Tag: সাংবাদিক নিরাপত্তা

  • মতপ্রকাশের গণ্ডি পেরিয়ে অস্তিত্বের লড়াই: গণমাধ্যমে হামলার বিরুদ্ধে তীব্র কণ্ঠ মাহফুজ আনামের

    মতপ্রকাশের গণ্ডি পেরিয়ে অস্তিত্বের লড়াই: গণমাধ্যমে হামলার বিরুদ্ধে তীব্র কণ্ঠ মাহফুজ আনামের

    এবিএনএ: দেশে গণমাধ্যমের পরিস্থিতি এখন আর শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; তা রূপ নিয়েছে জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে—এমনই কঠোর বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত এক যৌথ সভায় তিনি বলেন, “মতপ্রকাশ অনেক দূরের কথা—এখন বেঁচে থাকার অধিকার নিয়েই আমাদের কথা বলতে হচ্ছে।”

    হামলার দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাহফুজ আনাম জানান, ওই সময় ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর অন্তত ২৬–২৭ জন কর্মী ভবনের ভেতরে আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষায়, এটি কেবল ভবনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা ছিল না, বরং পরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল স্পষ্ট।

    তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের ঘরে ঘরে গিয়ে হত্যার হুমকির কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। “যদি উদ্দেশ্য শুধু ভবনে আগুন দেওয়া হতো, তাহলে কর্মীদের বের হয়ে যেতে বলা হতো। কিন্তু তা হয়নি—এটাই পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রমাণ করে,” বলেন তিনি।

    এই ঘটনাগুলোর প্রতিবাদে সংবাদপত্র মালিক ও সম্পাদকদের সংগঠন—নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত যৌথ সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন। সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

    সভায় বক্তারা বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে হামলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত নয়; এটি সরাসরি গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার এবং বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে হামলা। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলা হয় এবং একে ‘ভয়ংকর বার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    প্রতিবাদ সভা থেকে স্বাধীন গণমাধ্যম রক্ষা ও মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে মানববন্ধনের মাধ্যমে সেই প্রতিবাদ আরও জোরালো করা হয়।

    সমাপনী বক্তব্যে নোয়াব সভাপতি ও সমকাল প্রকাশক এ কে আজাদ বলেন, “ডেইলি স্টার, প্রথম আলোসহ সব সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।” তিনি আগামী মাসে বৃহত্তর সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণাও দেন।

    এই সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম সম্পাদক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সবাই একসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • ২০২৬ নির্বাচনে সাংবাদিকদের ওপর বাড়ছে হুমকি: গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

    ২০২৬ নির্বাচনে সাংবাদিকদের ওপর বাড়ছে হুমকি: গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

    এবিএনএ: ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের জন্য শারীরিক ও ডিজিটাল—দু’দিক থেকেই ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইটের সদ্য প্রকাশিত একটি গবেষণা। এতে দেখা গেছে, সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা আগের তুলনায় আরও বেশি হুমকির মুখোমুখি হতে পারেন।

    শনিবার ঢাকার দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে এক গোলটেবিল বৈঠকে সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে গবেষণার মূল বিশ্লেষণ তুলে ধরেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। ‘হাই রিস্ক, লো প্রিপেয়ার্ডনেস: জার্নালিস্ট সেফটি ইন ২০২৬ ইলেকশন’ শিরোনামের এই গবেষণাটি ১৯টি জেলার ২০১ জন সাংবাদিকের ওপর করা জরিপ এবং ১০টি গভীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি।

    গবেষণায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের ৮৯ শতাংশ জানিয়েছেন, নির্বাচনের মাঠে তারা শারীরিক আক্রমণ বা মারধরের আশঙ্কা করছেন। ৭৬ শতাংশের মতে মৌখিক হুমকি এবং ৭১ শতাংশের মতে ভয়ভীতি দেখানো বড় ঝুঁকি হতে পারে। নারী সাংবাদিকরা আরও বেশি দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন—তাদের ৫০ শতাংশ যৌন হয়রানির এবং ৪০ শতাংশ যৌন আক্রমণের আশঙ্কা জানিয়েছেন।

