Tag: স্বাধীনতা

  • ২৫ মার্চের কালরাত স্মরণে দেশজুড়ে ‘ব্ল্যাক আউট’—এক মিনিটের অন্ধকারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

    ২৫ মার্চের কালরাত স্মরণে দেশজুড়ে ‘ব্ল্যাক আউট’—এক মিনিটের অন্ধকারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

    এবিএনএ: ১৯৭১ সালের বিভীষিকাময় 1971 Bangladesh Genocide-এর সেই ভয়াল রাতের স্মরণে আগামী ২৫ মার্চ সারা দেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এদিন রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের জন্য সব আলো নিভিয়ে রাখা হবে।

    Ministry of Liberation War Affairs এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ‘গণহত্যা দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

    তবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কেপিআইভুক্ত এলাকা এবং বিদেশি মিশনগুলো এই কর্মসূচির বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দিবসটির মর্যাদা রক্ষায় ২৫ মার্চ রাতে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে ৮ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভা শেষে Salahuddin Ahmed জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় ২৬ মার্চ Independence Day of Bangladesh-এও সারা দেশে আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ২৫ মার্চের এই প্রতীকী অন্ধকার কর্মসূচি মূলত জাতির ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায় স্মরণ এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর একটি নিদর্শন। পাশাপাশি এটি জাতির ঐক্য ও চেতনার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

  • শরণখোলায় আজ হানাদার মুক্ত দিবস: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথায় গর্বের দিন

    শরণখোলায় আজ হানাদার মুক্ত দিবস: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথায় গর্বের দিন

