Tag: সাইবার হামলা

  • ক্ষুদ্র ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানের ওপর সাইবার হামলা: বাজার দখলে বড় সিন্ডিকেটের চক্রান্ত

    ক্ষুদ্র ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানের ওপর সাইবার হামলা: বাজার দখলে বড় সিন্ডিকেটের চক্রান্ত

    এবিএনএ:  দেশের ক্ষুদ্র ও আঞ্চলিক ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বড় সংকটে। অভিযোগ উঠেছে—বড় কিছু কোম্পানি পরিকল্পিতভাবে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা চালিয়ে বাজার দখলের চেষ্টা করছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এক সরকারি বিবৃতিতে জানান, “বড় কিছু ইন্টারনেট সরবরাহকারী বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী ছোট অপারেটরদের নেটওয়ার্কে ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হামলার মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেটওয়ার্ক সচল রাখতে পারছে না।”

    তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলার মাত্রা কিছু ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ৭০০ গিগাবাইট পর্যন্ত পৌঁছায়—যা ছোট ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর পক্ষে প্রতিরোধ করা প্রায় অসম্ভব। এর ফলে তারা গ্রাহক হারাচ্ছে, অন্যদিকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যায্যভাবে বাজারে নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে।

    সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিছু জাতীয় পর্যায়ের ইন্টারনেট কোম্পানি ‘দূরসংযোগ নেটওয়ার্ক ও অনুমোদন নীতিমালা ২০২৫’-এর ভুল ব্যাখ্যা করে ছোট অপারেটরদের ভয় দেখিয়ে ব্যবসা দখলের চেষ্টা করছে, যা আইনত অপরাধ।

    ফয়েজ আহমদ আরও বলেন, “ছোট ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে তাদের সেবা জেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে পারে, সেই সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন নীতিমালায়। তাদের স্বার্থরক্ষা সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।”

    এদিকে, মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তদন্ত শুরু করেছে। সরকার জানায়, সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “ডিজিটাল বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি নাগরিক অধিকার। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা মানেই দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত হওয়া।”

    বর্তমানে দেশে প্রায় দুই হাজার আঞ্চলিক ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে, যাদের অধিকাংশ ৫০০ থেকে ৫ হাজার গ্রাহককে স্থানীয়ভাবে সেবা দেয়। গত কয়েক মাসে অন্তত ৩৪টি প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে অনেকের নেটওয়ার্ক ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

  • সাইবার হামলার আশঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

    সাইবার হামলার আশঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

    এবিএনএ: সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক সাইবার হামলার ঘটনার পর এবার বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

    বৃহস্পতিবার বেবিচকের পরিকল্পনা ও পরিচালনা বিভাগের সদস্য এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খানের স্বাক্ষরে একটি বিশেষ নির্দেশনাপত্র জারি করা হয়। এতে দেশের সব বিমানবন্দর প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ১০টি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    নির্দেশনায় সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অজানা ইমেইল বা লিংক থেকে দূরে থাকা, অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার বন্ধ করা, দাপ্তরিক ডিভাইসে ব্যক্তিগত অ্যাপ ইনস্টল না করা এবং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (MFA) চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, কোনো ধরনের সাইবার ঝুঁকি বা আক্রমণ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বেবিচকের সিএএবি সার্ট (CAAB-CERT) টিম, আইটি বিভাগ এবং জাতীয় সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমকে জানাতে বলা হয়েছে।

    বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা ও প্রতিরোধ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি লন্ডন ও ইউরোপের কিছু বিমানবন্দরে সাইবার হামলার কারণে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশেও আগাম সতর্কতা হিসেবে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেবিচকের ওয়েবসাইটেও একটি সাইবার হামলার চেষ্টা ধরা পড়ে। পরে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বেবিচক।

    বাংলাদেশের আকাশপথ নিরাপত্তা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি নজরদারিতে রয়েছে। বেবিচক বলছে, যাত্রী ও বিমান পরিচালনা সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সতর্কতা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।