Tag: স্থানীয় প্রশাসন

  • খাল-নদীর পথ আটকে রাখলে রেহাই নেই: দখলদারদের কড়া বার্তা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুলের

    খাল-নদীর পথ আটকে রাখলে রেহাই নেই: দখলদারদের কড়া বার্তা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুলের

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: পরিবেশ বন ও জলবায়ু পারিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আমরা কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এখন থেকে মোংলা ও রামপালের কোনো সরকারি খাল ইজারা বা দখলে থাকবে না, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সব খাল উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন দীর্ঘ চার দশক পর এই খালগুলো খননের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং স্থানীয় কৃষকরা তাদের কৃষিকাজের সুবিধা পাবেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই খনন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, জনগণের রক্ত চুষে খাওয়ার দিন শেষ। মোংলা-রামপালের প্রতিটি সরকারি খাল এখন থেকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যারা খাল দখল করে মাছ চাষ বা ব্যক্তিগত সা¤্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, স্চ্ছোয় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, শহীদ জিয়ার খাল খনন বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায় এই প্রকল্পের আওতায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মোংলার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ মাদুরপাল্টা খাল, ভোলা নদী খাল, পালেরখন্ড খাল এবং বেনীরখন্ড খালের মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন শুভ উদ্বোধন কালে তিনি এ কথা বলেন।

    শনিবার দুপুরে মোংলা উপজেলার মাদুরপাল্টা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই ঐতিহাসিক খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ খালের উদ্বোধনের মাধ্যমেই সূচিত হলো মোংলা-রামপালের কৃষকদের এক নতুন স্বপ্নযাত্রা।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এই খনন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জানা যায়, মাদুরপাল্টা, ভোলা নদী, পালেরখন্ড ও বেনীরখন্ড খালের সাড়ে ৮ কিলোমিটার জুড়ে চলবে এই খনন কাজ। ৪টি খাল থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ ১৪ হাজার ৬৫৭ ঘনফুট মাটি সরানো হবে। খালগুলোর উপরের প্রস্থ হবে ২৫ ফিট, নিচের প্রস্থ হবে ৫ ফিট এবং গভীরতা ৮ ফিট নিশ্চিত করা হবে, যাতে অনায়াসে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল করতে পারে। আর এ প্রকল্পের ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৭ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই কাজ আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    খাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, শেখ রুস্তম আলী, থানা যুবদলের সদস্য সচিব সফরুল হায়দার সুজন সহ সিএনআরএস এর প্রতিনিধি সহ বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গরা এসময় উপস্থিতি ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের সভাপতি মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমী জানান, দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং খালের প্রবাহ সচল রাখতে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

    মাটি কাটার কাজ শুরু হতেই স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ এক কৃষক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ৪০ বছর পর এই খালে আবার পানির কলকল শব্দ শুনব, এটা ভাবতেই চোখ ভিজে আসছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও লোনা পানির অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে বলে বিশ্বাস এই উপকূলীয় জনপদের মানুষের। তাই দীর্ঘ চার দশক পর অবরুদ্ধ এই খালগুলো প্রাণ ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    বক্তারা বলেন, এটি শুধু মাটি কাটা নয়, এটি মোংলার কৃষি ও পরিবেশকে পুনর্জীবিত করার এক লড়াই, এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করেতে সকলেই সহায়তা করবে। বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস-এর ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের অধীনে এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোহাগ এন্টার প্রাইজ-এর কারিগরি সহায়তায় এই কাজ মোংলার মানচিত্র বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে বলেন “মোংলা-রামপালের কোনো সরকারি খাল আর কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকবে না, সব হবে জনগণের। উপস্থিত হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয় চারপাশ। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শহীদ জিয়ার স্বপ্নের সেই খাল খনন বিপ্লব আজ থেকে এই জনপদে পুনরায় শুরু হলো। কোনো ইজারা নয়, কোনো দখল নয়, প্রতিটি সরকারি খাল হবে উন্মুক্ত। যারা এতদিন সাধারণ মানুষের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে পকেট ভরেছে, তারা স্বেচ্ছায় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্তা নেয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • ৪৫ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর গভীর নলকূপ থেকে জীবিত উঠল দুই বছরের সাজিদ

    ৪৫ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর গভীর নলকূপ থেকে জীবিত উঠল দুই বছরের সাজিদ

    এবিএনএ: রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে অবশেষে জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। প্রায় ৪৫ ঘণ্টা ধরে টানা অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে উদ্ধার করা হয় তাকে। শিশুটিকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

    তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    কীভাবে ঘটে দুর্ঘটনা?

