Tag: ১১ দলীয় ঐক্য

  • ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে ইতোমধ্যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এবং এই আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ আন্দোলন গড়ে উঠছে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এই সেমিনারের আয়োজন করে।

    সরকারের নীতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, কখনো গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য বলা হয়, আবার কখনো আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়—এই দ্বৈত অবস্থান জনগণ মেনে নেবে না। তিনি দাবি করেন, সংসদে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছে, তবে বিরোধীদল হিসেবে তারা জনগণের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রেখেছেন।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে যাওয়ার আগে থেকেই তাদের অবস্থান ছিল—কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে উপস্থিত থাকা। বাধ্যতামূলক কিছু সুবিধা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকও যুক্ত ছিলেন, যারা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নেন। এই আন্দোলনকে তিনি বৃহত্তর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।

    তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা’ উল্লেখ করে বলেন, সেই আন্দোলনের চেতনার বিপক্ষে কোনো অবস্থান টিকবে না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিফলন নিশ্চিত করার জন্য। তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

    সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি চলতে পারে না। সংসদে জনগণের স্বার্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও সমাধানের দাবি জানান তিনি।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এতে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা।

  • জনরায় উপেক্ষা মানেই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা—বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের তীব্র হুঁশিয়ারি

    জনরায় উপেক্ষা মানেই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা—বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের তীব্র হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও অভিযোগের প্রতিবাদে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর নেতারা। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রায় উপেক্ষা করা হলে তার পরিণতি ফ্যাসিবাদের মতোই ভয়াবহ হতে পারে।

    ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ও পরে অনিয়ম, সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। ফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন–এর কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার ও গণতন্ত্রের পক্ষে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা অগ্রাহ্য করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সংসদের ভেতরে ও বাইরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নেতারা।

    বিক্ষোভ শেষে নেতারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে রাজপথের কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।