Tag: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

  • স্বাস্থ্যখাতে গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, হাম মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ চাইলেন রিজভী  Sub-Title:

    স্বাস্থ্যখাতে গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, হাম মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ চাইলেন রিজভী Sub-Title:

    এবিএনএ: স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে দেশে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যান্য খাতে কিছু অগ্রগতি থাকলেও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত এক র‍্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভীর মতে, যেকোনো মহামারি বা সংক্রামক রোগ দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।

    তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, করোনাকালে অক্সিজেন সংকট ও অনিয়মের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারকে স্বাস্থ্যখাতে আরও সতর্ক ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    রিজভী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দ্রুত কাজ শুরু করেছে, তবে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি আরও অগ্রাধিকার পাওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার ফলে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর খবর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিনেও হাম পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ার পেছনে কুসংস্কার, টিকা নিয়ে অপপ্রচার এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা ভূমিকা রেখেছে। এসব মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।

    গবেষণা খাতের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, চিকিৎসা গবেষণায় উৎসাহ বাড়াতে রাষ্ট্রকে বড় পরিসরে সহায়তা দিতে হবে। গবেষণার জন্য তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকার বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

    র‍্যালিতে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, নেতা মীর শরাফত আলী শফুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছাতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছাতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    এবিএনএ: দেশের মানুষের জন্য সহজ ও সমন্বিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান, ই-হেলথ কার্ড চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

    পরিত্যক্ত ভবনে গড়ে উঠবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র

    বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার অব্যবহৃত ভবন চিহ্নিত করে সেগুলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে ক্লিনিক ও চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। জানানো হয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে প্রায় ১৭০টি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। এসব স্থাপনাকে স্বাস্থ্যসেবার কাজে ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ

    সভায় দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়। উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, প্রতিবছর দেশে প্রায় ৩৪ লাখ নবজাতকের জন্ম হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সক্রিয় ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা

    বৈঠকে নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রস্তাবিত নিয়োগের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী ও ২০ শতাংশ পুরুষ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদে চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    দুর্গম এলাকায় চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিতের নির্দেশ

    দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

    বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ভাতিজা-ভাগনের অঙ্গও এখন প্রতিস্থাপনযোগ্য, দেশে চিকিৎসার নতুন দিগন্ত

    ভাতিজা-ভাগনের অঙ্গও এখন প্রতিস্থাপনযোগ্য, দেশে চিকিৎসার নতুন দিগন্ত

    এবিএনএ:  দেশে মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন শুধু নিকটাত্মীয়দের— যেমন বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তানদের— অঙ্গ ব্যবহার করে প্রতিস্থাপন করা যেত। এবার সেই পরিধি বাড়িয়ে ভাতিজা ও ভাগনের অঙ্গও বৈধভাবে প্রতিস্থাপনে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলো।

    বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন পেয়েছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, “অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানের সুযোগ শুধু নিকটাত্মীয়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে অনেক সময় প্রাপ্তির সংকট তৈরি হয়। এখন থেকে ভাতিজা ও ভাগনেরাও অঙ্গ দান করতে পারবেন। ফলে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য আর অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। দেশের হাসপাতালগুলোতেই এসব প্রতিস্থাপন করা যাবে।”

    নতুন অধ্যাদেশে মৃত্যুর পর দেহ দানের নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। অনেকে মৃত্যুর পর চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য দেহ দান করতে চান। এই দানকৃত দেহ থেকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অঙ্গ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

    প্রেস সচিব আরও জানান, কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ধত্ব দূর করা সম্ভব, আর কিডনি প্রতিস্থাপন বহু মানুষকে নতুন জীবন দেয়। কিন্তু এ সংক্রান্ত আইন বহুদিন ধরে পরিবর্তন হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

    সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, এই নতুন আইন শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি নয়, বরং মানুষের জীবনের মান উন্নয়নেও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এখন থেকে দেশের মধ্যেই অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও নিরাপদভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

  • ঢাকা মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, শিক্ষার্থীদের দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, শিক্ষার্থীদের দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ

    এবিএনএ: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) কর্তৃপক্ষ এক জরুরি সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক হল ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে কলেজ সভাপতি ও অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কলেজের অবকাঠামোগত দুরবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে একাডেমিক কাউন্সিলে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক বলে স্বীকৃতি দেয় কাউন্সিল এবং সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না পেলে আন্দোলনে অনড় থাকে। একাধিকবার নোটিশ ও বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা সত্ত্বেও ডা. ফজলে রাব্বি হলের ঝুঁকিপূর্ণ চতুর্থ তলা খালি করতে শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

    নতুন ব্যাচ ‘কে-৮২’ এর শিক্ষার্থীরা কলেজের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান বর্জন করায় একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে কলেজের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভুগছে, যা দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজের তুলনায় ব্যতিক্রম।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ মেডিকেল কাউন্সিলের নির্ধারিত আক্রেডিটেশন ভিজিট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী, রোববার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে নিজ নিজ হল ত্যাগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

    তবে, পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং বিদেশি শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের আওতাভুক্ত হবেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • করোনার নতুন ঊর্ধ্বগতি, ভিড়পূর্ণ জায়গায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হতে পারে

    এবিএনএ:

    বাংলাদেশে আবারও বেড়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার। এমন পরিস্থিতিতে জনাকীর্ণ এলাকায় মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

