Tag: স্বাস্থ্য সচেতনতা

  • দুপুর বা রাতের খাবারের পর হাঁটা কেন জরুরি? জানুন হজম, মেদ কমানো ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অবিশ্বাস্য উপকার

    দুপুর বা রাতের খাবারের পর হাঁটা কেন জরুরি? জানুন হজম, মেদ কমানো ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অবিশ্বাস্য উপকার

    এবিএনএ: নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শরীর সুস্থ রাখার অন্যতম সহজ উপায়। অনেকে সকালে হাঁটার সময় পান না, আবার ব্যস্ততায় দিনেও হাঁটা হয়ে ওঠে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের যেকোনো সময়—বিশেষ করে দুপুর বা রাতের ভারী খাবারের পর ৩০ মিনিট হাঁটা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

    ভারী খাবারের পর হাঁটার বিভিন্ন উপকারিতা

    ১. খাবার দ্রুত হজমে সাহায্য করে
    খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটলে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে বদহজম, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাগুলো কমে যায়।

    ২. শরীর হালকা অনুভূত হয়
    ভারী খাবারের পর হাঁটা শরীরকে চাঙা করে। পেট ভার লাগা বা হাঁসফাঁস ভাব দূর হয়। ঘর, উঠোন কিংবা বারান্দায় হাঁটলেও উপকার পাওয়া যায়।

    ৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে
    প্রতিদিন খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস করলে বাড়তি ক্যালরি জমতে পারে না। বিশেষ করে পেটের অতিরিক্ত মেদ কমাতে হাঁটা অত্যন্ত কার্যকর।

    ৪. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে
    ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবারের পর হাঁটা খুবই উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হঠাৎ সুগার বাড়ার ঝুঁকি কমায়।

    ৫. হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়
    খাবারের পর হালকা হাঁটা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ফলে হৃদ্‌পিণ্ড আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধেও এটি সহায়ক।

    ৬. বদহজম দূর করে
    ভারী খাবার খাওয়ার পর হাঁটা পেটের অস্বস্তি ও হজমজনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।


    হাঁটার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

    • খাবার শেষে সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা শুরু করা ঠিক নয়; এতে হজমের সমস্যাও হতে পারে।

    • অন্তত ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে তারপর হাঁটা শুরু করা উচিত।

    • খুব দ্রুত গতিতে হাঁটলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে, তাই হাঁটা হবে মাঝারি গতিতে।

    খাবারের পর নিয়মিত হাঁটা শরীরকে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে সহজ অভ্যাসগুলোর একটি। ব্যস্ততার মাঝেও দিনে অন্তত ২০–৩০ মিনিট সময় বের করলেই পাওয়া যাবে বহুগুণ উপকার।

  • শীতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়! বিশেষজ্ঞরা জানালেন সঠিক গোসলের নিয়ম

    শীতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়! বিশেষজ্ঞরা জানালেন সঠিক গোসলের নিয়ম

    এবিএনএ: শীত এলেই অনেকের মধ্যে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা কমে গেলে রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। তাই শীতের শুরু থেকেই সচেতন না থাকলে ছোট ভুলও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

    অনেকে শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এটি শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। দীর্ঘদিন গরম পানি ব্যবহারে ত্বক, হৃদপিণ্ড এমনকি পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

    পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে
    গবেষণায় দেখা গেছে, গরম পানির তাপে টেস্টিকলসের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে শুক্রাণু উৎপাদন কমে যায়। এতে পুরুষদের সন্তান ধারণের ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই চিকিৎসকরা ঠান্ডা বা হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল করার পরামর্শ দেন।

    হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় গরম পানি
    চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড ঠান্ডায় সরাসরি গরম পানি ব্যবহার করলে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। এতে হৃৎপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

    ত্বকের ক্ষতি ও আর্দ্রতা হ্রাস
    নিয়মিত গরম পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক, খসখসে ও উজ্জ্বলতাহীন। শীতকালে তাই হালকা গরম বা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা ত্বকের পক্ষে উপকারী।

    ঠান্ডা পানিতে গোসলের উপকারিতা
    ঠান্ডা পানি শরীরের রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে, মানসিক চাপ কমায় এবং ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। পাশাপাশি এটি শরীরকে সতেজ রাখে ও ঘুমের মান উন্নত করে।

    দুর্গন্ধ রোধে সহজ সমাধান
    অনেকে গরম পানি ব্যবহার করলে বাথরুমে দুর্গন্ধ অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, বাথরুমে একটি ছোট ফিটকিরি রাখলে তা বাতাস বিশুদ্ধ করে এবং দুর্গন্ধ শোষণ করে নেয়।

    শীতের এই মৌসুমে তাই একটু সচেতন হলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ করে পরামর্শ—শরীর গরম রাখুন, কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

  • বর্ষার বৃষ্টিতে জ্বর-সর্দি? ঘরোয়া উপায়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান সহজেই

    বর্ষার বৃষ্টিতে জ্বর-সর্দি? ঘরোয়া উপায়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান সহজেই

    বর্ষা এলেই শুরু হয় ভেজা ভেজা আবহাওয়া আর ঠান্ডাজনিত অসুখ-বিসুখের দাপট। অনেকেই একটু বৃষ্টিতেই ভুগতে শুরু করেন জ্বর, সর্দি কিংবা হাত-পা ব্যথায়। এসব মৌসুমি অসুস্থতা থেকে মুক্ত থাকতে দরকার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি শক্ত রাখা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার শুরুতেই শরীরের যত্ন নেওয়া জরুরি, যাতে রোগের সঙ্গে সহজেই লড়াই করা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই মৌসুমে কীভাবে আপনি বাড়াতে পারেন আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা—

    ✅ কী খাবেন রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে?

