Tag: হাইকোর্ট রায়

  • একাধিক বিয়েতে কড়াকড়ি বহাল: সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়—রুল খারিজ হাইকোর্টের

    একাধিক বিয়েতে কড়াকড়ি বহাল: সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়—রুল খারিজ হাইকোর্টের

    এবিএনএ: বিদ্যমান বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করা যাবে না—এ সংক্রান্ত বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বহুবিবাহ সংক্রান্ত আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

    বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এ রায় প্রদান করেন। এর মাধ্যমে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা কার্যকর থাকল।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বহুবিবাহ বিষয়ে আইনের কিছু ধারা সংবিধানবিরোধী দাবি করে রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটে বলা হয়, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি কাউন্সিলের অনুমতির বাধ্যবাধকতা আইনগতভাবে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

    এর আগে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করে জানতে চেয়েছিলেন—পারিবারিক শান্তি ও স্ত্রীর সম অধিকার নিশ্চিত করতে বহুবিবাহের অনুমতি প্রক্রিয়া কেন নীতিমালার আওতায় আনা হবে না।

    দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রুলটি খারিজ করে দেন। ফলে আইন অনুযায়ী সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা নিবন্ধনযোগ্য হবে না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনগত শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

    আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের ফলে বহুবিবাহ বিষয়ে বিদ্যমান আইন আরও শক্তিশালী হলো। তবে রিটকারীর পক্ষ থেকে বিষয়টি আপিল বিভাগে নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।

  • চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চুক্তি স্থগিত: আদালতের মৌখিক নির্দেশে থমকে সব কার্যক্রম

    চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চুক্তি স্থগিত: আদালতের মৌখিক নির্দেশে থমকে সব কার্যক্রম

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম বন্দর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তির বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট মামলা চলমান থাকা অবস্থায়, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির আওতায় সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মৌখিকভাবে এই নির্দেশ দেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ তাদের পক্ষ থেকে আদালতকে আশ্বস্ত করে জানায়, নির্দেশনা অনুযায়ী এনসিটি চুক্তি সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হবে না।

    রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

    গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে স্বাক্ষরিত চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিট আবেদন করেন বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন। রিটের শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।

    রিট আবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই চুক্তির বৈধতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখা জরুরি।

    আদালতের এই মৌখিক নির্দেশে এনসিটি চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

  • সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের নির্দেশ

    সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের নির্দেশ

    এবিএনএ: অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    রায়ে বলা হয়, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার সব ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত থাকবে। পাশাপাশি ১৯৭২ সালের সংবিধানে যে ধারা ছিল, সেটি পুনর্বহালেরও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী একটি রিট আবেদন করেন। এতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

    রিটে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছিল। তবে ১৯৭৪ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির হাতে চলে যায়। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীতে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি’ কর্তৃক এই ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান যুক্ত হয়।

    আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। পরে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদে সেই বিধান পুনঃস্থাপন করা হয়। সর্বশেষ হাইকোর্টের রায়ে এ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পথে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

  • তারেক-জুবাইদার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল হাইকোর্ট

    তারেক-জুবাইদার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল হাইকোর্ট

    এবিএনএ:  দুর্নীতির মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দেওয়া বিচারিক আদালতের রায় ‘নিরপেক্ষ হয়নি’—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ থেকে শুরু করে রায় ঘোষণার প্রক্রিয়ায় আইনগত বেশ কিছু অসঙ্গতি ও ব্যত্যয় ঘটেছে, যা সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক বেঞ্চ গত ২৮ মে রায় ঘোষণা করেন। সোমবার (১৪ জুলাই) ওই রায়ের ৫২ পৃষ্ঠার অনুলিপি প্রকাশিত হয়, যেখানে আদালত উল্লেখ করেন যে, মাত্র দুই মাস চার দিনে ৪২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আট দিনের মধ্যে রায় প্রদান বিচারিক স্বাভাবিকতা বহির্ভূত।

    রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ডা. জুবাইদা রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো নোটিশ প্রদান করা হয়নি, যা দুদক আইনের ২৬(১) ধারা অনুযায়ী অবশ্য পালনীয় ছিল। এই ত্রুটির কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দেয়া সাজা বাতিলযোগ্য বিবেচিত হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠনের সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ ধারাও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

    রায়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার ৪২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪০ জনই শুধু জব্দ তালিকার সাক্ষী ছিলেন এবং কেউই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো তথ্য দেননি।

    আদালত আরও বলেন, মামলার তথ্য-প্রমাণ যথেষ্ট না হওয়ায় এবং বিচারিক ত্রুটির কারণে এমনকি আপিল না করেও তারেক রহমানের সাজা বাতিলযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই তিনি দুই ধারায় মোট নয় বছরের সাজা থেকে খালাস পান।

    এই রায়ে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আমরা আদালতে বারবার বলেছি এই মামলার বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দ্রুত সাক্ষ্য ও সাজা দিয়ে প্রক্রিয়াকে বিকৃত করা হয়েছে।”

    ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দুদক রাজধানীর কাফরুল থানায় এই মামলাটি দায়ের করে। মামলায় বলা হয়, তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী এবং শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তথ্য গোপন করেছেন। ২০২৩ সালের ২ আগস্ট এই মামলার রায়ে তাদের দণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

