Tag: স্বাস্থ্য পরামর্শ

  • শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমান? জানুন উপকারের পাশাপাশি লুকিয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো

    শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমান? জানুন উপকারের পাশাপাশি লুকিয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো

    এবিএনএ: শীতের মৌসুম এলেই রাতের বেলা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা বেড়ে যায়। অনেক সময় ভারী লেপ বা কম্বল ব্যবহার করেও পায়ের শীত কমে না। এ কারণে স্বস্তি পেতে অনেকেই ঘুমানোর সময় মোজা পরেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই অভ্যাসের ভালো-মন্দ দুই দিকই রয়েছে।

    মোজা পরে ঘুমানোর উপকারিতা

    ঘুম দ্রুত আসতে সহায়ক:
    চিকিৎসকদের মতে, পা উষ্ণ থাকলে শরীরের রক্তনালী প্রসারিত হয়, যা মস্তিষ্ককে বিশ্রামের সংকেত দেয়। ফলে অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের ঘুম দ্রুত আসতে পারে।

    পা ফাটা কমায়:
    শীতকালে পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে ফাটার প্রবণতা বাড়ে। রাতে পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে সুতির মোজা পরলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং পা নরম থাকে।

    রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে:
    ঠান্ডায় অনেকের আঙুল অবশ হয়ে যায় বা রঙ পরিবর্তন হয়। মোজা পরলে পায়ে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে, ফলে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি কমে।

    মোজা পরে ঘুমানোর সম্ভাব্য ঝুঁকি

    রক্ত চলাচলে বাধা:
    অতিরিক্ত টাইট মোজা পায়ে চাপ সৃষ্টি করে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এতে ঝিঁঝিঁ ধরা বা ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

    সংক্রমণের আশঙ্কা:
    সারাদিন ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার মোজা পরে ঘুমালে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সিন্থেটিক মোজায় অতিরিক্ত ঘাম জমে দুর্গন্ধও হতে পারে।

    অতিরিক্ত গরম অনুভূতি:
    বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমালে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

    নিরাপদ থাকতে যা করবেন

    • ঢিলেঢালা সুতির বা নরম উলের মোজা ব্যবহার করুন

    • সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো মোজা পরুন

    • ঘুমানোর আগে পা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন

    • মোজা অস্বস্তিকর হলে কুসুম গরম পানিতে পা ধোয়া বা গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে মোজা ব্যবহার করলে শীতে ঘুম হতে পারে আরামদায়ক, তবে অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে বিপদ।

  • শীতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়! বিশেষজ্ঞরা জানালেন সঠিক গোসলের নিয়ম

    শীতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়! বিশেষজ্ঞরা জানালেন সঠিক গোসলের নিয়ম

    এবিএনএ: শীত এলেই অনেকের মধ্যে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা কমে গেলে রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। তাই শীতের শুরু থেকেই সচেতন না থাকলে ছোট ভুলও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

    অনেকে শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এটি শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। দীর্ঘদিন গরম পানি ব্যবহারে ত্বক, হৃদপিণ্ড এমনকি পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

    পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে
    গবেষণায় দেখা গেছে, গরম পানির তাপে টেস্টিকলসের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে শুক্রাণু উৎপাদন কমে যায়। এতে পুরুষদের সন্তান ধারণের ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই চিকিৎসকরা ঠান্ডা বা হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল করার পরামর্শ দেন।

    হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় গরম পানি
    চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড ঠান্ডায় সরাসরি গরম পানি ব্যবহার করলে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। এতে হৃৎপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

    ত্বকের ক্ষতি ও আর্দ্রতা হ্রাস
    নিয়মিত গরম পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক, খসখসে ও উজ্জ্বলতাহীন। শীতকালে তাই হালকা গরম বা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা ত্বকের পক্ষে উপকারী।

    ঠান্ডা পানিতে গোসলের উপকারিতা
    ঠান্ডা পানি শরীরের রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে, মানসিক চাপ কমায় এবং ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। পাশাপাশি এটি শরীরকে সতেজ রাখে ও ঘুমের মান উন্নত করে।

    দুর্গন্ধ রোধে সহজ সমাধান
    অনেকে গরম পানি ব্যবহার করলে বাথরুমে দুর্গন্ধ অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, বাথরুমে একটি ছোট ফিটকিরি রাখলে তা বাতাস বিশুদ্ধ করে এবং দুর্গন্ধ শোষণ করে নেয়।

    শীতের এই মৌসুমে তাই একটু সচেতন হলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ করে পরামর্শ—শরীর গরম রাখুন, কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।