ফোনালাপ ফাঁসের ঝড়ে পদচ্যুত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা
কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় সাংবিধানিক আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী


এবিএনএ: থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা পদচ্যুত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দেশটির সাংবিধানিক আদালত এই রায় ঘোষণা করে। কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে ফাঁস হওয়া এক ফোনালাপের বিষয়বস্তু এই রায়ের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গত ১৫ জুনের ফোনালাপে, যখন দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল, পেতংতার্ন হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করেন এবং থাই সেনাদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আপনি যা চাইবেন, বলুন, আমি ব্যবস্থা করব।” আদালতের মতে, এই বক্তব্য জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গের শামিল।
ফোনালাপ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই থাইল্যান্ডে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সমালোচকরা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন। যদিও পেতংতার্ন জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে দাবি করেন, তার মন্তব্যগুলো কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের অংশ ছিল।
এই রায়ের ফলে থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। সিনাওয়াত্রা পরিবার বহুদিন ধরে দেশটির রাজনীতির প্রভাবশালী শক্তি—পূর্বে থাকসিন সিনাওয়াত্রা, ইয়িংলাক সিনাওয়াত্রা এবং সোমচাই ওয়ংসাওয়াটও প্রধানমন্ত্রীর পদে ছিলেন।
পেতংতার্নের পদচ্যুতির পর ফিউ থাই পার্টিকে সংসদে নতুন প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দিতে হবে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রাক্তন ন্যায়েরমন্ত্রী চাইকাসেম নিটিসিরির নাম উঠে এসেছে। তবে জোট অংশীদারদের সমর্থন পাওয়া যাবে কিনা তা অনিশ্চিত।
এরই মধ্যে ভুমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চারনভিরাকুল ফোনালাপ ইস্যুতে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে করে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হলে দেশটিতে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিনাওয়াত্রা পরিবার এখনো থাই রাজনীতির বড় শক্তি হলেও এই বরখাস্ত তাদের জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের ওপর বড় আঘাত হানবে।