    শুক্রবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংক্রমণের বর্তমান ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় নিয়ে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভিড়পূর্ণ জায়গায় মাস্ক পরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বয়স্ক এবং যাদের পূর্বে থেকে শারীরিক জটিলতা রয়েছে তাদের। জনসমাগমপূর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে চলা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষাবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    সরকারি সূত্র মতে, বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যিনি ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এই মৃত্যুর খবর সামনে আসার পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত নতুন নির্দেশনা দেয়।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনে বর্ষার সময় হওয়ায় অন্যান্য ভাইরাল জ্বরের সঙ্গে মিশে করোনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই সচেতনতা ও সতর্কতা ছাড়া সামনে থাকা কঠিন হতে পারে।


  • স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুই সাবেক কর্মকর্তার দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা, এনআইডি ব্লক

    স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুই সাবেক কর্মকর্তার দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা, এনআইডি ব্লক

    এবিএনএ, ঢাকা:

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের দপ্তরের দুই সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তুহিন ফারাবি ও মাহমুদুল হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত। একইসঙ্গে, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সাময়িকভাবে স্থগিত (ব্লক) করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

    দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকী আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, তুহিন ফারাবি ও মাহমুদুল হাসান স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দপ্তরের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডার ও তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

    আবেদনে আরও বলা হয়, তারা অর্জিত সম্পদ হস্তান্তর করে বিদেশে পলায়নের পরিকল্পনা করছেন বলে বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এতে দুর্নীতির অনুসন্ধান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

    আদালত তাদের বিরুদ্ধে শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত দেন:

    • দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সাময়িকভাবে ব্লক করা

    দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিদেশে পালিয়ে গেলে এসব সম্পদের ট্রেসিং ও বাজেয়াপ্ত করার কাজ ব্যাহত হতে পারে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন এই আদেশ। এই ধরণের আইনি পদক্ষেপ জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • হাসপাতালে আর সরাসরি দেখা নয়: চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসছে

    হাসপাতালে আর সরাসরি দেখা নয়: চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসছে

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। এখন থেকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা আর হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। পরিবর্তে শুধুমাত্র ই-মেইল বা ডাকযোগের মাধ্যমে ওষুধ পণ্য সম্পর্কিত তথ্য পাঠানোর অনুমতি থাকবে।

    স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত কমিশন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক প্রতিবেদন পেশ করে। এতে উল্লেখ রয়েছে যে, চিকিৎসকদের মনোযোগ যাতে বিঘ্নিত না হয় এবং রোগীরা যাতে সঠিক চিকিৎসাসেবা পান, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত। প্রতিবেদনে সংক্ষিপ্ত মধ্যমেয়াদি ৩২টি সুপারিশের মধ্যে ২১ নম্বর সুপারিশে বিধিনিষেধের কথা বলা হয়।

    প্রস্তাবে বলা হয়, নতুনভাবে গঠিত ফুড, ড্রাগ আইভিডি-মেডিকেল ডিভাইস প্রশাসনের অধীনে তিনটি শাখা থাকবে—ওষুধ-টিকা-প্রসাধনী, আইভিডি ডিভাইস এবং নিরাপদ খাদ্য। প্রতি দুই বছর অন্তর অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা পর্যালোচনা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বাধ্যতামূলক এবং ফার্মাসিউটিক্যাল মান নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    চিকিৎসক-ফার্মাসিউটিক্যাল সম্পর্ককে নৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে বিশ্ব মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে সুপারিশ করা হয়েছে, ওষুধের নমুনা, উপহার প্রদান, খাবার সরবরাহ এবং কোনো প্রকার র‍্যাফেল ড্র বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

    মেডিকেল কনফারেন্স আয়োজনেও পরিবর্তন আসছে। বিএমইএসি অনুমোদিত সিপিডি ক্রেডিট ছাড়া কনফারেন্স করা যাবে না, আয়-ব্যয়ের হিসাব কর দপ্তর বিএমইএসিতে জমা দিতে হবে। কোম্পানিগুলো কেবল প্রদর্শনী এলাকাতেই প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে।

    চিকিৎসকদের কোনো পেশাগত সংগঠনে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি সদস্য হতে পারবে না। কোনো নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য বা ওষুধ থাকলে তা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নয়, বরং কেন্দ্রীয়ভাবে নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে গঠিত ১২ সদস্যের স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. কে আজাদ খান। কমিশনে রয়েছেন দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্যনীতিবিদরা।

    স্বাস্থ্যখাতে এই ধরনের পদক্ষেপ চিকিৎসা সেবাকে আরও স্বচ্ছ, রোগীবান্ধব এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে পরিচালনার পথ তৈরি করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি আনতে দরকার একসাথে কাজ—ড. ইউনূসের বাস্তব পরামর্শ

    স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি আনতে দরকার একসাথে কাজ—ড. ইউনূসের বাস্তব পরামর্শ

    এবিএনএ:  স্বাস্থ্যখাতে চলমান সংকটের পেছনে একে অপরকে দায়ী না করে সবাইকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় সিভিল সার্জন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে শুধুমাত্র বাজেট বা অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করলে হবে না। আমাদের সিস্টেমে যেসব নিয়ম-কানুন বিদ্যমান, সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলেই অন্তত ২৫ শতাংশ উন্নয়ন সম্ভব। এটা করতে হলে সিভিল সার্জনদের মন থেকে উদ্যোগ নিতে হবে।”

    ড. ইউনূস আরও বলেন, “মানবসম্পদ বা যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা অজুহাত না করে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে। সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে হবে ফাঁকা অভিযোগ না করে।”

    প্রথমবারের মতো সারা দেশের সিভিল সার্জনদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সম্মেলনকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এতোদিন এমন সম্মেলন হয়নি, তা বিস্ময়কর। সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান দুই-স্পষ্ট হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ধরনের সম্মেলন ভবিষ্যতে নিয়মিত আয়োজন করা গেলে তা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।