Tag: হত্যা মামলা

  • হ্যালোইন পার্টি শেষে নির্মম হত্যাকাণ্ড: ব্রিটিশ মডেল লুক হার্ডেনের মৃত্যুর পেছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    হ্যালোইন পার্টি শেষে নির্মম হত্যাকাণ্ড: ব্রিটিশ মডেল লুক হার্ডেনের মৃত্যুর পেছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    এবিএনএ:হ্যালোইন পার্টি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান ব্রিটিশ মডেল লুক হার্ডেন। ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া, যেখানে তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কিছু নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর তথ্য অনুযায়ী, হত্যার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ২৬ বছর বয়সী ভেকি সানি মাতাবিসওয়ানা নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ।

    কোথায় এবং কীভাবে ঘটেছিল ঘটনা?

    ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার অঞ্চলে, গত বছরের ১ নভেম্বর ভোরে। হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত হামলায় হার্ডেন আত্মরক্ষার কোনো সুযোগই পাননি।

    বর্তমানে মামলাটি শুনানি চলছে প্রিস্টন ক্রাউন কোর্ট-এ। বিচার চলাকালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ভেকি এবং নিহত হার্ডেন আগে থেকে একে অপরকে চিনতেন না।

    পার্টি থেকে বের হওয়ার পরই বিপর্যয়

    ঘটনার রাতে দুজনই উপস্থিত ছিলেন স্ট্যাকস্টেডস এলাকার ‘রোজমাউন্ট ওয়ার্কিং মেনস ক্লাব’-এ আয়োজিত একটি হ্যালোইন পার্টিতে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাতের দিকে মদ্যপ অবস্থায় ক্লাব ত্যাগ করেন হার্ডেন।

    কিছুক্ষণ পর নিউচার্চ রোডে তার সঙ্গে দেখা হয় ভেকি ও তার বান্ধবীর। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়াই ভেকি হামলা চালান।

    আকস্মিক হামলা ও মৃত্যুর কারণ

    সিসিটিভি অনুযায়ী, ভেকি হার্ডেনকে মাটিতে ফেলে মাথায় জোরালোভাবে আঘাত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুরুতর আঘাতের কারণে হার্ডেন দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন এবং জরুরি সহায়তা চাওয়ার আগেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে।

    ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাতের ফলে তার খুলিতে ফাটল ধরে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়—যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    আদালতে কী বলা হয়েছে?

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিকোলাস রোডস কেসি আদালতে জানান, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বান্ধবীর সঙ্গে হার্ডেনের কথা বলা দেখে উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান।

    গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থা

    ঘটনার পর অভিযুক্ত ভেকি একাধিকবার দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    বর্তমানে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

  • কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যাকাণ্ড: চারজনের নামসহ দুই শতাধিক অজ্ঞাত আসামি, দায়ের হলো হত্যা মামলা

    কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যাকাণ্ড: চারজনের নামসহ দুই শতাধিক অজ্ঞাত আসামি, দায়ের হলো হত্যা মামলা

    এবিএনএ: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি করেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও প্রায় দুই শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

    মামলার অভিযোগে পীরের দরবারে হামলার ঘটনায় উস্কানির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের নামসহ অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

    এর আগে নিহত পীর শামীমের পরিবার মামলা না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা যায়। তবে পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলা দায়ের করা হয়।

    উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে ও তার অনুসারীদের মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    পরদিন রোববার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যার দিকে ফিলিপনগরের পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

  • বাগেরহাটে প্রকাশ্য রাস্তায় ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় থমথমে উত্তেজনা

    বাগেরহাটে প্রকাশ্য রাস্তায় ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় থমথমে উত্তেজনা

    এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট): বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলায় জামায়াত কর্মীরা পিটুনিতে সাইথখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩২) নিহত হয়েছে। রবিবার (১লা মার্চ) রাত ১১টার দিকে শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের মডেল বাজারে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থক আহত হয়েছেন। এই হত্যাকান্ডের পর শরণখোলা উপজেলাজুরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের মরদের ময়না তদন্ত সোমবার দুপুরে জেলা হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

    নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম উপজেলার সাইথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে ও সাউথখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রদল নেতা মাসুম মালয়েশিয়া চলে যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিএনপির পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে আসেন।

    এঘটনায় নিহত ভাই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সোমবার দুপুরে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ রবিবার দিবাগত রাতেই অভিযান চালিয়ে এঘটনায় ৩ জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী নামের এই তিনজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী।

