Tag: সিইসি

  • সংসদে তুমুল আলোচনা: সিইসি ‘শপথ ভঙ্গ’ করেছেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ

    সংসদে তুমুল আলোচনা: সিইসি ‘শপথ ভঙ্গ’ করেছেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ

    এবিএনএ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-এর বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের ফরম বিতরণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আনা মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে তিনি সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ তুলে ধরে বিষয়টির আইনি দিক ব্যাখ্যা করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রের সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন। কিন্তু সেই দায়িত্বে থেকেও তিনি কীভাবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হওয়ার জন্য শপথের ফরম সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন—তা প্রশ্নবিদ্ধ। তার মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সিইসি তার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের সময় যে ব্যালট ব্যবহার করা হয়েছিল, সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। জনগণ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেছে, অন্য কোনো পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।

    বিগত সরকারের জারি করা ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এটিকে শুরু থেকেই অবৈধ (ভয়েড অ্যাব ইনিশিও) হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সংবিধানের চতুর্থ তফশিল অনুযায়ী ১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির এমন আদেশ জারির ক্ষমতা নেই।

    তার ভাষায়, এই আদেশটি কোনো বৈধ আইন বা অধ্যাদেশ নয়, বরং এটি সার্বভৌম সংসদের ক্ষমতা খর্ব করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। পুরো প্রক্রিয়াকে তিনি ‘প্রতারণামূলক’ বলেও আখ্যা দেন।

    এ বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

  • নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা: সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসলো বিএনপির প্রতিনিধি দল

    নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা: সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসলো বিএনপির প্রতিনিধি দল

    এবিএনএ: আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বৈঠকে বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি, কমিশনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিএনপির পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

    বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • গণভোটে নতুন আইন আসলে শুরু হবে প্রস্তুতি: কী বললেন সিইসি

    গণভোটে নতুন আইন আসলে শুরু হবে প্রস্তুতি: কী বললেন সিইসি

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণভোট আয়োজনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা এলেও, এখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় আইন বা অধ্যাদেশ জারি হলে তবেই নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কাজ শুরু করতে পারবে।

    বুধবার নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক সংলাপের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় পর্বের সমাপনী বক্তব্যে সিইসি এ কথা বলেন। তিনি জানান, গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে বারবার প্রশ্ন এলেও, আইন ছাড়া এখন এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা কিংবা সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।

    সংলাপে সিইসির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) ও বাসদ মার্কসবাদীসহ ছয়টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এদিনের সংলাপ। চার দিনে মোট ৪৮টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্বাচন কমিশন।

    সমাপনী বক্তব্যে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গণভোটের বিষয়ে ঘোষণা এলেও, আইন না হলে ইসির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরু হয় না। আইনের মাধ্যমে বলা হবে—কী বিষয়ে ভোট হবে, কতগুলো ব্যালট বাক্স লাগবে, কীভাবে ভোট গ্রহণ হবে, এগুলো সবই নির্ধারণ করবে সেই আইন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা কম নয়। তবে আমাদের চলতে হবে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার আলোকে। তাই ধীরে সুস্থে, কম কথায় বেশি কাজ করার নীতি নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।’

    সিইসি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ইসি প্রস্তুত রয়েছে দক্ষতার সঙ্গে যে কোনো নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য, তবে আইনি কাঠামো ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

    তিনি বলেন, ‘বাস্তবতার আলোকে আমরা স্লো অ্যান্ড স্টেডি অগ্রযাত্রায় আছি। এখন পর্যন্ত সফলভাবেই এগোতে পেরেছি, ইনশাআল্লাহ সামনে আরও এগোবো।’

  • গণভোট ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানানো হবে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পর: সিইসি

    গণভোট ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানানো হবে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পর: সিইসি

    এবিএনএ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একযোগে আয়োজনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব কমিশনে আসেনি। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেই বিষয়টি কমিশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সিইসি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য আমি সরাসরি শুনিনি। বিষয়টি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, তখন কমিশন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করছি। এজন্য সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা অপরিহার্য। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই।”

    সংলাপে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সভাটি সঞ্চালনা করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    কমিশনার বেগম তাহমিদা আহমদ বলেন, “একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই দায়িত্বশীল হলে শতভাগ সুষ্ঠু ভোট সম্ভব।”

    অন্যদিকে কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো বড় প্রতিবন্ধকতা দেখছি না। রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করলে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।”

    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সতর্ক করে বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের কারণে ভোট স্থগিত বা বাতিল হলে তার দায়ভার সেই দলকেই নিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন।”

    বৃহস্পতিবারের সংলাপে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জেএসডি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বিএনএফ ও বিএনএম–এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন, কঠোর অবস্থানে সিইসি

    ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন, কঠোর অবস্থানে সিইসি

    এবিএনএ:  আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শনিবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এবারের নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারিতে থাকবে এবং যেকোনো অনিয়মের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনে ভোটগ্রহণ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    সিইসি আরও জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনী কার্যক্রমে যাদের কাজে লাগানো হবে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা শুরু হয়েছে এবং সময়মতো তা দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনে চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রস্তুত ইসি: সিইসি

    ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনে চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রস্তুত ইসি: সিইসি

    এবিএনএ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রস্তুত ইসি। প্রধান উপদেষ্টার চিঠি পেলে ও কমিশন আলোচনা করে ভোটের তারিখ থেকে মাস দুয়েক আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

    বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি এই কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যে চিঠি দেওয়ার কথা বলেছেন, আমরা আশা করছি শিগগিরই তা পেয়ে যাব।এ সময় তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগের যারা সমর্থক তারা ভোট দিতে পারবেন। কারণ কে কোন দলের তাদের মনের কথা তো আর আমরা বলতে পারব না। আমাদের মূল ফোকাস থাকবে ভোটার।

    আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে না পারলে অপকর্ম করতে পারে, তাদের মোকাবেলা করতে আপনারা প্রস্তুত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তাদের মোকাবেলা করতে প্রস্তুত আছি। ভোটের তারিখ থেকে মাস-দুয়েক আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্তরের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করতে কমিশন এক মাস সময় হাতে রাখছে।

    কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়, বরং নিয়ম মেনেই নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণের জন্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিইসি। নাসির উদ্দিন বলেন, ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের কেনাকাটা সম্পন্ন করতে চায় ইসি। ১০ আগস্ট পর্যন্ত দাবি আপত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে শুনানির মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত করা হবে।

  • তিন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে বিএনপি, রোববারই শুরু

    তিন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে বিএনপি, রোববারই শুরু

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামি রোববার তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দলটি অভিযোগ করেছে, এসব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং কমিশনের ভূমিকা ছিল পক্ষপাতদুষ্ট।

    শনিবার বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দশম (২০১৪), একাদশ (২০১৮) ও দ্বাদশ (২০২৪) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী তিনজন সিইসি ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

    📍 মামলার প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া:

    রোববার সকালে একটি তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রথমে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যাবে মামলার আবেদনপত্রের একটি অনুলিপি জমা দিতে। পরে, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শেরে বাংলানগর থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার আবেদন করবেন তারা।

    প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তার সঙ্গে থাকবেন আরও দুইজন সদস্য।

    ⚖️ কারা মামলার আওতায় আসছেন?

    • কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ – দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিইসি (২০১৪)

    • কেএম নূরুল হুদা – একাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালনাকারী সিইসি (২০১৮)

    • কাজী হাবিবুল আউয়াল – সদ্য অনুষ্ঠিত দ্বাদশ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (২০২৪)

    বিএনপির অভিযোগ, এই তিনজনের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনেই ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ রয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

    📌 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

    বিএনপির এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে আসছে, যখন নতুন সরকার গঠনের পর আন্তর্জাতিক মহলও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছে।

    তবে সরকারপক্ষ এখনও এই মামলা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিএনপি মনে করে, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।


    এই মামলার মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরানো ও কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে আরও জোরালো অবস্থানে যেতে চায় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • নির্বাচনে রেফারির ভূমিকা পালন করবে ইসি, প্রত্যয় জানালেন সিইসি

    নির্বাচনে রেফারির ভূমিকা পালন করবে ইসি, প্রত্যয় জানালেন সিইসি

    এবিএনএ:

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষ রেফারির ভূমিকা পালন করবে বলে জানালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

    রবিবার সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ঈদ পরবর্তী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সিইসি। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া সভায় কমিশনের চার সদস্য, ইসি সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সিইসি বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত অনেক কাজ এগিয়ে নিয়েছি। বাকিগুলো সমন্বিতভাবে শেষ করতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতিকে একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়া।”

    তিনি আরও জানান, “সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বারবার বলে আসছে—আমরা একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। এই ঘোষণার পেছনে আমাদের ওপর আস্থাই বড় প্রমাণ।”

    কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “রমজানেও আপনারা অঙ্গীকার করেছিলেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন। আজ আবার সেই শপথের পুনরাবৃত্তি করুন—কোনো দলের অনুসারী না হয়ে, কেবল আইন মেনে ও ন্যায়ের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করুন।”

    পূর্ববর্তী ইসি কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার কথা স্বীকার করে সিইসি বলেন, “আমরা অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি। এবার নির্বাচন কমিশন আরও সঠিক পথে এগোবে।”

    সবশেষে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, “আমরা একটি রেফারির মতো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করব। রাজনৈতিক দলগুলো যার যার মতো মাঠে খেলবে। আমরা শুধু নিশ্চিত করব, মাঠটা সবার জন্য সমান ও ন্যায্য থাকে। এই লক্ষ্যে আমরা বদ্ধপরিকর।”