    ডিজিটাল পরিসরে ঝুঁকি আরও তীব্র। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ সাংবাদিক মনে করেন, তাদের বা তাদের প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে অপতথ্য ছড়ানো হতে পারে। ৬৫ শতাংশ হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি দেখছেন। নারী সাংবাদিকেরা অনলাইন নজরদারি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং অনলাইন হয়রানিকে বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে মানহানিকর প্রচারণার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকদের অর্ধেকের বেশি। কিন্তু অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানেরই এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। মাত্র ২৪ শতাংশ সাংবাদিক জানিয়েছেন যে তারা নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ৭৭ শতাংশের প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো ডিজিটাল নিরাপত্তা নীতিমালা।

    গবেষণায় আরও উঠে এসেছে—শারীরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও তাদের কর্মীরা সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। নারী ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীকেও প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    রাজনৈতিক লেবেলিং, গণমাধ্যমে আস্থাহীনতা, উগ্রবাদী মনোভাব, গণপিটুনি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অপতথ্য ছড়ানো—এগুলোই নির্বাচনে ঝুঁকি বাড়ানোর মূল কারণ বলে মনে করেন উত্তরদাতারা।

    গবেষণায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, স্পষ্ট নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন, জেন্ডার-সংবেদনশীল সুরক্ষা ব্যবস্থা, এবং দ্রুত জরুরি ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, টাইমস অব বাংলাদেশের সম্পাদক এম আবুল কালাম আজাদ, এএফপির ব্যুরো প্রধান শেখ সাবিহা আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা। ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের এশিয়া অঞ্চলের প্রকল্প সমন্বয়ক মারিয়া পিটারসন অনলাইন থেকে আলোচনায় যুক্ত হন।

  • সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধে দায়মুক্তির অবসান চাইছে মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন

    সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধে দায়মুক্তির অবসান চাইছে মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন

    এবিএনএ:  সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তি বন্ধে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে কার্যরত মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন (এমএফসি) নেটওয়ার্ক। রবিবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তি বন্ধের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে সংগঠনটি।

    বিবৃতিতে এমএফসি বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাত সংস্কারে সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায়।

    এমএফসি জানায়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে দায়মুক্তির অবসান এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এজন্য সকল পক্ষকে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

    এই যৌথ বিবৃতিতে সই করেছে ১৩টি দেশ— অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, কসোভো, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা যেন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপদ পরিবেশ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতা ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    এমএফসি আরও জানায়, গণমাধ্যমে লিঙ্গ সমতা ও স্বাধীনতার পরিবেশ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। এটি কেবল সাংবাদিকদের নয়, গণতান্ত্রিক সমাজের টিকে থাকার জন্যও অপরিহার্য।

  • অপতথ্যের বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

    অপতথ্যের বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে ভুয়া তথ্য এবং অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুসান ভাইজ এবং ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা’ বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা মেহদি বেনচেলাহ সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে ড. ইউনূস এ আহ্বান জানান।

    এই বৈঠকের সময় ইউনেসকো ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি গণমাধ্যম সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি—ভুয়া তথ্য একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলোর উৎস কখনো বিদেশে, কখনো দেশের অভ্যন্তরে। এতে আমাদের গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে যাচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, প্রথাগত মিডিয়াও মাঝেমধ্যে এমন ভুল তথ্যের উৎস হয়ে দাঁড়ায়। তাই জাতিসংঘকে কেবল সরকারের সঙ্গে নয়, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও সরাসরি কাজ করতে হবে।”

    ড. ইউনূস জানান, “একটি স্বতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে, যা ফেক নিউজ ছড়ানো মিডিয়াগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণে বাধ্য করতে পারবে। জাতিসংঘের আওয়াজ এখানে গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের আপনাদের সহায়তা দরকার।”

    ইউনেসকোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ জানান, “প্রতিবেদনটিতে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিক নিরাপত্তা, এবং আন্তর্জাতিক মান রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। বিচার বিভাগ, পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

    প্রকল্প কর্মকর্তা মেহদি বেনচেলাহ বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের জন্য। এসব সুপারিশ প্রতিবেদনটিতে থাকছে, যা সরকারের জন্য দিকনির্দেশক হতে পারে।”

    প্রতিবেদনটি ইউএনডিপির ‘এসআইপিএস’ প্রকল্পের আওতায় এবং ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নীতিমালার আলোকে তৈরি করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কর্মকর্তারা।