    নিহত ছাত্রদল নেতার পরিবারের দাবি, স্থানীয় জামায়াত-শিবিেিরর নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম মাসুমের উপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় (রাত সাড়ে ১১টার) মাসুম তার শশুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। তার ডাকচিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

    এব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন জানান, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় একাধি সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর এবং বিএনপি অফিস আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়েছে তারা। নির্বাচনের পরের দিন নিহত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম তার মোবাইলে একটি সহিংস ঘহটনার ভিডিও ধারণ করায় তার ওপর ক্ষীপ্ত ছিল জামায়া-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তরাই জের ধরে এই নৃসংশ হত্যাকাÐ ঘটিয়েছে জামায়াত ও শিবির। হত্যাকাÐে জড়িত জামায়াত ও শিবির কর্মীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান এই বিএনপি নেতা।

    অপরদিকে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার সাথে জামায়াত-শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট, তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে জামায়াতের উপর ঘটনার দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছেন।

    শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাইম বলেন, ছাত্রদল নেতা মাসুমকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করে বেডে পাঠানো হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, গত ১২ ফেব্রæয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছাত্রদল নেতা মাসুম মোবাইল ফোনে ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জের সাউথখালী ইউনিয়নের মডেল বাজারে জামায়াত কর্মীদের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জামায়াত কর্মীরা মাসুম ও সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থককে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা ভর্তি করার পর মাসুম মারা যায়।

    পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতের তিনকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় এই তিনজন এজাহারনামীয় আসামী।

    সোমবার দুপুরে নিহতের ময়না তদন্ত বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। অন্য জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

  • ২৯ বছর পর সালমান শাহ হত্যা মামলা নতুন মোড়: সামীরাসহ ১১ আসামির সম্পদ জব্দের আবেদন

    ২৯ বছর পর সালমান শাহ হত্যা মামলা নতুন মোড়: সামীরাসহ ১১ আসামির সম্পদ জব্দের আবেদন

    এবিএনএ: প্রয়াত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। মামলার বাদীপক্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছে, আসামিদের মধ্যে সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ মোট ১১ জনের সব ধরনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হোক।

    মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে সালমান শাহর মায়ের পক্ষে বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদ এ আবেদন দাখিল করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটির বিষয়ে পরবর্তী তারিখে আদেশ দেওয়ার কথা জানান। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা আদালতের কার্যক্রমে অনুপস্থিত থেকে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগ জোরদার করতেই এই সম্পদ জব্দের আবেদন করা হয়েছে।

    দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রাজধানীর রমনা মডেল থানায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    এর আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত গত ১২ জুন এ ঘটনায় দাখিল করা আগের সব তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনায় সালমান শাহর বাবার করা মূল অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের জবানবন্দি যুক্ত করে মামলাটি নতুনভাবে নথিভুক্ত করা হয়।

    উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের একটি বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় অপমৃত্যুর মামলা হলেও পরবর্তীতে তা হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তরের আবেদন করা হয়, যা আজও দেশের অন্যতম আলোচিত মামলাগুলোর একটি।

  • চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, চট্টগ্রামে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার​ 

    চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, চট্টগ্রামে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার​ 

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে হালিশহর থানার আলোচিত চোর সন্দেহে মোহাম্মদ ইসমাঈলকে পিটিয়ে হত্যা মামলার পলাতক আসামি প্রান্ত দাশকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) নগরের সিটি গেইট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি প্রান্ত দাশের বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকায়। তার বাবার নাম রণ দাশ। ​

    র‌্যাব জানায় নিহত মোহাম্মদ ইসমাঈল কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবারসহ চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার উত্তর হালিশহর এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২২ অক্টোবর ভোর আনুমানিক চারটার দিকে মোহাম্মদ ইসমাঈল হালিশহর থানার বারুনীঘাট এলাকার ‘মা কর্পোরেশন’ নামীয় একটি বেকু গ্যারেজ এলাকায় গেলে সেখানে অবস্থানরত প্রান্ত দাশ ও তার সহযোগীরা তাকে চোর সন্দেহে আটক করে।

    এরপর তাকে গ্যারেজের ভেতরে রশি দিয়ে বেঁধে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। এতে ইসমাঈল গুরুতর আহত হন।​ পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গ্যারেজ মালিক সাহাবুদ্দিনকে খবর দেওয়া হয়। তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীকে পরিবারের সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ অক্টোবর মোহাম্মদ ইসমাঈলের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোহাম্মদ কাঞ্চন বাদী হয়ে হালিশহর থানায় পাঁচজন এজাহারনামীয় ও একজন অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, হালিশহর থানার ইসমাঈল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি প্রান্ত দাশ নগরের আকবরশাহ থানাধীন সিটি গেট এলাকায় অবস্থান করছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে হালিশহর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • বরিশালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেপ্তার, হত্যা মামলার অভিযোগে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে

    বরিশালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেপ্তার, হত্যা মামলার অভিযোগে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে

    এবিএনএ: জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। রবিবার (২৪ আগস্ট) রাতে বরিশাল নগরীর বাংলা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    সিআইডির গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে থাকা তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উক্ত মামলাটি ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়, যেখানে মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথী ও তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এবং তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথী ২২ নম্বর আসামি। একই মামলায় শেখ হাসিনার নামও রয়েছে।

    এর আগে, গত ১৭ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সেই হত্যা মামলায় তৌহিদের বাবা নাসির উদ্দিন সাথীকে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

    তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছিল। সংগঠনটির দাবি ছিল, আফ্রিদি কেবল বর্তমান সরকারের সময়েই নয়, ১৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের প্রচারণায়ও অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    জেআরএ তাদের ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ২৬ ঘণ্টার মধ্যে আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অবশেষে আজ রাতে সিআইডির বিশেষ অভিযানে তার গ্রেপ্তার নিশ্চিত হলো।

  • যুবদল নেতার মৃত্যু: যৌথ বাহিনীর ৮ সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

    যুবদল নেতার মৃত্যু: যৌথ বাহিনীর ৮ সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

    এবিএনএ:  ঢাকার মিরপুরে যুবদল কর্মী আসিফ শিকদারের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে হত্যা মামলা। বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালতে মামলাটি করেন নিহতের মা স্বপ্না বেগম। আদালত মামলার শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

    মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন রাজধানীর শাহআলী থানার ওসি শরিফুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মতিউর রহমান, ডিএমপির দারুসসালাম অঞ্চলের এসি এমদাদুল হক, এডিসি জাকারিয়া, মিরপুর বিভাগের ডিসি মো. মাকসুদুর রহমান, সায়েন্সল্যাব সেনা ক্যাম্পের মেজর মুদাব্বির, ক্যাপ্টেন তাম্মাম, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সিরাজ, আবুল কালাম আজাদ লেলিন, ইনফরমার খলিল এবং সিএনজি চালক ফরিদ।

    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই মধ্যরাতে আসিফ শিকদারকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে শাহআলী থানায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

    পরদিন ২১ জুলাই ভোরে যৌথ বাহিনী মিরপুরের দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আসিফসহ তিন যুবদল কর্মীকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথাও জানানো হয়। আটক হওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন আসিফ। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    আসিফের পরিবার দাবি করেছে, আটক করার সময়ই নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আসিফ শিকদার ছিলেন যুবদলের সক্রিয় কর্মী এবং ছাত্রদলের ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সচিব।

    পুলিশ সূত্র জানায়, আটককৃতদের প্রথমে সায়েন্সল্যাব সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে সেখান থেকে তিনজনকে ফের শাহআলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। দুপুরের দিকে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    আসিফের বিরুদ্ধে এর আগে চাঁদাবাজি এবং থানার সামনে ঘেরাওয়ের মামলা ছিল। মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলায় জেল খেটে সম্প্রতি ছাড়া পান তিনি।

    এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি এখন তদন্তাধীন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী।

  • পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যায় দুই আসামি রিমান্ডে, তীব্র নৃশংসতায় কেঁপে উঠেছে এলাকা

    পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যায় দুই আসামি রিমান্ডে, তীব্র নৃশংসতায় কেঁপে উঠেছে এলাকা

    এবিএনএ:  রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় নির্মমভাবে খুন হওয়া ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী মো. সোহাগ হত্যা মামলায় দুই অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তরা হলেন—মাহমুদুল হাসান মহিন ও তারেক রহমান রবিন।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আজ শুক্রবার পৃথক দুটি মামলায় এই দুইজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কোতোয়ালি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই তানভীর জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে—একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি অস্ত্র আইনে। হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মাহমুদুল হাসান মহিনকে ৫ দিনের রিমান্ডে এবং অস্ত্র মামলায় রবিনকে ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

    গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ড ঘটে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে। সেখানেই সোহাগকে ইট ও পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। নৃশংস এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রজনী ঘোষ লেনে ভাঙাড়ির ব্যবসা করতেন।

    পুলিশ ঘটনার পরপরই মাহমুদুল হাসান মহিন ও তারেক রহমান রবিন নামের দুই যুবককে আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় পৃথক হত্যা ও অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উভয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।