Tag: সীমান্ত পরিস্থিতি

  • বঙ্গোপসাগরের মোহনায় উত্তেজনা: দুই নৌকাসহ ৯ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

    বঙ্গোপসাগরের মোহনায় উত্তেজনা: দুই নৌকাসহ ৯ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ফেরার সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত হয়েছেন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের ৯ জন বাংলাদেশি জেলে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত দুটি মাছ ধরার নৌকাও জব্দ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহপরীর দ্বীপ থেকে চারটি মাছ ধরার নৌকা সাগরে গিয়েছিল। মাছ শিকার শেষে ঘাটে ফেরার সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা ধাওয়া দিলে দুটি নৌকা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বাকি দুটি নৌকা আটক হয়।

    আটক হওয়া নৌকাগুলোর মালিক শাহপরীর দ্বীপের ডাংগর পাড়ার বাসিন্দা রাশেদ ও মো. ফারুক। অপহৃত জেলেদের সংখ্যা মোট ৯ জন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় নৌঘাট সংশ্লিষ্টরা।

    শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া নৌঘাটের সভাপতি আব্দুল গফুর জানান, “সকালে আমাদের ঘাটের নৌকাগুলো সাগর থেকে ফিরছিল। হঠাৎ করে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধাওয়া দেয়। এতে দুইটি নৌকা ও ৯ জন জেলে তাদের হাতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”

    এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, “দুটি নৌকাসহ ৯ জন জেলেকে ধরে নেওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানায়, গত প্রায় দশ মাসে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী সাগর এলাকা থেকে অন্তত ৩৫০ জন বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে বিজিবির মধ্যস্থতায় প্রায় ২০০ জন জেলেকে বিভিন্ন সময়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও এখনো প্রায় ১৫০ জন জেলে তাদের হাতে আটক রয়েছেন। এ কারণে উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন অনেক জেলে।

  • রৌমারী সীমান্তে ফের ভারতীয় ড্রোন, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

    রৌমারী সীমান্তে ফের ভারতীয় ড্রোন, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

    এবিএনএ

    কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে আবারও ভারতীয় ড্রোন উড়তে দেখা গেছে, যা সীমান্ত এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বড়াইবাড়ী ও বারবান্দা সীমান্তের আকাশে একাধিক ড্রোন উড়ার দৃশ্য দেখা যায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের কাকড়িপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প থেকে এসব ড্রোন উড়ানো হয়। রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়া জানিয়েছেন, “গত ২৭ মে আসাম থেকে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন করার ঘটনার পর থেকেই বিএসএফ সীমান্তে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। শুক্রবার রাতেও ৪-৫টি ড্রোন উড়েছে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে।”

    এ বিষয়ে জামালপুরের বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান একটি ক্ষুদে বার্তায় ড্রোন উড়ানোর সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি।

    প্রসঙ্গত, এর আগেও ২৭ মে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বড়াইবাড়ী সীমান্তে পুশইনের সময় এবং ওই রাত ১০টা ৪৩ মিনিটে সাহেবের আলগা বিওপি এলাকায় ভারতীয় ড্রোন উড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।

    সীমান্তে এই ধরনের ড্রোন কার্যক্রমকে সীমান্ত লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল। তারা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনা ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে। স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, এ ধরনের নজরদারি শুধু আতঙ্কই বাড়ায় না, বরং দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার ভারসাম্যকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।

    সরকারি পর্যায়ে এখনো কূটনৈতিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ দ্রুত সমাধান চায়।


  • সাতক্ষীরার সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা, বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার

    সাতক্ষীরার সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা, বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার

    এবিএনএ: ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে সাতক্ষীরা জেলার ১৩৮ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির ৩৩ ব্যাটালিয়ন কর্তৃক সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনসহ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

    বিশেষ করে তলুইগাছা, কুশখালী, ভোমরা, লক্ষীদাঁড়ি, খানজিয়া, ঘোনা, গাজীপুর, পদ্মাশাঁখরা, কোমরপুর, বসন্তপুর, দেবহাটা ভাদিয়ালী কাকডাঙ্গা এলাকায় বিজিবি সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

    সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সতর্কতা জারি করেছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় ঘন ঘন টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে অনুপ্রবেশ যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

    বিজিবির সাতক্ষীরা সদর দফতরের উপ-অধিনায়ক জানান, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা আশেপাশের অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে—এই আশঙ্কা থেকে সীমান্তে আমাদের অবস্থান আরও মজবুত করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় সীমান্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।