    স্থানীয়রা জানান, কোয়েলহাট গ্রামের মাঠের পাশ দিয়ে মায়ের সঙ্গে হাঁটছিল সাজিদ। অসাবধানতাবশত সে হঠাৎ একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। সন্তানের আর্তনাদ শুনে মা রুনা খাতুন চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু সফল না হওয়ায় তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

    রাতভর অভিযান—৩৫ ফুট গর্ত, ক্যামেরা তল্লাশি, তবুও পাওয়া যায়নি

    রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এসে অত্যাধুনিক চার্জ ভিশন ক্যামেরা দিয়ে প্রায় ৩৫ ফুট পর্যন্ত খোঁজ চালায়। প্রথমে শিশুর অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। পরে এস্কেভেটর দিয়ে পাশে আরও একটি ৩৫ ফুট গভীর গর্ত খনন করা হয়। সুড়ঙ্গ খুঁড়েও মিলছিল না সাজিদের অবস্থান।

    পরিত্যক্ত নলকূপের ভেতরে দ্বিতীয়বার ক্যামেরা নামানো হলে দেখা যায় ভেতরটা মাটিতে ঠাসা। ফলে নতুন করে খনন অভিযান শুরু হয় এবং দীর্ঘ পরিশ্রমের পর উদ্ধারকর্মীরা শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় তুলে আনেন।

    কেন খুলে গিয়েছিল নলকূপের মুখ?

    স্থানীয়রা জানান, বছরখানেক আগে সেচের জন্য নলকূপ বসানো হলেও পানি না ওঠায় মালিক সেটি মাটি দিয়ে ঢেকে রাখেন। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে মাটি ধসে গিয়ে গর্তটি আবার উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, যা সাজিদের দুর্ঘটনার কারণ হয়।

    মায়ের চোখে ঘটনার বর্ণনা

    রুনা খাতুন বলেন,
    “বুধবার দুপুরে সাজিদের হাত ধরে মাঠে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ ‘মা’ বলে ডাক শুনে ফিরে দেখি—সাজিদ গর্তে পড়ে গেছে। ভেতর থেকে ‘মা, মা’ বলে ডাকছিল।”

    ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন ও শত শত মানুষের সহযোগিতায় সাজিদকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাটি পুরো এলাকায় স্বস্তির সাড়া ফেলেছে।

  • পিরোজপুরে জিআর চাল আত্মসাৎ: ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    পিরোজপুরে জিআর চাল আত্মসাৎ: ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    এবিএনএ:  পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নে সরকারি জরুরি ত্রাণ (জিআর) চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার এবং ইউনিয়ন সচিব মো. জিয়াউল হাসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুজন মিলে ভূয়া মাস্টাররোল তৈরি করে ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত দুই টন চাল বিতরণ না করে আত্মসাৎ করেছেন।

    এলাকাবাসী গত ৩০ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে এই অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের দাবি, গত জুন মাসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য এই চাল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত উপকারভোগীরা সেই ত্রাণ পাননি। বরং চেয়ারম্যান ও সচিব চাল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পরে গোপনে ভূয়া মাস্টাররোল তৈরি করে তা উপজেলা প্রশাসনে জমা দেন।

    এ বিষয়ে ইউপি সচিব জিয়াউল হাসান স্বীকার করেছেন যে মাস্টাররোল উপজেলা প্রশাসনে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, “নিয়ম অনুসারে চাল বিতরণের পরই মাস্টাররোল জমা দেওয়া হয়েছে।”

    অন্যদিকে, চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

    এলাকাবাসী পুরো ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানিয়েছেন।