Tag: সাইবার নিরাপত্তা

  • চীনের উপহার পর্যন্ত সঙ্গে নেননি ট্রাম্প! বেইজিং ছাড়ার আগে কেন সব ফেলে গেল মার্কিন প্রতিনিধিদল?

    চীনের উপহার পর্যন্ত সঙ্গে নেননি ট্রাম্প! বেইজিং ছাড়ার আগে কেন সব ফেলে গেল মার্কিন প্রতিনিধিদল?

    এবিএনএ: চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ও তার সফরসঙ্গীদের এক অস্বাভাবিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেইজিং ত্যাগের আগে চীনের দেওয়া সব উপহার, স্মারক এবং ব্যবহৃত অস্থায়ী ফোন ফেলে রেখে তবেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরের সময় ব্যবহৃত তথাকথিত ‘বার্নার ফোন’ বা অস্থায়ী মোবাইল ডিভাইসও ধ্বংস করে ফেলা হয়। এমনকি চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া ব্যাজ, পরিচয়পত্র, সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র ও বিভিন্ন স্মারকও সঙ্গে নেয়া হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ঘটনার পেছনে রয়েছে নিরাপত্তা ও সাইবার নজরদারির আশঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ডিজিটাল নজরদারি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে সফরের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে মার্কিন প্রশাসন।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীন সফরে যাওয়ার আগেই ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস যুক্তরাষ্ট্রেই রেখে যান। সম্ভাব্য হ্যাকিং বা তথ্য চুরির ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

    সফরের সময় চীনা কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রতিনিধিদের জন্য অস্থায়ী ফোন সরবরাহ করেছিল, যাতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে সেই ডিভাইসগুলোও ধ্বংস করা হয়।

    বেইজিং বিমানবন্দরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিভিন্ন সামগ্রী ডাস্টবিনে ফেলতে দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত এমন নিরাপত্তা প্রটোকল দীর্ঘদিন ধরেই অনুসরণ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, যদিও এবার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

    এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বাণিজ্যিক অগ্রগতির আশা করলেও বাস্তবে সীমিত কয়েকটি সমঝোতার বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো চুক্তি হয়নি। বিশেষ করে সয়াবিন আমদানি ও বোয়িং বিমান কেনা সংক্রান্ত আলোচনা ছাড়া বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে United StatesChina-এর সম্পর্ক বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতার কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই সফর এবং সফর শেষে নেয়া নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

  • ভোট ও গণভোট ঘিরে ডিজিটাল সতর্কতা: সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের কড়া নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    ভোট ও গণভোট ঘিরে ডিজিটাল সতর্কতা: সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের কড়া নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ: আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সামগ্রিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে দমনের বিকল্প নেই।

    প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকার নাগরিক সেবাগুলোকে দ্রুত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে। দেশ ও প্রবাসে এসব সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে হলে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

    তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়নে একটি রেটিং পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দেন।

    আর্থিক খাতে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ তালিকা সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।

    তিনি আসন্ন নির্বাচন ঘিরে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন মোকাবিলায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বিটিআরসির মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

    সভায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, আইজিপি বাহারুল আলম ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বিপর্যয়: ক্লাউডফ্লেয়ারের ত্রুটিতে এক্স, চ্যাটজিপিটিসহ বহু সাইট অচল

    বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বিপর্যয়: ক্লাউডফ্লেয়ারের ত্রুটিতে এক্স, চ্যাটজিপিটিসহ বহু সাইট অচল

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের ইন্টারনেট বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে ক্লাউডফ্লেয়ার নামের ওয়েব অবকাঠামো ও কনটেন্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি ত্রুটির কারণে। বাংলাদেশসহ বহু দেশের ওয়েবসাইটে কয়েক ঘণ্টা ধরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। সমস্যা দেখা দেয় বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে।

