Tag: হাইকোর্ট

  • ভারতে ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা আদালতের, বন্ধ হলো জুমার নামাজ

    ভারতে ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা আদালতের, বন্ধ হলো জুমার নামাজ

    এবিএনএ: ভারতের মধ্যপ্রদেশে বহু বছর ধরে বিতর্কিত একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের ধার এলাকায় অবস্থিত কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সকে ভোজশালা মন্দিরের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়ের ফলে সেখানে মুসল্লিদের জুমার নামাজ আদায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটিতে প্রাচীন সংস্কৃত শিক্ষা কেন্দ্র ও দেবী সরস্বতীর মন্দিরের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই এটিকে মন্দির হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

    মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ

    এর আগে ২০০৩ সালে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (এএসআই)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে সেখানে মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করতে পারতেন। একইসঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও পূজার সুযোগ পেতেন।

    তবে সাম্প্রতিক আদালতের রায়ের পর এখন থেকে সেখানে কেবল হিন্দুদের পূজা করার অনুমতি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি বিজয় কুমার শুকলা ও অলোক অস্তি তাদের রায়ে বলেন, তদন্ত ও জরিপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ভোজশালাটি মূলত সরস্বতী দেবীর উপাসনালয় এবং শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

    আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, বর্তমানে লন্ডনের একটি জাদুঘরে থাকা সরস্বতী দেবীর মূর্তি সেখানে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

    দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি

    হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, এই স্থাপনাটি প্রাচীনকালে রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতী মন্দির ছিল। তাদের মতে, এটি সম্পূর্ণভাবে হিন্দু ধর্মীয় উপাসনালয় হওয়ায় অন্য কোনো ধর্মীয় কার্যক্রম সেখানে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়।

    অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায় বলছে, কয়েকশ বছর ধরে স্থানটি কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায় হয়ে আসছে।

    ২০২৪ সালের জরিপের পর নতুন রায়

    ধর্মীয় বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ওই স্থাপনায় জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেয়। জরিপকারী দল দাবি করে, স্থাপনাটির বিভিন্ন কাঠামো ও নিদর্শন পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল।

    এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সর্বশেষ রায় দিয়েছে আদালত।

    নতুন মসজিদের জন্য জমি চাওয়ার পরামর্শ

    রায়ে আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প জায়গা বরাদ্দ নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে।

    এদিকে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ভারতের ধর্মীয় রাজনীতির নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।

  • হাইকোর্টের জামিনে জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ‘কুকি-চিন’ পোশাক মামলায় তদন্তে প্রধান বিচারপতির কড়া নির্দেশ

    হাইকোর্টের জামিনে জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ‘কুকি-চিন’ পোশাক মামলায় তদন্তে প্রধান বিচারপতির কড়া নির্দেশ

    এবিএনএ: চট্টগ্রামে ‘কুকি-চিন’ সংশ্লিষ্ট পোশাক জব্দ মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়ার পর বিচারপতিদের স্বাক্ষরযুক্ত আদেশ পরিবর্তন করে নতুনভাবে জাল নথি তৈরি করা হয়। সেই ভুয়া আদেশ কারাগারে দাখিল করে আসামি সাহেদুল ইসলাম মুক্তি পান।

    এই গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি সম্প্রতি উচ্চ আদালতে আরেক আসামির জামিন শুনানির সময় সামনে আসে। বিষয়টি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সরাসরি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নজরে আনেন। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

    বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

    বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রার জেনারেল জানান, তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অগ্রগতি রয়েছে। শিগগিরই বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

    প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই জালিয়াতির সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা বা ফৌজদারি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের মতে, এত বড় ধরনের জালিয়াতি অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। তাই ঘটনার গভীরে গিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    মামলার পটভূমি

    ২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় অবস্থিত রিংভো অ্যাপারেলস কারখানার গুদাম থেকে প্রায় ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগ ছিল, এসব পোশাক পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-এর সদস্যদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

    এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলাম (২৫), অর্ডারদাতা গোলাম আজম (৪১) এবং নিয়াজ হায়দার (৩৯)।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে এসব পোশাক তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। উৎপাদন ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামানকে জব্দ অভিযানের সাক্ষী করা হয়।

    সংগঠনটির প্রেক্ষাপট

    পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে সশস্ত্র সংগঠনটির অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালের দিকে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত হলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘বম পার্টি’ নামেও পরিচিত।

  • মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধের দাবি: পহেলা বৈশাখ ঘিরে হাইকোর্টে রিট

    মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধের দাবি: পহেলা বৈশাখ ঘিরে হাইকোর্টে রিট

    এবিএনএ: পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম আয়োজন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই শোভাযাত্রা আয়োজন, প্রচার বা অনুমোদন থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এ রিট দায়ের করেন। তিনি তার আবেদনে উল্লেখ করেন, এই আয়োজন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস, ইমান এবং সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    রিটে সংস্কৃতি, ধর্ম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং চারুকলা অনুষদের ডিনকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের আয়োজন চালিয়ে যাওয়া সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।

    রিট আবেদনে আরও বলা হয়, মঙ্গল শোভাযাত্রা কোনো প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ নয়; বরং এটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া একটি সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, যা পরে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

    এতে উল্লেখ করা হয়েছে, শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতীক ও প্রতিকৃতি ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ফলে এ আয়োজন অব্যাহত থাকলে তা সামাজিক সম্প্রীতি, জননিরাপত্তা এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

    আবেদনকারী আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে জনমতের চাপে এ আয়োজনের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে। তাই বিষয়টির একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধানের জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

    রিটে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন বা সংশ্লিষ্ট যেকোনো কার্যক্রম থেকে বিবাদীদের বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • বাগেরহাট-১ আসনের ভোট নিয়ে নতুন মোড়: পুনর্গণনার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

    বাগেরহাট-১ আসনের ভোট নিয়ে নতুন মোড়: পুনর্গণনার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট) সংসদীয় আসনের প্রাপ্ত ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই আসনের বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারপতি জাকির হোসেনের একক নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদালতে আজ কপিল কৃষ্ণের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট গাজী মোস্তাক ও অ্যাডভোকেট হাসানুল আলম।

    আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অ্যাডভোকেট হাসানুল আলম আরো জানান, গত ১২ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ ( ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট। তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে মোট ভোট কেন্দ্র ছিল ১৪৭টি। ভোটের ফল প্রকাশের পর ওই আসনের ১৫, ১৭, ২১, ২২, ২৫, ২৬, ২৭, ১১৬, ১১৭, ১২৮ ও ১৩৫ নম্বর কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল নিয়ে আপত্তি তুলে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরে যান বিএনপির প্রার্থী। প্রতিকার না পেয়ে তিনি হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত (আজ) ভোট পুনর্গণনার আদেশ দেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতেই জয় পায় জামায়াতের প্রার্থীরা। এরমধ্যে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে বিএনপির ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হন।

     

  • ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে পিছিয়ে গেলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়বে—জামায়াতের কড়া বার্তা

    ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে পিছিয়ে গেলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়বে—জামায়াতের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: জুলাই সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রুলকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, রাজনৈতিক বিষয় আদালতের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল আদায়ের চেষ্টা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

    হাইকোর্ট জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনা, সংবিধান সংস্কার সভার শপথ, গণভোটের প্রশ্ন এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে দলটি বলছে, সরকার যদি পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থি হবে।

    মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক পরিসরেই হওয়া উচিত। অতীতে বিভিন্ন ইস্যু আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির যে নজির তৈরি হয়েছে, তার ফল ইতিবাচক হয়নি; বরং তা জাতীয় অঙ্গনে বিভ্রান্তি ও স্থবিরতা ডেকে এনেছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের আচরণে এমন ইঙ্গিত মিলছে যে রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিকল্পিতভাবে রিট দায়ের করিয়ে পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব খাটানো হলে তা হবে দ্বিমুখী আচরণ এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদালতকে ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের পুরোনো কৌশল পরিহার করা জরুরি। দেশবাসী মনে করে, জনগণ ও জুলাই সনদকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যেকোনো প্রয়াস জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে অবিলম্বে এমন পদক্ষেপ থেকে সরে এসে সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই হতে পারে টেকসই পথ।

  • জামিন মিললেও মুক্তি অনিশ্চিত! যশোর কারাগারে কেন আটকে আছে সাদ্দামের মুক্তি

    জামিন মিললেও মুক্তি অনিশ্চিত! যশোর কারাগারে কেন আটকে আছে সাদ্দামের মুক্তি

    এবিএনএ: হাইকোর্টের আদেশে ছয় মাসের জামিন পেলেও এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। কারণ, তার জামিননামা এখনো কারাগারের জেলগেটে পৌঁছায়নি।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ। তিনি জানান, আদালতের জামিন আদেশ থাকলেও আনুষ্ঠানিক জামিননামা হাতে না পাওয়ায় সাদ্দামকে আপাতত মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছানোর পরই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

    মানবিক দিক বিবেচনায় সাদ্দামকে এই জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।

    আইনজীবী জানান, বাগেরহাটের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সাদ্দাম জামিন পেয়েছেন। অন্য মামলাগুলোতে তিনি আগেই জামিনে ছিলেন। ফলে আইনি দিক থেকে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকার কথা নয়।

    উল্লেখ্য, একাধিক মামলায় কারাবন্দি সাদ্দাম সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনে চরম ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হন। গত ২৪ জানুয়ারি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য তাকে মৃত স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল মঞ্জুর না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করেই মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারের সামনে।

    এর আগে, বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী এবং শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় প্যারোল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন সাদ্দাম। পরে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হন।

  • জোট করলেও একক প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক: হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

    জোট করলেও একক প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক: হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট গঠন করা হলেও প্রতিটি দলকে তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ করতে হবে—হাইকোর্ট এমন নির্দেশনা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন।

    হাইকোর্ট জানায়, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও দলীয় প্রতীক পরিবর্তনের সুযোগ নেই। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) স্ব স্ব দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধানের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দেন আদালত। ফলে জোট করলেও প্রতিটি দলকে নিজ নিজ প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

    রিটের পক্ষের শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম; তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম। এর আগে গত ২৬ নভেম্বর জোটবদ্ধ নির্বাচন হলেও দলীয় প্রতীকের বাধ্যবাধকতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করে এনডিএম। রিটে যুক্তি দেওয়া হয়, জোটভুক্ত দলগুলোর ভোটে একক প্রতীক ব্যবহারে বাধা থাকায় আরপিওর সংশোধিত বিধানটি বাতিল করা উচিত।

    জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর মহাসচিব মোমিনুল ইসলাম রিটটি দায়ের করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর সরকার আরপিও সংশোধন করে জানায়—নিবন্ধিত একাধিক দল জোট গঠন করলেও প্রত্যেককে নিজ নিজ প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

  • বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার হাইকোর্ট রায় বহাল করল আপিল বিভাগ

    বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার হাইকোর্ট রায় বহাল করল আপিল বিভাগ

    এবিএনএ: বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

    বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর ফলে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পূর্বের মতোই বহাল থাকছে।

    গত ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট রায়ে বাগেরহাটের চারটি আসন পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ইসি আপিল করেছিল।

    আদালতে ইসির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। গাজীপুর-৬ আসনের প্রার্থীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা বাদল, মুস্তাফিজুর রহমান খান ও বেলায়েত হোসেন। অন্যদিকে বাগেরহাটের রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

