Tag: হত্যা

  • যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: পরিবারে শোকের ছায়া

    যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: পরিবারে শোকের ছায়া

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো বৃষ্টির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া বিপুল রক্তের চিহ্ন দেখে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন—দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে। এ কারণে বৃষ্টির পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।

    রাজধানীর মিরপুরে বৃষ্টির বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাত্র এক বছর আগে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন ছিল মেয়ের সফলতা দেখার; কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের ভিড় থাকলেও কেউ এই মর্মান্তিক খবর মেনে নিতে পারছেন না।

    জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন বৃষ্টি ও লিমন। তদন্তে নেমে পুলিশ লিমনের রুমমেটকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১০ দিন পর হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকার কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও বৃষ্টির কোনো হদিস মেলেনি।

    বৃষ্টির স্বজনরা জানান, ক্রাইমসিনে পাওয়া আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাস্থলে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তাই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

    অন্যদিকে লিমনের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। তার মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী স্তব্ধ। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে গবেষণা করছিলেন। অন্যদিকে বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। ১৬ এপ্রিল তাদের শেষবার দেখা যাওয়ার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তারা, যা শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

  • বাগেরহাটে চরের জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: একে একে তিন খুন, আতঙ্কে দুই গ্রাম

    বাগেরহাটে চরের জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: একে একে তিন খুন, আতঙ্কে দুই গ্রাম

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মধুমতি নদীর চরের সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ রূপ নিয়েছে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। বিশ্বাস ও শেখ—এই দুই প্রভাবশালী পক্ষের দ্বন্দ্বে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকা এখন আতঙ্কে আচ্ছন্ন।

    সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘটিত সহিংসতায় শেখ পক্ষের যুবক রাজিব শেখ (২৫) নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে প্রতিশোধপরায়ণ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৩০টি বসতবাড়ি ও দোকান পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    শনিবার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সৌরভ বিশ্বাস (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত রাজিব শেখকে চিংগড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

    🔥 গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ধ্বংসস্তূপ

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের মাঝামাঝি সড়কজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ইট-পাথরের টুকরো। দুই গ্রামেই বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর এখন কেবল ছাইয়ের স্তূপ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

    নিহত রাজিবের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর জন্য বড় পরিসরে রান্নার আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে শেখ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের হারানো সম্পদ ও ভিটেমাটির শোকে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।

    এদিকে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস পরিবারের অনেকেই ঘরবাড়ি ফাঁকা করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

    ⚔️ দীর্ঘদিনের বিরোধের পটভূমি

    স্থানীয়দের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে মধুমতি নদীর চরের সরকারি জমি দখল ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। একপক্ষে রয়েছেন মচন্দপুর গ্রামের সাঈদ বিশ্বাসের অনুসারীরা, অন্যপক্ষে চিংগড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলমের অনুসারীরা।

    এই বিরোধে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। পূর্বের এক ঘটনায় আলম শেখ নিহত হন। এরপরও থামেনি সংঘাত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরেক দফা সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন নামে একজন নিহত হন।

    স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনও এই সংঘর্ষকে আরও উসকে দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    👮 পুলিশের অবস্থান

    বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, রাজিব শেখ হত্যাকাণ্ডসহ অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • সাভারের ‘সম্রাট’ রহস্য ভাঙল: ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের আসল পরিচয় জানলে চমকে উঠবেন

    সাভারের ‘সম্রাট’ রহস্য ভাঙল: ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের আসল পরিচয় জানলে চমকে উঠবেন

    এবিএনএ: সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আলোচিত ‘সম্রাট’ নামের সেই সিরিয়াল কিলার আসলে এই নামের কেউ নন। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে যে তথ্য দিয়েছে, তার সত্যতা বিভিন্ন সূত্রে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া সবুজ শেখের বাবার নাম পান্না শেখ। তিনি তিন ভাই ও চার বোনের একজন। জন্মস্থান মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রাম। আত্মীয়স্বজনের একটি অংশ বরিশাল এলাকায় বসবাস করে।

    তদন্তে জানা গেছে, শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ভবঘুরে নারীদের নির্জন ও পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যেত সে। পরে তাদের আচরণ বা অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহ থেকে ক্ষোভের বশে হত্যাকাণ্ড ঘটাত বলে দাবি করেছে অভিযুক্ত।

    সর্বশেষ ঘটনায় তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক তরুণীকে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে রাখা হয়। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের সম্পর্কের জেরে প্রথমে যুবককে এবং পরে তরুণীকে হত্যা করা হয়। এরপর দুজনের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

    পুলিশ জানায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে সবুজ ওরফে সম্রাট। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    সাভার মডেল থানার আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে সে কখনো ‘কিং সম্রাট’, কখনো ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ নামে পরিচয় দিত। নামের মিল থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে ঘিরেও বিভ্রান্তি ছড়ায়।

    পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়েছে—ঠিকানা, পারিবারিক পরিচয় এমনকি হত্যার কারণ নিয়েও রয়েছে অসঙ্গতি। ফলে তার বক্তব্যকে পুরোপুরি বিশ্বাস না করে যাচাই-বাছাই চলছে।

    সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে বিকৃত ও সাইকোপ্যাথ প্রকৃতির বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে সাভার এলাকায় ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সবুজ শেখকে শনাক্ত ও আটক করা হয়।

    এ ঘটনায় সাভারজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

  • মেয়ের খাবার পৌঁছে ফেরার পথে ইউপি সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা ময়মনসিংহে

    মেয়ের খাবার পৌঁছে ফেরার পথে ইউপি সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা ময়মনসিংহে

    এবিএনএ: ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। মেয়ের জন্য খাবার পৌঁছে ফেরার পথে এই নৃশংস হামলার শিকার হন তিনি।

    নিহত ইউপি সদস্যের নাম জামাল উদ্দিন (৬০)। তিনি বানিহালা ইউনিয়নের ৮ নম্বর নলচাপড়া ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

    রোববার রাতের এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’জনকে আটক করেছে। আটকরা হলেন— কছিম উদ্দিন (৫৫)আনোয়ার হোসেন (৪৫)

    ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্থানীয় পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ নষ্ট করার অভিযোগ নিয়ে জামাল উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এলাকাবাসীর বরাতে পুলিশ জানায়, রোববার রাতে জামাল উদ্দিন মাদ্রাসায় পড়ুয়া মেয়ের জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিলেন। ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তার গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।

    কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. শফিকুল ইসলাম

    স্থানীয়রা বলছেন, বহুদিনের জমি ও পুকুরসংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হতে পারে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে, তাদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

    পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।

    মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • খুলনায় ফের রক্তাক্ত সন্ধ্যা: প্রকাশ্যে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা চরমপন্থি নেতাকে

    খুলনায় ফের রক্তাক্ত সন্ধ্যা: প্রকাশ্যে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা চরমপন্থি নেতাকে

    এবিএনএ:  খুলনা শহর আবারও কেঁপে উঠল রক্তাক্ত সন্ত্রাসে। মঙ্গলবার রাতে নগরীর ব্যস্ত সড়কের পাশে সঙ্গীতা সিনেমা হলের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এক সময়ের ভয়ংকর চরমপন্থি নেতা শেখ শাহাদাত হোসেনকে।

    পুলিশ জানায়, শেখ শাহাদাত নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। প্রায় দেড় যুগ কারাভোগ শেষে চলতি বছর জামিনে মুক্ত হন তিনি। মুক্তির পর থেকে কিছুটা নিরব জীবনযাপন করছিলেন, তবে তার অতীত ঠিকই ফিরে এলো নির্মম পরিণতি হিসেবে।

    সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, রাত ৮টার দিকে একদল অজ্ঞাতনামা হামলাকারী শাহাদাতকে ধাওয়া করে টেনে নিয়ে যায় সঙ্গীতা সিনেমা হলের নিচে থাকা একটি টায়ারের দোকানের সামনে। সেখানেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে গুরুতর আহত করে তারা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহাদাতের বিরুদ্ধে দুই পুলিশ হত্যা ও একাধিক অপরাধের মামলা ছিল। কিছু মামলায় তিনি খালাস পেলেও কয়েকটিতে জামিনে ছিলেন।

    খুলনায় সহিংসতার মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত এক বছরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে খুলনা শহরে প্রতি মাসেই ঘটছে একাধিক হত্যাকাণ্ড। এ বছরের আগস্টের প্রথম পাঁচ দিনেই তিনটি হত্যাকাণ্ডের খবর মিলেছে।

    এর আগে ৩ আগস্ট রাতে মহেশ্বরপাশার উত্তর বণিকপাড়ায় ঘের ব্যবসায়ী আলামিন হাওলাদারকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। একের পর এক খুন ও সন্ত্রাসী হামলায় এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন খুলনার সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সর্বত্র।

    নগরবাসী বলছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ড যেন প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ ধারা অব্যাহত থাকবেই। এখন প্রশ্ন—খুলনায় শান্তি ফিরবে কবে?

  • ভাড়া চাওয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে উত্তাল আড়াইহাজার

    ভাড়া চাওয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে উত্তাল আড়াইহাজার

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দোকান ভাড়া চাওয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৮) উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের সালমদী বাজার এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় মৎস্যজীবী দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক।

    পরিবারের অভিযোগ, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোতা মিয়া প্রায় এক বছর আগে তার তিনটি দোকানের একটি ভাড়া নিয়ে তাতে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় গড়ে তোলেন। তবে সেই দোকানের নির্ধারিত ৩০ হাজার টাকা বার্ষিক ভাড়া বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও পরিশোধ করেননি।

    বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জাহাঙ্গীর হোসেন বকেয়া ভাড়ার দাবিতে বিএনপি কার্যালয়ে গেলে উভয়ের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় তোতা মেম্বারের ছেলে খোকন, ভাইপো সাদ্দাম হোসেন ও আরও কয়েকজন মিলে জাহাঙ্গীরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পর অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দিয়েছে, ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুম শিকারি বলেন, “এই ধরনের অপকর্মে দল কোনোভাবেই জড়িত নয়। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে শাস্তি পেতে হবে।”