    মোঃ শাহাদাত হোসাইন, (শরণখোলা) বাগেরহাট: ১৮ ডিসেম্বর বাগেরহাটের শরণখোলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ এর ১৬ ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে দেশ স্বাধীন হলেও ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাব সেক্টরের এই শরণখোলা ছিল হানাদার বাহিনীর দখলে। তৎকালিন থানা সদর রায়েন্দা বাজারে মুক্তিবাহিনী এবং রাজাকারদের মধ্যে সম্মুখযুদ্ধ তখনও চলে। ১৪ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা চার দিন সম্মুখযুদ্ধে রাজাকারের বুলেটে শহীদ হন – টিপু সুলতান, আসাদুজ্জামান, আলাউদ্দিন,গুরুপদ ও আলতাফ হোসেনসহ পাঁচ বীর যোদ্ধা।
    ১৮ ডিসেম্বর পুরোপৃুরি ভাবে হানাদার মুক্ত হয় মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাব-সেক্টরের শরণখোলার রণাঙ্গন। সকাল ১০টার দিকে থানা ভবনে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করে শরণখোলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হানাদারমুক্ত ঘোষনা করেন সুন্দরবন সাব সেক্টরের কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিন আহমেদ।
    এদিন বিকেল চারটার দিকে রায়েন্দা পাইলট হাই স্কুল মাঠে চার শহীদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে রায়েন্দার আরকেডিএস বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সমাহিত করা হয় চার শহীদকে। প্রথম শহীদ গুরুপদকে সমাহিত করা হয় সুন্দরবন সংগ্ন সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের পানিরঘাট এলাকায়।
    সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহনকারীদের তথ্যমতে, শেষ মুহুর্তে হানাদার বাহিনী নাছির উদ্দিন আকনের রায়েন্দা বাজারস্থ বাসভবন দখল করে। এটিই ছিল রাজাকারদের প্রধান ক্যাম্প। এছাড়া থানা ভবন ও রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন দখল করে আরো দুটি ক্যাম্প স্থাপন করে শত্রু বাহিনী।
    শরণখোলাকে হানাদার মুক্ত করতে দীর্ঘ ৯ মাসের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুল আলম তালুকদার।
    রায়েন্দা বাজারের শেষ যুদ্ধে পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চল নামে দুটি দল গঠন করা হয়। পূর্বাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন যুদ্ধকালীন ইয়াং অফিসার ও স্টুডেন্ট ক্যাম্প কমান্ডার হেমায়েত উদ্দিন বদশা এবং পশ্চিমাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন মোরেলগঞ্জের আব্দুল গফ্ফার সুবেদার।
    এই দুটি দলের আট শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা রায়েন্দা বাজারের রাজাকারদের তিনটি ক্যাম্পে আক্রমণ করেন।
    পূর্বাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন বাদশা বলেন, আমরা ১৪ ডিসেম্বর দুপুর ১টা ৪৫মিনিটের সময় ফায়ার শুরু করি। রামপালের সহযোদ্ধা শ্যামল ছিলেন এলএমজির কভারিং ফায়ারের দায়িত্বে। শ্যামল ওপর থেকে রাজাকার ক্যাম্প লক্ষ্যকরে ফায়ার করতে থাকেন। আর অগ্রবর্তি দলের ২০-২৫ জন যোদ্ধা নাছির উদ্দিন আকনের বাসভবনের রাজাকার ক্যাম্পের দিকে অগ্রসর হন। প্রথম দিন (১৪ ডিসেম্বর) যুদ্ধ শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মাথায় রাজাকারের বুলেটে শহীদ হন গুরুপদ। গুলিতে তার মাথার খুলি উড়ে যায়। এদিন বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে শহীদ হন টিপু সুলতান ও আসাদুজ্জামান। রাতে শহীদ হন আলাউদ্দিন। ১৫ ডিসেম্বর সকালে শহীদ হন আলতাফ হোসেন। ওইদিন থানা ভবন ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের রাজাকার ক্যাম্প দখলে নেই আমরা।
    হেমায়েত উদ্দিন বাদশা আরো বলেন, ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর আক্রমণ চালাই নাছির উদ্দিনের বাসভবনের প্রধান ক্যম্পে। এসময় দিন-রাত সমানতালে ওই ক্যাম্পে মটার শেল ও গুলি বর্ষণ করি। পাল্টা গুলি চালায় রাজাকাররাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুক্তিবাহিনীর গুলির মুখে নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে ১৭ ডিসেম্বর রাতেই বেশিরভাগ রাজাকার ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যায়। ক্যাম্পসংলগ্ন রায়েন্দা খালের সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ গোপন সুড়ঙ্গ পথে পালিয়ে যায় তারা। এর পর ১৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত কোনো পাল্টা আক্রমণ না আসায় ক্যাম্পে ঢুকে যায় মুক্তিবাহিনী। সেখানে ১৭-১৮ জন রাজাকারকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া য়ায়।
  • মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নবিদ্ধ হলে জাতির অস্তিত্বই বিপন্ন হবে: ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্ক বিশিষ্টজনরা

    মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নবিদ্ধ হলে জাতির অস্তিত্বই বিপন্ন হবে: ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্ক বিশিষ্টজনরা

    এবিএনএ: সাম্প্রতিক সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ও ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মহলের মতে, মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অর্থ স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিকেই অস্বীকার করা। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিতর্ক নয়—মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ও সত্য ইতিহাস চর্চাই জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে।

    তাঁদের মতে, স্বাধীনতা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন। এর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি জাতির ইতিহাসে নেই। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বস্তরের জনযুদ্ধ, যার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং যার সশস্ত্র সূচনা ঘটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমে। এই যুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের যথাযথ সম্মান জানানো রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

    বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-এর গণ অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনও ইতিহাসে নিজ নিজ গুরুত্ব নিয়ে স্থান পাবে। কোনো ব্যক্তি বা দলকে অস্বীকার করতে গিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করার সুযোগ নেই।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতিচ্ছবি। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার মানে রাষ্ট্রের ভিত্তিকে নড়িয়ে দেওয়া। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না। এটি বাদ দিলে জাতির পরিচয়ও মুছে যাবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন বেপারী বলেন, ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের পর যে প্রশ্নগুলো উঠছে, তা মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন না হওয়ার ফল। মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়া। কিন্তু দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীনতা সেই স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের চেতনা একই সূত্রে গাঁথা। উভয় আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানবিক মর্যাদা, সাম্য, ন্যায়বিচার এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। একাত্তরের বিজয় ছিল পরাধীনতার বিরুদ্ধে, আর চব্বিশের বিজয় কর্তৃত্ববাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে—এই লড়াই এখনও চলমান।

