Tag: স্বাস্থ্য সতর্কতা

  • দেশজুড়ে হামের আতঙ্ক বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    দেশজুড়ে হামের আতঙ্ক বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    এবিএনএ: দেশজুড়ে হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১২৭ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন।

    শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহজনক হিসেবে আরও ১৭৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জন এবং উপসর্গসহ সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৪৬৭ জনে।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত রোগী ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী—উভয় সংখ্যাই বেড়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ঘটনা দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে। অন্যদিকে মৃত্যুর ঘটনাও বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে পড়লেও বরিশাল বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে। অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর, র‍্যাশ বা চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • নতুন রূপে ভয় ছড়াচ্ছে ফ্লু, বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ বাড়ছে—জেনে নিন সুরক্ষার উপায়

    নতুন রূপে ভয় ছড়াচ্ছে ফ্লু, বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ বাড়ছে—জেনে নিন সুরক্ষার উপায়

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ফ্লু। ভাইরাসের নতুন রূপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের হার বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন পর এমন পরিবর্তিত ভাইরাস দেখা যাওয়ায় পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন তারা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লু ভাইরাস সাধারণত ছোটখাটো পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই টিকে থাকে। তবে এবার মৌসুমি এইচ-থ্রি-এন-টু ফ্লুর একটি ধরনে একাধিক উল্লেখযোগ্য মিউটেশন দেখা গেছে, যা ভাইরাসটির সংক্রমণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে এটি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

    জাপান ও যুক্তরাজ্যে প্রথম এই ভেরিয়েন্টের প্রভাব লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশেই এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, গত কয়েক বছরে মানুষ এই ধরনের ভাইরাসের সংস্পর্শে কম আসায় স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথোজেন ইভোলিউশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডেরেক স্মিথ জানিয়েছেন, ভাইরাসটির বিস্তার বৈশ্বিক আকার নিতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই আগেভাগেই ব্যক্তিগত ও সামাজিক সতর্কতা জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত হাত ধোয়া, অসুস্থ হলে ঘরে থাকা, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এখন অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা ও সময়োপযোগী সতর্কতাই ফ্লুর এই নতুন হুমকি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

  • আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে, জুলাইয়ে শনাক্ত সর্বোচ্চ রোগী

    আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে, জুলাইয়ে শনাক্ত সর্বোচ্চ রোগী

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ছিলেন ১০ হাজার ২৬৯ জন, অথচ শুধু জুলাই মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ৪০৬ জন।

    সর্বশেষ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৬ জন এবং মারা গেছেন দুজন পুরুষ। এ নিয়ে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৮১ জনে। এর মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ এবং ৩৫ জন নারী।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশন ছাড়া) সর্বোচ্চ ১০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার ভেতরে ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ৬৪ জন, ঢাকা বিভাগের অন্যান্য অঞ্চলে ৬২ জন, রাজশাহীতে ৪৫ জন, খুলনায় ২৩ জন, ময়মনসিংহে ৫ জন এবং রংপুর বিভাগে ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে জুলাই মাসে—৩৯ জন। জুনে মারা গেছেন ১৯ জন, জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ৭ জন এবং মে মাসে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।

    বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়—৪৬ জন। বরিশালে মারা গেছেন ১৬ জন। দক্ষিণাঞ্চলের এ বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

    জুলাইয়ে রোগী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আগস্টের পরিস্থিতি নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, “২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু বাংলাদেশে শুরু হলেও আজও এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি। মশা নিধন কার্যক্রমে বাস্তবায়নহীনতা ও সমন্বয়ের অভাবই সংক্রমণ বাড়ার মূল কারণ।”

    তিনি আরও বলেন, “আগস্টে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। এখনই নতুন পরিকল্পনা ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন না করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”