    বাগেরহাটে বহুদিন ধরে চারটি আসনেই নির্বাচন হয়ে আসছে।

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট

    • বাগেরহাট-২: সদর ও কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল ও মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইসির চূড়ান্ত গেজেটে একটি আসন কমিয়ে বাগেরহাটকে তিন আসনে ভাগ করা হয়। এতে বাগেরহাট-৪ আসনটি বাদ দিয়ে গাজীপুর-৬ আসন অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি, সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি এবং ২০১৮ সালে বাগেরহাট-১ থেকে বিএনপির প্রার্থী মো. শেখ মাসুদ রানা।

    গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১০ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই ইসি ও গাজীপুর-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. সালাহ উদ্দিন সরকার আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন।

    আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় এখন বাগেরহাটে আগের মতো চারটি আসনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • বাগেরহাটের চার আসন ফিরিয়ে দিয়ে একদিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে: হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ

    বাগেরহাটের চার আসন ফিরিয়ে দিয়ে একদিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে: হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি বাগেরহাটের আসন সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিন করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পূর্ণাঙ্গ রায়ে সেটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি শশাঙ্গ শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬১ পৃষ্ঠার রায়ে এ নির্দেশ দেন। রায় প্রকাশের পর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

    এর আগে ১০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী আদেশে আদালত ইসির তিন-আসনের গেজেট বাতিল করে বাগেরহাটের চার আসন আগের মতোই বহাল রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল। এখন পূর্ণাঙ্গ রায়েও একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হলো।

    উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইসির চূড়ান্ত গেজেটে বাগেরহাটকে চার থেকে তিন আসনে নামিয়ে আনা হয়। সেই গেজেট অনুযায়ী—

    • বাগেরহাট-১: সদর–চিতলমারী–মোল্লাহাট
    • বাগেরহাট-২: ফকিরহাট–রামপাল–মোংলা
    • বাগেরহাট-৩: কচুয়া–মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা

    তবে আদালতের রায় অনুযায়ী আগের চারটি আসনই বহাল থাকবে—

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী–মোল্লাহাট–ফকিরহাট
    • বাগেরহাট-২: সদর–কচুয়া
    • বাগেরহাট-৩: রামপাল–মোংলা
    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা

    হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনকে এখনই নতুন করে চার আসনের গেজেট প্রকাশ করতে হবে।

     

  • দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন: পদোন্নতি পাচ্ছেন এক হাজারেরও বেশি বিচারক

    দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন: পদোন্নতি পাচ্ছেন এক হাজারেরও বেশি বিচারক

    এবিএনএ: দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় রদবদল আসছে। অধস্তন আদালতের এক হাজারেরও বেশি বিচারককে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভা। একই সঙ্গে, সাবেক বিচারক বেগম মোছাম্মৎ কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা পুনর্বহালের প্রস্তাবও নাকচ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সভাপতিত্বে সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন। বৈঠকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৩০০ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে জেলা ও দায়রা জজ পদে উন্নীত করা হচ্ছে। এছাড়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজদের অতিরিক্ত জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী বিচারকদের যুগ্ম জেলা জজ এবং সহকারী বিচারকদের সিনিয়র সহকারী বিচারক পদে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

    তবে একই বৈঠকে কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা পুনর্বহালের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফুলকোর্ট। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি এক ধর্ষণ মামলায় স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় আসামিকে জামিন দেওয়ায় তাঁর বিচারিক ক্ষমতা স্থগিত করেছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর ফৌজদারি বিচারিক দায়িত্ব স্থগিতের নির্দেশ দেয়।

    সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয় তাঁর বিচারিক ক্ষমতা ফেরানোর প্রস্তাব পাঠালেও, বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকায় ফুলকোর্ট সেটি নাকচ করেছে।

    এছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক ক্যালেন্ডারও এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে, কারণ সরকারের বার্ষিক ছুটির ক্যালেন্ডার এখনো প্রকাশিত হয়নি।

    বিচারকদের এই ব্যাপক পদোন্নতি দেশের বিচারব্যবস্থায় নতুন গতি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।