    সংবাদভিত্তিক পোর্টাল, এক্স (আগের টুইটার), চ্যাটজিপিটি ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের চেষ্টা করলে ব্যবহারকারীদের জানানো হয়, ‘ক্লাউডফ্লেয়ারের সমস্যার কারণে পেজটি লোড হচ্ছে না।’ অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বারবার রিফ্রেশ করার পরও খুলছিল না।

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী সংস্থা ক্লাউডফ্লেয়ার ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা, কনটেন্ট ডেলিভারি, ডিডস আক্রমণ প্রতিরোধ এবং ভিজিটর শনাক্তকরণসহ নানা সেবা দিয়ে থাকে। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ ওয়েবসাইট তাদের কোনো না কোনো সেবা ব্যবহার করে।

    বিবিসির খবরে জানা যায়, মঙ্গলবার হঠাৎ ক্লাউডফ্লেয়ারের এক সেবায় অস্বাভাবিক ট্রাফিকের চাপ তৈরি হয়। এর ফলে সার্ভারে কারিগরি জটিলতা দেখা দিলে বিশ্বব্যাপী সাইটগুলোতে প্রবেশ ব্যাহত হয়। এখনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    বিপর্যয়ের মাত্রা বোঝা যায় যখন ‘ডাউন ডিটেক্টর’ নামের ওয়েবসাইটও অচল হয়ে পড়ে, যা সাধারণত বিভিন্ন সাইটের ডাউন থাকার তথ্য প্রদর্শন করে। এতে বোঝা যায়, প্রভাব ছিল অত্যন্ত ব্যাপক।

    এর আগেও বিভিন্ন ক্লাউড ও সাইবার অবকাঠামোতে এমন ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে। গত মাসে অ্যামাজনের ওয়েব সার্ভিস ডাউন হয়ে ক্যানভা, ডুয়োলিঙ্গোসহ এক হাজারের বেশি সাইট ও অ্যাপ অচল হয়ে যায়। অনুরূপ সমস্যা দেখা দিয়েছিল মাইক্রোসফটের অ্যাজিওরেও।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের সার্বিক অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এ ধরনের বিপর্যয়কে বড় ঝুঁকিতে পরিণত করতে পারে। তাই ভবিষ্যতে আরও প্রস্তুত থাকা জরুরি বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।

  • সাইবার হামলার আশঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

    সাইবার হামলার আশঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

    এবিএনএ: সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক সাইবার হামলার ঘটনার পর এবার বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

    বৃহস্পতিবার বেবিচকের পরিকল্পনা ও পরিচালনা বিভাগের সদস্য এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খানের স্বাক্ষরে একটি বিশেষ নির্দেশনাপত্র জারি করা হয়। এতে দেশের সব বিমানবন্দর প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ১০টি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    নির্দেশনায় সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অজানা ইমেইল বা লিংক থেকে দূরে থাকা, অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার বন্ধ করা, দাপ্তরিক ডিভাইসে ব্যক্তিগত অ্যাপ ইনস্টল না করা এবং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (MFA) চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, কোনো ধরনের সাইবার ঝুঁকি বা আক্রমণ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বেবিচকের সিএএবি সার্ট (CAAB-CERT) টিম, আইটি বিভাগ এবং জাতীয় সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমকে জানাতে বলা হয়েছে।

    বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা ও প্রতিরোধ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি লন্ডন ও ইউরোপের কিছু বিমানবন্দরে সাইবার হামলার কারণে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশেও আগাম সতর্কতা হিসেবে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেবিচকের ওয়েবসাইটেও একটি সাইবার হামলার চেষ্টা ধরা পড়ে। পরে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বেবিচক।

    বাংলাদেশের আকাশপথ নিরাপত্তা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি নজরদারিতে রয়েছে। বেবিচক বলছে, যাত্রী ও বিমান পরিচালনা সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সতর্কতা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • মেটার বড় পদক্ষেপ: প্রতারণায় জড়িত ৬৮ লাখ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বন্ধ

    মেটার বড় পদক্ষেপ: প্রতারণায় জড়িত ৬৮ লাখ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বন্ধ

