Tag: হৃদরোগে মৃত্যু

  • বাংলা সংগীতজগতকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ‘একটা চাদর হবে’ খ্যাত শিল্পী জেনস সুমন

    বাংলা সংগীতজগতকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ‘একটা চাদর হবে’ খ্যাত শিল্পী জেনস সুমন

    এবিএনএ: বাংলা ব্যান্ডসংগীতের আলোচিত নাম জেনস সুমন আর নেই। ‘একটা চাদর হবে’ গানটির মাধ্যমে সারা দেশে জনপ্রিয় হওয়া এই সংগীতশিল্পীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগীতাঙ্গনে। কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুমন।

    পারিবারিক সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাঁকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা আর তাঁকে ফিরিয়ে আনতে পারেননি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    জেনস সুমনের প্রকৃত নাম ছিল গালিব আহসান মেহেদি। সুমন নামেই তিনি বেশি পরিচিতি পান সংগীতজগতে। নব্বই দশকের শেষ দিকে তাঁর সংগীতজীবন শুরু হলেও আলোচনায় আসেন বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান থেকে প্রচারিত ‘একটা চাদর হবে’ গানটির জন্য। গানটি প্রচারের পর রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি এবং নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন সংগীতজগতে।

    শিল্পীজীবনে সুমন উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান ও অ্যালবাম। ১৯৯৭ সালে তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘আশীর্বাদ’ প্রকাশিত হয়। এরপর ‘আকাশ কেঁদেছে’, ‘অতিথি’, ‘আশাবাদী’, ‘আয় তোরা আয়’, ‘একটা চাদর হবে’, ‘চেরী’সহ একের পর এক সফল অ্যালবাম প্রকাশ করেন তিনি। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মন চলো রূপের নগরে’ ছিল তাঁর শেষ অ্যালবাম, এরপর দীর্ঘ বিরতিতে চলে যান।

    ১৬ বছরের বিরতি শেষে গত বছর ‘আসমান জমিন’ গানটির মাধ্যমে আবারও শ্রোতাদের সামনে ফিরে আসেন তিনি। সম্প্রতি নিয়মিত নতুন গান প্রকাশ করছিলেন এবং সংগীতজগতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে ভক্ত ও শিল্পীসমাজে নেমে এসেছে গভীর শোক।

    বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, আর তাঁর কণ্ঠে গাওয়া ‘একটা চাদর হবে’ গানটি বেঁচে থাকবে বাংলা সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।

  • হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে ‘ওন্ড’ ব্যান্ডের রাতুল

    হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে ‘ওন্ড’ ব্যান্ডের রাতুল

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের জনপ্রিয় কণ্ঠ ও সাউন্ড প্রকৌশলী এ কে রাতুল আর নেই। রবিবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরার একটি জিমে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর দ্রুত তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় লুবনা হাসপাতালে। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ব্যান্ড ‘ওন্ড’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং গীতিকার সিয়াম ইবনে আলম এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

    রাতুল ছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জসীমের একমাত্র সন্তান। তার সংগীতজীবন শুরু হয়েছিল ব্যান্ড ‘ওন্ড’ এর মাধ্যমে, যার প্রথম অ্যালবাম ‘ওয়ান’ প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে এবং দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘টু’ আসে ২০১৭ সালে। এরপর থেকেই ব্যান্ডটি তরুণদের মাঝে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে।

    শুধু ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, রাতুল ছিলেন একজন দক্ষ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ও সংগীত প্রযোজকও। বাংলাদেশি রক মিউজিকের অনেক সফল অ্যালবামের পেছনে ছিল তার মেধা ও পরিশ্রম।

    তার অকাল মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
    সংগীতশিল্পী আলিফ আলাউদ্দীন সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লেখেন, “রাতুল ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা শব্দ প্রকৌশলী এবং ‘ওন্ড’ ব্যান্ডের প্রাণ। তার মৃত্যুতে আমরা হারালাম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।”

    গায়িকা ফাতেমা তুয যাহরা ঐশী লিখেছেন, “রাতুল ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও হৃদয়বান একজন মানুষ। বিশ্বাসই হচ্ছে না, তিনি আর আমাদের মাঝে নেই।”

    অন্যদিকে গীতিকার রবিউল ইসলাম জীবন বলেন, “চিত্রনায়ক জসীম অল্প হায়াৎ পেয়েছিলেন, তার ছেলে রাতুল পেলেন আরও কম। হৃদয় ভেঙে যায় এভাবে প্রতিভাবান কাউকে হারাতে দেখে।”

    এ কে রাতুলের মৃত্যু দেশের ব্যান্ডসংগীত জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সংগীতপ্রেমীরা চিরকাল মনে রাখবেন তার অবদান।