    দীর্ঘ প্রবাস শেষে ডা. জুবাইদা রহমান চলতি বছরের ৬ মে দেশে ফেরেন। এরপর আপিল দায়ের করলে হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন এবং জরিমানা স্থগিত করেন। রায় প্রকাশের মাধ্যমে এখন মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও আইনাঙ্গনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • দেশজুড়ে আশার আলো: দশম গ্রেডে উন্নীত হচ্ছেন ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক

    দেশজুড়ে আশার আলো: দশম গ্রেডে উন্নীত হচ্ছেন ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক

    এবিএনএ: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক খুব শিগগিরই দশম গ্রেডের বেতন স্কেল পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে হাইকোর্টের রায় অনুসরণ করে ৪৫ জন রিটকারী প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতি মিলেছে। এই সিদ্ধান্তের আলোকে বাকি শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই গ্রেড বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    গতকাল শনিবার অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, রিট পিটিশন নম্বর-৩২১৪/২০১৮ অনুযায়ী হাইকোর্টের নির্দেশনায় রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে একটি বড় অগ্রগতি। তবে শুধু রিটকারী ৪৫ জনের জন্য নয়, দেশের সব প্রধান শিক্ষকের জন্য আমরা দশম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন করেছি।”

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দিলেও পরে প্রশিক্ষিতদের জন্য ১১তম ও অপ্রশিক্ষিতদের জন্য ১২তম গ্রেড নির্ধারণ করায় রিট করেন শিক্ষকরা। ২০১৯ সালের হাইকোর্টের রায়ে রিটকারীদের দশম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ আসে। আপিল ও রিভিউ শেষে এই রায় বহাল থাকে।

    অধিদপ্তরের অফিস আদেশে আরও বলা হয়, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে, যা একটি ফৌজদারি অপরাধ। কোনো ধরনের লেনদেন না করার জন্য এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, “এটা একটি নীতিগত বিষয়। যেহেতু এতে সরকারের আলাদা আর্থিক ব্যয় নেই, তাই সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। শিক্ষকরা যেন প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই ৩০ হাজার শিক্ষক পেতে যাচ্ছেন তাদের ন্যায্য অধিকার—দশম গ্রেডের বেতন সুবিধা।

  • ইশরাকের মেয়র শপথে আর কোনো বাধা নেই, হাইকোর্টে রিট খারিজ

    ইশরাকের মেয়র শপথে আর কোনো বাধা নেই, হাইকোর্টে রিট খারিজ

    এবিএনএ: 

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা নেই। নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশ ও শপথে বিরত রাখার আবেদন সংক্রান্ত রিটটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    এ রায়ের ফলে, ২০২০ সালের নির্বাচনে দেওয়া নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা রইল না বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে ছাত্র ও জনগণের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। এরপর অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়াকে ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    পরে, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২৭ মার্চের রায়ে ২০২০ সালের নির্বাচনে দেওয়া ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করে। আদালত ১০ দিনের মধ্যে এ গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেয়, যা ২৭ এপ্রিল প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

    তবে একইদিনেই গেজেট ও শপথ গ্রহণ বন্ধে দুটি আইনি নোটিশ দিয়ে আপিলের ঘোষণা দেন রফিকুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ নামে দুই ব্যক্তি। এরপর মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে রিট করেন। এতে গেজেট ও রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শপথ বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়।

    আদালতে আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও কায়সার কামাল যুক্তি দেন, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার এখতিয়ার কেবল মামলার বিবাদী পক্ষের, যেমন সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের। অন্য কেউ রিট দায়ের করতে পারেন না, তাই এই রিট আইনত অযোগ্য।

    দুই পক্ষের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায়ের দিন নির্ধারণ করে আদালত এবং রিট আবেদন খারিজ করে দেন।

    এর ফলে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথের আর কোনো আইনি বাধা রইল না। ইতোমধ্যে তার সমর্থকেরা মৎসভবন ও কাকরাইল এলাকায় অবস্থান নিয়ে দ্রুত শপথ গ্রহণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামি ধরতে আর অনুমতির প্রয়োজন নেই: চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল

    বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামি ধরতে আর অনুমতির প্রয়োজন নেই: চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল

    এবিএনএ:  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর আসামিদের গ্রেপ্তারে আর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন নেই—এমন নির্দেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

    বুধবার (মে) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্বের রায়েই স্থির থাকেন। এর ফলে এই সংক্রান্ত মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো বাড়তি প্রশাসনিক অনুমতির দরকার হবে না। একইসঙ্গে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৫ মে দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

    এর আগে এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক অফিস আদেশে জানিয়েছিল, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে করা মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা সাধারণত বেশি থাকে। তাই এমন মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে প্রমাণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এই আদেশে অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার নিষিদ্ধও করা হয়।

    তবে এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে ২৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন একটি রিট দায়ের করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    জানা গেছে, আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া অনেক মামলায় অভিযোগপত্রে এমন অনেকের নাম রয়েছে যাদের সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু ক্ষেত্রে বাদী নিজেই মামলার বিস্তারিত জানেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে।

    এই পরিস্থিতিতে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার বন্ধের উদ্যোগ নেয়। তবে আদালতের রায়ে সেই নির্দেশনা কার্যকর থাকছে না, ফলে এখন বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামিদের সরাসরি গ্রেপ্তার করা যাবে।