    ১. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল: কমলালেবু, পেয়ারা, কিউই—এগুলো নিয়মিত খান।
    ২. সবুজ শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার: গাজর, লাউ, পালং শাক রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
    ৩. তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন: বর্ষায় পেটের সমস্যা বেশি হয়, তাই হালকা খাবার খেতে হবে।
    ৪. পানি ও তরল খাবার: প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
    ৫. হলুদ, আদা, তুলসিপাতা: চায়ের সঙ্গে বা স্যুপে দিয়ে খেলে ঠান্ডা-কাশিতে উপকার মেলে।
    ৬. পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট: ভিটামিন সি, ডি ও আয়রনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে গ্রহণ করুন।

    ✅ দৈনন্দিন অভ্যাসে আনুন স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন

    • ভেজা কাপড় পরা এড়িয়ে চলুন, শরীর ভালোভাবে শুকিয়ে ফেলুন।

    • প্রতিদিনের পোশাক ধুয়ে রোদে শুকান, পরিষ্কার রাখুন বিছানাপত্র।

    • ফুটানো গরম পানি পান করুন, পেট ও গলা ভালো থাকবে।

    • ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার ও চারপাশ পরিষ্কার রাখুন।

    ✅ ঘুম, মানসিক স্বাস্থ্য ও শরীরচর্চা

    রাতের ঘুম কম হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। বর্ষার একঘেয়ে পরিবেশে মন খারাপ হয়ে গেলে বই পড়া, গান শোনা বা হালকা শরীরচর্চা করতে পারেন। এতে মানসিক চাপ কমবে এবং শরীর থাকবে সক্রিয়।

    বর্ষাকাল উপভোগ করুন সচেতনভাবে। একটু যত্ন আর নিয়ম মানলেই মৌসুমি রোগবালাই থাকবে আপনার হাতের বাইরে। শক্ত ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে থাকুন সুস্থ ও সাবলীল।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জরুরি ৬ নির্দেশনা, করোনার নতুন ধরন ও ডেঙ্গু রোধে কঠোর সতর্কতা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জরুরি ৬ নির্দেশনা, করোনার নতুন ধরন ও ডেঙ্গু রোধে কঠোর সতর্কতা

    এবিএনএ:

    দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট এবং ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এই নির্দেশনার আওতায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একযোগে সচেতনতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হয়েছে।

    রবিবার (১৫ জুন) মাউশির সহকারী পরিচালক মো. খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ছয়টি জরুরি স্বাস্থ্যবিধিমূলক নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, “সারা দেশে করোনা ভাইরাসের নতুন রূপ এবং ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রকোপ মোকাবেলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক যৌথভাবে গৃহীত নির্দেশনার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।”

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়:

    • শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডেঙ্গু সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা।

    • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা ও পানি জমে থাকা স্থান পরিষ্কার রাখা।

    করোনা প্রতিরোধে ৬ দফা নির্দেশনা:

    ১. সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
    ২. জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
    ৩. সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা।
    ৪. চোখ, নাক বা মুখে হাত না লাগানো।
    ৫. হাঁচি বা কাশির সময় বাহু, টিস্যু বা রুমাল দিয়ে মুখ-নাক ঢেকে রাখা।
    ৬. ক্লাসরুম ও ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সচেতন করা।

    অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, এই নির্দেশনাগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি সময়মতো স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর হয়, তবে এই সংক্রমণ প্রতিরোধ অনেকটাই সহজ হবে।


    📌 নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পোর্টালে চোখ রাখুন।

  • ঢাকায় কোরবানির সময় গরুর আঘাতে আহত ১২০ জন, হাসপাতালে ভিড়

    ঢাকায় কোরবানির সময় গরুর আঘাতে আহত ১২০ জন, হাসপাতালে ভিড়

    এবিএনএ:

    ঈদুল আজহার কোরবানির দিন রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পশু জবাই করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন নারী-শিশুসহ অন্তত ১২০ জন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
    আহতদের অনেকে গরুর লাথি ও শিংয়ের আঘাতে আহত হন, আবার কেউ কেউ ধারালো ছুরি বা কসাইয়ের অস্ত্র ব্যবহারের সময় কেটে যান।

    ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রমাগতভাবে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে আনা হচ্ছিল। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    চিকিৎসকরা বলছেন, অভিজ্ঞতা ও সাবধানতার অভাবে প্রতি বছর কোরবানির দিনে এমন দুর্ঘটনা ঘটে। অনেকেই পশু নিয়ন্ত্রণে না রেখেই জবাইয়ের চেষ্টা করেন, আবার কেউ ধারালো অস্ত্র ব্যবহারে অসতর্ক থাকেন। এর ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, “যারা পশু জবাইয়ের কাজ করেন, তাদের প্রশিক্ষিত হওয়া জরুরি। অনভিজ্ঞতা থেকেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে।”