    বিশিষ্টজনদের মতে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সূচনাবিন্দু হতে হবে মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাস বিকৃতি নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়নই জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে।

  • বিজয় দিবস হোক দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    বিজয় দিবস হোক দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    এবিএনএ: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহান বিজয় দিবসকে দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। ১৬ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি বলেন, এই দিন হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দিন।

    ড. ইউনূস বলেন, “১৯৭১ সালের ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পর অর্জিত স্বাধীনতা এবং লাখো শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা ও স্বাধীন জাতিসত্তা। এ বিজয় আমাদের দায়িত্ব দেয় দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে স্বাধীনতার আলো স্বৈরাচার ও অপশাসনের কারণে ম্লান হলেও, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন করে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন উৎখাত হবে, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

    তিনি বলেন, “চলুন, স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দিই। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই মিলে হাতে হাত রেখে শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপদ বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাই।”

  • ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপিই একমাত্র ভরসা’—দলীয় পরিকল্পনা সভায় তারেক রহমানের দাবি

    ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপিই একমাত্র ভরসা’—দলীয় পরিকল্পনা সভায় তারেক রহমানের দাবি

    এবিএনএ: দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব বিএনপিই সবচেয়ে দক্ষভাবে পালন করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক চলমান কর্মসূচির তৃতীয় দিনের বৈঠকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে এ মতামত প্রকাশ করেন।

    তারেক রহমান বলেন—জনগণ এখন শুধু রাজনৈতিক বক্তৃতা শুনতে চায় না; তারা জানতে চায় কারা দেশ চালানোর মতো সুসংগঠিত পরিকল্পনা প্রস্তাব করতে পারে। বিএনপিই একমাত্র দল, যারা উন্নয়ন, সমাজসংস্কার, অর্থনীতি, শিক্ষা ও প্রশাসন—প্রতিটি ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের আস্থা না পেলে দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিভাজন ও দলীয় সংকীর্ণতা দূর করে ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়া সম্ভব।

    বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন কিছু উদ্যোগও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান জানান, ক্ষমতায় গেলে চার কোটি পরিবারকে দেওয়া হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, যার মাধ্যমে সরকারি সেবা সরাসরি পৌঁছে যাবে মানুষের দোরগোড়ায়। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তিনি বলেন, বিচার হবে আইন অনুযায়ী, কোনো দলীয় হস্তক্ষেপ নয়।

    দুর্নীতি দমনেও বিএনপির ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি স্বাবলম্বী পরিবার গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কথাও বলেন তিনি। স্কুল পর্যায়ে ইংরেজির পাশাপাশি আরও একটি বিদেশি ভাষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানে দক্ষ হতে পারে। পাশাপাশি ভোকেশনাল শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়ে জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রায় তিন লাখ মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের যথোপযুক্ত সামাজিক মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে।

  • ইতিহাসের আয়নায় ২৮ নভেম্বর: আলবেনিয়ার স্বাধীনতা, জন্ম-মৃত্যু ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাপঞ্জি

    ইতিহাসের আয়নায় ২৮ নভেম্বর: আলবেনিয়ার স্বাধীনতা, জন্ম-মৃত্যু ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাপঞ্জি

    এবিএনএ: মানবসভ্যতার পথচলায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নানা অর্জন, সংগ্রাম, আবিষ্কার ও পরিবর্তনের গল্প। সময়ের ধারায় সেই দৈনন্দিন ঘটনাগুলোই ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে। আজ ২৮ নভেম্বর, বিশ্ব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিশেষ করে তুরস্কের শাসন থেকে আলবেনিয়ার স্বাধীনতা লাভের দিন হিসেবে এটি স্মরণীয় হয়ে আছে। এছাড়াও রয়েছে নানা উল্লেখযোগ্য বিশ্বঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুর দিন।


    উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা

    • ১৪৪৩ – সেকেন্দার বেগ মধ্য আলবেনিয়ার খ্রুজ এলাকায় প্রথমবারের মতো আলবেনিয়ার পতাকা উড়ান, যা স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পায়।

    • ১৫২০ – বিশিষ্ট নাবিক ফার্ডিনান্ড ম্যাগেলান ইউরোপ থেকে প্রথম সফলভাবে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে প্রবেশ করেন প্রশান্ত মহাসাগরে।

    • ১৬৬০ – ইংল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের প্রাচীনতম বৈজ্ঞানিক সংগঠন ‘রয়েল সোসাইটি’।

    • ১৮২১ – স্পেনের শাসন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে পানামা।

    • ১৮৬০ – কলকাতায় প্রথম স্বয়ংক্রিয় মুদ্রণযন্ত্রে ছাপা হয় ‘লন্ডন টাইমস’।

    • ১৯১২ – দীর্ঘ সংগ্রামের পর তুরস্কের শাসন থেকে আলবেনিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। এই দিনটি আজও দেশটির স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

    • ১৯৬০ – মৌরিতানিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

    • ২০২৩ – ভারতের উত্তরাখণ্ডে সিলকিয়ারা সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৪১ শ্রমিককে ১৭ দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়।


    জন্মদিন: যাঁরা আজ পৃথিবীতে এসেছিলেন

    • ১৮২০ – ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস, মার্কসবাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, দার্শনিক ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক।

    • ১৯৩১ – গোলাম রহমান, বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিশু সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

    • ১৯৪৩ – রফিকুন নবী, বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রকর ও কার্টুনিস্ট।

    • ১৯৬২ – জন স্টুয়ার্ট, মার্কিন কৌতুকাভিনেতা ও টিভি উপস্থাপক।

    • ১৯৮৭ – কারেন গিলান, স্কটিশ জনপ্রিয় অভিনেত্রী।


    মৃত্যুবরণ করেছেন এই দিনে

    • ১৯৫৪ – এনরিকো ফের্মি, ইতালীয় পদার্থবিদ ও নোবেল বিজয়ী।

    • ১৯৬২ – কৃষ্ণচন্দ্র দে, বাঙালি সংগীতশিল্পী ও সুরকার।

    • ১৯৯৯ – জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী।

    • ২০০৬ – মোহাম্মদ হানিফ, বাংলাদেশের প্রথম ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র।

    • ২০১০ – লেসলি নিলসেন, কানাডীয়-মার্কিন অভিনেতা ও প্রযোজক।


    দিনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ২৮ নভেম্বর ইতিহাসের পাতা জুড়ে রয়েছে স্বাধীনতার জয়গাথা, বিজ্ঞান-সংস্কৃতির অগ্রযাত্রা ও মানবিক সাফল্যের নানা মাইলফলক। আলবেনিয়ার স্বাধীনতা শুধু একটি দেশের মুক্তির গল্প নয়, বরং বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতার সংগ্রামের এক অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়।

  • স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আপস নয়, জনগণের সরকার গঠনের প্রত্যয় মির্জা ফখরুলের

    স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আপস নয়, জনগণের সরকার গঠনের প্রত্যয় মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া যাবে না— এমন দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, জাতির অস্তিত্ব রক্ষার এই প্রশ্নে বিএনপি কখনোই আপস করবে না।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়ে এ বক্তব্য দেন তিনি।

    নির্ধারিত প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জরুরি কারণে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি বিএনপি মহাসচিব।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। আমরা যেকোনো মূল্যে এই মর্যাদা রক্ষা করব। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।”

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষের ভোট ও মতের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।”

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক। তিনি একদলীয় শাসনের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়।”