Tag: সাংবাদিক হামলা

  • হাতিয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বিটিভি সাংবাদিককে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম

    হাতিয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বিটিভি সাংবাদিককে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম

    এবিএনএ, নোয়াখালী: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকায় পেশাগত কাজের সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিনকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল চালক সাকিবও আহত হন।

    মিরাজ উদ্দিন জানান, তিনি গামছাখালী এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ কিছু সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাকিবও বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আমি এই ঘটনা মাত্র শুনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”

  • সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    এবিএনএ: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও জানমাল ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে সব ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা সরকার দৃঢ়ভাবে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। অল্প কিছু গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

    অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি বড় জাতীয় দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সেই আদর্শের সঙ্গে যুক্ত, যার জন্য শহীদ শরিফ ওসমান হাদি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে হলে সমাজে সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং ঘৃণার রাজনীতি পরিহার করা জরুরি।

    সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সংবাদকর্মীদের ওপর আঘাত মানেই সত্য ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

  • মুরাদনগরে উপদেষ্টা আসিফ ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে উত্তাল পরিস্থিতি, আহত অন্তত ৩০

    মুরাদনগরে উপদেষ্টা আসিফ ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে উত্তাল পরিস্থিতি, আহত অন্তত ৩০

    এবিএনএ:  কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যখন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অনুসারী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিক্ষোভ কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ৬ সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

    ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেলে। পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে সম্প্রচারিত একটি টিভি প্রতিবেদনের প্রতিবাদে এনসিপি ও ছাত্রলীগ সমর্থিত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রতিবাদে পৃথক একটি মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।

    দুই পক্ষের কর্মসূচি মুরাদনগর উপজেলা সদরের খুব কাছাকাছি স্থানে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রথমে উত্তেজনা, পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় উভয়পক্ষ।

    এই ঘটনায় সাংবাদিকরাও আক্রান্ত হন। আহত সাংবাদিকরা হলেন: স্টার নিউজের আব্দুল্লাহ আল মারুফ, খোলা কাগজের শাহ ইমরান, বার্তা ২৪-এর মহিন নাসের খান রাফি, হাবিবুর রহমান মুন্না, মাহফুজ আনোয়ার সৌরভ ও এসএ টিভির ক্যামেরাম্যান মো. বাপ্পি।

    আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বাকিদের কুমিল্লা সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মিনাজুল হক জানান, “আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অতর্কিতে বিএনপির লোকজন হামলা চালায়। ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বৃষ্টির মতো ইট ছোঁড়া হচ্ছে।”

    অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন বলেন, “ছাত্রদলের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল ছিল। হঠাৎ এনসিপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজন আমাদের অফিসের সামনে এসে হামলা চালায়। আমাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হন।”

    মুরাদনগর থানার ওসি (তদন্ত) আমিন কাদের খান বলেন, “দুই পক্ষের কর্মসূচি একত্রে হওয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইটপাটকেল নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সংঘর্ষ, পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।” তিনি জানান, এখনো কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি, তবে উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • নগর ভবনে ইশরাক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সাংবাদিককে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি!

    নগর ভবনে ইশরাক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সাংবাদিককে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি!

    এবিএনএ:  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঘনিষ্ঠ শ্রমিক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় সংঘর্ষ কাভার করতে যাওয়া একাধিক সাংবাদিক আক্রান্ত হন, এমনকি একজনকে ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টার দিকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান প্রিন্স তার সমর্থকদের নিয়ে নগর ভবনে প্রবেশ করলে সেখানে উপস্থিত দলের আরেক পক্ষের নেতা আরিফ চৌধুরীর অনুসারীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই তা রূপ নেয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায়। দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

    পরে দেখা যায়, আরিফুজ্জামানের অনুসারী সন্দেহে নগর ভবনের এক কর্মী শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়। পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও ইশরাক সমর্থকরা তাকে পুলিশের কাছে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। একইভাবে আরেক ব্যক্তিকেও প্রিন্সের অনুসারী সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হতে হয়। পুলিশ পরে দুইজনকেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    ঘটনার বিষয়ে আরিফুজ্জামান প্রিন্স দাবি করেন, নগর ভবনে তাদের শান্তিপূর্ণ প্রবেশকে প্রতিহত করতে প্রতিনিয়ত বহিরাগতরা হুমকি ও হামলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি জানান, তারা একত্রে প্রবেশের চেষ্টা করলেই প্রতিপক্ষ অতর্কিত হামলা চালায়।

    অন্যদিকে, আরিফ চৌধুরীর ভাষ্যমতে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নগর ভবনে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি এসে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অন্তত আটজনকে আহত করে।

    এই সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। নাগরিক টেলিভিশনের রিপোর্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শিশির জানান, তিনি ভিডিও ধারণ করছিলেন, এমন সময় তার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে সব ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয়। এমনকি তাকে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়।

    এনটিভির রিপোর্টার নাজিবুর রহমানও জানান, তাকে এবং তার ক্যামেরাম্যানকে ভয় দেখিয়ে ভিডিও ধারণ থেকে বিরত রাখা হয়।

    এই ঘটনায় নগর ভবনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্য সংগ্রহের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ইশরাকপন্থীদের বিরুদ্ধে।