    এবিএনএ:  অনলাইন প্রতারণা রোধে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মেটা। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটি ৬৮ লাখেরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব অ্যাকাউন্টের একটি বড় অংশ সক্রিয় ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে, যারা জোরপূর্বক শ্রমিক দিয়ে বিভিন্ন স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনা করত।

    হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতারণা ঠেকাতে নতুন নিরাপত্তা ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো ব্যবহারকারী যদি এমন কোনো গ্রুপে যুক্ত হন, যার অ্যাডমিন তার পরিচিত নয়, তবে সাথে সাথেই একটি সতর্কবার্তা পাবেন।

    প্রতারকরা সাধারণত অ্যাকাউন্ট হাইজ্যাক করে, ভুয়া বিনিয়োগ পরিকল্পনা দেখিয়ে বা নকল অফার দিয়ে গ্রুপ চ্যাট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে। এজন্যই মেটা জালিয়াতি ও স্ক্যাম প্রতিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

  • অর্থনীতির সামনে অশনি সংকেত: মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতায় বিপদে বাংলাদেশ

    অর্থনীতির সামনে অশনি সংকেত: মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতায় বিপদে বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস এবং অভ্যন্তরীণ নানাবিধ সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আগামী ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

    রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি)-এর ৩০তম বার্ষিক কাউন্সিলে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা

    আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন মারাত্মক ধাক্কার মুখে দাঁড়িয়ে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩.৩ শতাংশ। আইএমএফ ও এডিবির পূর্বাভাস যথাক্রমে ৩.৮ ও ৩.৯ শতাংশ।”

    তিনি আরও জানান, বর্তমানে খাদ্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগ স্থবির, রাজনীতির অস্থিরতা ও অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৩.৪৫ ট্রিলিয়ন টাকা ছাড়িয়েছে, যার বড় অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে।

    ব্যাংক খাতে সংকট ও সংস্কার উদ্যোগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯টি ব্যাংক জানায় তাদের মূলধন ঘাটতি ১.৭১ ট্রিলিয়ন টাকা। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ব্যাংক বোর্ড বাতিল, একীভূতকরণসহ নানা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

    এলডিসি থেকে উত্তরণ: শুল্ক ও রপ্তানি ঝুঁকি

    ২০২৬ সালে এলডিসি স্ট্যাটাস হারালে তৈরি পোশাক খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে পারে বাংলাদেশ। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে তখন ১১.৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতে পারে, যা রপ্তানিতে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    বৈশ্বিক অস্থিরতা ও কৌশলগত প্রস্তুতির আহ্বান

    কাউন্সিলে জানানো হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ, রেড সি সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য পুনরাগমন বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাকে আরও ঘনীভূত করছে। বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত প্রস্তুতি এখন জরুরি।

    প্রধান চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশসমূহ:

    • জ্বালানি নিরাপত্তা: টাকার অবমূল্যায়ন ও আমদানিনির্ভরতার ফলে ব্যয় বেড়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং নিজস্ব উৎসে অনুসন্ধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    • রাজস্ব ঘাটতি: জিডিপির তুলনায় কর আদায় এখনো ১০ শতাংশের নিচে। এনবিআর পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

    • জলবায়ু ও খাদ্য নিরাপত্তা: পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে প্রবৃদ্ধি বছরে ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

    • বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৈচিত্র্য: ২০২৩ সালে এফডিআই মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ভিয়েতনামে তা ছিল ৩৯ বিলিয়ন। কৃষিপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং আইটি খাতে জোর দেওয়ার সুপারিশ এসেছে।

    • সাইবার নিরাপত্তা: ডিজিটাল সেবার প্রসারে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত জাতীয় সাইবার আইন ও কাঠামো প্রয়োজন।

    • যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫% শুল্ক প্রস্তাব: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ও কর্মসংস্থান বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    বিবিআইএন করিডরের সম্ভাবনা

    ভুটান-ভারত-নেপাল-বাংলাদেশ সংযুক্ত হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই অঞ্চলের সম্মিলিত জিডিপি ৮.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে বাংলাদেশ কৌশলগত ট্রানজিট হাবে পরিণত হতে পারে।