থন অনুভব করতে পারছি।’ স্কুলের একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে এক ঘণ্টারও বেশি সময় যাবত উভয় দেশের ফার্স্ট লেডি আলাপ করেন। তারপর তারা স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে যোগ দেন। সেখানে শিশুরা ছবি আঁকা ও টিস্যু পেপার দিয়ে ভালুকসহ বিভিন্ন কিছু বানাচ্ছিল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এই প্রথমবার ফার্স্ট লেডি জেলেনস্কাকে জনসম্মুখে দেখা গিয়েছে। ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, গত ১০ সপ্তাহ যাবত দুই সন্তান নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন জেলেনস্কা।

    মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ যাবত জেলেনস্কার সঙ্গে জিল বাইডেনের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছিল। নিরাপত্তার কারণে মার্কিন ফার্স্ট লেডির ইউক্রেন সফরের তথ্য আগে গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। শুরুতে মার্কিন ফার্স্ট লেডি স্লোভাকিয়া সফর করেন। সেখান থেকে ইউক্রেন যান। ফার্স্ট লেডির বহু সফরসঙ্গী স্লোভাকিয়ায় রয়ে যায়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রতিবেশী পোল্যান্ডে সফর করেছিলেন। তখন নিরাপত্তার কারণে ইউক্রেন সফর থেকে বিরত থাকেন তিনি।

    মার্কিন ফার্স্ট লেডিদের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সফর অপ্রচলিত হলেও একেবারেই নতুন কোনো ঘটনা না। এর আগেও ২০০৫ ও ২০০৮ সালে আফগানিস্তান সফর করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন ফার্স্ট লেডি লোরা বুশ। ২০১৫ সালে সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা কাতারের একটি এলাকা সফর করেছিলেন। ওই এলাকাকে সংঘাতপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অপারেশন পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ওই এলাকাকে ব্যবহার করা হতো।