Tag: হাদি হত্যা

  • হাদি হত্যার বিচার দাবিতে চট্টগ্রামে শাহ আমানত সেতুর মুখে অবরোধ

    হাদি হত্যার বিচার দাবিতে চট্টগ্রামে শাহ আমানত সেতুর মুখে অবরোধ

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতুর মুখে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা।

    রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার পর সংগঠনটির কয়েকশ নেতা-কর্মী সেতুর মুখে অবস্থান নেন। পরে ধীরে ধীরে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। শুরুর দিকে সেতুর মুখে সড়কের এক পাশে অবস্থান নিলেও পরে উভয় পাশে অবস্থান নেন তারা। এতে চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজার, বান্দরবান,ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেতুর দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

    ইনকিলাব মঞ্চ চট্টগ্রামের আহ্বায়ক রাফসান রাকিব বলেন, কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহ আমানত সেতুর মুখে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

  • হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল শাহবাগ, ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে ছাত্র-জনতা

    হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল শাহবাগ, ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে ছাত্র-জনতা

    এবিএনএ: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র-জনতা দলে দলে শাহবাগে এসে জড়ো হতে থাকেন।

    সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কেউ মিছিল নিয়ে, আবার কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখানে পৌঁছান। হাতে জাতীয় ও প্রতিবাদী পতাকা, মুখে উচ্চারিত হচ্ছে স্লোগান—হাদির হত্যার বিচার চাই, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান।

    শনির আখড়া এলাকা থেকে আসা মাদ্রাসাছাত্র আশফাকুর রহমান বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও সাহসী কণ্ঠস্বর। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। প্রতিবাদ জানাতে আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি।

    রামপুরা থেকে আসা ইমরুল কায়েস জানান, হাদির মৃত্যুর খবর গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ শুরু হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মাত্রা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

  • উত্তাল চট্টগ্রাম​, হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি​

    উত্তাল চট্টগ্রাম​, হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি​

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম​: শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবরে চট্টগ্রামে উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দুই নম্বর গেইটে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন জুলাই আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকরা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতা নগরের ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার অনুসারীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকশ বিক্ষোভকারী দুই নম্বর গেইট মোড়ে জড়ো হয়ে সড়কের মাঝখানে অবস্থান নেন। এতে নগরীর এই ব্যস্ত সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

    বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের চট্টগ্রাম মহানগরের এক সংগঠক বলেন,’শরীফ ওসমান বিন হাদি শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি আমাদের আন্দোলনের সাহস ও অনুপ্রেরণা ছিলেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—হাদির হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যদি এই ঘটনায় গড়িমসি করে, তাহলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে।​

    বিক্ষোভ চলাকালে তারা চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন ঘেরাও করার ঘোষণা দেন এবং হাইকমিশন বন্ধের দাবি তোলেন। এছাড়া নগরের অন্যান্য এলাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের খবরও পাওয়া গেছে।​ রাত ১১টার পরে বিক্ষুব্ধরা দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের চশমা হিলের বাসভবনের দিকে যান। সেখানে ভবনের সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন জ্বালিয়ে তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালান।

    এদিকে হাদির মৃত্যুর ঘটনায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,“কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি। কারও ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।”

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, হাদির মৃত্যুর পেছনে সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো পরিষ্কার বক্তব্য না আসায় জনমনে আরও সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।