    এ বিষয়ে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া জানান, “দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকে আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে। বিএনপি অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না।”

    আড়াইহাজার থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এখনো মামলা হয়নি, দাফনের পর মামলা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

  • রাজধানীর হোটেলে প্রবাসী পরিবারের রহস্যময় মৃত্যু: সম্পত্তির হিসাব ঘিরে সন্দেহের ছায়া

    রাজধানীর হোটেলে প্রবাসী পরিবারের রহস্যময় মৃত্যু: সম্পত্তির হিসাব ঘিরে সন্দেহের ছায়া

    এবিএনএ:  রাজধানীর মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার হয়েছে সৌদি প্রবাসী মনির হোসেন, তাঁর স্ত্রী স্বপ্না বেগম এবং তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলে নাইমের নিথর দেহ। একসঙ্গে তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সর্বত্র।

    এ ঘটনার পর দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রবাসী মনির হোসেন দেশে ফেরার পর তাঁর সম্পত্তি ও বাড়িভাড়া বাবদ অর্থ নিয়ে কেয়ারটেকার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধে জড়ান। মামলার বাদী মনিরের ভাই, ইতালি প্রবাসী নুরুল আমিন মানিক।

    এজাহারে বলা হয়, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিকুল মনিরের জমি ও বাড়ির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে রফিকুলের ওপরই ভরসা করে প্রবাসে থেকে মনির ঢাকায় এবং গ্রামে সম্পত্তি কেনেন।

    মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহার আগে দেশে এসে মনির রাজধানীর মগবাজারের ‘সুইট স্লিপ’ হোটেলে স্ত্রী ও সন্তানসহ ওঠেন। অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে তিনজনকে হত্যা করা হয়।

    রোববার সকালে তিন মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর সোমবার রফিকুলকে আটক করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জালাল উদ্দিন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির সময় বিচারক বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ন ও দৃষ্টান্তমূলক মামলা। পুরো পরিবার একসঙ্গে নিঃশেষ হয়ে গেছে।”

    রফিকুলের আইনজীবী জানান, তিনিও দুঃখিত এবং খাবার খেয়েছিলেন। বিচারক তখন বলেন, “একজন অসুস্থ হতে পারে, পুরো পরিবার একসঙ্গে মারা যাওয়ার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।” রফিকুল জানান, তিনি হোটেল থেকে ভাত, মুরগির রেজালা, শুঁটকি ও আলু ভর্তা এনেছিলেন— স্বপ্নার পছন্দ ছিল শুঁটকি।

    শুনানি শেষে আদালত রফিকুলের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক জানান, মনিরের ভাই নুরুল আমিন ইতালি থেকে ফিরে সোমবার রাতে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

    এখন এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ। তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে— দুর্ঘটনা, না পরিকল্পিত হত্যা।

  • অস্ট্রিয়ার গ্রাজে স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, নিহত ১০ জন!

    অস্ট্রিয়ার গ্রাজে স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, নিহত ১০ জন!

    এবিএনএ:

    অস্ট্রিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গ্রাজের একটি হাই স্কুলে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন স্কুলছাত্র এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন।

    গ্রাজ মেয়র এলকে কাহর জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে বন্দুকধারীও অন্তর্ভুক্ত, যিনি সম্ভবত আত্মহত্যা করেছেন। হামলাটি ড্রেইয়ার্সচুটজেনগাস এলাকায় অবস্থিত ওই বিদ্যালয়ে ঘটে।

    ঘটনা জানার পর দ্রুত বিশেষ বাহিনী ও হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। প্রায় এক ঘণ্টা পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পুলিশ জানায়, অভিযান এখনও চলছে এবং পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

    গ্রাজ, যার জনসংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ, দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এই ভয়াবহ ঘটনা গ্রাজবাসীসহ সারাদেশে শোকের ছায়া ফেলেছে। হামলার কারণ ও হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    এদিকে, এই হত্যাকাণ্ড স্কুল নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনগুলোতে গ্রাজ শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

  • মিরপুরে দিনদুপুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: দুই যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা

    মিরপুরে দিনদুপুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: দুই যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা

    এবিএনএ, ঢাকা 

    রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দিনদুপুরে সংঘটিত হলো এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। শনিবার দুপুরে দারুসসালামের আহমেদ নগর হাড্ডিপট্টি এলাকায় দুই যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে কয়েকজন দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে ওই দুই যুবকের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পরে বেধড়ক পেটানোর মাধ্যমে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন ভয়ে এগিয়ে যেতে পারেননি।

    দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল হোসেন জানিয়েছেন, “ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করি। পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের নাম-পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

    তিনি আরও বলেন, “খুনের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে তা জানতে তদন্ত চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে মরদেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।”

    ঘটনাটি এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকে বলছেন, দিনদুপুরে এমন ভয়াবহ খুন রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন তোলে।

    পুলিশ বলছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত নাকি তাৎক্ষণিক কোনো বিরোধ থেকে সৃষ্টি, সেটি জানার জন্য তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন।

    এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে কেউ গ্রেফতার হয়নি, তবে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।