Tag: হজ

  • হজের প্রস্তুতি জোরদার: লাখো হাজির জন্য মিনায় গড়ে উঠছে বিশাল তাঁবুর শহর

    হজের প্রস্তুতি জোরদার: লাখো হাজির জন্য মিনায় গড়ে উঠছে বিশাল তাঁবুর শহর

    এবিএনএ: চলতি বছরের হজকে সামনে রেখে মিনায় অস্থায়ী তাঁবুর শহর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো হাজির আবাসন নিশ্চিত করতে বিশাল এই অস্থায়ী নগরী গড়ে তুলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

    পুরো মিনা এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু স্থাপন, চলাচলের পথ উন্নয়ন এবং উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি হাজিদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

    হাজিদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ক্যাম্প, জরুরি সহায়তা কেন্দ্র এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে অসুস্থ বা বয়স্ক হাজিরা দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের হজে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদার করতে আধুনিক ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের অবস্থান পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে।

    বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হাজিদের কথা মাথায় রেখে পরিবহন ব্যবস্থা ও বিশ্রামস্থল নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এতে তাদের চলাচল সহজ হবে এবং ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    এছাড়া প্রতিটি তাঁবু ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার মান যাচাই করা হচ্ছে কঠোরভাবে। হাজিদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে, যাতে তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

  • মক্কায় প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি, পারমিট ছাড়া ঢুকতে পারবেন না কেউ

    মক্কায় প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি, পারমিট ছাড়া ঢুকতে পারবেন না কেউ

    এবিএনএ: আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে সৌদি আরব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া বিদেশি নাগরিক কিংবা সৌদি আরবের বাসিন্দাদের কেউই মক্কায় প্রবেশ করতে পারবেন না। সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কায় প্রবেশ করতে হলে প্রত্যেক বিদেশির কাছে বৈধ পারমিট থাকতে হবে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাদের কাছে হজ ভিসা নেই কিংবা কাবা শরিফ সংশ্লিষ্ট কাজে অনুমোদন নেই, তাদের মক্কায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। অনুমতিহীন প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চেকপোস্টে কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র না থাকলে সংশ্লিষ্টদের ফেরত পাঠানো হবে।

    এদিকে, যেসব ব্যক্তির কাছে ওমরাহ ভিসা রয়েছে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মক্কা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ এপ্রিলের মধ্যে এসব ভিসাধারীদের শহর ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    সৌদি প্রশাসন বলছে, হজ মৌসুমে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। তাই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

  • ১৭ এপ্রিল রাতেই শুরু হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

    ১৭ এপ্রিল রাতেই শুরু হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

    এবিএনএ: চলতি বছরের হজ ফ্লাইট আগামী ১৭ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হচ্ছে। উদ্বোধনী ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান।

    রোববার অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আল্লাহর মেহমানদের সঙ্গে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। হজযাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই হজ ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে যাত্রীরা যেভাবে অবস্থান করবেন এবং প্রস্তুতি কার্যক্রম কেমন চলছে, তা সরেজমিনে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

    এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি হজ ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো প্রভাব ফেলবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং কোনো জটিলতা তৈরি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

    এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ইতিহাসে বিরল এক বছর: একই বছরে ২ বার হজ ও ৩টি ঈদ উদযাপনের অপেক্ষায় মুসলিম বিশ্ব

    ইতিহাসে বিরল এক বছর: একই বছরে ২ বার হজ ও ৩টি ঈদ উদযাপনের অপেক্ষায় মুসলিম বিশ্ব

    এবিএনএ: বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অপেক্ষা করছে এক ব্যতিক্রমী ধর্মীয় বছর। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি বছরে মুসলিমরা দুইবার হজ পালন করবেন এবং উদযাপন করবেন তিনটি ঈদ। এমন ঘটনা ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই বছরে দুটি ঈদুল আজহা এবং একটি ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের খ্যাতিমান জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানিয়েছেন, এই ব্যতিক্রমী মিল ঘটছে হিজরি চন্দ্রবর্ষ ও সৌরভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সময়গত পার্থক্যের কারণে।

    হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রতি বছর ইংরেজি বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে। এই হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজে প্রথম ঈদুল আজহা পালিত হবে, যা হজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির দিন।

    এরপর হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রায় পূর্ণ একটি চক্র সম্পন্ন করে একই ইংরেজি বছরের ২৬ ডিসেম্বর আবারও ১০ জিলহজে পৌঁছাবে। ফলে ১৪৬১ হিজরির ঈদুল আজহা ওই দিন পালিত হবে এবং একই বছরে দ্বিতীয়বারের মতো হজ অনুষ্ঠিত হবে।

    এই দুই ঈদুল আজহার আগে দুটি পৃথক আরাফার দিনও পালিত হবে, যা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। আরাফার দিন হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে বিশেষ ইবাদতে অংশ নেন।

    এই দুই ঈদের মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই বছর মুসলমানরা রমজান, রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ—সব মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের সাক্ষী হবেন।

    🔹 এক বছরে দুইবার রমজানও আসছে

    চন্দ্রবর্ষের এই অগ্রগতির প্রভাব শুধু হজ বা ঈদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে একই ইংরেজি বছরে মুসলমানরা দুইবার পবিত্র রমজান মাস পালন করবেন—একবার জানুয়ারিতে এবং আবার ডিসেম্বর মাসে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের, আর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সূর্যভিত্তিক হওয়ায় এর দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই ব্যবধানের কারণেই নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন ব্যতিক্রমী ধর্মীয় সমাপতন ঘটে।

    ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক—উভয় দিক থেকেই এই ঘটনাগুলো মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌতূহলোদ্দীপক বলে মনে করছেন গবেষকরা।