Tag: স্বাস্থ্যখাত

  • স্বাস্থ্যখাতে গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, হাম মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ চাইলেন রিজভী  Sub-Title:

    স্বাস্থ্যখাতে গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, হাম মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ চাইলেন রিজভী Sub-Title:

    এবিএনএ: স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে দেশে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যান্য খাতে কিছু অগ্রগতি থাকলেও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত এক র‍্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভীর মতে, যেকোনো মহামারি বা সংক্রামক রোগ দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।

    তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, করোনাকালে অক্সিজেন সংকট ও অনিয়মের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারকে স্বাস্থ্যখাতে আরও সতর্ক ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    রিজভী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দ্রুত কাজ শুরু করেছে, তবে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি আরও অগ্রাধিকার পাওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার ফলে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর খবর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিনেও হাম পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ার পেছনে কুসংস্কার, টিকা নিয়ে অপপ্রচার এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা ভূমিকা রেখেছে। এসব মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।

    গবেষণা খাতের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, চিকিৎসা গবেষণায় উৎসাহ বাড়াতে রাষ্ট্রকে বড় পরিসরে সহায়তা দিতে হবে। গবেষণার জন্য তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকার বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

    র‍্যালিতে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, নেতা মীর শরাফত আলী শফুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপি ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

    এবিএনএ: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক সংস্কার ও পরিবর্তন আনা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের কোনো নাগরিক চিকিৎসাবঞ্চিত থাকবে না।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিনামূল্যের চিকিৎসা শিবির শেষে আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

    তারেক রহমান বলেন, “আমরা যদি জনগণের ভালোবাসায় ক্ষমতায় আসতে পারি, তবে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনব। যেন কোনো রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে থাকতে না হয়। অতিরিক্ত রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা, কৃষি, নারী ও বয়স্ক কল্যাণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সেবার মান হবে সবার জন্য সমান।”

    জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি জানান, ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মানবসেবামূলক আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে।

    অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ও ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, “মানবতার সেবা এখন সময়ের দাবি। প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সেবা কার্যক্রমে যুক্ত হয়, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবেই।”

    ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ আলিম ডোনারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    দিনব্যাপী আয়োজিত এ চিকিৎসা ক্যাম্পে প্রায় সাত হাজার অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়। ১৭০ জন চিকিৎসক, যার মধ্যে ৮০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সারাদিন ধরে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

  • স্বাস্থ্যখাতের টেকসই উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্পে অন্তর্বর্তী সরকার : বললেন প্রধান উপদেষ্টা

    স্বাস্থ্যখাতের টেকসই উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্পে অন্তর্বর্তী সরকার : বললেন প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    রবিবার ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘হেপাটাইটিস: লেটস ব্রেক ইট ডাউন’—এই প্রতিপাদ্য হেপাটাইটিস নির্মূলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।”

    তিনি আরও বলেন, দেশে লিভার রোগের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির পেছনে রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা, চিকিৎসা নিতে বিলম্ব এবং নানা সামাজিক কুসংস্কার দায়ী। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪.৪ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস-বি এবং ০.৬ শতাংশ হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসে আক্রান্ত।

    প্রতিবছর হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। তবে এই রোগগুলো প্রতিরোধযোগ্য। সচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এসব রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার ইতোমধ্যে হাসপাতালের মানোন্নয়ন, চিকিৎসা সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনলাইন ও মোবাইল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

    ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষের সমন্বিত প্রয়াসই এই লক্ষ্য অর্জনের চাবিকাঠি হবে বলে মনে করেন তিনি।

    হেপাটাইটিসকে নীরব ঘাতক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ রোগ মোকাবেলায় শুধু সরকার নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। তিনি গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    প্রধান উপদেষ্টা ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করে তার বার্তা শেষ করেন।